আসলে যে যত সাফাই-ই দিন না কেন, যে কোন সরকারের গোড়ায় গলদ থেকে গেলে তাদের পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ দুরে থাক, দমন করাও যে সম্ভব হয় না সেটা বিগত এক যুগ থেকেই মানুষ দেখে আসছে। এই দেশে দুর্নীতির বিস্তারের জন্য খোদ বঙ্গবন্ধুকেই যখন আক্ষেপ করতে হয়েছে, তখন আর কেউ যে ভাল করতে পারবে সেটা এমনিতেই ধারনা করা মুশকিল। তাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল, দেখা গেছে তাদের আমলেই দুর্নীতির বিস্তার ততটাই ব্যপক হয়েছে। কিন্তু কেন এ রকম দুর্বিষহ অবস্থা? এর একমাত্র কারন সঠিক জায়গাতে সঠিক লোক না থাকা বা না বসানো। কামারের কাজ যেমন কুমোর দিয়ে সম্ভব নয়, তেমনি যাদের লক্ষ্য থাকে যেনতেন পকেট ভারী করা, তারা যতই দলের প্রতি হাঁটুগাড়া আনুগত্য দেখাক না কেন, তাদের দ্বারা ভাল কোন কাজ বা দুর্নীতিমুক্ত থেকে কোন কাজ কদাচ সম্ভব নয়। দেশের শাসকগন, তা সে গনতান্ত্রিকই হোক বা স্বৈরতান্ত্রিক হোক, যদি মেধা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতা না দেখে কেবল তাদের জ্বি-হুজুরদের দিয়ে সব কাজ চালাতে মরিয়া হয়ে থাকেন তবে দেশে এরকম অরাজক মাত্রায় দুর্নীতি বাড়া ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এটা যে সব শাসকরা বোঝেন না বা বুঝতে চান না তারা মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে রকম আস্ফালনই করুন না কেন তা প্রবল প্রসব বেদনান্তে পর্বতের মুষিক প্রসবের মতই হাস্যকর হতে বাধ্য। এটা শাসকগন তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ’ইগো’-র জন্য বুঝতে না চাইলেও এটাই বাস্তব সত্য।
তাই আজ যে সর্বগ্রাসী সর্বব্যপী দুর্নীতির বিস্তার ’টপ-টু-বটম’ ঘটেছে, তার জন্য দেশের শাসকগন কোন মতেই দায় এড়াতে পারেন না। --- ২৩/৮/.২০১৯ইং
No comments:
Post a Comment