Friday, May 31, 2019

বাংলাদেশ - মিথ্যা ও দায়িত্বহীনতার দেশ

একটা কথা আছে -- সে বলে বিস্তর মিছা যে বলে বিস্তর। আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী থেকে আঁতেল সমাজ, মায় আম পাবলিকেরও অনেকে ্এত এত কথা বলেন যে সেগুলো যদি একত্রিত করা যেত তবে তা হয়ত ভুমি থেকে আকাশ ছুঁয়ে ফেলত। দেখা যায় কোন কিছু দুর্ঘটনা, ছিনতাই-ডাকাতি, খুন-ধর্ষণ, ইত্যাদি হলেই কথার পাহাড় রচিত হয়ে যায়। দেশের প্রতি ভালবাসা হয়ত মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হবে, কিন্তু দেশপ্রেমের গানের বন্যায় দেশ ছয়লাব। কিন্ত অতি শীঘ্রই সে সব কথার বুদ্বুদ বাতাসে মিলিয়ে যায় আর আমরা নতুন কিছুর সন্ধানে থাকি নতুন করে কথার মহাকাব্যি রচনার জন্য।
কিন্তু সত্যিকার কাজের কাজ? নৈব নৈব চ! এই দেখুন একজন নয়, এলাকার প্রায় সবাই বলছে যে ঐ থানার ওসি যথাসময়ে ব্যবস্থা নিলে এ রকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না, ঐ মাদ্রাসার সভাপতি ও অন্য সদস্যরা নুসরাতের অভিযোগকে যথাসময়ে আমলে নিলে নুসরাত হয়ত আজ বেঁচে থাকত, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেসব তদন্ত করে দেখবে তারপর ব্যবস্থা নেবে। ওসি সাবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব অপরাধ বা গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা সুস্পষ্ট, সেসবও তদন্ত তদন্ত খেলায় এর আগেও ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, এবারও হয়ত সেটাই হবে। ধর্ষককে হাতেনাতে পাকড়াও করার পরও ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ইত্যাকার ছেলেভুলানো কথায় পরে সবকিছু ধামাচাপা দেওয়া হবে। এই যদি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার অবস্থা হয় তবে সেই দেশে অপরাধ যে কোনভাবেই কমতে পারে না সেটা একটা মূর্খ পাগলও বলে দিতে পারে, পারে না কেবল আমাদের প্রশাসন, আইন ও বিচারবিভাগ। সত্যিই, কি অমর কথাই না বলেছিলেন মহাবীর আলেকজান্ডার! ‘কি অদ্ভুত এই দেশ, সেলুকাস!!
কিন্তু একটা প্রবাদ তো আমাদের শাসক শাসিত, রাজা প্রজা সবাই জানেন। ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়ের সমান।’ আবার, ‘Prevention is better than cure.' আশা করা যায় আমাদের আমলা-ফয়লা, জজ-ব্যারিষ্টার, ক্ষমতাসীনদের অধিকাংশই এসব কথা শোনেননি বা জানেন না তা নয়। কিন্তু তারা কেন যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেন না? কেন তারা নুসরাতের মত দগ্ধ হয়ে যন্ত্রনায় ডুবে যাবার জন্য অপেক্ষা করেন? এই প্রশ্নের উত্তর কি পুলিশের মহা-পরিদর্শক, দেশের বিচার বিভাগ বা দেশের সর্বাচ্চ নির্বাহী - কারো কাছে পাবার আশা করা যায়?

