Friday, May 31, 2019

জীবননগরের প্রান ভৈরব নদ সংস্কার প্রসঙ্গে

জীবননগরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া আমাদের প্রিয় ভৈরব নদীটির চরম করুন দশা দেখে মনটা বড়ই বিষাদপুর্ন হয়ে গেল। শৈশবে এই নদীটির স্রোতধারায় কত অবগাহন করেছি। স্রোতের উজানে সাঁতার কেটেছি। শুকনা মৌসুমে মাছ ধরেছি পাড়ার ছেলেপেলেরা দল বেঁধে। অথচ আজ সেই ভৈরব নদী জীর্নাশীর্না-বিশীর্না। আজ আর সেটাকে নদী বলা যায় না। এ অবস্থা আজকের না। এই অবস্থা দেখেই বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে একটা প্রস্তাব রেখেছিলাম জীবননগরের বেকার অন্ততঃ একশত তরুন যুবককে নিয়ে একটা সমিতি গঠন করে স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিতে জীবননগরের উপরে ভৈরব ব্রিজ থেকে উভয় পাশে দুই থেকে তিন কি.মি. খনন করে সেখানে ঐ একশত তরুন যুবাকে পোলট্রি এবং মৎস্য খামার যৌথ মালিকানাভিত্তিতে লীজ দিয়ে নদীটির অনেকখানি প্রান ফিরিয়ে দেবার। কিন্তু সঙ্কীর্ন মানসিকতার কারনে সেই প্রস্তাব তখন ক্ষমতাসীনরা গ্রহন করেনি। এর পরও প্রায় দেড় যুগ চলে গেল, ক্ষমতার পাশা বদলারো কিন্তু ভৈরব সেই মৃতই থেকে গেল। জীবননগরে নাকি রাজনীতিকদের কমতি নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত দেখলাম না যে জীবননগরে বাস্তবে পরিকল্পনামাফিক কোন কাজ হয়েছে। তবে একথা ঠিক যে বর্তমান ক্ষমতাসীনদলের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলী আসগর টগর সাহেব জীবননগর উপজেলার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত যথেষ্ঠ উন্নতি ঘটিয়েছেন। এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে তিনি যদি ঐ সব প্রতিষ্ঠানের শিখন-শিক্ষনের মানও যথেষ্ঠ উন্নতি ঘটাতে কার্যকর ভুমিকা নেন তবে তা এক উজ্জ্বল উদাহরন হবে নিশ্চয়ই।
সেই সাথে তাঁকে এবং জীবননগরের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অনুরোধ থাকল ভৈরব নদীকে তার স্ব-মহিমায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দুরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাদ্বারা যথার্থই ভূ-উপরিস্থিত পানির সদ্ব্যবহার করার লক্ষ্যেই দেশের নদ-নদীগুলির খনন কাজকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং সেই মর্ম নির্দশনাও দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে জীবননগরের ভৈরব নদী ‘সারফেস ওয়াটার’-এর এক গুরুত্বপুর্ন উৎস হতে পারে। এর সাথে এই নদীতে মৎস্য খামার ও সাথে পরিপূরক হিসেবে হাঁসের কামার খুবই লাভজনক একটি প্রকল্প হতে পারে। জীবননগরের সকল স্তরের মানুষকে, বিশেষ করে মাননীয় এমপি মহোদয়, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যানসহ নেতৃস্থানীয় সকলকে এই অনুরোধ জানাই তারা যেন সব ভেদাভেদ ভুলে দেশপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে ভৈরব নদীকে পুনর্জীবন দান করার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসেন।

No comments:

Post a Comment