Friday, October 25, 2019

No advance tax on MPs’ duty-free cars

শাস্ত্রে বলে মানুষ ষ্ষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের দাস। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য - এই কয়টি মানুষের প্রধান প্রবৃত্তি। এগুলোর মধ্যে যারা ডুবে যায় তারা আর মনুষ্য পদবাচ্য থাকে না। সে কারনে সর্ব ধর্ম সর্ব শাস্ত্রে এই প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। যারা ইসলাম ধর্ম মানেন বা অনুসরন করেন, তাদেরকে এসব থেকে দুরে থাকার নির্দশ স্বয়ং স্রষ্টাই দিয়েছেন। তাই অন্যদের কথা বাদ দিলেও মুসলমান এই সব প্রবৃত্তির উর্ধ থাকবে এটাই কাম্য। কিন্তু এই দেশে বসবাসকারীদের ৮৫% নাকি মুসলমান; অন্ততঃ নামে সেটাই দেখা যায়। কিন্তু এই দেশের মানুষের মধ্যে উপরোক্ত প্রবৃত্তিগুলোর প্রাবল্য এতটাই যে তারা স্বয়ং মহান স্রষ্টার নির্দশাবলীকেও পাত্তা দেয় না।
আগে মুরুব্বীদের কাছে শুনেছি মানুষ রাজনীতি করে সমাজ ও মানুষের মঙ্গল করার লক্ষ্যে। বহু রাজনীতিক নিজেদের পকেটের পয়সা ব্যয় করে সমাজ ও মানব সেবা করতেন। তার উল্লেখযোগ্য উদাহরন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ। এমনকি বঙ্গবন্ধুও কোন বৈষয়িক লাভালাভের জন্য রাজনীতি করতেন এমন কোন প্রমান নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গত ২০/২৫ বছর যাবত মানুষ রাজনীতি করছে, রাজনীতিতে আসছে রাতারাতি আঙুল ফুলে বটগাঠ হবার জন্য। এর পেছনের কারন খুঁজতে গেলে দেখা যাবে রাজনীতিতে আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা যত ক্ষীয়মান হয়েছে, ততই মানুষের মধ্যে অর্থলিপ্সা ক্রমাগত জেঁকে বসেছে। যারা রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে ফেলায় টাকা-পয়সা বা পেশী শক্তি ব্যবহার করে রাজনীতি করছেন। এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনীতিক দলই মনোনয়ন বিক্রী,ও অন্য যেনতেন প্রকারে অর্থ সংগ্রহ, করে থাকে; কারন এই অর্থই তাদের পক্ষে সমর্থক ও লাঠিয়াল বাহিনী পুষতে অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এরপর ক্ষমতাসীন হয়ে দল ভারী করার লক্ষ্যে সমর্থকদের মধ্যে পাবলিকের পকেটের টাকা অকাতরে বিলিয়ে দেবার এক অসুস্থ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার বড় প্রমান এই যে যারা দেশ সেবা বা জনসেবার জন্য নির্বাচন করেন তাদের তো অন্য সবার উপরে অর্থবিত্তের যোগান দেবার কথা নয়; বরং তারা নিজেরা কিছু দিতে না পারলেও জনগনের অর্থর বিরাট অংশ পকেটস্থ করার চিন্তা করতে পারেন না। দেশের সংবিধান যদি (হ্যাঁ, সতর্কতার সাথেই বলা হচ্ছে ‘যদি’) দেশের সকল নাগরিককে সমান বলে গন্য করার নির্দশ দেয়, তবে বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠি কোন রকম বিশেষ সুবিধা পাবার হকদার হয় কিভাবে? দেশের সকল মানুষ ট্যাক্স দেবে আর সংসদ সদস্যগন বিনা ট্যাক্সে গাড়ী আমদানী করার সুযোগ কিভাবে পেতে পারেন? তারা কিভাবে পাবলিকের ট্যাক্সের টাকায় সরকারী সব রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন? সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে (?) জনগনের সরকার হিসেবে দাবীদার একটি সরকার কিভাবে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে স্বেচ্ছাচারমুলকভাবে একতরফা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে পারে? সংবিধান বলে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান। তাহলে যাদেরকে সংবিধান ‘পাবলিক সার্ভন্ট’ বলে তারা কিভাবে পাবলিকের ‘স্যার’ ডাক না শুনলে ক্রোধী হয়ে পড়েন? সারা দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড যে কৃষক শ্রমিক, তাদের বেতন বা আয় ৫% - ১০% এর বেশী বাড়ে না, কৃষকের রক্ত-ঘাম ঝরানো ফসলের উপযুক্ত মুল্য দিতে সরকার অপারগ হয়, অথচ সেই ‘পাবলিক সার্ভন্ট’দের বেতন বিনা দাবীতে, বিনা চাহিদায় রাতারাতি ১০০% - ১৫০% বাড়তি হয়ে যায় কিভাবে, কোন যুক্তিতে? সরকারী দপ্তরের কর্তারা পাবলিকের টাকায় ইচ্ছামত কারনে অকারনে বিদেশ ভ্রমন করেন কিভাবে, কোন যুক্তিতে?
যারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন, তারা দেশকে ভালবেসেই তা করেছিলেন। যারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারা তো কোন ভাতার জন্য যুদ্ধে যান নি। তাহলে আজ কেন তারা এই ভাতা পাবার জন্য হন্যে হয়ে পড়েছেন? তাছাড়া যখন ভাতার ব্যবস্থা ছিল না তখনকার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ভাতার দাবীতে আজকে কিভাবে ৩/৪ গুন বেড়ে গেল? এটা কি চরম অর্থলোভের কারনে নয়?
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে মানুষের যেসব প্রবৃত্তি মানুষকে মানুষের পর্যায় থেকে পশুর পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেসব প্রবৃত্তিকে যখন রাস্ট্রীয়ভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয় তখন সমাজে অন্যায় অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়াটা ঠেকানো সম্ভব হয় না। আজকেই যদি এইসব অর্থ স্ংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করা হয় তবে দেখা যাবে যে রাজনীতিতে সৎ, নির্লাভ, প্রকৃত সমাজসেবী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে; হয়ত সেটা ঝড়ের গতিতে না হলেও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ইত্যাদির বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে আজকে দেখা যাচ্ছে কারা তাঁর দলের ছত্রছায়ায় অবৈধ ও বেআইনী পন্থায় অর্থবিত্তের পাহাড় গড়েছে এবং এর মাধ্যমে তাঁকে অপ্রস্তুত ও কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকেছে। আজ যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকার সংসদ সদস্যদের বর্তমানে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা অর্ধকও করে দেন তবে দেখা যাবে পদ-পদবীর লোভে মারামারি দলাদলির মচ্ছব অন্ততঃ ৫০% ভাগ কমে গেছে। কথায় বলে ’অর্থই অনর্থর মুল।’ এই অর্থবিত্তের লোভ এমনই যে তা তরুন ছাত্র সমাজকেও চরমভাবে কলুষিত করে ফেলেছে। আজ ছাত্র নেতারা কোন রকম পড়াশুনা করে পাশ করার চাইতে আগেই বাড়ী, গাড়ী, ব্যাংক ব্যালান্স বা ব্যাংকের মালিক বনে যাচ্ছে। এই অবস্থায় তাদেরকে সুপথে ফেরানোর একটাই উপায়; আর তা হলো এই সব অনুপার্জত অর্থবিত্তের মালিক হবার সকল রাস্তা বন্ধ করা। মনে রাখা দরকার যে বেহুলার স্বামী লখিন্দরকে কামড়ানোর জন্য সাপের প্রবেশপথ সদর দরজা ছিল না; ছিল সূচের ছিদ্রের মতই সঙ্কীর্ন পথ।

Saturday, September 28, 2019

দুর্নীতি দুর্নীতি আর দুর্নীতি!

’উপাচার্যরা নিয়োগ-বানিজ্যে ব্যস্ত’, তিন বিচারপতিকে অব্যহতি’ (নিশ্চয়ই কোন ভাল/সৎ কাজের জন্য নয়), ’বিএসইসি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক’, ’আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত সব অনিয়মে’, ’খোঁজা হচ্ছে এনডিআই জালিয়াতচক্র - প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের ৪৫ কর্মকর্তা’, ’উত্তরায় বিআরটি-তে দালালের দৌরাত্ম’, ’ডিবি অফিসের ড্রয়ার ভেঙে ইয়াবা চুরি - কনস্টেবল গ্রেপ্তার’ -  ইত্যাকার সব সংবাদে আজকের দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার পাতা ভর্তি। দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মত দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত (না কি ’কুশিক্ষিত?’) ব্যক্তি থেকে পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত চুরি-চামারি ও দুর্নীতিতে আকন্ঠ জড়িত হয়ে পড়েছে। এর আগে পুলিশের খুবই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দুদক-এর পরিচালকের মত উচ্চ পদধারীদেরকেও দুর্নীতিতে জড়িত হতে দেখা গেছে। এই মহামারী বছর দশেক আগেও দেখা যায় নি। তাহলে যে কোন সামান্য জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই এর তাৎপর্য বুঝতে পারে। গত দশ বছরে দেশ থেকে যে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ, সেটাও এই রকম ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
আসলে যে যত সাফাই-ই দিন না কেন, যে কোন সরকারের গোড়ায় গলদ থেকে গেলে তাদের পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ দুরে থাক, দমন করাও যে সম্ভব হয় না সেটা বিগত এক যুগ থেকেই মানুষ দেখে আসছে। এই দেশে দুর্নীতির বিস্তারের জন্য খোদ বঙ্গবন্ধুকেই যখন আক্ষেপ করতে হয়েছে, তখন আর কেউ যে ভাল করতে পারবে সেটা এমনিতেই ধারনা করা মুশকিল। তাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল, দেখা গেছে তাদের আমলেই দুর্নীতির বিস্তার ততটাই ব্যপক হয়েছে। কিন্তু কেন এ রকম দুর্বিষহ অবস্থা? এর একমাত্র কারন সঠিক জায়গাতে সঠিক লোক না থাকা বা না বসানো। কামারের কাজ যেমন কুমোর দিয়ে সম্ভব নয়, তেমনি যাদের লক্ষ্য থাকে যেনতেন পকেট ভারী করা, তারা যতই দলের প্রতি হাঁটুগাড়া আনুগত্য দেখাক না কেন, তাদের দ্বারা ভাল কোন কাজ বা দুর্নীতিমুক্ত থেকে কোন কাজ কদাচ সম্ভব নয়। দেশের শাসকগন, তা সে গনতান্ত্রিকই হোক বা স্বৈরতান্ত্রিক হোক, যদি মেধা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতা না দেখে কেবল তাদের জ্বি-হুজুরদের দিয়ে সব কাজ চালাতে মরিয়া হয়ে থাকেন তবে দেশে এরকম অরাজক মাত্রায় দুর্নীতি বাড়া ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এটা যে সব শাসকরা বোঝেন না বা বুঝতে চান না তারা মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে রকম আস্ফালনই করুন না কেন তা প্রবল প্রসব বেদনান্তে পর্বতের মুষিক প্রসবের মতই হাস্যকর হতে বাধ্য। এটা শাসকগন তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ’ইগো’-র জন্য বুঝতে না চাইলেও এটাই বাস্তব সত্য।
তাই আজ যে সর্বগ্রাসী সর্বব্যপী দুর্নীতির বিস্তার ’টপ-টু-বটম’ ঘটেছে, তার জন্য দেশের শাসকগন কোন মতেই দায় এড়াতে পারেন না।   --- ২৩/৮/.২০১৯ইং

আদর্শহীন নৈরাজ্য’-এ নিয়ন্ত্রণহীন তরুণেরা - কেন?

