Friday, July 5, 2024

 দেশপ্রেম

বন্ধুরা, প্রেম কথাটার মধ্যেই একটা অপূর্ব ব্যঞ্জনা ও মহিমা লুকিয়ে আছে। প্রেমের কারনে মানুষ কঠিন পাথর ভাঙে, পাহাড় কেটে নদী বইয়ে দিতে চায়, এমনকি আত্মহত্যাও করে। প্রেমের এমনই মহিমা। দেশপ্রেমও তেমনি একটা বিষয়; তবে এর অর্থ আরো অনেক বড় ও ব্যপক। প্রেমের জন্য বড়জোর একজন বা দুইজন ভোগ করে, তা সে সুখই হোক বা দুঃখই হোক। কিন্তু দেশপ্রেমের জন্য হাজারে হাজারে লাখে লাখে লোক অকাতরে জীবন দেয়। তবে এক ব্যক্তিও দেশপ্রেমের চূড়ান্ত উদাহরন স্থাপন করতে পারে তার দুটো উদাহরন এখানে তুলে ধরছি।
১. সম্রাট শাহজাহানকন্যা জাহানারার শরীরে একবার দুর্ঘটনাবশতঃ আগুন লাগে। তাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর জীবন সংশয় হয়। দেশীয় কোন চিকিৎসক তাকে সারিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। এ সময় এক ইংরেজ ডাক্তার মিঃ ব্রাইডন সম্রাটের কাছে রাজকুমারীর চিকিৎসার অনুমতি চান। পিতৃস্নেহে বিগলিত দিশেহারা সম্রাট অজানা এই ডাক্তারকে তাঁর কন্যার চিকিৎসার অনুমতি দেন। সৌভাগ্যবশতঃ সেই চিকিৎসায় জাহানারা সেরে ওঠেন। সম্রাট এর জন্য ঐ ইংরেজ ডাক্তারকে যা খুশী পারিতোষিক চাইবার অনুমতি দেন। অবাক করার বিষয় যে ডাক্তার সাহেব নিজের জন্য কিছুই চান নি। তিনি সম্রাটের কাছে চাইলেন বিনা শুল্কে ভারতে বানিজ্য করার অনুমতি। লক্ষ্য করার বিষয় যে তিনি চাইলে সম্রাট তাকে মণিমুক্তা, হীরা-জহরত দিয়ে পুরস্কৃত হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তার জাতির জন্য দেশের জন্য ইংরেজদেরকে বিনা শুল্কে বানিজ্য করবার অনুমতি চাইলেন। একেই বলে স্বজাতি প্রেম; দেশপ্রেম।
২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ড বেশ মার খেয়েছিল বিস্ফোরকের অভাবে। সেই কারনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চীল বিস্ফোরক তৈরীর জন্য কৃত্রিম এসিটোন আবিষ্কারের দায়িত্ব দেন এক ইহুদী বিজ্ঞানীর উপর। খুব অল্প সময়ে ঐ বিজ্ঞানী ডঃ কাইম ভাইজম্যান কৃত্রিম এসিটোন আবিষ্কার করে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চমৎকৃত করে দেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি কি চান? সবিনয়ে ভাইজম্যান বলেন তার জাতির জন্য এক টুকরো ভুমি, যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। উল্লেখ্য যে তিনিও কিন্তু ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার কিছুই চান নি। (সূত্রঃ দৃষ্টিপাত- যাযাবর)
উপরোক্ত অবস্থা যদি কোন বাঙালীর সামনে আসত তবে তিনি যে বড় একটা সুবেদারী/জায়গীরদারীর আব্দার করতেন তাতে বিশেষ সন্দেহ নেই। হয়ত গোটা সাম্রাজ্য চাইলেও অবাক হবার কিছু থাকত না কারন বাঙালী স্বভাবতঃ এমনই লোভী। ঐ লোভ যে কত সর্বগ্যারাসী সেটা বেনজীর কান্ড, মিয়া কান্ড, মতিয়ার কান্ড, ফয়সাল কান্ড ইত্যাদি কান্ড প্রকাশপাওয়ায় মানুষ জানতে পারছে।
ভারতীয় হিরো সানি দেওলের ’দ্য ইন্ডিয়ান’ ছবিটি যারা দেখেছেন, তারা হয়ত দেখে থাকবেন ‘ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম কত গভীর। দেশের জন্য আপন শ্বশুরকেও হত্যা করতে তার হাত কাঁপেনি। সেই তুলনায় আমাদের দেশের মানুষের দেশপ্রেম? হ্যাঁ, দেশের খেটে খাওয়া আম পাবলিককে বাদ দিলে, প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ত ৫% ও হবে কি না সন্দেহ। যদি তা না হতো তবে দেশকে এতটা নির্মমভাবে লুটপাট ও ধর্ষণ করা সম্ভব হতো না; দেশ থেকে এত এত সম্পদ ও টাকা পয়সা পাচার করা সম্ভব হতো না। দেশের শাসন ক্ষমতার চূড়ায় বসে দেশকে লুটেরাদের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিনত হতে দেওয়াও সম্ভব হতো না। স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশকে পরাধীনতার ঝুঁকির মধ্যে ফেলাও সম্ভব হতো না।

