Monday, October 8, 2018

আইন বিভাগ কি সন্ত্রাসী, অপরাধী বানানোর ফ্যাক্টরী?

এ প্রশ্নে অনেকেই ভ্রু কোঁচকাবেন। অনেকেই বিরূপ মন্তব্যও করতে পারেন। কিন্তু বিষয়টির একটু গভীরে গেলে যা দেখা যায় তার সাথে বাস্তবের কতটুকু মিল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।
এই সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ অনেকেই বিনা বিচারে ১০/১২ এমন কি ১৪/১৫ বছর ধরে জেলে আছেন। সম্প্রতি এরকম একজনকে সদাশয় মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে জেলমুক্ত করা হয়েছে। জীবনের সুবর্ন সময় জেলে কাটিয়ে আজ যদি এই লোক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ওঠে তবে এর জন্য দায়ী হবে কে? একজন খুনী খুন করে হাজতে গেল। দেখা গেল ২/৪ দিনের মধ্যেই সে জামিনে বেরিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে মামলাকারীকে বা সাক্ষীকে খুন করে ফেলল। হয়ত এতে তার কঠোর সাজা হবে (অথবা আবারো সে ছাড়া পেয়ে যেতে পারে সাক্ষীর অভাবে) তখন নিহত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন যদি প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ঐ খুনীকে খুন করে ফেলে তবে এই সব খুন-খারাবীর দায় কার ঘাড়ে চাপানো উচিৎ?
আজকের দৈনিক প্রথম আলোর এক খবরে প্রকাশ একজন নিরীহ কিশোরকে থানায় নিয়ে খুন করে ফেলার পর নানা অজুহাতে সেটাকে ক্রসফায়ারে হত্যা বা আরো নতুন কোন অজুহাত বের করে মামলাকেই ভিন্ন খাতে নেওয়া হয় নি, মামলার বাদী নিহত কিশোরের মা-সহ তার পরিবারকে প্রচন্ড ভয়ভিিত দেখিয়ে সেই মামলা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বাদী এখন একমাত্র আল্লাহতায়ালার কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর বিকল্প খুঁজে পান নি। খুনের মামলায় নাকি রাস্ট্র বাদী হয়। খুনের মামলাকে নাকি কোনভাবেই ধামাচাপা দেওয়া যায় না। তাহলে নামকাওয়াস্তে তদন্ত কমিটি করে যে নৃশংস খুনের এই মামলাটিকে আদালত বাতিল করে দিল তাতে কি বিচারের বানী হাসছে না কি নিরবে কাঁদছে? এই বাদী যদি অর্থে-বিত্তে শক্তিশালী হতো তবে কি বিচারের নামে এরকম অবিচার সম্ভব হতো? আদালতে ন্যায়বিচার না পেয়ে বাদী যদি পাল্টা একটা খুন করে ফেলত তবে তাকে কি আইন কঠোর দন্ড দিত?
জমাজমি নিয়েও বিচারের নামে চরম অবিচার চলে আসছে। একজন জমির মালিক যে পুর্বপুরুষের আমল থেকে ৬০/৬৫ বছর কোন এক টুকরো জমি ভোগ-দখল করে আসছে, হঠাৎ দেখা গেল একজন কোথা থেকে জাল দলিলাদি বের করে তাকে গায়ের জোরে উৎখাত বা বেদখল করে ফেলল। সেই ব্যক্তি আদালতে গেল। কিন্তু ট্যাঁকের জোর না থাকায় সে মামলায় হেরে গিয়ে পিতৃপুরুষের জমি থেকে চিরতরে উৎখাত হয়ে গেল। এখন সে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়ে যদি ঐ জবরদখলদারকে খুন করে ফেলে তবে কার উপরে এই খুনের দায় চাপানো হবে?