‘আদর্শহীন নৈরাজ্য’-এ নিয়ন্ত্রণহীন তরুণেরা - জনাব ফজলুল কবির লিখিত দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ।
আসলে গত ৬/৭ মাস ধরে দেশে যে ধরনের নৈরাজ্য চলছে, একশ্রেনীর তরুন যুবা যে ধরনের বেপরোয়া গুন্ডামিতে মেতে উঠেছে তার পেছনের কারন খুঁজতে বেশী দুর যেতে হবে না। তবে আজকে যারা এই পরিস্থিতির জন্য হাহুতাশ করছেন, নানা রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেবার চেষ্টা করছেন তারা এক রকম beating about the bush-এর কসরত করছেন। সকলেই জানে যে শিক্ষার্থীদের নিরীহ কোটা বিলুপ্তি আন্দোলনের সময় কারা তাদের উপর লাঠি, হাতুড়ী, চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল; কারা হেলমেট পরে এই সন্ত্রাস চালিয়েছিল। কিন্তু তাদের কিছু হয়েছে? কেন হয় নি? কারনটা সবাই জানে। গত ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে কারা বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাবার জন্য হুকুম জারি করেছিল এবং তাদের ওয়ানিং না শোনার জন্য অনেককে মেরে আধমরা করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল তাও সবাই জানে। কিন্তু সেই সব হুমকিদাতাদের কি কিছু হয়েছে? সেটাও সবাই জানে। তো সরকার কি করবে? সরকার তো তাদের কাঁধে ভর করেই ক্ষমতাসীন হয়েছে। তবে হ্যাঁ, এখন যখন সরকারের সামনে কোন চ্যালেঞ্জ নেই, কোন শক্তিশালী বিরোধী দলও নেই, নেই কোন সহিংস আন্দোলনও, তখন সরকার একটু সদিচ্ছা নিয়ে সৎভাবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিস্থিতির প্রভুত উন্নতি ঘটাতে পারত। কিন্তু যারা দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছেন তারা দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে যে একটু আধটু উদারতা প্রদর্শন করবেন না, সেটার নিশ্চয়তা কে দেবে?
এজন্যই দেখা যায় যে যখন সুবর্চরের গৃহবধূ, একাধিক সন্তানের মাকে গনধর্ষণ করার পরও সেই ধর্ষকদের ধরতে প্রশাসন দোনোমোনো করে, তখন পাতি ধর্ষকদেরও যে মনে সুড়সুড়ি দেয় না সেটা কে বলবে? আর তার ফলশ্রুতি তো সবাই দেখতেই পাচ্ছে। তাই বলতেই হয় যে গোড়ায় গলদ রেখে কোন কাজ ঠিকঠাকমত করা যায় না। যে ওষুধেই ভেজাল সেই ওষুধ দিয়ে রোগীকে সুস্থ্য করার বদলে তাকে পরপারে পাঠানোর ব্যবস্থাই সচরাচর হয়ে থাকে। তাই সবার আগে ওষুধকে purify করতে হবে, নইলে কাকস্য পরিবেদনা।
প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় যে নেতৃত্ব প্রকৃতই দেশপ্রেমিক সে নেতৃত্ব দেশের যুব সমাজকে দিক নির্দশনা দেয় দেশের উন্নয়নে সক্রিয় কর্মী হবার জন্য, দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য। প্রবীন, দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতারা থাকেন ড্রাইভিং সিটে, আর ইঞ্জিনের কাজ করে তরুন সম্প্রদায়। কিন্তু এই দেশে বিষয়টি একেবারেই উল্টো। এদেশে ভাইস চ্যান্সেলরকে গাইড করে ছাত্রনেতারা। ছাত্র নেতৃত্ব দেশের আভ্যন্তরীন পলিসি নির্ধারনে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। প্রশাসন কিভাবে চলবে অনেক ক্ষেত্রে তারাই সেটা ঠিক করে দেয় যার ফলে অনেক জায়গায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের হাতে লাঞ্ছনা এমনকি বেশ মারধরেরও শিকার হয়। তো যে দেশে রথ উল্টো চলে সে দেশে সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে এটা কি আশা করা যায়? বিচার বিভাগের পুর্ন স্বাধীনতা এবং আদালতের রায় বা আদেশের কার্যকারিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যাবশ্যক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত হচ্ছেনা যদি তা ক্ষমতার গায়ে আঘাত করে। নিম্ন আদালতের উপরে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের পরিবর্ত নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রন আরো জোরালো। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে মুল ফর্মুলা সেখানেই গন্ডগোল। তাই বর্তমান যে অস্বাভাবিকতা সমাজে বিরাজমান তার মুলোৎপাটন তখনি সম্ভব যখন সরকার প্রকৃতই আন্তরিকভাবে সেটা চাইবে। নইলে ----।

ছাত্রলীগ - বঙ্গবন্ধুর যুগ এবং তাঁর কন্যার যুগ

ছাত্রলীগ কর্মীদের ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর -- একটি জাতীয় দৈনিকের খবর।
হ্যাঁ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে বলেছেন তারা এ পর্যন্ত কোথায় কতগুলো কাজ করেছে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে, সেটা এই সাম্প্রতিককালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই কোটি টাকা নগদ সেলামী গ্রহনের মাধ্যমে উঠে এসেছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে যে ছাত্রলীগ, তারা কোন কাজটি ত্যাগের মাধ্যমে করেছে, আর সেটা দেশের কতজন লোক জানে তাও বড় প্রশ্ন। তবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, দখলদারি, মাদক ব্যবসা, খুন-ধর্ষণ ইত্যাদি কাজে তাদের সংশ্লিষ্টতা দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাদেরকে কি বলছেন আর তারা কি করছে সেটা ভেবে আকুল হতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের ছেলেদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন করে চলতে বলেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের কেউ কি ছাত্রজীবন শেষ হবার আগেই ব্যাংকের মালিক বা হেলিকপ্টারে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাবার মত মালদার হতে পেরেছিল? নেতা হয়ে স্বল্পকালেই কোটিপতি হবার কোন সুযোগ কি ছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের? নেতৃত্ব পাবার জন্য কি এত মারামারি, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুন করে ফেলার মত ঘটনা ছিল?
প্রসঙ্গে এদেশে নিন্দিত মিঃ জিন্নাহর একটি কথা মনে পড়ে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যে তিনি একবার আলীগড় কলেজে যান। তখন তৎকালীন মুসলিম ছাত্রলীগের নেতা ওয়াসেক হোসেন (যতদুর মনে পড়ে) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন ছাত্রদের এখনই সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুমতি তিনি দেবেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘You know political languages are woolly and deceptive. .... You should first prepare yourself so that you can shoulder the responsibilities of the nation in future.' (উদ্ধৃতিতে কিছু ভুল থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী)। আর আজ কি হচ্ছে? সেটা চক্ষুষ্মান যে কোন লোকই দেখতে পাচ্ছেন, শুনতেও পাচ্ছেন। তখন মুল দল রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করত আর অঙ্গ সংগঠনগুলো মুল দলের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী কাজ করত। আর এখন যে অবস্থা, তাতে দেখা যায় ক্ষমতাসীনদের বলতে হয়, ‘বিরোধীদের দমন করার জন্য আমার ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ।’ সেই দমন তারা করছে, এমনকি সহপাঠি শিক্ষার্থীদেরকে ভয়ংকরভাবে মারপিট, হাতুড়ীপেটা এমনকি নারী শিক্ষার্থীদেরকে শ্লীলতাহানি করেও।
ছাত্রদের পরিচিতি শিক্ষাঙ্গনের সাথে, এটাই সাধারন মানুষ জানত। কিন্তু ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ইত্যাদিতে ছাত্রলীগের প্রকৃত সমাজকল্যানমুলক বা জনহিতকর কাজ কোনটি তারা করেছে, সেটা যদি কোন পত্রকারগন একটু বিশদভাবে জানাতে পারতেন তবে আম পাবলিক বড়ই বাধিত হ’ত।