Sunday, March 13, 2022

 মুসলমানের ইবাদত

বেশ কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের রনাঙ্গনফেরত এক সৈনিকের সাক্ষাৎকার দেখছিলাম ইউটিউবে। সাক্ষাৎকারগ্রহনকারী এক পর্যায়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন আফগানিস্তানে অবস্থানকালে কোন জিনিসটি তাঁকে সবিশেষ প্রভাবিত করেছে। উত্তরে তিনি একটি ঘটনার কথা বললেন।ঘটনাটি এ রকম –
আফগানিস্তানে তখন প্রচন্ড যুদ্ধাবস্থা।কিন্তু অদুরের মসজিদে নিয়মিত আযান শোনা যায়।সেদিন আবার আবহাওয়াও খুবই দুর্যোগপুর্ন।তাঁর তাই ধারনা ছিল সেদিন আর আযান শোনা যাবে না। এই দুর্যোগে কে বেরুবে ঘর থেকে? কিন্তু বিস্ময়ের সাথে তিনি শুনলেন যথাসময়েই সেই মসজিদ থেকে আযান ভেসে আসল। পরিবেশ পরিস্থিতি এতটা বিরূপ এবং ঝুঁকিপুর্ন হওয়া সত্বেও মসজিদ থেকে ঠিক সময়মত আযান দেওয়া হলো, এটা তার কাছে এক বিরাট বিস্ময় ছিল। তিনি পরে সেই মুয়াজ্জিনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন এত বিপদ ও দুর্যোগ মাথায় নিয়ে তিনি বাড়ী থেকে বেরিয়ে মসজিদে গেলেন এবং আযান দিলেন।তিনি উত্তরে বললেন আল্লাহর এবাদতে আহ্বান জানানোর যে দায়িত্ব তাঁর উপরে আছে, তা তিনি কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না; এতে তাঁর যাই হোক না কেন। একজন মুসলমানের এই নিষ্ঠা দেখে তিনি ইসলামের ফিতরাতের প্রতি প্রচন্ড আকর্ষণ বোধ করেছিলেন। অতঃপর ঐ সৈনিককে প্রশ্ন করা হ’ল যে ইসলাম যদি তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করে থাকে তবে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন না কেন। উত্তরে তিনি বললেন সাধারনতঃ মুসলিমদের আচার ব্যবহার ও অভ্যাস দেখে তিনি ঐ চিন্তা করেন নি। তাঁর বক্তব্যঃ তিনি কর্মে মুসলিম, তবে ধর্মে নয়।
উপরের ঘটনা থেকে কি মনে হয়?
একজন মুসলমানকে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে আল্লাহর একত্ববাদে এবং হজরত মুহাম্মদ (দঃ)যে শেষ নবী ও রসুল তাতে নিরঙ্কুশ বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়; যাকে ’ইমান’ বলে। নীচের বাক্যটি (কলেমা) পাঠ, বিশ্বাস ও আমল করলে তাকে ইমান বলে। যথা –
আমানতু বিল্লাহি কামাহুয়া বিআসমায়িহি ওয়া সিফাতিহি ওয়া ক্কাবিলতু জামিয়া আহকামিহি ওয়া আরকানিহি। অর্থাৎ আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম আল্লাহর উপর, তার সকল নাম ও গুনাবলীর উপর এবং তাঁর সকল হুকুম আহকামের উপর।
তাকে আরো বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় –
আমানতু বিল্লাহি ওয়া মালায়িকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রাসুলিহি ওয়াল ইয়াওমিল আখেরে ওয়াল ক্কাদরে খায়রিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহে তা’লা ওয়াল বা’ছে বা’দাল মাওত।
অর্থাৎ আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম ফিরিশতাদের উপর, আসমানী কিতাবসমূহের ওপর, রসুলগনের ওপর, কিয়ামত ও শেষ বিচার দিনের ওপর আর বিশ্বাস স্থাপন করলাম যে ভাগ্যলিপির ভাল মন্দ আল্লাহর পক্ষ হতে আসে এবং পুনরুত্থান দিবসের উপর (যে দিন প্রত্যেককেই তার জীবৎকালে কৃত কৃতকর্মের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ দিতে হবে)। এরপর মুসলমানকে আরো স্বীকার করতে হয় যে –