এরকমভাবে এই দেশে আইনের মাধ্যমে অপরাধের যথাযথ প্রতিকার না হওয়ায় খুন-জখম, নির্যাতন-ধর্ষণ ইত্যাদি যে বেড়ে গেছে একথা সবাই স্বীকার করেন। কিন্তু আমাদের বিচারব্যবস্থায় মারাত্মক ত্রুটি থাকার কারনে অপরাধীদের অধিকাংশ, বিশেষ করে যাদের অর্থকড়ির জোর কম, তারা ন্যায় বিচার পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই একথা বললে হয়ত অত্যুক্তি হবে না যে আমাদের আইন-আদালত সজ্ঞানে হোক আর যেভাইে হোক, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী বানানোর ফ্যাক্টরীতে পরিণত হয়েছে।

দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্ব

একটি দেশকে প্রকৃত উন্নতির দিকে টেনে নিতে সেই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে অবশ্যই একাধিক গুনের অধিকারী হতে হয়। সে সব গুনের মধ্যে সর্বপ্রথম দেশপ্রেম, তারপর সততা, দুরদৃষ্টি এবং কঠোর সংকল্প গ্রহন ও তা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। এ ছাড়াও দরকার জ্ঞান ও দক্ষতা এবং ঠিক ব্যক্তিকে ঠিক জায়গায় বসানোর মত অন্তর্দৃষ্টি। যে সব দেশের নেতৃত্বে মধ্যে এসব গুন নেই তাদের দ্বারা দেশের উন্নয়নের বদলে গোষ্ঠিস্বার্থ ও পকেটস্বার্থ উন্নয়নই কেবল সম্ভব। যেসব নেতৃত্ব উপরোক্ত গুনের অধিকারী তাদের দ্বারা দেশ বড় জোর ১৫/২০ বছরের মধ্যেই উন্নতি লাভ করেছে। যে দেশের সে সৌভাগ্য হয় নি তারা আমাদের মতই অর্ধ শতাব্দী ধরে মার্ক টাইম করে যাচ্ছে। কিন্তু তারই আড়ালে বিদেশে সেকেন্ড হোম, বেগমপাড়া ইত্যাদিও গড়ে উঠছে। এটা কিভাবে সম্ভব? তা আমাদের দেশের উদ্াহরন দেখলেই বোঝা যাবে। কথাটা একটু কর্কশ শোনালেও সত্যি হচ্ছে এই যে আমাদের দেশের রাজনীতিতে ’চোঙা ফোঁকা’ নেতাদেরই জয়জয়কার। গলাবাজিতে যে যত দক্ষ সে ততটাই বড় রাজনীতিক। নিজেদের দায়িত্ব তারা কতটা পালন করেছেন বা করছেন সেটা বলার আগে তারা বিরোধী পক্ষকে ধোলাই করতেই ব্যস্ত থাকেন। তাদের বক্তৃতায় সেই তিন চার দশক আগের বাক্ধারা ও শব্দাবলীর হুবহু ব্যবহার দেখা যাবে। তাদের নতুন কোন চিন্তাভাবনা বা দেশ গড়ার কাজে দলের কর্মীদেরকে নতুন কোন দিকনির্দেশনা দেবার দরকার পড়েনা। দল ঠিক রাখার জন্য তারা কর্মীদের যাবতীয় অপকর্মকেও নজরআন্দাজ করে থাকেন। খুবই বড় মাপের একজন তো বলেনই যে তার দল ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা ’কিছু’ পায়। এর ফলে দেখা যায় যে দেশ কিছু পাক না পাক, তার দলের নেতা-কর্মীরা প্রতি বছর তাদের সম্পদ ৩/৪ গুন বাড়িয়ে ফেলেছে। পাঁচ বছরে তাদের অনেক নেতার সম্পদ ২৫০ থেকে ৩০০ গুন বেড়েছে বলে একাধিক সংবাদে প্রকাশ। কিন্তু দেশের উন্নতি ঘটতে অর্ধ শতাব্দী লেগে যাচ্ছে। হয়ত অনেকে বলবেন যে তারা ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় ছিলেন না। কিন্তু অন্য দল ক্ষমতায় আসলেই দেশ পিছিয়ে পড়ে কেন? কারন তারাও তো একই গুরুর শিষ্য। তাদেরও তো ফিলসফি একই। ’নগদ যা পাও হাত পেতে নাও বাকীর খাতায় শুন্য থাক, দুরের বাদ্য লাভ কি শুনে মাঝখানে তার বেজায় ফাঁক।’ মহাকবি ওমর খৈয়ামের এই অমর কবিতাই তো তাদের আদর্শ। সে কারনেই নানা রকম ’ভবন’ ইত্যাদি গজিয়ে ওঠে আর অদৃশ্যভাবে প্যারালাল সরকারও কাজ চালায়। তাই এই দেশে বারবার ক্ষমতার হাত বদল হলেও দেশ এগিয়ে না গিয়ে কেবল পিছিয়েই যায়। কারন নতুন কিছু করবার যোগ্যতা বা দক্ষতা যেখানে অনুপস্থিত সেখানে মার্ক টাইম করা ছাড়া তো অন্য কিছু আশা করা যায় না। এ কারনেই দেখা যায় দেশে শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু দেশে উচ্চশিক্ষিত (?) বেকারের সংখ্যা ২২/২৩ লাখ। আর দক্ষ লোক বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। একটি সংবাদে প্রকাশ দেশের নাগরিক প্রবাসীরা ২২ জন যা আয় করে মাত্র একজন বিদেশী দক্ষ (?) লোক তা নিয়ে যায় দেশের বাইরে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯%-১০% কৃতকার্য হয়। উন্নয়ন কাজের ঢাক জোরেশোরে বাজান হয় কিন্তু এক বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয় না; হাজার টাকার প্রকল্প লাখ টাকা খেয়ে ফেলে। দালান-কোঠা নির্মানে রডের বদলে বাঁশ দেওয়া হয়; রাস্তায় বিটুমিনের বদলে পোড়া মবিল দেওয়া হয়; মানসম্মত ইট-সিমেন্টের বদলে ৩নং ৪নং জিনিস ব্যবহার করা হয় যার ফলে নির্মানাধীন ভবনও শ্রমিকদের মাথার ওপর ধ্বসে পড়ে। কিন্তু এরই বিপরীতে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ, সোনা লুট-লোপাট হয়ে যায় নানাভাবে, বাংলাদেশ বিমানের ৭২০ টাকা চুরি, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে প্রায় সোয়া দুইশ’ কোটি টাকার কয়লা চুরির বিপরীতে বিদেশে সেকেন্ড হোম বেগমপাড়া বানানো হয়, সুইস ব্যাংকে টাকার পাহাড় জমে ওঠে। ওদিকে বছরে বার মাসে তের পার্বনের মত অমুক সম্বর্ধনা তমুক অভিনন্দনের প্রতিযোগীতা, তমুক দিবস পালন ইত্যাদির মহা আড়ম্বরে জনগনের দৃষ্টিকে প্রকৃত সত্য থেকে আড়াল করার যাবতীয় আয়োজন চলতে থাকে।
উপরোক্ত কথাগুলিতে হয়ত অনেকেই ক্ষুব্ধ বোধ করতে পারেন। বলতে পারেন দেশে অনেক উন্নয়নই তো হয়েছে। উড়ালপথ হয়েছে; বেশ কিছু রাস্তাঘাট হয়েছে; বড় বড় স্থাপনা হয়েছে ইত্যাদি। নিশ্চয়ই হয়েছে এবং সে জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কত টাকার কাজ কত টাকা লাগাচ্ছে? কত বছরের উন্নয়ন কত বছর খেয়ে ফেলছে? যেখানে আমাদের অনুšনত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা পেতেই তিন চার যুগ পার হয়ে যায় সেখানে উন্নত দেশ হতে আর কতদিন লাগবে? আমাদের অর্থের অভাব আছে এটাতো সত্য নয়। নইলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কিভাবে বলতে পারেন যে ’চার হাজার কোটি টাকা কিছুই নয়?’ কিভাবে সম্ভব যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা ব্যক্তিকে দুদক চায়ের দাওয়াত দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করে? সংসদে দাঁড়িয়ে শেয়ার বাজার কেলেংকারীর বা রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে আটশ’ কোটি টাকা চুরির নাটের গুরুদের নামও উচ্চারন করতে পারেন না মাননীয় অর্থমন্ত্রী? অথচ তিনি নানা রঙের কর শুল্ক ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যপক জনগনকে দুয়ে ছাড়ছেন যদিও সেই টাকার যে বেপরোয়াভাবে নয়ছয় ঘটছে সে জন্য জবাবদিহিতার কোন ধারই ধারছেন না।