আইন, আইনের শাসন ও বাস্তবতা

গ্রাম্য একটি প্রবাদ আছে - কচুগাছ কাটতে কাটতে মানুষ কাটা (খুন করা)। কথাটার তাৎপর্য হচ্ছে একটা বালক যখন কচুগাছ কাটতে কাটতে ’কোপানো’টাকে সহজ ও স্বাভাবিক বলে মনে করে তখন কারো গায়ে কোপ মারতে তাকে আর খুব বেশী ভাবনা চিন্তা করতে হয় না। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো তার বয়সে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে দৈহিকভাবে বেড়ে ওঠা এবং তার চিন্তা ও কাজের পরিধিও বড় হয়ে ওঠা। তাই দেখা যায় একটা শিশু যে পাঁচ কেজি ভার তুলতে পারে না, সে বড় হয়ে একশ’ কেজি ভারও হয়ত অনায়াসে ওঠাতে পারে। যে শিশুটি হয়ত স্কুলে তার সমবয়সী সহপাঠিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, তাকে তখনই নিবৃত্ত করা না হলে সে পরে সে মারামারিতেও লিপ্ত হতে পারে, ক্রমবর্ধমানহারে সাহসী ও বেপরোয়া হয়ে ওঠার প্রবনতার কারনে।
আমরা শুনছি রিফাত হত্যার প্রধান আসামী নয়ন বন্ড একদিনে এরকম কোপানোর দক্ষতা অর্জন করে নি। আগে সে হয়ত ছোটখাট মারামারি হাতাহাতি করত। পরে সেটা হয়ত ছুরি মারামারিতে উন্নীত হয় এবং শেষে দা-রামদা নিয়ে কোপানোতে তার আর কোন দ্বিধা ছিল না। তো এই প্রবনতা কেন?
এ প্রশ্নের উত্তরে যা বলা হচ্ছে তাতে হয়ত অনেকেই বিরক্তিবোধ করতে পারেন বা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। কিন্তু এদেশের বাস্তবতা এটাই বলে।
দেশে ভুরি ভুরি আইন আছে। ধুমপানের বিরুদ্ধে আইন; পবলিক ন্যুইসেন্সের বিরুদ্ধে আইন; পথেঘাটে ট্রাফিক রুল ভাঙ্গার বিরুদ্ধে আইন, যথা - ধুমপান আইনতঃ দন্ডনীয়’, এখানে রিকশা থামানো নিষেধ, এখানে বাস থামানো নিষেধ; ওভারটেক করা নিষেধ, উল্টো পথে গাড়ী চালানো নিষেধ, ফুটপাথে মটরবাইক চালানো নিষেধ ইত্যাদি। এসব আইন করেন কারা? জনপ্রতিনিধি নামক মহাশয়রা। আবার এসব আইনকে কার্যকর করেন কারা? মহা-ক্ষমতাধর আইন-শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে খোদ থানার সামনে পুলিশ কর্মকর্তাকে ধুমপান করতে দেখা গেছে: আইন বানানো সংসদ সদস্যদেরকে উল্টোপথে গাড়ী হাঁকাতে দেখা গেছে; ’এখানে বাস থামানো নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ডের সামনে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে অথচ সেখানে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। তো এ থেকে মানুষ কি বুঝবে? এসব নিষেধনামা কেবল লোক দেখানোর জন্য না কি প্রকৃতপক্ষে কাজের কাজ করার জন্য? লেখা আছে ’এখানে প্র¯্রাব করা নিষেধ।’ কিন্তু অবলীলায় স্যুটবুট পরা লোকও যখন ঐ জায়গাতে সেটা করে, এবং জনসমক্ষে করে তখন কে বাধা দেবে? কারন সাধারন মানুষ দেখছে যে এরকম আইন বা বিধি ভঙ্গ করলেও পুলিশ কিছু বলে না। তো অন্যেরা যখন এসব করেও কোন সমস্যায় পড়ছে না তখন সাময়িক সুবিধা পেতে আমিও কেন তা করব না? এভাবেই আইনের প্রতি একটা অবজ্ঞা মনের মধ্যে উপ্ত হতে হতে একসময় তা আইনকে তোয়াক্কা না করার প্রবনতা সৃষ্টি করে। তখন সেই ’কচু কাটতে কাটতে মানুষ কাটা’-র মত বড় বড় আইন ভাংতেও আর বেশী দ্ভিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় না।
বস্তুতঃ এই দেশে আইন প্রণয়ন করায় যে রকম উৎসাহ সরকারের, সে আইন প্রয়োগ বা পালন করার ক্ষেত্রে ততটাই অনীহা লক্ষ্য করা যায়। যে আইন প্রয়োগ করা যাবে না বা হবে না, সে আইন কেন? অনেক সময় আদালতও এমন নির্দেশনা দেয় যে তা কার্যকর করা কেবল অসম্ভব নয়, অবাস্তবও হয়ে পড়ে। যেমন কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত একটি ডেভেলপার কোম্পানীকে পনের/ষোল বছর পর অবৈধ ঘোষনার করে আদেশ দিয়েছে তাদের প্রকল্পকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে এবং গ্রহীতাদেরকে তাদের জমা টাকার দ্বিগুন ফেরত দিতে। বাস্তবতা হলো সেই ডেভেলপার কোম্পানী ঐ এলাকায় প্রায় আড়াই/তিন বর্গকিলোমিটার জায়গা ১৪/১৫ ফুট ভরাট করে ফেলেছে এবং সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক দালানবাড়িও নির্মিত হয়েছে। এখন ঐ জায়গার দালানবাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেললেও ঐ আড়াই/তিন ব,কিমি, এলাকার বিপুল বিশাল মাটি অপসারন সম্ভব কি? বা তা কোথায় সরানো হবে? সরকার নদ-নদী, খাল-নালাগুলো উদ্ধারে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যারা ঐসব ভরাট করে ক্ষেতখামার বা বাড়ীঘর নির্মান করেছে, তা তো আর একদিনে বা রাতের অন্ধকারে করেনি। এখন তাদেরকে উচ্ছেদ করতে যে সব সমস্যার উদ্ধব হচ্ছে তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের বা সরকারের কি কোন দায় নেই? কার্যতঃ বিচারের অবিশ্বাস্য দীর্ঘসূত্রিতা এবং সেই বিচারের রায় কার্যকর করায়ও যে গাফিলতি প্রশাসনযন্ত্রের কাজে লক্ষ্য করা যায়, তাতে আইন বহুক্ষেত্রে দুর্বলের উপর জুলুম ও সবলের পক্ষে অনুকুল বলে প্রতীয়মান হয়।
সুতরাং ছোটখাট অপরাধ বা বড় কোন অপরাধ নিরোধ আইন এমনই হওয়া উচিত যা কার্যকর করা যায় বা সম্ভব হয়। যে আইন - তা সে যত ক্ষুদ্র অপরাধ নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যেই হোক না কেন - অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। তা যদি না পারা যায় তবে সে আইন বানানোই একটা অপরাধ সংঘটনের কারন হবে এটা নিশ্চিত। সমাজে বিভিন্ন অপরাধের ব্যপ্তি দেখে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
তবে অনেকে এখন বলছেন যে কেবল আইন দিয়ে সব কিছুর সমাধান সম্ভব নয়। কথাটা খুবই সত্যি। আইনের ঢাল হিসেবে পুর্বে সমাজের বাঁধন-কষন ও শাসন বিদ্যমান ছিল এই ১০/১২ বছর আগেও। সেই সামাজিক শাসন কোথায় গেল? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে যখন থেকে সরকারের কাছে সমাজ প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ল। সমাজের মধ্যেই এমনই এক শ্রেনী তৈরী করা হলো যাদের কাছে সমাজের বয়ঃজ্যোষ্ঠ্য মুরুব্বী বা সম্মানী লোকের মর্যাদা রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে গৌন হয়ে পড়ল। দেখা গেল বিশেষ রাজনৈতিক দলের পতাকাবাহী এক নাবালক ছোকরা তার পিতামহের বয়সী মানুষকে অবলীলায় অবজ্ঞা করছে, অসম্মান করছে। আগে মুরুব্বীদের সামনে ধুমপান করাটা কেউ কল্পনাও করত না, কিন্তু এই নষ্ট রাজনীতির এই নব্য শাবকরা সমাজে নীতি নির্ধারনের ক্ষমতা পেয়ে গেল এবং অনায়াসে মুরুব্বীদের বিচার-বিবেচনাকে চ্যালেঞ্জ করে বসল। গুরুজন বা মুরুব্বীদের ভুমিকা একেবারেই গৌন হয়ে গেল। আগে যে সমাজিক অপরাধের ৮০% সমাজপতিরা স্থানীয়ভাবেই মীমাংসা ফয়সালা করতেন, তা এখন আর সমাজের মধ্যে সীমিত না থেকে আদালত পর্যন্ত চলে আসল। স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেবদের ভুমিকাও যথেষ্ঠ উল্লেখযোগ্য ছিল এই সব বিবাদ-বিরোধ মীমাংসায়। কিন্তু সমাজের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলিকে ক্রমাগতভাবে আঘাত ও অবজ্ঞা করে আজ অবস্থা এমনই হয়েছে যে মুরগী চুরির মামলা থেকে গ্রামের একটা মেয়ের প্রতি অশালীন আচরন, যা আগে সামাজিকভাবেই স্থানীয় পর্যায়ে সব পক্ষের কমবেশী সন্তুষ্টির মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত, তা এখন আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে এবং তা ক্রমাগতভাবে (ইংরেজীতে যাকে বলে snowballing) বাড়তে বাড়তে মারামারি খুনোখুনি অবধি পৌঁছে যাচ্ছে। আর এই ক্রমানুগভাবে সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারের ক্রমবর্ধমান প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা পরিস্থিতিকে আজ এই অবধি নিয়ে এসেছে। এখন যখন পানি নাকের উপরে উঠে গেছে তখন আমাদের আঁতেল সমাজ কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন। আজ প্রগতিশীলতার নামে ধর্মকে, ধর্মীয় বিধি-নিষেধকে পাশ কাটিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্যকে আস্কারা দেওয়া হয়েছে। সমাজের ইতিহাসই বলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত কোন কিছুকে উঠিয়ে দিলে যে শুন্যতা সৃষ্টি হয় তার যদি স্বাস্থ্যকর কোন বিকল্প প্রতিস্থাপন করা না হয় হয় তবে তা বিকৃতিকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দেবে। আজ সেটাই দেখা যাচ্ছে। কারন একজন ৩০/৪০ এমনকি ষাটোর্ধ বয়সের পুরুষের পক্ষে ২/৩ বছরের শিশু বা পঞ্চাশোর্ধ প্রৌড়াকে ধর্ষন করার মত বিকৃতি তো স্বাভাবিক নয় আদৌ। কিন্তু সেটা ঘটছে কেন? বেশ কিছু বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এইডস্ প্রতিরোধের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন যে ধর্মীয় মুল্যবোধের প্রতিষ্ঠা এ ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখতে পারে। তো যেখানে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মত উন্নত সমাজে ধর্মীয় মুল্যবোধের আবশ্যকীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় সেখানে ৮৫% মুসলমানের এই দেশে ধর্মীয় মুল্যবোধকে যদি উপেক্ষা অবজ্ঞা করা হয় তবে তার ফল যে বর্তমান অবস্থারই প্রতিফলন হবে তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
এছাড়া শিশু-কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্যকর কোন বিনোদনের ব্যবস্থা প্রায় উঠেই গেছে। আনাচে কানাচে স্কুল-কলেজ; যাদের নেই কোন লাইব্রেরী, নেই খেলার মাঠ, নেই সাংস্কৃতিক কোন কর্মকান্ড, নেই সুস্থ্য কোন প্রতিযোগীতা। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেমেয়েরা আকাশ সংস্কৃতি ও স্মার্ট ফোনের ঘনচক্করে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। সেই সাথে একশ্রেনীর ভুঁইফোঁড় ধনীর ছেলেমেয়ের হাতে মহার্ঘ্য স্মার্টফোন সমাজে স্বল্পবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোরদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরী করছে। কেবল একটা স্মার্ট ফোনের জন্য বন্ধু বন্ধুকে খুন করছে, এটাও এই সমাজে এখন বিরল নয়। এর কারন খুঁজতে গেলেও দেখা যাবে যারা ক্ষমতাসীন থাকেন তারাই সমাজে এইসব ভুঁইফোঁড় ধনিক শ্রেনী সৃষ্টি করছেন। তাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়েই ব্যাংকলুট, খাণখেলাপী, শেয়ারবাজার লুট, কালবাজারী এবং ওভার/আন্ডার ইনভয়েসিং-এর মাধ্যমে ঐসব আঙ্গুল ফুলে বটগাছের জন্ম হয়েছে ও হচ্ছে। যাদের অর্থ কষ্টার্জিত, তাদের পক্ষে অপচয় অপব্যয় করাটা সম্ভব নয়। কিন্তু যাদের বাম হাতের আয় বা কালো টাকার কমতি নেই তারা তাদের সন্তানদেরকে হাত খরচ হিসেবেই মাসে ৪০/৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশী ব্যয় করতে দিতে দ্বিধা করেন না। আর এসব সরকারের বিভিন্ন এজেন্সীর নাকের ডগায় ঘটলেও সরকারের কিছু এসে যায় না। কারন এদেশে এখন কাল টাকা না হলে যে জনপ্রতিনিধি (??) হওয়া যায় না; মন্ত্রী-এমপিও হওয়া যায় না।
প্রকৃতপক্ষে সরকার যদি চায় যে কেউ কাল টাকা জমাতে পারবে না তবে তা খুবই সম্ভব। সরকারের যে সব গোয়েন্দা সংস্থা আছে তারা সময়ে সময়ে বাজারে ঘুরলেই লাখ টাকা দিয়ে লেহেঙ্গা ক্রেতা বা পাঁচ/দশ লাখ টাকা দিয়ে হীরা-জহরত ক্রেতাকে অনায়াসেই সনাক্ত করতে পারে। এই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গেলেই এদেশের লোকের কেনাকাটা দেখে ভারতীয়রা সহজেই বলে দেয় এরা বাংলাদেশী। কারন সেখানে এক কেজি মাংস কেনার সামর্থ আছে এমন লোকের সংখ্যা খুব বেশী নয়। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে অবৈধ পয়সা কামানো কতটা কঠিন সেটার একটা সত্যি উদাহরন দেওয়া যায়। সেখানে মাফিয়া গ্রুপের/ফ্যামিলির কথা অনেকই শুনে থাকবেন। তারা এক্সটোর্শন, কিডন্যাপিং, মার্ডার, বুকমেকিং (এক ধরনের জুয়া), ঘোড়দৌড় ইত্যাদির মারফত কোটি কোটি টাকা কামায়। তাদের কোন কোন ফ্যামিলির ক্ষমতা অকল্পনীয়। কিন্তু তারাও অবৈধভাবে টাকা কামাতে পারে না। তাদরেকেও আইনের কোন ফাঁকফোঁকড় খুঁজে কোন না কোন বৈধ উপায় বের করতে হয় ঐ টাকা কামানোর জন্য। যে কারনে আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষে অধিকাংশ সময়ই তাদেরকে ধরা সম্ভব হয় না। যেমন একজনকে কোন একটা অপরাধ সংঘটনের জন্য পাঁচ হাজার ডলার দেওয়া হবে। কিন্তু সরাসরি সেটা দেওয়া যাবে না কারন তা হবে অবৈধ। তাই তাকে হয়ত বলা হবে কয়েকশ’ মাইল দুরের এক শহরের এক বারে যেতে। সেখানে তার জন্য একটা টেবিল বুক করা থাকবে। সেই টেবিলে সে পোকার খেলবে এবং সেখানে সে ঐ পাঁচ হাজার ডলার জিতবে। বার যেহেতু বৈধ লাইসেন্সধারী এবং পোকার খেলাও অবৈধ নয়, তাই এভাবে সে ঐ পাঁচ হাজার ডলার কামাই (?) করলে তা আর অবৈধ থাকবে না।
তো আমাদের শাসকেরা ঘনঘনই বিদেশের উদাহরন টানেন। তারা তো এসব থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। কিন্তু সেটা তারা করবেন না কারন তাতে তাদের লাভের অংক কমে আসতে পারে।
তাই উপসংহারে সেই পুরানো কথাই বলতে হয় যে ’মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকে।’ আর শুদ্ধি কার্যক্রম করতে হলেও শুরু করতে হবে মাথা থেকে। নইলে সকলি গরল ভেল।

Thursday, June 6, 2019

শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণে ইসলামের আদর্শ সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণে ইসলামের আদর্শ সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির --মহামান্য রাস্ট্রপতির এ আহ্বান একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত। 
মহামান্য রাস্ট্রপতির এ আহ্বান এমন এক সময়ে যখন দেশে খুন-ধর্ষণ-লুটপাট, দুর্নীতি ও অনৈতিকতার মচ্ছব চলছে। মহামান্য রাস্ট্রপতির আহ্বান খুবই সময়োপযোগী সন্দেহ নেই; কিন্তু ব্যক্তিজীবনে যেখানে ইসলামকে আমাদের আঁতেল ও বিদগ্ধ সমাজ একপেশে করে তথাকথিত প্রগশিীলতার ধ্বজা বেশ উঁচু করে উড়াচ্ছেন; ইসলামকে, ইসলামের আদর্শকে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন থেকে প্রায় অপসারিত করা হয়েছে ইতিমধ্যে, সেখানে এই আহ্বান কতটা ফল দেবে সেটাই প্রশ্ন।। এদেশের ৮৫% মানুষ মুসলমান হলেও হেন অপকর্ম নেই যা এই মুসলমানরা না করছে। শিশুখাদ্যে প্রানঘাতি ভেজাল, প্রান রক্ষাকারী ওষুধে ভেজাল, বিভিন্ন খাবারে মিস্টিতে ভেজাল, ফলে ভেজাল, নামী-দামী হোটেল রেস্তোরার দামী খাবারে ভেজাল, এমনকি পচা খাবার েবিক্রী ইত্যাকার অপকর্ম চলছেই। সেই সাথে ধর্ষণ, এমনকি শিশু ধর্ষণ ও হত্যাও চলছে। আর এ সবই চলছে একটি নামধারী মুসলিম দেশে। তাই এরকম অবস্থায় মহামান্য রাস্ট্রপতির আহ্বান খুবই মুল্যবান বৈকি।
কিন্তু কেন এরকম অবস্থা হলো? এটা তো আর একদিনে হয়নি। আজ থেকে ৮/১০ বছর আগেও তো অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে প্রায় ফেজ আউট করে ফেলা হয়েছে। ইসলামের যে সব বিধিবিধান মানুষের জীবনকে সুশৃংখল ও সুন্দর করে সেসব বিধিবিধানকে পশ্চাৎপদ, মধ্যযুগীয় ও প্রগতিবিরোধী ইত্যাদি বলে একপাশে ঠেলে ফেলা হয়েছে। ইসলামে যে পারলৌকিক জীবনের কথা বলা হয়েছে, শেষ বিচারের দিনের কথা বলা হয়েছে, সেসব বিষয়ে মানুষের মনে বর্তমানে তেমন কোন সিরিয়াস ভাবনা আছে কি না সন্দেহ। মানুষ পরকালকে প্রায় সম্পুর্ন উপেক্ষা করে ইহকালকেই সার বলে ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি নামাজ-রোজা, ওমরা-হজ্জ, তসবীহ-তেলাওয়াত ইত্যাদি কেবল লোকদেখানো কাজকর্ম পর্যবসিত হয়েছে। যে মিথ্যা কথাকে সকল পাপ কাজের মা বলা হয়েছে, সেই মিথ্যাকে আজ টপ-টু-বটম সবাই পরম আনন্দে বুকে জড়িয়ে নিয়েছে। এই মিথ্যার দাপটে সত্য প্রায় কুয়াশাচ্ছন্ন, ধোঁয়াশে। এমন অবলীলায় উচ্চ পর্যায়ের মানুষ মিথ্যা বলছে যে সাধারন মানুষ চক্ষু-কর্ণর বিভ্রমে পড়ে যাচ্ছে। বেশ গুরুত্বপুর্ন কে যেন এই সেদিন বলেছেন, ‘যদি তুমি সত্য বল তবে তুমি শেষ, যদি তুমি মিথ্যা বল তবে তুমিই বাংলাদেশ।’ তাই মহামান্য রাস্ট্রপতির এই আহ্বান কতটা আসলে কাজে দেবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে একটা প্রসিদ্ধ প্রবাদ আছে -- পরকে উপদেশ দেয় নিজে নাহি মানে; সবচেয়ে বদ বেশী তারা এ ভুবনে। 

