Sunday, March 17, 2019

দুর্নীতি ও আমাদের অবস্থা

বর্তমান সরকার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সময় থেকেই বলে আসছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান হলো ‘জিরো টলারেন্স’। ----কিন্তু দেশে বিচারহীনতার কারণে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বেশির ভাগ সময় আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না বা আনা যাচ্ছে না। ফলে দুর্নীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।--একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ প্রতিবেদন।
কথা হচ্ছে উন্নতশীল দেশে ক্ষমতাসীন নেতা-নেত্রীদেরকে জনগনকে ভোলানো বা চমক প্রদানের জন্য নানা রকম ট্রাম্পেট বাজাতে হয়। সেই এরশাদ আমল থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের বজ্রকন্ঠ মানুষ শুনে আসছে আর শেষাবধি সেই বজ্রকন্ঠ মার্জারের ‘মিউ মিউ’ শব্দে পর্যবসিত হচ্ছে; কারন ঐ ঘোষনাটা আসলে কাজের কাজ করার জন্য দেওয়া হয়নি। হলে বজ্রকন্ঠ মার্জারকন্ঠে পরিনত হতো না। প্রকৃত সত্য হচ্ছে দুর্নীতি দুর করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আর কেবল লোক দেখানো বাগাড়ম্বরের মধ্যে তো আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সেটা আমরা দেখেছি সিংগাপুর বা মালয়েশিয়ার বেলায়। দুর্নীতিকে কঠোরভাবে দমন করতে পারার ফলেই ঐ দুই দেশ অতি স্বল্পকালের মধ্যেই ৩য় থেকে ১ম বিশ্বের কাতারে উঠে আসে, যা আধুনিক সিংগাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ-এর ‘From the Third World to the First' পুস্তকটিতে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। অনেকেই হয়ত বলবেন লি কুয়ান গনতন্ত্রকে তো অনেকটাই সংকুচিত করে এনেছিলেন। সেটা আংশিক সত্য; তবে তা লি কুয়ানের আন্ডা-বাচ্চা বা তার পরিবারের জ্ঞাতি-গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বা সারা দেশে তার পরিবারের নামে বাস টার্মনাল থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-এতিমখানা নামকরনের জন্য নয়, যেমনটি আমাদের দেশে হয়েছে ও হচ্ছে। দুর্নীতি দমনের জন্য সবচেয়ে দরকার যেটা সেটা হলো নির্মাহভাবে দুর্নীতিকে দেখা একটা রোগ বা অপরাধ হিসেবে। কে করল সেটা বিবেচনার জন্য নয়। কিন্তু এদেশে দেখা যায় চার/পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজকে জামাই আদর করে দশ/বিশ হাজার টাকার দুর্নীতিবাজদের উপর চোখ রাঙানো। অথচ কথায় আছে সাপের মাথাটা কাটলেই তবে তার বিষ ছড়ানোর ক্ষমতা লোপ পায়। আর এখানে সাপের মাথাটা সযত্নে পকেটে রেখে লেজ নিয়ে নাড়াচাড়া করা হয়। তাই বর্তমান অবস্থা বহাল রেখে দেশে দুর্নীতি দমন হবে বলে যারা আশা করে আছেন তারা নেহায়েতই আহাম্মকের স্বর্গ পাবার মতই দুরাশায় ভুগছেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আইনজীবীদের শ্রদ্ধা -- একটি জাতীয় দৈনিকের খবর। হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষকী উপলক্ষ্যে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর ধুম পড়ে গেছে। প্রশ্ন হলো শ্রদ্ধা জানানোটা কি কেবল তাঁর প্রতিকৃতিতে ফুলমালা চড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না কি আরো অনেক কিছু করণীয় আছে? একজন মানুষের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো তো তাঁর আদর্শকে ধারন করে পথ চলা। তাঁর আদর্শকে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু সেটা কি হচ্ছে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি ছিল? জনগনের প্রকৃত কল্যানচিন্তাই কি তাঁর আদর্শ ছিল? ছিল কি গনগনের আশা-আকাংখাকে সঠিকভাবে বাস্তবে পরিনত করার জন্য গনতন্ত্র, ন্যায় ও সুবিচারকে প্রতিষ্ঠা করা? কিন্তু তার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে বা হচ্ছে? আইনজীবীরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বটে, তবে জনগন কি দেশে সুবিচার পাচ্ছে? ন্যায় কি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে? বিচারের আশায় সাধারন মানুষের অন্তহীন ভোগান্তি কি কমেছে? দেশের এককেন্দ্রীক শাসনব্যবস্থায় সেই টেকনাফ বা তেঁতুলিয়া থেকে একজন বিচারপ্রার্থী মানুষকে শত শত কিমি পাড়ি দিয়ে এই রাজধানী শহরে আসতে হয়, সইতে হয় অবর্ননীয় দুর্ভাগ। অথচ অন্ততঃ হাইকোর্টর বেঞ্চগুলোকে বিভাগীয় শহরে বসানোর ব্যবস্থা করলে তাদের কষ্টের বহুলাংশ কমে যেত। কিন্তু আইনজীবীরা কি সেই দিকে কখনো হেঁটেছেন? বরং তারা এই ব্যবস্থার ঘোর বিরোধিতা করে সবকিছুকে রাজধানীকেন্দ্রিক করে রেখেছেন। আবার তারা নাকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে খুবই মুল্য দেন। প্রকৃতপক্ষে আইনজীবীদের বিরাট একটি অংশের স্বার্থপরতার কারনে সাধারন মানুষ দুরদুরান্ত থেকে এই রাজধানী শহরে এসে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে প্রতিনিয়ত, অথচ সেদিকে আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীরা নির্বকার। আর এটাই তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলে মনে করেছেন। সাধারন মানুষকে হয়রানি ও কষ্টের মধ্যে ফেলা যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল সেটাই হয়ত এখন মানতে হবে ।