জীবননগরের প্রান ভৈরব নদ সংস্কার প্রসঙ্গে

জীবননগরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া আমাদের প্রিয় ভৈরব নদীটির চরম করুন দশা দেখে মনটা বড়ই বিষাদপুর্ন হয়ে গেল। শৈশবে এই নদীটির স্রোতধারায় কত অবগাহন করেছি। স্রোতের উজানে সাঁতার কেটেছি। শুকনা মৌসুমে মাছ ধরেছি পাড়ার ছেলেপেলেরা দল বেঁধে। অথচ আজ সেই ভৈরব নদী জীর্নাশীর্না-বিশীর্না। আজ আর সেটাকে নদী বলা যায় না। এ অবস্থা আজকের না। এই অবস্থা দেখেই বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে একটা প্রস্তাব রেখেছিলাম জীবননগরের বেকার অন্ততঃ একশত তরুন যুবককে নিয়ে একটা সমিতি গঠন করে স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে জীবননগরের উপরে ভৈরব ব্রিজ থেকে উভয় পাশে দুই থেকে তিন কি.মি. খনন করে সেখানে ঐ একশত তরুন যুবাকে পোলট্রি এবং মৎস্য খামার যৌথ মালিকানাভিত্তিতে লীজ দিয়ে নদীটির অনেকখানি প্রান ফিরিয়ে দেবার। কিন্তু সঙ্কীর্ন মানসিকতার কারনে সেই প্রস্তাব তখন ক্ষমতাসীনরা গ্রহন করেনি। এর পরও প্রায় দেড় যুগ চলে গেল, ক্ষমতার পাশা বদলারো কিন্তু ভৈরব সেই মৃতই থেকে গেল। জীবননগরে নাকি রাজনীতিকদের কমতি নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত দেখলাম না যে জীবননগরে বাস্তবে পরিকল্পনামাফিক কোন কাজ হয়েছে। তবে একথা ঠিক যে বর্তমান ক্ষমতাসীনদলের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলী আসগর টগর সাহেব জীবননগর উপজেলার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত যথেষ্ঠ উন্নতি ঘটিয়েছেন। এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে তিনি যদি ঐ সব প্রতিষ্ঠানের শিখন-শিক্ষনের মানও যথেষ্ঠ উন্নতি ঘটাতে কার্যকর ভুমিকা নেন তবে তা এক উজ্জ্বল উদাহরন হবে নিশ্চয়ই।
সেই সাথে তাঁকে এবং জীবননগরের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অনুরোধ থাকল ভৈরব নদীকে তার স্ব-মহিমায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দুরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাদ্বারা যথার্থই ভূ-উপরিস্থিত পানির সদ্ব্যবহার করার লক্ষ্যেই দেশের নদ-নদীগুলির খনন কাজকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং সেই মর্ম নির্দশনাও দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে জীবননগরের ভৈরব নদী ‘সারফেস ওয়াটার’-এর এক গুরুত্বপুর্ন উৎস হতে পারে। এর সাথে এই নদীতে মৎস্য খামার ও সাথে পরিপূরক হিসেবে হাঁসের কামার খুবই লাভজনক একটি প্রকল্প হতে পারে। জীবননগরের সকল স্তরের মানুষকে, বিশেষ করে মাননীয় এমপি মহোদয়, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যানসহ নেতৃস্থানীয় সকলকে এই অনুরোধ জানাই তারা যেন সব ভেদাভেদ ভুলে দেশপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে ভৈরব নদীকে পুনর্জীবন দান করার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসেন।

কৃষকের ধান পুড়ে হরিলুট রূপপুরে ধর্ষক উল্লাস করে

কৃষকের ধান পুড়ে হরিলুট রূপপুরে ধর্ষক উল্লাস করে -- জনাব পীর হাবিবুর রহমান-এর লেখা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত। 