Friday, May 31, 2019

বাংলাদেশ - মিথ্যা ও দায়িত্বহীনতার দেশ

একটা কথা আছে -- সে বলে বিস্তর মিছা যে বলে বিস্তর। আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী থেকে আঁতেল সমাজ, মায় আম পাবলিকেরও অনেকে ্এত এত কথা বলেন যে সেগুলো যদি একত্রিত করা যেত তবে তা হয়ত ভুমি থেকে আকাশ ছুঁয়ে ফেলত। দেখা যায় কোন কিছু দুর্ঘটনা, ছিনতাই-ডাকাতি, খুন-ধর্ষণ, ইত্যাদি হলেই কথার পাহাড় রচিত হয়ে যায়। দেশের প্রতি ভালবাসা হয়ত মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হবে, কিন্তু দেশপ্রেমের গানের বন্যায় দেশ ছয়লাব। কিন্ত অতি শীঘ্রই সে সব কথার বুদ্বুদ বাতাসে মিলিয়ে যায় আর আমরা নতুন কিছুর সন্ধানে থাকি নতুন করে কথার মহাকাব্যি রচনার জন্য।
কিন্তু সত্যিকার কাজের কাজ? নৈব নৈব চ! এই দেখুন একজন নয়, এলাকার প্রায় সবাই বলছে যে ঐ থানার ওসি যথাসময়ে ব্যবস্থা নিলে এ রকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না, ঐ মাদ্রাসার সভাপতি ও অন্য সদস্যরা নুসরাতের অভিযোগকে যথাসময়ে আমলে নিলে নুসরাত হয়ত আজ বেঁচে থাকত, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেসব তদন্ত করে দেখবে তারপর ব্যবস্থা নেবে। ওসি সাবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব অপরাধ বা গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা সুস্পষ্ট, সেসবও তদন্ত তদন্ত খেলায় এর আগেও ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, এবারও হয়ত সেটাই হবে। ধর্ষককে হাতেনাতে পাকড়াও করার পরও ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ইত্যাকার ছেলেভুলানো কথায় পরে সবকিছু ধামাচাপা দেওয়া হবে। এই যদি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার অবস্থা হয় তবে সেই দেশে অপরাধ যে কোনভাবেই কমতে পারে না সেটা একটা মূর্খ পাগলও বলে দিতে পারে, পারে না কেবল আমাদের প্রশাসন, আইন ও বিচারবিভাগ। সত্যিই, কি অমর কথাই না বলেছিলেন মহাবীর আলেকজান্ডার! ‘কি অদ্ভুত এই দেশ, সেলুকাস!!
কিন্তু একটা প্রবাদ তো আমাদের শাসক শাসিত, রাজা প্রজা সবাই জানেন। ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়ের সমান।’ আবার, ‘Prevention is better than cure.' আশা করা যায় আমাদের আমলা-ফয়লা, জজ-ব্যারিষ্টার, ক্ষমতাসীনদের অধিকাংশই এসব কথা শোনেননি বা জানেন না তা নয়। কিন্তু তারা কেন যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেন না? কেন তারা নুসরাতের মত দগ্ধ হয়ে যন্ত্রনায় ডুবে যাবার জন্য অপেক্ষা করেন? এই প্রশ্নের উত্তর কি পুলিশের মহা-পরিদর্শক, দেশের বিচার বিভাগ বা দেশের সর্বাচ্চ নির্বাহী - কারো কাছে পাবার আশা করা যায়?

জীবননগরের প্রান ভৈরব নদ সংস্কার প্রসঙ্গে

জীবননগরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া আমাদের প্রিয় ভৈরব নদীটির চরম করুন দশা দেখে মনটা বড়ই বিষাদপুর্ন হয়ে গেল। শৈশবে এই নদীটির স্রোতধারায় কত অবগাহন করেছি। স্রোতের উজানে সাঁতার কেটেছি। শুকনা মৌসুমে মাছ ধরেছি পাড়ার ছেলেপেলেরা দল বেঁধে। অথচ আজ সেই ভৈরব নদী জীর্নাশীর্না-বিশীর্না। আজ আর সেটাকে নদী বলা যায় না। এ অবস্থা আজকের না। এই অবস্থা দেখেই বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে একটা প্রস্তাব রেখেছিলাম জীবননগরের বেকার অন্ততঃ একশত তরুন যুবককে নিয়ে একটা সমিতি গঠন করে স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে জীবননগরের উপরে ভৈরব ব্রিজ থেকে উভয় পাশে দুই থেকে তিন কি.মি. খনন করে সেখানে ঐ একশত তরুন যুবাকে পোলট্রি এবং মৎস্য খামার যৌথ মালিকানাভিত্তিতে লীজ দিয়ে নদীটির অনেকখানি প্রান ফিরিয়ে দেবার। কিন্তু সঙ্কীর্ন মানসিকতার কারনে সেই প্রস্তাব তখন ক্ষমতাসীনরা গ্রহন করেনি। এর পরও প্রায় দেড় যুগ চলে গেল, ক্ষমতার পাশা বদলারো কিন্তু ভৈরব সেই মৃতই থেকে গেল। জীবননগরে নাকি রাজনীতিকদের কমতি নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত দেখলাম না যে জীবননগরে বাস্তবে পরিকল্পনামাফিক কোন কাজ হয়েছে। তবে একথা ঠিক যে বর্তমান ক্ষমতাসীনদলের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলী আসগর টগর সাহেব জীবননগর উপজেলার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত যথেষ্ঠ উন্নতি ঘটিয়েছেন। এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে তিনি যদি ঐ সব প্রতিষ্ঠানের শিখন-শিক্ষনের মানও যথেষ্ঠ উন্নতি ঘটাতে কার্যকর ভুমিকা নেন তবে তা এক উজ্জ্বল উদাহরন হবে নিশ্চয়ই।
সেই সাথে তাঁকে এবং জীবননগরের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অনুরোধ থাকল ভৈরব নদীকে তার স্ব-মহিমায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দুরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাদ্বারা যথার্থই ভূ-উপরিস্থিত পানির সদ্ব্যবহার করার লক্ষ্যেই দেশের নদ-নদীগুলির খনন কাজকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং সেই মর্ম নির্দশনাও দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে জীবননগরের ভৈরব নদী ‘সারফেস ওয়াটার’-এর এক গুরুত্বপুর্ন উৎস হতে পারে। এর সাথে এই নদীতে মৎস্য খামার ও সাথে পরিপূরক হিসেবে হাঁসের কামার খুবই লাভজনক একটি প্রকল্প হতে পারে। জীবননগরের সকল স্তরের মানুষকে, বিশেষ করে মাননীয় এমপি মহোদয়, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যানসহ নেতৃস্থানীয় সকলকে এই অনুরোধ জানাই তারা যেন সব ভেদাভেদ ভুলে দেশপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে ভৈরব নদীকে পুনর্জীবন দান করার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসেন।

কৃষকের ধান পুড়ে হরিলুট রূপপুরে ধর্ষক উল্লাস করে

কৃষকের ধান পুড়ে হরিলুট রূপপুরে ধর্ষক উল্লাস করে -- জনাব পীর হাবিবুর রহমান-এর লেখা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত। 
জনাব পীর সাহেব অনেক কথাই বলেছেন। বর্মান সরকারের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অকুন্ঠ প্রশংসাও করেছেন। সবই ঠিক আছে। একথাও সত্য যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে একজন আইরন লেডীর মত দেশ চালাচ্ছেন তার প্রশংসাও দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। বর্তমানে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানোর মত আর কেউ নেই এদেশে। তিনি যে সাহসিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে বিরোধী পক্ষকে প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্থ করে ফেলেছেন সেটাও তাঁ শত্রু-মিত্র সবাই স্বীকার করে। এছাড়াও তাঁর সম্মন্ধে বলতে গিয়ে তাঁকে অত্যন্ত পরহেজগার ধর্মভীরু মানুষ হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন। অনেকে এর আগে তাঁকে মদিনা সনদের আলোকে দেশ শাসন করার বা হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-র মত বিচক্ষণতার অধিকারী বলেও মন্তব্য করেছেন। হয়ত এসবও ঠিক।
তবে যেটা মনে বড় একটা প্রশ্নের জন্ম দেয় সেটা হচ্ছে পৃথিবীতে সকল শাসকই - অবশ্য স্বৈরতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শাসকদের কথা আলাদা - তাঁর প্রজাদের সুখ-সুবিধা দেখার চেষ্টা করেছেন। হযরত ওমর (রাঃ) তো বলেছেন যে সুদুর ফোরাতের তীরে যদি একটা কুকুরও অেভুক্ত থাকে সেজন্যও মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এসব আমরা কি দেখছি? জনাব পীর সাহেবদের মত অনেকে, এমনকি তাঁর মিত্র দলের সদ্য সাবেক এক মন্ত্রী সাহেবও বলেছেন সরকারী প্রশাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো কথা শোনে না। বাস্তবেও দেখা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গ্রীন সিগন্যাল ছাড়া সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের একটা পাতি নেতাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রাখে না।
তাহলে দেশে এই যে অনাচার, ধর্ষণ, লুটপাটের মহামারী লেগে গেছে, তার জন্য সরোচ্চ পদের অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কি কোন নৈতিক দায়িত্ব নেই? তিনি যদি এসব কিছু সামলাতে না-ই পারেন, তবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হিসেবে তিনি তো তার দলকে এই হুশিয়ারীও দিতে পারতেন যে এসব অবিলম্বে বন্ধ না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন? তিনি তো তাঁর আটত্রিশ বছরের সভাপতির পদের জন্য বেশ আস্থার সাথেই বলেছেন নতুন নেতৃত্বের আগমনের কথা। মানুষের ভালবাসার জন্য তিনি তো অন্ততঃ মৌখিতভাবে হলেও একটা সাবধানবানীও দিতে পারতেন।
তাই বলছি, জনাব পীর সাহেব বিখ্যাত বিদূষী খনা-র বচনে যে বলা হয়েছে -
রাজার পাপেতে হয় রাজ্য ছারখার;
সুখ নাহি থাকে প্রানে রায়েত প্রজার।
তাই যত উন্নয়নই দেশে হোক না কেন, যত ওভারপাস, ফ্লাইওভার, ব্রিজ, রেলপথই বানানো হোক না কেন, সেসব ব্যবহার করার মানুষ যদি না থাকে তবে সে উন্নয়ন দিয়ে সাধারন মানুষ কি করবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী,ডাইনামিক, দুরদর্শী ও সৃজনশীল নেতৃত্বের প্রশংসা আমাদের মত আম পাবলিকও করে; কিন্তু যখন দেখা যায় যে তাঁর কথা ছাড়া প্রশাসন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জুডিশিয়ারীও, কার্যকর হয় না, সেখানে তিনি কেন এমন দৃষ্টান্তমুলক পদক্ষেপ নিতে পারেন না যাতে লুটেরা, খাণখেলাপী, খুনী-ধর্ষক, দুর্নীতিবাজদের প্রান কেঁপে ওঠে? কেন তিনি দেশের অর্থনীতির বেদনাদায়ক বিকৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে উন্নয়নের সাথে জ্যামিতিকহারে বৈষম্য বাড়ছে, সে ব্যাপারে বা দেশের অর্থ বেদেরেগভাবে বিদেশে পাচারের বিরুদ্ধে, বা ধর্ষক-খুনীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে পারছেন না? কোথায় তাঁর দুর্বলতা, এটা ভাবতেই মাথা ঘুরে যায়।

