Saturday, September 28, 2019

দুর্নীতি দুর্নীতি আর দুর্নীতি!

’উপাচার্যরা নিয়োগ-বানিজ্যে ব্যস্ত’, তিন বিচারপতিকে অব্যহতি’ (নিশ্চয়ই কোন ভাল/সৎ কাজের জন্য নয়), ’বিএসইসি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক’, ’আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত সব অনিয়মে’, ’খোঁজা হচ্ছে এনডিআই জালিয়াতচক্র - প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের ৪৫ কর্মকর্তা’, ’উত্তরায় বিআরটি-তে দালালের দৌরাত্ম’, ’ডিবি অফিসের ড্রয়ার ভেঙে ইয়াবা চুরি - কনস্টেবল গ্রেপ্তার’ -  ইত্যাকার সব সংবাদে আজকের দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার পাতা ভর্তি। দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মত দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত (না কি ’কুশিক্ষিত?’) ব্যক্তি থেকে পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত চুরি-চামারি ও দুর্নীতিতে আকন্ঠ জড়িত হয়ে পড়েছে। এর আগে পুলিশের খুবই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দুদক-এর পরিচালকের মত উচ্চ পদধারীদেরকেও দুর্নীতিতে জড়িত হতে দেখা গেছে। এই মহামারী বছর দশেক আগেও দেখা যায় নি। তাহলে যে কোন সামান্য জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই এর তাৎপর্য বুঝতে পারে। গত দশ বছরে দেশ থেকে যে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ, সেটাও এই রকম ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
আসলে যে যত সাফাই-ই দিন না কেন, যে কোন সরকারের গোড়ায় গলদ থেকে গেলে তাদের পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ দুরে থাক, দমন করাও যে সম্ভব হয় না সেটা বিগত এক যুগ থেকেই মানুষ দেখে আসছে। এই দেশে দুর্নীতির বিস্তারের জন্য খোদ বঙ্গবন্ধুকেই যখন আক্ষেপ করতে হয়েছে, তখন আর কেউ যে ভাল করতে পারবে সেটা এমনিতেই ধারনা করা মুশকিল। তাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল, দেখা গেছে তাদের আমলেই দুর্নীতির বিস্তার ততটাই ব্যপক হয়েছে। কিন্তু কেন এ রকম দুর্বিষহ অবস্থা? এর একমাত্র কারন সঠিক জায়গাতে সঠিক লোক না থাকা বা না বসানো। কামারের কাজ যেমন কুমোর দিয়ে সম্ভব নয়, তেমনি যাদের লক্ষ্য থাকে যেনতেন পকেট ভারী করা, তারা যতই দলের প্রতি হাঁটুগাড়া আনুগত্য দেখাক না কেন, তাদের দ্বারা ভাল কোন কাজ বা দুর্নীতিমুক্ত থেকে কোন কাজ কদাচ সম্ভব নয়। দেশের শাসকগন, তা সে গনতান্ত্রিকই হোক বা স্বৈরতান্ত্রিক হোক, যদি মেধা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতা না দেখে কেবল তাদের জ্বি-হুজুরদের দিয়ে সব কাজ চালাতে মরিয়া হয়ে থাকেন তবে দেশে এরকম অরাজক মাত্রায় দুর্নীতি বাড়া ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এটা যে সব শাসকরা বোঝেন না বা বুঝতে চান না তারা মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে রকম আস্ফালনই করুন না কেন তা প্রবল প্রসব বেদনান্তে পর্বতের মুষিক প্রসবের মতই হাস্যকর হতে বাধ্য। এটা শাসকগন তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ’ইগো’-র জন্য বুঝতে না চাইলেও এটাই বাস্তব সত্য।
তাই আজ যে সর্বগ্রাসী সর্বব্যপী দুর্নীতির বিস্তার ’টপ-টু-বটম’ ঘটেছে, তার জন্য দেশের শাসকগন কোন মতেই দায় এড়াতে পারেন না।   --- ২৩/৮/.২০১৯ইং

No comments:

Post a Comment