জনাব পীর সাহেব অনেক কথাই বলেছেন। বর্মান সরকারের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অকুন্ঠ প্রশংসাও করেছেন। সবই ঠিক আছে। একথাও সত্য যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে একজন আইরন লেডীর মত দেশ চালাচ্ছেন তার প্রশংসাও দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। বর্তমানে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানোর মত আর কেউ নেই এদেশে। তিনি যে সাহসিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে বিরোধী পক্ষকে প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্থ করে ফেলেছেন সেটাও তাঁ শত্রু-মিত্র সবাই স্বীকার করে। এছাড়াও তাঁর সম্মন্ধে বলতে গিয়ে তাঁকে অত্যন্ত পরহেজগার ধর্মভীরু মানুষ হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন। অনেকে এর আগে তাঁকে মদিনা সনদের আলোকে দেশ শাসন করার বা হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-র মত বিচক্ষণতার অধিকারী বলেও মন্তব্য করেছেন। হয়ত এসবও ঠিক।
তবে যেটা মনে বড় একটা প্রশ্নের জন্ম দেয় সেটা হচ্ছে পৃথিবীতে সকল শাসকই - অবশ্য স্বৈরতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শাসকদের কথা আলাদা - তাঁর প্রজাদের সুখ-সুবিধা দেখার চেষ্টা করেছেন। হযরত ওমর (রাঃ) তো বলেছেন যে সুদুর ফোরাতের তীরে যদি একটা কুকুরও অেভুক্ত থাকে সেজন্যও মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এসব আমরা কি দেখছি? জনাব পীর সাহেবদের মত অনেকে, এমনকি তাঁর মিত্র দলের সদ্য সাবেক এক মন্ত্রী সাহেবও বলেছেন সরকারী প্রশাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো কথা শোনে না। বাস্তবেও দেখা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গ্রীন সিগন্যাল ছাড়া সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের একটা পাতি নেতাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রাখে না।
তাহলে দেশে এই যে অনাচার, ধর্ষণ, লুটপাটের মহামারী লেগে গেছে, তার জন্য সরোচ্চ পদের অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কি কোন নৈতিক দায়িত্ব নেই? তিনি যদি এসব কিছু সামলাতে না-ই পারেন, তবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হিসেবে তিনি তো তার দলকে এই হুশিয়ারীও দিতে পারতেন যে এসব অবিলম্বে বন্ধ না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন? তিনি তো তাঁর আটত্রিশ বছরের সভাপতির পদের জন্য বেশ আস্থার সাথেই বলেছেন নতুন নেতৃত্বের আগমনের কথা। মানুষের ভালবাসার জন্য তিনি তো অন্ততঃ মৌখিতভাবে হলেও একটা সাবধানবানীও দিতে পারতেন।
তাই বলছি, জনাব পীর সাহেব বিখ্যাত বিদূষী খনা-র বচনে যে বলা হয়েছে -
রাজার পাপেতে হয় রাজ্য ছারখার;
সুখ নাহি থাকে প্রানে রায়েত প্রজার।
তাই যত উন্নয়নই দেশে হোক না কেন, যত ওভারপাস, ফ্লাইওভার, ব্রিজ, রেলপথই বানানো হোক না কেন, সেসব ব্যবহার করার মানুষ যদি না থাকে তবে সে উন্নয়ন দিয়ে সাধারন মানুষ কি করবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী,ডাইনামিক, দুরদর্শী ও সৃজনশীল নেতৃত্বের প্রশংসা আমাদের মত আম পাবলিকও করে; কিন্তু যখন দেখা যায় যে তাঁর কথা ছাড়া প্রশাসন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জুডিশিয়ারীও, কার্যকর হয় না, সেখানে তিনি কেন এমন দৃষ্টান্তমুলক পদক্ষেপ নিতে পারেন না যাতে লুটেরা, খাণখেলাপী, খুনী-ধর্ষক, দুর্নীতিবাজদের প্রান কেঁপে ওঠে? কেন তিনি দেশের অর্থনীতির বেদনাদায়ক বিকৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে উন্নয়নের সাথে জ্যামিতিকহারে বৈষম্য বাড়ছে, সে ব্যাপারে বা দেশের অর্থ বেদেরেগভাবে বিদেশে পাচারের বিরুদ্ধে, বা ধর্ষক-খুনীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে পারছেন না? কোথায় তাঁর দুর্বলতা, এটা ভাবতেই মাথা ঘুরে যায়।

বাংলাদেশকে জাপান বানানো