বাংলাদেশকে জাপান বানানো


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশকে জাপান বানানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন যা শুনে যেমন খুবই ভাল রাগল তেমনি কয়েকটি প্রশ্ন জাগল মনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্ভবতঃ ভুলে গেছেন যে জাপানীরা কখনো রাতে ভোটের প্রহসন করেনি। জাপানে প্রধানমন্ত্রী পেছন দরজা দিয়ে ভোট করে গালগল্প করবেন যে মানুষ তাকে ’বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে’- এটা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারে না। তারা এটা কল্পনা করতে পারে না যে দেশের সাধারন পাবলিকের টাকায় পোষা আইন-শৃংখলা বাহিনী কোন বিশেষ দলের পাইক-বরকন্দাজ হিসেবে কাজ করবে আর ভোটের বাক্স ভোটের আগের রাতেই  ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ভরে ফেলবে। পরের দিন মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রেই যেতে না পারে তার জন্য যা কিছু করার করে রাখবে।
তাদের আত্মসম্মানবোধ তুলনাহীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভুলে গেছেন জাপানে একবার একটি বিমান দুর্ঘটনার দায় নিয়ে বিমানমন্ত্রী নিহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কেবল পদত্যাগই করেন নি; আত্মহত্যা করেছিলেন। আর তাঁর মন্ত্রীসভার এক গুরুত্বপুর্ন সদস্য বেপরোয়া বাস চালকের হাতে দু’জন শিক্ষার্থী প্রান হারালে তিনি দন্ত বিকশিত করে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রতি বছর লঞ্চডুবিতে শত শত লোক বেঘোরে মারা গেলেও তার কোন বিবেকদংশন বোধ হয় নি।
জাপানে দুর্নীতি বিষয়টি প্রায় অজানা। আর বাংলাদেশে দুর্নীতি বিষয়টি দেশের নামের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘুষখোরী তাদের কাছে একটা ঘৃন্য ব্যাপার। আর বাংলাদেশে সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন প্রায় তিনগুন করারপরও তাদের ঘুষখোরী প্রায় লেজেন্ডারী মাপের। জাপানে ব্যাংক থেকে খাণ নিয়ে কেউ তা ফেরত না দেবার কথা হয়ত কল্পনাও করে না। আর এই দেশে খাণখেলাপীদেরকে রাস্ট্র ’প্রণোদনা’ দিয়ে থাকে তা ফেরত না দেবার জ্ন্য। তাছাড়া একটি উন্নয়নশীল (?) দেশ হওয়া সত্বেও এই দেশ থেকে যেভাবে বিদেশে টাকা পাচার হয়, এমনকি রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে যে টাকা চুরি হলো, সেটা জাপানে কল্পনা করা যায়?
তাদের সততা ও সত্যবাদিতার কোন তুলনা হয় না। জাপানে কোন মন্ত্রী জনগনকে কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এটা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুজলেও মিলবে না। আর এদেশে রাজনীতি মানেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া। যে যতটা দক্ষতা ও চাতুর্য্যরে সাথে এটা করতে পারে তিনি ততটাই ঝানু রাজনীতিক।
জাপানীরা সময়ের মুল্য যেভাবে দেয় তার সম্পুর্ন বিপরীত চিত্র এই বাংলাদেশে। এখানে সময় ও মানুষের জীবন সবচেয়ে সস্তা। তাদের কোন প্রকল্প বরাদ্দ বাজেট ও মেয়াদের চেয়ে এক টাকা বা এক ঘন্টাও বেশী হয় না। আর আমাদের দেশে প্রকল্পের মেয়াদ ও বাজেট বাড়েনি এমন প্রকল্প কল্পনা করা যায় না। তারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করে জনগনের সুখ-সুবিধা কতটা বাড়বে সেই ভাবনা থেকে। আর আমাদের প্রকল্প গ্রহন করা হয় কতটা কিকব্যাক আসবে সেই ভাবনা থেকে। দু’পাশে কোন রাস্তা নেই অথচ বেশ সাইজের একটা কালভার্ট নির্মান করা হয়েছে - এটা জাপানে সম্ভবতঃ যাদুঘরেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তারা নিজেদের সুখ-সুবিধা বাড়ানোর আগে জনগনের সুখ-সুবিধা বাড়ানোর জন্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। আর বাংলাদেশে ’আপনা বাঁচলে বাপের নাম’ - এটাই নীতি। আগে নিজের পকেট ভরো তারপর অন্যেরটা চিন্তা ক’রো। কত বড় লজ্জার বিষয় যে গরীব মানুষের রিলিফের চাল এখানে জনপ্রতিনিধি (?) নামক বাটপাড়দের ঘরে আগে ওঠে আর সরকার তার নামকা ওয়াস্তে বিচারের প্রহসন করে থাকে।  এটা জাপানে কেউ চিন্তা করতে পারে?
জাপানীরা কতটা সৌজন্যবোধের অধিকারী সেটা তারা এই দেশেও বিভিন্ন সময়ে প্রমান করেছে। তারা কেউ কাউকে অসম্মান করে অপমান করে কথা বলা মনেও আনতে পারেনা। আর আমাদের নেতারা বিরোধীদের ব্যক্তিগতভাবে গালাগালি না করে, তাদের বাপদাদার শ্রাদ্ধ করে কথা বলতেনা পারলে দলে তার মানই থাকে না। বিরোধীদের গালাগালিতে যে যত বেশী পটু, তার মর্যাদা দলনেতা-নেত্রীর কাছে ততটাই বেশী।
সর্বোপরি জাপানীরা তাদের দেশকে যতটা ভালবাসে তার তুলনায় এদেশের মানুষ যে কতটা দেশপ্রেমিক তা তাদের দৈনন্দিন কাজেকর্মে প্রমানিত। বিশেষ চেতনার নাম করে হেন অপকর্ম নেই যা এরা করে না। জাপানীদের সৌন্দর্যপ্রিয়তা বিশ্ববিদিত। তারা দেশকে একটা ফুলবাগান করে রেখেছে। আর আমাদের দেশের মানুষের স্বভাব হচ্ছে যা কিছু সুন্দর আগে তার দফারফা করা। রাস্তাঘাটে, বাস-ট্রেন স্টেশনে বা অন্য পাবলিক প্লেসে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে রাখা তারা চিন্তাও করতে পারে না। আর আমাদের দেশে ময়লা-আবর্জনা এমনকি ঘরের পাশের নর্দমাও ভর্তি করে রাখলেও আমাদের কোন বিকারবোধ হয় না।
জাপানীরা দেশের আইনের প্রতি যে রকম শ্রদ্ধাশীল, আমরা দেশের আইনের প্রতি তার চেয়ে অধিক পরিমানে অশ্রদ্ধাশীল। তারা আইন মেনে আনন্দ পায় আর আমরা আইন ভেঙ্গে কেবল আনন্দই পাই না, বরং বিরাট গর্ববোধ করি। আমাদের আইন প্রণেতারাই আইনের মাথায় পা দিয়ে চলতেই ভালবাসেন। তাদের ধারনা আইন যদি ভাঙতেই না পারি তবে আর ক্ষমতার দাপট দেখাবো কিভাবে?
তো আরো অনেক বিষয় আছে যা বাংলাদেশী জাপান প্রবাসীরা ভাল জানে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর দেশকে জাপান বানানোর কথা বলেছেন তখন এসব বিষয় মনের কোনে জেগে উঠেছে। বস্তুতঃ পিঠে একাধিক কুঁজ নিয়ে চিত হয়ে শোবার হাস্যকর চেষ্টার মতই মনে হয়েছে। তবে উপরে যা বলা হয়েছে তা যদি সত্য না হয় তবে নিশ্চয়ই এ অধম ক্ষমাপ্রার্থী।  --- ৩১/৫/২০১৯ইং

Tuesday, April 9, 2019

যে দেশে সমস্যা সরকারই তৈরী করে

এত প্রকল্প, তবু সড়কে নৈরাজ্য -- একটি জাতীয় দৈনিকে জনাব আনোয়ার হোসেনের লিখিত নিবন্ধের শিরোনাম। তিনি আরো লিখেছেন, ’এ পরিস্থিতির জন্য পরিবহন বিশেষজ্ঞরা সরকারের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নীতিকে দায়ী করছেন। সরকার ২০০৫ সালে ঢাকার জন্য ২০ বছরের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) তৈরি করেছিল, যা ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা।’
তবে কথা হচ্ছে দেশে শত শত এমনকিহাজার হাজার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে কিন্তু দু’চারটে ফ্লাইওভার বা দু’দশ কিমি রাস্তা মেরামত করা ছাড়া খুব বেশী জনবান্ধব প্রকল্প খুব একটা দৃশ্যমান নয়। কারন ঐসব প্রকল্প যতটা জনগনের কল্যানে তার চেয়েও বেশী কর্তাব্যক্তিদের কল্যানের কথা ভেবেই নেওয়া হয়ে থাকে। যেজন্য দেখা যায় কালভার্ট আছে কিন্তু এপ্রোচ রোডই নেই। পাশেই রাস্তা কিন্তু কালভার্ট তার পাশে, রাস্তার সাথে সংযোগহীন। শহরে বেশ অনেক ফুটওভারব্রিজ বানানো হয়েছে, কিন্তু কোন দেশে সাড়ে চার মিটারের বেশী উঁচু ফুটওভারব্রিজ আছে কিনা তা চোখে পড়েনি। এই দেশে ফুটওভারব্রিজ নির্ান করা হয়েছে প্রায় ২৫/২৭ ফুট উপর দিয়ে। এতে যাদের হাঁটুতে সমস্যা, বয়স্ক বা গর্ভবতী মহিলা, তাদের পক্ষে ওঠা কেবল কঠিনই নয়, খুবই ঝুঁকিপুর্নও বটে।
দেশের সব কিছু রাজধানীকেন্দ্রিক। অকল্পনীয় জনসংখ্যা এই ছোট্ট দেশটিতে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৬% - ২০% লোক এই শহরে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এত লোকের সংস্থান এখানে হবার কথা নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, যোগাযোগ - সব কিছুই এই ৮০০/৯০০ ব.কিমি.-এর শহরে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু দেমের শাসনব্যবস্থায় যারা আছেন তারা এসব চিন্তা করেন না; করেন তাদের কোটারী স্বার্থর চিন্তা। জনগনের নামে ক্ষমতায় বসলেও জনগনের স্বার্থকে তারা থোড়াই পরোয়া করেন। তাই দেশ ও জনগনের কল্যানমুলক কাজের চেয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠিগত স্বার্থই সর্বদা প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তুতু এ সব সমস্যা অন্ততঃ সহনীয় পর্যায়ে আনা অসম্ভব ছিল না। সবকিছু রাজধানী কেন্দ্রিক না করে বিভাগীয় শহরগুলোকে উন্নত করে, কিছু এস্টাবলিশমেন্টকে রাজধানীর বাইরে সরিয়ে, রাজধানীর ৩০/৪০ কি.মি,-এর ভেতরে স্যাটেলাইট টাউনশিপ নির্মান করে এসব সমস্যার বহুলাংশে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু ঐ যে! কোটারী ও গোষ্ঠীস্বার্থই যেখানে জনগনের কল্যানের চেয়েও বেশী দরকারী সেখানে মুখে বড় বড় বাক্যিবাজি করলেও কাজের কাজ দুর অস্ত-ই থেকে যায়। তাই এই দেশে সমস্যা সমাধান নয়, বরং সমস্যা তৈরী করাটাই সম্ভবতঃ সকল সরকারের মুল লক্ষ্য। যে কারনে এর কোন সমাধান প্রায় নেই-ই। প্রকৃতপক্ষে সত্যিকার জনকল্যানকামী সরকারের যে যে বিষয়ে সর্বাধিক মনোযোগ ও জোর থাকা দরকার তার সে সে বিষয়ের চেয়ে বড় বড় প্রকল্প গ্রহন, বিদেশী খাণ গ্রহন প্রভৃতির মাধ্যমে ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদেশে বেগমপাড়া, সেকেন্ডহোম বানানোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেওয়াটা কোন দেশেই জনকল্যানমুলক কাজ বলে প্রশংসিত না হলেও এই দেশে তা হয়েছে ও হচ্ছে।