তাই দুঃখের সাথে বলতে হয় যে কেবল নেতা হলেই দেশের উন্নয়ন করা যায় না। বড় বড় অনলবর্ষী বক্তা হলেও দেশের প্রকৃত কোন লাভ হয় না যদি না সেই নেতার মধ্যে সর্বোপরি সবার উপরে দেশপ্রেম না থাকে। সততায়, সংকল্পে অটলতা, কার্য সম্পাদনে নিষ্ঠা ও দৃঢ়চিত্ততা না থাকে তবে সে নেতৃত্ব যতই আপাতঃ জনপ্রিয়তার দাবীদার হোন না কেন, তার কাছ থেকে দেশ আসলেই টেকসই কিছু পায় কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।

গণপূর্ত অধিদফতরে বদলি আতঙ্ক

গণপূর্ত অধিদফতরে বদলি আতঙ্ক--অভিযোগ ওঠেছে, এসব বদলির বেশির ভাগই হচ্ছে আর্থিক লেনদেনে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের মেয়াদ সরকারের মেয়াদের সাথে সাথেই (ডিসেম্বর) শেষ হচ্ছে। যে কারণে, প্রধান প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম বাণিজ্য করে নিজের পকেট ভর্তি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে থাকা কর্মকর্তাদের ঢাকায় বড় বড় প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে। আবার অনেকের পোস্টিং দিচ্ছেন তাদের পছন্দ অনুযায়ী মন্ত্রিপাড়া, সংসদ, গণভবন, বঙ্গভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। আর এসব পদ ফাঁকা করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কর্মরতদের সরিয়ে দিচ্ছেন অন্যত্র। শুধু টেন্ডারে অনিয়ম ও জালিয়াতি করেই তিনি সরকারের কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপরের সংবাদ প্রতিবেদনের অংশবিশেষ আজকের দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছে। ঐ প্রতিবেদনেই প্রকাশ এই রমরমা দুর্নীতির কায়কারবার কেবল আজকারের নয়, বেশ অনেক দিন থেকেই চলছে। প্রশ্ন জাগে, এই গনপূর্ত ভবনটি তো দুদক-এর দপ্তর থেকে হাজার মাইল দুরে নয়। তাহলে এখানে এই যে দুর্নীতির মচ্ছব চলছে এ বিষয়ে তারা কি কেবল ঘুমিয়েই আছেন নাকি ভান করে আছেন? দীর্ঘ সময় ধরে এই রাজধানীরই একটি দপ্তরে দুর্নীতির মচ্ছব চলবে আর তারা তাকে পাশ কাটিয়ে কবিরোধী দলের কে ছোটখাট দুর্নীতি করছে তার পেছনে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে এটা একটা স্বাধীন গনতান্ত্রিক দেশে, যেখানে সরকার গর্ব করে বলে যে এখানে 'আইনের শাসন বহাল আছে, - সেখানে চলে কিভাবে? দেশে কি দুর্নীতির মচ্ছব এবাবেই চলবে? লাখো কোটি টাকার খান খেলাপীদেরকে কিছু বলা যাবে না। লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার কারীদের কিছু করা যাবে না। এভাবেই দেশ চলবে? এর পরও ভাবতে হবে দেশ ঠিক ভাবেই চলছে?