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশকে জাপান বানানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন যা শুনে যেমন খুবই ভাল রাগল তেমনি কয়েকটি প্রশ্ন জাগল মনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্ভবতঃ ভুলে গেছেন যে জাপানীরা কখনো রাতে ভোটের প্রহসন করেনি। জাপানে প্রধানমন্ত্রী পেছন দরজা দিয়ে ভোট করে গালগল্প করবেন যে মানুষ তাকে ’বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে’- এটা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারে না। তারা এটা কল্পনা করতে পারে না যে দেশের সাধারন পাবলিকের টাকায় পোষা আইন-শৃংখলা বাহিনী কোন বিশেষ দলের পাইক-বরকন্দাজ হিসেবে কাজ করবে আর ভোটের বাক্স ভোটের আগের রাতেই  ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ভরে ফেলবে। পরের দিন মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রেই যেতে না পারে তার জন্য যা কিছু করার করে রাখবে।
তাদের আত্মসম্মানবোধ তুলনাহীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভুলে গেছেন জাপানে একবার একটি বিমান দুর্ঘটনার দায় নিয়ে বিমানমন্ত্রী নিহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কেবল পদত্যাগই করেন নি; আত্মহত্যা করেছিলেন। আর তাঁর মন্ত্রীসভার এক গুরুত্বপুর্ন সদস্য বেপরোয়া বাস চালকের হাতে দু’জন শিক্ষার্থী প্রান হারালে তিনি দন্ত বিকশিত করে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রতি বছর লঞ্চডুবিতে শত শত লোক বেঘোরে মারা গেলেও তার কোন বিবেকদংশন বোধ হয় নি।
জাপানে দুর্নীতি বিষয়টি প্রায় অজানা। আর বাংলাদেশে দুর্নীতি বিষয়টি দেশের নামের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘুষখোরী তাদের কাছে একটা ঘৃন্য ব্যাপার। আর বাংলাদেশে সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন প্রায় তিনগুন করারপরও তাদের ঘুষখোরী প্রায় লেজেন্ডারী মাপের। জাপানে ব্যাংক থেকে খাণ নিয়ে কেউ তা ফেরত না দেবার কথা হয়ত কল্পনাও করে না। আর এই দেশে খাণখেলাপীদেরকে রাস্ট্র ’প্রণোদনা’ দিয়ে থাকে তা ফেরত না দেবার জ্ন্য। তাছাড়া একটি উন্নয়নশীল (?) দেশ হওয়া সত্বেও এই দেশ থেকে যেভাবে বিদেশে টাকা পাচার হয়, এমনকি রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে যে টাকা চুরি হলো, সেটা জাপানে কল্পনা করা যায়?
তাদের সততা ও সত্যবাদিতার কোন তুলনা হয় না। জাপানে কোন মন্ত্রী জনগনকে কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এটা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুজলেও মিলবে না। আর এদেশে রাজনীতি মানেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া। যে যতটা দক্ষতা ও চাতুর্য্যরে সাথে এটা করতে পারে তিনি ততটাই ঝানু রাজনীতিক।
জাপানীরা সময়ের মুল্য যেভাবে দেয় তার সম্পুর্ন বিপরীত চিত্র এই বাংলাদেশে। এখানে সময় ও মানুষের জীবন সবচেয়ে সস্তা। তাদের কোন প্রকল্প বরাদ্দ বাজেট ও মেয়াদের চেয়ে এক টাকা বা এক ঘন্টাও বেশী হয় না। আর আমাদের দেশে প্রকল্পের মেয়াদ ও বাজেট বাড়েনি এমন প্রকল্প কল্পনা করা যায় না। তারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করে জনগনের সুখ-সুবিধা কতটা বাড়বে সেই ভাবনা থেকে। আর আমাদের প্রকল্প গ্রহন করা হয় কতটা কিকব্যাক আসবে সেই ভাবনা থেকে। দু’পাশে কোন রাস্তা নেই অথচ বেশ সাইজের একটা কালভার্ট নির্মান করা হয়েছে - এটা জাপানে সম্ভবতঃ যাদুঘরেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তারা নিজেদের সুখ-সুবিধা বাড়ানোর আগে জনগনের সুখ-সুবিধা বাড়ানোর জন্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। আর বাংলাদেশে ’আপনা বাঁচলে বাপের নাম’ - এটাই নীতি। আগে নিজের পকেট ভরো তারপর অন্যেরটা চিন্তা ক’রো। কত বড় লজ্জার বিষয় যে গরীব মানুষের রিলিফের চাল এখানে জনপ্রতিনিধি (?) নামক বাটপাড়দের ঘরে আগে ওঠে আর সরকার তার নামকা ওয়াস্তে বিচারের প্রহসন করে থাকে।  এটা জাপানে কেউ চিন্তা করতে পারে?