বিপজ্জনক সড়ক এবং বেহাল প্রশাসন

সম্প্রতি রাজধানীতে আবারো একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বাসচাপায় মৃত্যুতে শিক্ষার্থীরা ফের পথে নেমে এসেছে ’নিরাপদ সড়ক চাই’ - এই দাবীতে। গত বছর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে দু’জন শিক্ষার্থী এভাবেই বেপরোয়া বাসচাপায় নিহত হ’লে কচি-কাাঁচা শিক্ষার্থীরা পথে নেমে আসে একই দাবীতে। এই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবীকেও ’দাবায়ে রাখার’ উদ্দেশ্যে প্রশাসন তাদের ওপর অত্যাচার করেই ক্ষান্ত হয় নি, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও দিয়েছিল যা আজো চলমান। অবশ্য দেশে বিভিন্নসড়কে মটরযান একরকম বিনা বাধায় একটা কিলিং মেশিনে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিনই এর বলি হচ্ছে অন্ততঃ ডজনখানেক মানুষ। আর এর জন্য নানা মুনি নানা মত দিচ্ছেন ও নোসখা বাতলাচ্ছেন। তবে সমস্যার একটু গভীরে গেলে এই হত্যা প্রক্রিয়ার সাথে যে কেবল বাস চালকরাই দায়ী তা নয়; বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে সরকারের পুরো মেশিনারী। অনেকেই হয়ত একথা শুনে আবার এই অধমের নামে মামলাও ঠুকে দিতে পারেন। তবে তার আগে তাদেরকে কয়েকটি বিষয় একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি।
এদেশে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই অযোগ্যতা, অদক্ষতা, কর্তব্যকর্মে গাফিলতি, কেবল জ্বি-হুজুরী করে চাকুরী বজায় রাখা এবং সেই সাথে দুরারোগ্য দুর্নীতির দগদগে ঘা বিরাজমান। এর উদাহরন ভুরি ভুরি। রাস্তা বানানো হবে বিশ্বের সবচেয়ে অধিক ব্যয়ে কিন্তু সে রাস্তা ৬/৮ মাসের মধ্যেই খানাখন্দে পুর্ন হয়ে যাবে এবং বছরের মধ্যেই পুনরায় মেরামতের দরকার হবে। বিল্ডিং বানানো হবে কিন্তু বছর না ঘুরতেই তাতে ফাটল দেখা দেবে, পলেস্তারা খসে পড়বে, এমনকি নির্মানকালেই অনেক সময় তা মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে কারো কারো মৃত্যুও ঘটাবে। রাস্তায় সর্বনি¤œ মানের নির্মান সামগ্রী, বিটুমিনের বদলে পোড়া মবিল, রডের বদলে বাঁশ বা বাঁশের কঞ্চি ইত্যাদি ব্যবহার করা হবে। রাস্তা বানানো হবে কিন্তু তার বাঁকগুলো হবে এক একটি মৃত্যুফাঁদ। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন জায়গাতে পানি জমবে, পানি সরে যাওয়া বা বেরুনোর কোন পথ থাকবে না। এই অবস্থা এমনকি এই রাজধানী শহরেও। রাস্তা নির্মান ও মেরামত এই দেশে এক আলাদীনের চেরাগ। হাজার টাকায় যে রাস্তা নির্মান সম্ভব, সে রাস্তা নির্মানে ব্যয় হয় লাখ টাকা। এরপর সেই রাস্তায় যখন ছোটখাট খানাখন্দ তৈরী হয় তখনই যদি তা মেরামত করা হয় তবে জনগনের বহু অর্থ বেঁেচ যেত। পাকিস্তান আমলেও দেখেছি একটি ট্রাকে কিছু বালি, পাথর, বিটুমিন ও রোডরোলার নিয়ে রাস্তার সুপারভাইজার/ইন্সপেক্টর রাস্তা পরিদর্শনে বেরুত। ছোটখাট গর্ত ইত্যাদি তাৎক্ষনিকভাবে মেরামত করে ফেলত। এটা উন্নত দেশের শহরগুলোতেও দেখেছি। কিন্তু এই দেশে রোড ইন্সপেক্টর/সুপারভাইজার আছে কি না, থাকলে তাদের কাজটি কি জানা যায় না। কারন যতদিন ঐসব ছোটখাট খানাখন্দ বড় বড় গর্ত বা পুকুর তৈরী না করবে ততদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নড়চড় নেই। কারন বড় ধরনের গর্তগেঁড়ে তৈরী না হলে বড় রকমের ফান্ড পাওয়া যাবে না আর তার থেকে পকেট ভারী করার সুযোগও পাওয়া যাবে না। আর এসবই জনগনের সরকার (??) ও প্রশাসন অবাধে চলতে দেবে।
শহরের রাস্তার ওপরে ফুটওভারব্রিজ বানানো হবে কিন্তু তা এত উঁচুতে যে একটু কমজোর মানুষের পক্ষে তাতে ওঠার উপায় থাকবে না। এত উঁচু করার কারন? ১৭/১৮/২০ ফুট উঁচু কাভার্ডভ্যান চলাচলের জন্যই এটা করা হবে। এই কাভার্ডভ্যান কতটা উঁচু করা যাবে তারও কোন সীমা নেই। অথচ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য দুনিয়ার কোথাও বোধহয় সাড়ে চার মিটারের বেশী উঁচু ফুটওভারব্রিজ নেই।
এখানে বাসের অনুমোদিত সিটসংখ্যা কত তার কোন ঠিকঠিকানা নেই। ইচ্ছামত চল্লিশ সিটের জায়গায় পঁয়তাল্লিশ/ছেচল্লিশ সিট করা হয়েছে। অধিকাংশ বাসে ঠিকমত পা-ই আঁটে না। কিন্তু  কেউ দেখার নেই। অধিকাংশ বাসের ব্যাক লাইট নেই, নেই সাইড ইন্ডিকেটর। ৯৫% ভাগ বাসের বডি ছালবাকলা ওঠা, এদিকে ওদিকে টোপ খাওয়া ও বেঁকেচুরে যাওয়া বেপরোয়া ঘষাঘষি ও পাল্লাপাল্লিতে ঠেলা-ধাক্কার জন্য। ২০/২৫ বছর বা এরও বেশী পুরানো এসব বাসেরও ভাড়া ইচ্ছামত নির্ধারন করা যাতে কেবল মালিকদের স্বার্থই বজায় থাকে। এসব ক্ষেত্রে সরকারও বিআরটিএ-র ভুমিকা জমিদারের লাঠিয়াল কোতোয়ালের চেয়ে বেশী কিছু নয় কারন তারা কেবল মালিকদের স্বার্থই দেখে। জনগনের কোন মুল্য নেই তাদের কাছে।
শহরের আবাসিক এলাকায় খোলা ড্রেন থাকে এটা উন্নত বিশ্বের কোথায় আছে জানা নেই; তবে এই শহরের মডেল টাউন (??!!) নামক এলাকায়ও এটা আছে। অথচ আবাসিক এলাকায় রাস্তায় কোন ওয়াকওয়ে বা ফুটপাথ নেই। যারা এই রকম শহরের প্ল্যান করেছে, তাদের মগজে আসলে কি পোরা আছে সেটাই প্রশ্ন। যে দেশের মানুষ সুযোগ পেলেই নিয়ম-কানুন, আইন-বিধি ভঙ্গ করতে পারঙ্গম, সেই দেশে খোলা ড্রেন রেখে শহর প্ল্যানাররা কাদেরকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন সেটাও এক বিরাট প্রশ্ন বটে। ইদানিং হাইরাইজ ভবনগুলোর অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ে বড় রকমের হৈচৈ হচ্ছে। এর কারন সম্প্রতি এফ, আর, টাওয়ারে অগ্নিকান্ড। এর পরপরই গুলশান ১নং মার্কেটে অগ্নিকান্ড। এখন সব হাইরাইজ ভবনের অগ্সি প্রতিরোধ ব্যবস্তা তদারক করার হিড়িক পড়ে গেছে। অথচ এই সব হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো রাতারাতি তৈরী হয়নি। এসব বিল্ডিং নির্মানকাজে সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে কি না, সব রকমের সেফটি ব্যবস্থা আছে কি না সেসব যাদের তদারক করার কথা তারা কেউ তাদেও দায়িত্ব পালন করেনি। তারা টেবিলে বসে হয়ত কেবল পকেট ভারী করার তালেই ছিল। অথচ এখন বাড়ীর    মালিকদেরকে সব কিছুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। সম্ভবতঃ তুঘলোকি ব্যবস্থা বোধহয় এটাকেই বলে। কিন্তু যাদের চরম গাফিলতির ফলে এতগুলো অমুল্য প্রান চলে গেল তাদের কি হবে, বা আদৌ কিছু হবে কি না সেটা কেউ জানে না। 
শহরে বাড়ী নির্মান করারও কোন মাথামুন্ডু নেই। একটি আধুনিক শহর গড়তে আগে তার ইউটিলিটি সার্ভিসসমূহ নিশ্চিত করতে হয়; তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হয়। কিন্তু সরকারের সে সব দিকে কোন ধারনা নেই। সরকার কেবল আছে বাড়ী নির্মাতাদের কাছ থেকে কতটা ট্যাক্স-ভ্যাট আদায় হলো সেটা নিয়ে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই পানি নেই গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই আসবে, ক্ষেত্রবিশেষে জরিমানাও দিতে হবে; কিন্তু সেবা নামক যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সরকারের থাকে সেটার কোন খোঁজ নেই। সেই সেবা নিতে গেলে আবার উপরিও দিতে হবে। এ সব ব্যপারে কোথাও কোন অভিযোগ করার সুযোগ নেই কারন আপনার আমার কথা কেউ শুনবে না। কারন আপনি আমি যে ”প্রজা”। যেখানে একটি স্বাধীন দেশে নাগরিকদের কথার প্রধান্য থাকার কথা, যে দেশ স্বাধীন হয়েছে সাধারন মানুষের সুখ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও আইনসম্মত অধিকার সংরক্ষনের লক্ষ্যে, সেই দেশে এখন পাবলিক সার্ভেন্টগন ’পাবলিক মাস্টার’। যে রাজনীতিকগন দেশের সাধারন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সংসদে গেছেন, সেই রাজনীতিকদের কাছে জনগনের কোন মুল্য নেই কারন তাদের ভোটের জন্য সেই রাজনীতিক নেতাদের অপেক্ষা করতে হয় না। তারা সংসদে গিয়ে কেবল তাদের নিজেদের ও ’মামাদের’ স্বার্থই দেখেন। জনগনের ট্যাঁকের টাকায় তাদের সবার বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধার অন্ত নেই, কিন্তু সাধারন মানুষ তাদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগের জন্য কারো কাছে ফরিয়াদ জানাতে পারে না। তাদের ট্যাঁকের টাকায় ব্রিজ-কালভার্ট হয়, দালান-কোঠা হয়; কিন্তু সেখানে যে হরির লুট হয়, দশ টাকার কাজ শত টাকা খেয়ে ফেলে, সাধারন মানুষের অশেষ দুর্ভোগ সৃষ্টি ক’রে এক মাসের কাজ এক বছর লাগায়, তাতে নেতা-নেত্রী বা আমলা-ফয়লাদের কোন মাথাব্যথা নেই, কোন জবাবদিহিতাও নেই। অথচ এই দেশকে একটি গনতান্ত্রিক, সুশাসিত ও শ্রেনীবৈষম্যহীন দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মজিবুর রহমান। আর আজ সেই বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে তার স্বপ্নের সম্পুর্ন উল্টো দিকে চলছে এই হতভাগা দেশ। সংখ্যাতাত্বিক তিলিসমাতি দিয়ে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১৮০০ ডলার অর্থাৎ প্রায় দেড় লাখ টাকা। অথচ এই সেদিন খবর বেরিয়েছে দেশের মাত্র তিনজন খাণ খেলাপীর কাছে বাঁধা আছে বাইশটি ব্যাংকের মুলধন। ওদিকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে প্রকাশ দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে, যাদের মাথাপিছু আয় মাসিক ষাট ডলারেরও কম। বিশ্বে এই দেশ, যেটির উন্নত বিশ্বের স্তরে পৌঁছুতে আরো ২০/২৫ বছর লাগবে বলে খোদ সরকারই বলছে, সেই দেশটিতে ধনবৈষম্য বিশ্বে সর্বোচ্চ। ধনীর সংখ্যাবৃদ্ধির হারও বিশ্বে সর্বোচ্চ। জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধি অনুপাতে বিদেশে অর্থ পাচারেও এই দেশ নাকি বিশ্বে এক নম্বরে। অথচ এই দেশটি চালাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় টৈটুম্বুর এক সরকার। প্রশ্ন হলো যদি সত্যিই এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার হয়ে থাকে তবে তারা কি বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বেশী চেতনা ধারন করে? বঙ্গবন্ধু কি এই রকম একটি দেশের কথা ভেবেছিলেন যেখানে সেই উপনিবেশিক আমলের সকল কলকব্জা সকল মেশিনারী বহাল থাকবে, বিশেষ চেতনার দোহাই দিয়ে নাগরিক ও শাসকগন সেই প্রাচীন গ্রীসের এথেন্সের মত প্লেবিয়ান ও সিনেটরদের মত বিভক্ত থাকবে; দুর্নীতি, দুষ্কর্ম, লুটপাট, খুন-ধর্ষণ, মাদকের রমরমা ব্যবসা ইত্যাদি সগৌরবে বহাল থাকবে? এসবই যদি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিষয় হয়ে তাকে তবে আর কিছু বলার থাকে না। কিন্তু তা যদি না হয় তবে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকেও হয়ত ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এক সময়। কারন কোন কিছুই এ নশ্বর পৃথিবীতে চিরস্থায়ী নয়।
একথা সর্বজনস্বীকৃত যে শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু সেই শিক্ষাকে, বলা চলে পুরো শিক্ষাব্যব¯থাকে লেজেগোবওে অবস্থায় আনা হয়েছে তার মধ্যে নোংরা রাজনীতি ঢুকিয়ে। এই অতিসম্প্রতি একজন প্রখ্যাত চেতনাসমৃদ্ধ সাংবাদিকও প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারের রাজনৈতিক চেতনায় ’ওভারস্যাচুরেটেড’ ব্যক্তিবর্গকে উপাচার্য পদে নিয়োগ কেন? তাদেরকে তো এমপি মন্ত্রীও করা যেতে পারে। উক্ত প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শিক্ষাব্যবস্থাকে কোথায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একজন শিক্ষক সবার শিক্ষক। তাঁর কাছে কোন শিক্ষার্থীই অপছন্দের হতে পারে না; তিনি কোন শিক্ষার্থীর প্রতিই পক্ষপাতমুলক আচরন করতে পারেন না। তিনি সবারই নমস্য। কি›তু দলবাজ শিক্ষকের কাছে কি সেটা আশা করা যায়? একইভাবে স্কুল-কলেজে রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে সভাপতিপদে নিয়োগ দিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্তার মেরুদন্ডকেই ক্যান্সারাক্রান্ত করে ফেলা হয়েছে। বিশ্বে কোন দেশ যখন বিশেষ করে শিক্ষাব্যব¯থা ও বিচারব্যব¯থার মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়ে ফেলে, তখন আর যাই হোক একটা সুস্থ জাতি আশা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাজনীতি সত্যমিথ্যা অনেক কিছুকেই আত্মস্থ করে; কিন্তু শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থায় মিথ্যার কোন স্থান থাকতে পারে না। থাকলে যা হয় সেটাই আমাদের এই দেশে হয়েছে। লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত (?) বেকার জনসম্পদের পরিবর্তে জন-দায়ে পরিনত হয়েছে। অথচ শিক্ষা নিয়ে আমাদের আঁতেল সমাজ ও নেতানেত্রীরা বড় বড় বুলি আউড়েই যাচ্ছেন। 
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও দপ্তরে যারা উঁচু উঁচু পদে আছেন তাদের দায়-দায়িত্ব সঠিক কি, সেটা জানা মুশকিল। কারন রাস্তাঘাট, দালান কোঠা নির্মান, বিদ্যৎ উৎপাদন ও বিতরন ব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রন ও বাঁধ নির্মান, আইন ও বিচার ব্যবস্থার শীর্ষে যারা আছেন তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই। যারা সরকারী মিল কলকারখানার মাথায় বসে আছেন তাদেরও কোন জবাবদিহিতা নেই। জাতীয় এয়ারলাইনস বাংলাদেশ বিমান বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। পুরো ব্যাংক ব্যবস্থা একেবারে নড়বড়ে; লাখো কোটি টাকা লুট-লোপাট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব জায়গায় অপচয়, অপব্যয়, লোকসান ইত্যাদি থামানোর কোন প্রকৃত উদ্যোগ দেখা যায় না; বরং এই সব অনিয়ম, অপচয়, লোকসানের দায় পাবলিকের উপর কর বাড়িয়ে পুরন করা হয়। যারা এসবের জন্য দায়ী তাদের কিন্তু বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধার কোন কমতি কখনো হয় না।
পুর্ব প্রসঙ্গে ফিরে যাই। একথা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাুও স্বীকার করে যে দেশে প্রায় পঁয়ত্রিশ লাখ যান্ত্রিক যানবাহন আছে যার মধ্যে মটরকার, বাস-ট্রাক, মিনিবাস, হিউম্যান হলার ইত্যাদির সংখ্যা প্রায় ২৫/২৬ লাখ। সেই সাথে এটাও বলা হচ্ছে যে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ও আধা প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত চালক আছে বড়জোর ১৮/১৯ লাখ। তাহলে ৭/৮ লাখ মটর যান কারা চালাচ্ছে? নিশ্চয়ই প্রশিক্ষনবিহীন হেলপার-কন্ডাক্টর-ক্লিনার। যেমন সেদিন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার নায়ক বাসটির চালক ছিল একজন ক্লিনার। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই জানে যে দেশে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত বাস-ট্রাক চালকের বিরাট অভাব রয়েছে। কিন্তু এটা জানা সত্বেও সরকারের বানিজ্য ও অর্থ মন্ত্রনালয় ঢালাওভাবে বাস-ট্রাক-হিউম্যান হলার ইত্যাদি আমদানীর অবাধ সুযোগ দিচ্ছে। তারা এটাও জানে যে এত এত মটরযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট অবকাঠামো নেই দেশে। তা সত্বেও এই কর্মটি তারা করেই যাচ্ছে। এই সব যানবাহন রাস্তায় চর্লা জন্য যারা ক্লিয়ারেন্স দেয়, সেই বিআরটিএ-ও সমানে যে কোন রকম যানবাহনের জন্য চলাচলের লাইসেন্স উদারভাবে বিতরন করছে। এত লাখ যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস ইত্যাদির জন্য যে তদারকির দরকার তা করার জন্য তাদের জনবল কতটা সেটা কোন বিবেচনায় নেই কারো। সরকারের বা বাস-ট্রাক মালিকদেরও কোন উদ্যোগ নেই দেশে আরো দক্ষ চালক বানানোর জন্য যথেষ্ঠ সংখ্যক মটর ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার খোলার। তাহলে ১৮/১৯ লাখের উপরে যে সব মটরযান, সেগুলো চালাবে কারা? নিশ্চয়ই মন্ত্রী-সান্ত্রী, এমপি বা আমলা-ফয়লারা নয়? কিন্তু তবুও এই অরাজকতা কাদের স্বার্থে চলছে? যারা এদেশে তাদের মটরযানের ব্যবসা আরো আরো বিস্তৃত করতে মরিয়া তারা নয়তো? সব দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয়, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব যে রেল ব্যবস্থা, সেটা দেশে চালু করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যে আন্তরিক উদ্যোগ, সে সবেও যে সব বাধাবিঘœ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার পিছনেও ঐ মহলটি তৎপর নয়তো? এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে কেবল দক্ষ চালকের অভাব, অসংখ্য মটরযান, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, হেলপার-ক্লিনারের গাড়ী চালানো ইত্যাকার বিষয়ে মায়াকান্না করে কোন লাভ হবে কি?
যে কোন উন্নত দেশে রাস্তায় যানবাহন নামানোর আগে বিবেচনায় নেওয়া হয় কিভাবে চলমান অবকাঠামোগত  পরিস্থিতিতে কতসংখ্যক মটরযান মোটামুটি সহজভাবে কত সংখ্যক যাত্রীকে নিরাপদে পরিবহন করতে পারে। যেমন সিংগাপুরে শুনেছি যে কেউ ইচ্ছা করলেই মটরকার রাস্তায় নামাতে পারে না। প্রতি বছর সেখানে রাস্তার ক্যাপাসিটি বিবেচনায় নিয়ে যতসংখ্যক যানবাহন নামানো হয়, তত সংখ্যক রাস্তা থেকে উঠিয়েও নেওয়া হয় সেসব যানের বয়স বিবেচনা করে। সম্ভবতঃ তিন বা চার বছরের বেশী বয়সী গাড়ী সেখানে চলতে দেওয়া হয় না। এজন্যই সেখানে এমআরটি (মাস র‌্যাপিড ট্র্যান্সপোর্ট) ব্যবস্থা এতটা গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়িত করা হয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে একটি লোকালিটিতে কতসংখ্যক মানুষ বাস করতে পারবে তারও সীমা নির্ধারিত থাকে। যে কেউ ইচ্ছা করল আর অমনি কোনদিকে না তাকিয়ে যে কোন জায়গায় বিরাট বাড়ী ফেঁদে ফেলল, এরকম হবার সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে এসবের কোন বালাই নেই, কারন একটাই। যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন তাদের এসব বিষয় নিয়ে ভাবার কোন সময় বা ইচ্ছা কোনটাই নেই। তারা কেবল আছেন ’কিসে কড়ি আসে দু’টো’ - এই চিন্তায়। দেশকে সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে উন্নতির স্তরে পৌঁছানোর জন্য যে ধরনের সরকার ও প্রশাসন সে ধরনের সরকার ও প্রশাসন যদি পাওয়া যেত তবে আজকের স্তরে পৌঁছাতে অর্ধ শতাব্দী লাগত না।
তাই বলতেই হয় যে কেবল চালক বা মটরগাড়ীর ফিটনেসের ব্যাপারই নয়, আরো অনেকগুলো ফ্যাক্টর এই সব অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা ও প্রানহানির জন্য দায়ী। এক্ষেত্রে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা স্ব-স্ব জায়গায় তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার ফলেই যাবতীয় সমস্যার উদ্ভব এবং জনভোগান্তি। অবশ্য সে দায়িত্ব ও কর্তব্য কি এবং তা পালন করার জন্য কি ধরনের যোগ্যতা থাকা দরকার সেটা যেহেতু এদেশে অধিকাংশই - সে আমলাই হোক আর রাজনীতিকই হোক -  জানে বলে মনে হয় না, তাই কোন পুলটিশমার্কা ফর্মুলায় এই সমস্যার সমাধান করার আশা করা নিতান্তই আহম্মকি ছাড়া আর কিছু নয়। --- ২৮/৩/২০১৯ইং
 

