এ প্রশ্নে অনেকেই ভ্রু কোঁচকাবেন। অনেকেই বিরূপ মন্তব্যও করতে পারেন। কিন্তু বিষয়টির একটু গভীরে গেলে যা দেখা যায় তার সাথে বাস্তবের কতটুকু মিল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।
এই সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ অনেকেই বিনা বিচারে ১০/১২ এমন কি ১৪/১৫ বছর ধরে জেলে আছেন। সম্প্রতি এরকম একজনকে সদাশয় মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে জেলমুক্ত করা হয়েছে। জীবনের সুবর্ন সময় জেলে কাটিয়ে আজ যদি এই লোক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ওঠে তবে এর জন্য দায়ী হবে কে? একজন খুনী খুন করে হাজতে গেল। দেখা গেল ২/৪ দিনের মধ্যেই সে জামিনে বেরিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে মামলাকারীকে বা সাক্ষীকে খুন করে ফেলল। হয়ত এতে তার কঠোর সাজা হবে (অথবা আবারো সে ছাড়া পেয়ে যেতে পারে সাক্ষীর অভাবে) তখন নিহত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন যদি প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ঐ খুনীকে খুন করে ফেলে তবে এই সব খুন-খারাবীর দায় কার ঘাড়ে চাপানো উচিৎ?
আজকের দৈনিক প্রথম আলোর এক খবরে প্রকাশ একজন নিরীহ কিশোরকে থানায় নিয়ে খুন করে ফেলার পর নানা অজুহাতে সেটাকে ক্রসফায়ারে হত্যা বা আরো নতুন কোন অজুহাত বের করে মামলাকেই ভিন্ন খাতে নেওয়া হয় নি, মামলার বাদী নিহত কিশোরের মা-সহ তার পরিবারকে প্রচন্ড ভয়ভিিত দেখিয়ে সেই মামলা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বাদী এখন একমাত্র আল্লাহতায়ালার কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর বিকল্প খুঁজে পান নি। খুনের মামলায় নাকি রাস্ট্র বাদী হয়। খুনের মামলাকে নাকি কোনভাবেই ধামাচাপা দেওয়া যায় না। তাহলে নামকাওয়াস্তে তদন্ত কমিটি করে যে নৃশংস খুনের এই মামলাটিকে আদালত বাতিল করে দিল তাতে কি বিচারের বানী হাসছে না কি নিরবে কাঁদছে? এই বাদী যদি অর্থে-বিত্তে শক্তিশালী হতো তবে কি বিচারের নামে এরকম অবিচার সম্ভব হতো? আদালতে ন্যায়বিচার না পেয়ে বাদী যদি পাল্টা একটা খুন করে ফেলত তবে তাকে কি আইন কঠোর দন্ড দিত?
জমাজমি নিয়েও বিচারের নামে চরম অবিচার চলে আসছে। একজন জমির মালিক যে পুর্বপুরুষের আমল থেকে ৬০/৬৫ বছর কোন এক টুকরো জমি ভোগ-দখল করে আসছে, হঠাৎ দেখা গেল একজন কোথা থেকে জাল দলিলাদি বের করে তাকে গায়ের জোরে উৎখাত বা বেদখল করে ফেলল। সেই ব্যক্তি আদালতে গেল। কিন্তু ট্যাঁকের জোর না থাকায় সে মামলায় হেরে গিয়ে পিতৃপুরুষের জমি থেকে চিরতরে উৎখাত হয়ে গেল। এখন সে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়ে যদি ঐ জবরদখলদারকে খুন করে ফেলে তবে কার উপরে এই খুনের দায় চাপানো হবে?
এরকমভাবে এই দেশে আইনের মাধ্যমে অপরাধের যথাযথ প্রতিকার না হওয়ায় খুন-জখম, নির্যাতন-ধর্ষণ ইত্যাদি যে বেড়ে গেছে একথা সবাই স্বীকার করেন। কিন্তু আমাদের বিচারব্যবস্থায় মারাত্মক ত্রুটি থাকার কারনে অপরাধীদের অধিকাংশ, বিশেষ করে যাদের অর্থকড়ির জোর কম, তারা ন্যায় বিচার পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই একথা বললে হয়ত অত্যুক্তি হবে না যে আমাদের আইন-আদালত সজ্ঞানে হোক আর যেভাইে হোক, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী বানানোর ফ্যাক্টরীতে পরিণত হয়েছে।