জাপানীরা কতটা সৌজন্যবোধের অধিকারী সেটা তারা এই দেশেও বিভিন্ন সময়ে প্রমান করেছে। তারা কেউ কাউকে অসম্মান করে অপমান করে কথা বলা মনেও আনতে পারেনা। আর আমাদের নেতারা বিরোধীদের ব্যক্তিগতভাবে গালাগালি না করে, তাদের বাপদাদার শ্রাদ্ধ করে কথা বলতেনা পারলে দলে তার মানই থাকে না। বিরোধীদের গালাগালিতে যে যত বেশী পটু, তার মর্যাদা দলনেতা-নেত্রীর কাছে ততটাই বেশী।
সর্বোপরি জাপানীরা তাদের দেশকে যতটা ভালবাসে তার তুলনায় এদেশের মানুষ যে কতটা দেশপ্রেমিক তা তাদের দৈনন্দিন কাজেকর্মে প্রমানিত। বিশেষ চেতনার নাম করে হেন অপকর্ম নেই যা এরা করে না। জাপানীদের সৌন্দর্যপ্রিয়তা বিশ্ববিদিত। তারা দেশকে একটা ফুলবাগান করে রেখেছে। আর আমাদের দেশের মানুষের স্বভাব হচ্ছে যা কিছু সুন্দর আগে তার দফারফা করা। রাস্তাঘাটে, বাস-ট্রেন স্টেশনে বা অন্য পাবলিক প্লেসে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে রাখা তারা চিন্তাও করতে পারে না। আর আমাদের দেশে ময়লা-আবর্জনা এমনকি ঘরের পাশের নর্দমাও ভর্তি করে রাখলেও আমাদের কোন বিকারবোধ হয় না।
জাপানীরা দেশের আইনের প্রতি যে রকম শ্রদ্ধাশীল, আমরা দেশের আইনের প্রতি তার চেয়ে অধিক পরিমানে অশ্রদ্ধাশীল। তারা আইন মেনে আনন্দ পায় আর আমরা আইন ভেঙ্গে কেবল আনন্দই পাই না, বরং বিরাট গর্ববোধ করি। আমাদের আইন প্রণেতারাই আইনের মাথায় পা দিয়ে চলতেই ভালবাসেন। তাদের ধারনা আইন যদি ভাঙতেই না পারি তবে আর ক্ষমতার দাপট দেখাবো কিভাবে?
তো আরো অনেক বিষয় আছে যা বাংলাদেশী জাপান প্রবাসীরা ভাল জানে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর দেশকে জাপান বানানোর কথা বলেছেন তখন এসব বিষয় মনের কোনে জেগে উঠেছে। বস্তুতঃ পিঠে একাধিক কুঁজ নিয়ে চিত হয়ে শোবার হাস্যকর চেষ্টার মতই মনে হয়েছে। তবে উপরে যা বলা হয়েছে তা যদি সত্য না হয় তবে নিশ্চয়ই এ অধম ক্ষমাপ্রার্থী।  --- ৩১/৫/২০১৯ইং