Sunday, March 17, 2019

দুর্নীতি ও আমাদের অবস্থা

বর্তমান সরকার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সময় থেকেই বলে আসছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান হলো ‘জিরো টলারেন্স’। ----কিন্তু দেশে বিচারহীনতার কারণে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বেশির ভাগ সময় আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না বা আনা যাচ্ছে না। ফলে দুর্নীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।--একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ প্রতিবেদন।
কথা হচ্ছে উন্নতশীল দেশে ক্ষমতাসীন নেতা-নেত্রীদেরকে জনগনকে ভোলানো বা চমক প্রদানের জন্য নানা রকম ট্রাম্পেট বাজাতে হয়। সেই এরশাদ আমল থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের বজ্রকন্ঠ মানুষ শুনে আসছে আর শেষাবধি সেই বজ্রকন্ঠ মার্জারের ‘মিউ মিউ’ শব্দে পর্যবসিত হচ্ছে; কারন ঐ ঘোষনাটা আসলে কাজের কাজ করার জন্য দেওয়া হয়নি। হলে বজ্রকন্ঠ মার্জারকন্ঠে পরিনত হতো না। প্রকৃত সত্য হচ্ছে দুর্নীতি দুর করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আর কেবল লোক দেখানো বাগাড়ম্বরের মধ্যে তো আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সেটা আমরা দেখেছি সিংগাপুর বা মালয়েশিয়ার বেলায়। দুর্নীতিকে কঠোরভাবে দমন করতে পারার ফলেই ঐ দুই দেশ অতি স্বল্পকালের মধ্যেই ৩য় থেকে ১ম বিশ্বের কাতারে উঠে আসে, যা আধুনিক সিংগাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ-এর ‘From the Third World to the First' পুস্তকটিতে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। অনেকেই হয়ত বলবেন লি কুয়ান গনতন্ত্রকে তো অনেকটাই সংকুচিত করে এনেছিলেন। সেটা আংশিক সত্য; তবে তা লি কুয়ানের আন্ডা-বাচ্চা বা তার পরিবারের জ্ঞাতি-গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বা সারা দেশে তার পরিবারের নামে বাস টার্মনাল থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-এতিমখানা নামকরনের জন্য নয়, যেমনটি আমাদের দেশে হয়েছে ও হচ্ছে। দুর্নীতি দমনের জন্য সবচেয়ে দরকার যেটা সেটা হলো নির্মাহভাবে দুর্নীতিকে দেখা একটা রোগ বা অপরাধ হিসেবে। কে করল সেটা বিবেচনার জন্য নয়। কিন্তু এদেশে দেখা যায় চার/পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজকে জামাই আদর করে দশ/বিশ হাজার টাকার দুর্নীতিবাজদের উপর চোখ রাঙানো। অথচ কথায় আছে সাপের মাথাটা কাটলেই তবে তার বিষ ছড়ানোর ক্ষমতা লোপ পায়। আর এখানে সাপের মাথাটা সযত্নে পকেটে রেখে লেজ নিয়ে নাড়াচাড়া করা হয়। তাই বর্তমান অবস্থা বহাল রেখে দেশে দুর্নীতি দমন হবে বলে যারা আশা করে আছেন তারা নেহায়েতই আহাম্মকের স্বর্গ পাবার মতই দুরাশায় ভুগছেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আইনজীবীদের শ্রদ্ধা -- একটি জাতীয় দৈনিকের খবর। হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষকী উপলক্ষ্যে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর ধুম পড়ে গেছে। প্রশ্ন হলো শ্রদ্ধা জানানোটা কি কেবল তাঁর প্রতিকৃতিতে ফুলমালা চড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না কি আরো অনেক কিছু করণীয় আছে? একজন মানুষের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো তো তাঁর আদর্শকে ধারন করে পথ চলা। তাঁর আদর্শকে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু সেটা কি হচ্ছে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি ছিল? জনগনের প্রকৃত কল্যানচিন্তাই কি তাঁর আদর্শ ছিল? ছিল কি গনগনের আশা-আকাংখাকে সঠিকভাবে বাস্তবে পরিনত করার জন্য গনতন্ত্র, ন্যায় ও সুবিচারকে প্রতিষ্ঠা করা? কিন্তু তার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে বা হচ্ছে? আইনজীবীরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বটে, তবে জনগন কি দেশে সুবিচার পাচ্ছে? ন্যায় কি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে? বিচারের আশায় সাধারন মানুষের অন্তহীন ভোগান্তি কি কমেছে? দেশের এককেন্দ্রীক শাসনব্যবস্থায় সেই টেকনাফ বা তেঁতুলিয়া থেকে একজন বিচারপ্রার্থী মানুষকে শত শত কিমি পাড়ি দিয়ে এই রাজধানী শহরে আসতে হয়, সইতে হয় অবর্ননীয় দুর্ভাগ। অথচ অন্ততঃ হাইকোর্টর বেঞ্চগুলোকে বিভাগীয় শহরে বসানোর ব্যবস্থা করলে তাদের কষ্টের বহুলাংশ কমে যেত। কিন্তু আইনজীবীরা কি সেই দিকে কখনো হেঁটেছেন? বরং তারা এই ব্যবস্থার ঘোর বিরোধিতা করে সবকিছুকে রাজধানীকেন্দ্রিক করে রেখেছেন। আবার তারা নাকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে খুবই মুল্য দেন। প্রকৃতপক্ষে আইনজীবীদের বিরাট একটি অংশের স্বার্থপরতার কারনে সাধারন মানুষ দুরদুরান্ত থেকে এই রাজধানী শহরে এসে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে প্রতিনিয়ত, অথচ সেদিকে আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা নির্বকার। আর এটাই তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলে মনে করেছেন। সাধারন মানুষকে হয়রানি ও কষ্টের মধ্যে ফেলা যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল সেটাই হয়ত এখন মানতে হবে ।

Thursday, February 7, 2019

জ্ঞান ও অর্থ

প্রবাদ আছে জ্ঞান ও অর্থ দুটো পরষ্পরবিরোধী বস্তু। তবে জ্ঞানীর কাছে অর্থ থাকলে তা বিচক্ষণতার সাথে ব্যয় হয়; কিন্তু জ্ঞানহীন অর্থবানের অর্থ অপব্যয় ও অপচয়ের মধ্যেই ব্যয়িত হয়। জ্ঞানী জানেন কিভাবে অর্থ ব্যয় করলে সর্বাপেক্ষা কম ব্যয়ে সবচেয়ে বেশী ফলোৎপাদিত হবে। ঠিক একইভাবে দেশের সরকারের মধ্যে অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ যদি জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হন, তবে পাবলিকের ট্যাক্সের টাকা বিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার সাথে ব্যয়িত হয়ে জনগনের ব্যপকতর কল্যান বয়ে আনতে পারে। কিন্তু অদুরদর্শী ও অপচয় পরায়ন অর্থমন্ত্রীগন পাবলিকের টাকাকে যেহেতু নিজের পৈত্রিক সম্পদ বলে মনে করেন তাই তাদের ব্যয়ের কোন সীমা সচরাচর থাকে না। এজন্যই দশ টাকার স্থলে একশ’ টাকা ব্যয় হয়, আর সেটাও টেকসই হয় না। তবে এসবের সাথে যেটা অত্যাবশ্যক শর্ত সেটা হলো নিখাদ দেশপ্রেম। কেবল দেশপ্রেমের গান গেয়ে গলা না ফাটিয়ে যিনি সত্যি সত্যিই দেশকে নিজের মায়ের মতই ভালবাসেন, তিনি কোন অবস্থাতেই দেশের ও জনগনের স্বার্থর সাথে আপোষ করতে পারেন না। বর্তমানে বিশ্বে যে সব দেশ সর্বাধিক জনপ্রিয়, প্রকৃতই ওয়েলফেয়ার স্টেট’ সে সব দেশের শাসকদের কর্মকান্ড ও আচার-আচরন দেখে সেটাই মনে হয়েছে।
আরেকটা কথা খুবই গুরুত্বপুর্ন মনে হয়েছে। শাসনকার্য পরিচালনায় হৃদয়াবেগের চাইতে মস্তিষ্কের ব্যবহার অনেক অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ন ও অত্যাবশ্যক। আইন-কানুনের যথাযথ ও সঠিক প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই। ‘আপন ছেলে সোনাটি আর পরের ছেলে বানরটি’ - এই নীতি নিয়ে চললে কোন শাসকই দেশ ও জনগনের কল্যান সাধন করতে পারে না। শাসকদের তাই কোন দলের নয় বরং দেশের সকলের হতে হয়। তবে স্বৈরশাসকদের কথা একেবারেই আলাদা।