তারা মানুষকে আর মানুষ মনে করে না।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘এ দেশের রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, বড় বড় আমলা, বিচারপতি পুলিশের আইজি, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী, কেবিনেট সেক্রেটারী, সচিব এবং এই ধরণের যারা আছে তারা একটু বড় হইয়া গেলে, নামিদামি হয়ে গেলে, মানুষকে আর মানুষ মনে করে না। এটা একদম ঠিক না। মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে এবং জনগনের প্রতিনিধি যারা তাদেরকে আরো বেশি মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে। কারণ জনগনের ভোটেই তারা প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। জনগনের ভোটে প্রতিনিধি হইয়া তাদের উপরেই আবার মাতাব্বরি দেখাইবা বেডাগিরি দেখাইবা এটাতো হতে পারে না। জনগনের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।’ --- দৈনিক নয়া দিগন্ত। মহামান্য রাসট্রপতির এসব কথার সাথে নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে কারা জনগনকে পরোয়া করবে? তাদেরকে মানুষ মনে করবে? যারা মনে করেন যে ক্ষমতায় আসার জন্য পাবলিকের ভোট তাদের না হলেও কোন সমস্যা নেই, যারা মনে করেন যে পাবলিকের টাকায় বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা আকন্ঠ ভোগ করলেও তারা তাদের প্রজা ছাড়া আর কিছু নয়, তারা জনগনকে মানুষ মনে করবেই বা কেন? মহামান্য রাস্ট্রপতি এই যে সদ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিলে স্বাক্ষর করলেন, এর বিরুদ্ধে জনমতকে তিনি কি যথাযথ গুরুত্ব দিতে পেরেছেন? তাকেও তো এক ধরনের 'লাইনে' পড়েই নিশ্চয়ই ঐ বিলে স্বাক্ষর দান করতে হয়েছে। জনগনের আবেগ অনুভুতি বা আপত্তি কোন গুরুত্বই পায়নি। তাই এদেশে বলা সহজ অনেক কিছুই, কিন্তু তার বাস্তব রুপ দেওয়াটা খুবই কঠিন। কারন আমাদের মনমানস সে রকমই যেমন সেই আবু হোসেনের এক দিনের খলিফাগিরি-তে দেখেছি। গরীব আবু হোসেনের পুর্বের অবস্থা ভাল থাকলেও প্রচুর অপব্যয় তাকে গরীবই করে ফেলেছিল। অনেক আক্ষেপ করে সে বলছিল একবার খলিফা হতে পারলে সে অনেক কিছুই করতে পারত। খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর নিয়মিত নৈশভ্রমনকালে আবু হোসেনের এই উক্তি শুনে তাকে কৌশলে প্রাসাদে নিয়ে আসেন। তাকে একদিনের জন্য খলিফা হিসেবে ক্ষমতা দান করেন। আবু হোসেন ভাবতেই পারেনি এরক কিছু হতে পারে। রাত্রে সে জাগ্রত হয়ে তার কামরা ও তার চাকচিক্য আসবাব ইত্যাদি দেখে তার মাথা বিগড়ে যায়। সে খাপ থেকে তলোয়ার বের করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। তার উন্মাদের মত কোপাকুপিতে বিছানার গদী, বালিম, ঘরের পর্দা ইত্যাদি কেটে যা তা অবস্থা হয়ে যায়। এই যে অবস্থা, এটার সাথে আমাদের 'হঠাৎ-নবাবদের' কি খুব বেশী গরমিল আছে?হঠাৎ-নবাবেরা তাদের 'মেন্টাল ব্যালান্স' ঠিক রাখতে পারেনা। তাই তাদের কাছে ন্যায় ও ৗচিত্যবোধ আশা করা যায় না।