শিক্ষা ও আমরা

শিক্ষা ব্যবস্থার হাল নিয়ে যত সব কথাবার্তা হয়েছে তা একত্র করলে একটা নয় বোধহয় ডজনাধিক মহাভারত হয়ে যাবে। কিন্তু যারা এর মাথায় বসে আছেন তাঁরা চলনে-বলনে আধুনিকতার দাবী করলেও মন-মানসিকতায় সেই বৃটিশ আমলেই পড়ে আছেন। শিক্ষা যে কেবল সার্টিফিকেট প্রদানের বা নিছক বানিজ্যের বিষয় নয় সেটা তারা জেনেও বুঝতে চান না। বর্তমান শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে তারা যে সিলেবাস (অন্ততঃ মাধ্যমিক পর্যায় অবধি) প্রনয়ন করেছেন, সেটা সব মিলিয়ে অন্ততঃ সাড়ে তিন থেকে চার হাজার পাতার বিরাট ভলিউম, যার ভার শিক্ষার্থীদেরকে বহন করতে হচ্ছে। আরো চমকপ্রদ বিষয় যে একই বিষয় বা আইটেম ৫/৬ বছর ব্যপী পড়তে হচ্ছে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় যেমন মাতৃভাষা। এই বিষয়ে ’ব্যাকরন কাকে বলে’ এই প্রশ্ন থেকে ন-ত্ব ও স-ত্ব বিধান, সন্ধি, কারক, সমাস, উপসর্গ, প্রত্যয় ইত্যাদি প্রায় ৪র্থ থেকে এসএসসি পর্যায় অবধি পড়তে হচ্ছে। চিঠিপত্র, রচনা বা নিবন্ধ লিখনেও ৬/৭ বছর ব্যয় করানো হচ্ছে। অথচ এসব বড়জোর বছর দুয়েকের মধ্যে সীমিত করা যেত। কারন ঐ ৬/৭ বছরই মুখস্থ বিদ্যার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে যা শেষ বিচারে কোন কাজে আসেনা। কারন এতে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাবনা-চিন্তা বা ধারনা প্রকাশের কোন অবকাশ সেখানে নেই। এক্ষেত্রে দরকার ছিল একটি চিঠি, দরখাস্ত বা রচনা/নিবন্ধ লেখার ফরম্যাাট বা পদ্ধতি কি হওয়া উচিত, সেটা শেখানো। মাতৃভাষা শিখতেই যদি শিক্ষাজীবনের অর্ধেক ব্যয় হয় তবে আরো দরকারী নতুন বিষয়ের জন্য কতটুকু বাকী থাকে?
সামাজিক বিজ্ঞানের অনেক বিষয় ৫ম থেকে ৭ম শ্রেনী পর্যন্ত বাংলা ভাষার পাঠ্যপুস্তকে গল্পচ্ছলে সন্নিবেশিত করে পাঠদান ও শিক্ষনকে আরো মনোগ্রাহী করে তোলা যেত। এর মধ্যে অনেক বিষয় রোল-প্লে ও ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে শেখানো গেলে তা শিক্ষার্থীদের মনে কেবল মুখস্থ করার চেয়ে অনেক স্থায়ীভাবে বসে যেত।
এছাড়া সামাজিক শিক্ষা এবং ধর্ম বিষয়ের মৌলিক বিষয়গুলির জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় নির্ধারিত করা যেত। মুসলমান শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞান লাভের জন্য ২য় থেকে ৪র্থ শ্রেনীর মধ্যে আরবী পড়ার সক্ষমতা অর্জন করা এবং ধর্মের মৌলিক বিষয়গলি শেখানো খুবই সহজ হতে পারত। পরবর্তীতে ৫ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ধর্মীয় ও নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক প্রবন্ধ, গল্প ও কাহিনী ইত্যাদি সন্নিবেশিত করে ধর্মীয় জ্ঞানের বাস্তব এবং প্রায়োগিক দিকগুলোকে দেখানো ও শেখানো অনেক বেশী কার্যকর হতে পারত।
মোদ্দা কথা আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের সিলেবাসে কেবল ’বুকিশ’ কর্মকান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে অন্ততঃ এক তৃতীয়াংশ সময় হাতে কলমে বা fieldwork/excursion মাধ্যমে শেখানোর ব্যবস্থা রাখা জরুরী ছিল। আমাদের শিক্ষকদের অনেকেই হয়ত ভুলে গেছেন যে ’We read, we forget but we do we learn.’ পড়ে মেমরী বা স্মৃতিতে ধারন করতে হয়; কিš ‘ memory is forgetful (স্মৃুতি বিস্মরণপ্রবণ)। তাই হাতেকলমে শেখাটা জীবনে ভোলা যায় না।
এছাড়া বর্তমানে শহর গ্রামের অলিতে গলিতে স্কুল নামের গো-শালা গড়ে উঠেছে যেখানে কোন খেলার মাঠ নেই, কোন লাইব্রেরী নেই। সেখানে পাঠদানের নামে কি হচ্ছে সেটা একটি কার্টুনের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল যেখানে দেখা যায় একজন শিক্ষিকা বলছেন যে স্কুল থেকেই বই-পুস্তক, খাতা-পেন্সিল, ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ সব কিছুই পাওয়া যাবে বা কিনতে হবে। ’তো পড়াশোনা কোথা থেকে পাওয়া যাবে?’ অভিভাবকের প্রশ্ন। ’ওটা আপনাকে প্রাইভেট টিউশন থেকে নিতে হবে।’ শিক্ষিকার উত্তর। হ্যাঁ, এটাই হচ্ছে বর্তমানের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বরূপ। এর ফলশ্রুতিতে বাচ্চারা এখন একেবারেই ব্রয়লার মুরগীর মতই বেড়ে (?) উঠছে। তাদের ৮০%-এরই ফিজিক্যাল ফিটনেস এবং ইম্যুনিটির মান কতটুকু সেটা হাসপাতালে ও ক্লিনিকে বাচ্চাদের ভিড় দেখেই বোঝা যায়। এজন্যই বোধহয় ম্যাকলে সাহেব স্কুলে খেলার মাঠ থাকার বিষয়টাকে অপরিহার্য্য বলে শিক্ষানীতিতে সংযোজন করেছিলেন।
মোটকথা একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার পুরো শিক্ষাজীবনকে ব্যয় করতে হবে, এটা কি কোন যুক্তিসঙ্গত ব্যাপার? আমরা কি এখনো মধ্যযুগ পার হতে পারিনি? যেখানে প্রতিদিন নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সামনে আসছে, যেখানের আজকের জানা বিষয় আগামী কালই পুরানো হয়ে যাচ্ছে, সেখানে মান্ধাতার আমলের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে কত যুগের পর উন্নত করতে পারবে? আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারীদের বিশাল সংখ্যায় বেকারত্বও কি আমাদের দেশনেতাদের কোন রকম চৈতন্যোদয় ঘটাতে পারে নি? ----৩০/০১/২০১৯ইং
--এম, শওকত আলী; প্রধান শিক্ষকক (অবঃ)

Tuesday, February 5, 2019

সরকারের রাজস্ব আয়বৃদ্ধি এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি

             
আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়গন সর্বদাই সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আয়করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা করেন। তারা বলে থাকেন টিআইএন ধারীদের সংখ্যা ৩৪/৩৫ লাখ হলেও প্রকৃত করদাতাদের সংখ্যা নাকি ১৩/১৪ লাখের মত। এছাড়া এদের মধ্যে অবসরভোগীরাও অন্তর্ভুক্ত কারন তাদের কষ্টার্জিত সম্বল ব্যাংক আমানতের উপরও তাদের শ্যেনদৃষ্টি আছে। তাদের হিসাবে প্রাপ্য দু’চার পয়সা লাভের উপরও সরকার ভাগ বসায়। তবে আয়করদাতাদের সংখ্যার বিষয়ে তাদের কথার যথার্থতা থাকলেও মানুষ কেন কর দিতে আগ্রহী হয় না সে বিষয়ে এন্তার কথাবার্তা আছে। উন্নত দেশগুলোতে মানুষ কর দিতে মোটেই পিছপা হয় না কারন তারা জানে যে তাদের দেওয়া করের টাকা সরকার সঠিকভাবে ব্যয় করবে, অপচয় অপব্যয় করবেনা। তারা জানে সরকার তাদের নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; তারা প্রয়োজনে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য সেবা ও সঠিক বিচার পাবে। এদেশে কি এর কোনটা আছে? প্রতিটা সেবার জন্য অতিরিক্ত পয়সা ব্যয় করতে হবে তথা ঘুষ/উপরি দিতে হবে। সরকার নির্ধারিত প্রাপ্য সেবা পেতে হলে বহু কাঠখড় পোড়াতে হবে, পায়ের ঘাম মাথায় তুলতে হবে। আয়কর নির্ধারনের বেলায়ও কর কর্মকর্তাদের ’খুশী’ করতে হবে। রাস্তায় চলতে নিরাপত্তা নেই, বেঘোরে প্রান হারাতে হতে পারে হয়ত গাড়ীর চাপায়, খানা-খন্দে পড়ে নয়ত লঞ্চ ডুবিতে। রাস্তাঘাট শত বা হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে কিন্তু বছর না ঘুরতেই তা আবার মেরামত করতে হবে। বিল্ডিং নির্মিত হবে কিন্তু তা হয়ত রডের বদলে বাঁশ, সিমেন্টের বদলে বালি দিয়ে যা শ্রমিকদের মাথার উপরই হয়ত ধ্বসে পড়বে। দোকান-পাটে মালে ভেজাল ওজনে কম, ওষুধে পর্যন্ত ভেজাল আবার মাসে মাসে ব্যাখ্যাহীন অযৌক্তিক মুল্যবৃদ্ধি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নেই সেই ’কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই’-এর মত। বিচার পেতে ২/৩ পুরুষ কেটে যাবে তবু মামলা-মোকদ্দমা - তা সে ভুয়া হলেও - শেষ হবে না, তারিখের পর তারিখ পড়তে থাকবে। আর এ সবই হবে সরকারের নাকের ডগায় কিন্তু কোন প্রতিকার? সে দুর অস্ত!
অথচ এ সবের অনেক কিছুই নিরাময় করা সম্ভব। তবে সেটা সরকারের সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করে। মাথাপিছু আয়কর নিয়ে মাথা গরম না করলেও অন্যবিধ উপায়ে আয় বাড়ানো হয়ত সম্ভব এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতিও সম্ভব। এ বিষয়ে আমাদের মত আম পাবলিক কি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগে নি¤œলিখিত কিছু প্রস্তাব রাখতে পারে?   
ক. দেশের আনাচে কানাচে দোকান, মেরামতি ওয়ার্কশপ (মটর গ্যারেজ, ওয়েল্ডিং, ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদি, ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), বিভিন্ন প্রকারের মটরগাড়ীর বডিমেকার, গ্রোসারীসহ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সুইটমিট শপ, জুয়েলারী শপ ইত্যাদি কম্পিউটার ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন এবং তাদের নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন ;
খ. সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার,  মেডিক্যাল স্টোর, ডাক্তারদের চেম্বার, হেলথ সেন্টার, জিম ইত্যাদি ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন ও তাদের নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন;
গ. সকল প্রকার মটর যান ক্যাটিগরীওয়াইজ ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন ও আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন;
ঘ. সকল রকমের মোটরযান মালিক ও চালকের ব্যক্তিগত তথ্যাদি ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন এবং তাদের নির্দিষ্ট আইড নং রেজিস্ট্রিকরন;
ঙ. প্রত্যেক শহর/নগরে চলমান রিকশা এবং তার চালকদের তথ্যাদি ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন এবং তাদের নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন। একইভাবে সকল হকারদেরকেও ডাটাবেজের আওতায় আনয়ন;
চ. প্রত্যেক বাড়ী/ফ্লাট/প্লট মালিকদেরকে ডাটাবেজের আওতায় এনে তাদের তথ্যাদি এন্ট্রিকরন এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন।
বর্তমানে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রকৃত সফল পদক্ষেপ হিসেবে এসব করা অবশ্যই সম্ভব এবং এগুলো করা গেলে এর থেকে সরকার নি:র্ধারিত যৌক্তিক হারে নির্দিষ্ট ফিস আদায় করা হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় প্রভুত বাড়বে তেমনি যানবাহন চুরি- ছিনতাই -ডাকাতি-, বেআইনী বেচাকেনা ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট অপরাধমুলক কর্মকান্ড তথা আইন-শৃংখলা অবস্থারও পজিটিভ উন্নতি সম্ভব হবে। 
উপরোক্ত বিষয়গুলির জেলাভিত্তিক ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই সম্ভব এবং তাতে পুরো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার গতি-প্রকৃতি সরকারের নজরে থাকবে এবং সফলভাবে রাস্ট্র পরিচালনায় গতি সঞ্চার হবে বলেই বিশ্বাস।   --০৬/০২/২০১৯ইং
                                                      --এম, শওকত আলী; প্রধান শিক্ষক (অবঃ)