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রসুল। এর প্রকৃত অর্থ যে একজনকে মুসলমান হতে হলে তাকে আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে উপাস্য বা প্রকৃত মনিব বলে স্বীকার করা যাবে না। যারা উপরোক্ত বিষয়গুলির উপর অকুন্ঠ বিশ্বাস এনছেন তারা এক আল্লাহর দাসত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। আর এই দাসত্ব স্বীকার করার পর যিনি প্রভু, তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করার নামই ‘ইবাদত।” এখন এই ‘ইবাদত” বস্তুটি আসলে কি? ইবাদত শব্দটির মুল ‘আব্দ’ যার অর্থ বান্দা বা দাস। সুতরাং মহান স্রষ্টা তথা আল্লাহ সুবহানাহু তা’লার সাথে মানুষ বিশেষ করে মুসলমানের সম্পর্ক মনিব/প্রভু এবং দাসের। তো সেই ইবাদতের বিষয়বস্তুগুলি কি তা আল্লাহ সুবহানাহু তা’লার বানী পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের মাধ্যমে এসেছে। আর সেই পবিত্র গ্রন্থের দ্বিতীয় বাক্যটিতেই বলা হয়েছে যে এটা এমনই এক কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই। এবং যারা মোত্তাকী (আল্লাহভীরু) তাদের জন্য (এটি) সঠিক পথপ্রদর্শক।
অতএব যারা ইমান এনেছেন এবং সেই সুত্রে নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করেন, তাদের জন্য মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা জীবনে চলার পথে বহু কিছুর নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনাগুলি এসেছে ঐ পবিত্র ঐশী গ্রন্থ কোরআনের মাধ্যমে।আর সেই সকল নির্দেশনাবলী পালন কিভাবে করতে হবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা রসুল (দঃ)এর হাদিস মারফত ইমানদারগনের কাছে এসেছে।
এখানে দুটি জিনিসকে অতি গুরুত্বপুর্ন বলে বিশ্বাস করতে হবে। মুসলমানরা সবাই জানেন, মানেন এবং দাবী করেন যে তারা ইসলামের অনুসারী।’ইসলাম‘ শব্দটির মুল শব্দ ‘সালাম’ এটা তো সবাই জানেন। এই শব্দটির দুটি অর্থের একটি ‘শান্তি’ এবং অপরটি ‘আত্মসমর্পন’।তো ইসলাম আল্লাহর কাছে সম্পুর্নভাবে আত্মসমর্পন করা। একজন মুসলমানকে তাই উভয় অর্থটিকেই পরিপালন করতে হবে। সেই বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা এরশাদ করছেন -
”হে ইমানদারগন, আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের নির্দেশ মান্য কর; এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।” (২০:৮)
সকল প্রকৃত মুসলমানই স্বীকার করেন ইসলাম একটি সম্পুর্ন জীবন ব্যবস্থা/বিধান। যদি তাই হয়, তবে উপরোক্ত নির্দেশনা মানতে গেলে কেবল যে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে তাই নয়, জীবনের অন্যান্য যে সকল কর্তব্য কর্ম পালনীয়, সেগুলোকেও পালন করতে হবে।তো আল্লাহ তাঁর প্রতি সম্পুর্ন আনুগত্য করার পর প্রথমতঃ সালাত প্রতিষ্ঠা করা এবং সামর্থ্যবানদের জাকাত দান করার আদেশ দানের পরপরই প্রধানতঃ কতিপয় নির্দেশ প্রদান করেছেন।
যথা –
১. পিতামাতার প্রতি আনুগত্য করা এবং তাঁদের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাবনত থাকা; বিশেষ করে মাতার প্রতি অধিক ভক্তিমান হওয়া(৮৩,২১৫:২; ৩৬:৪; ২৩:১৭; ৮:২৯; ১৪:৩১)
২. অপরের হক/সম্পদ নষ্ট না করা; অসদুদ্দেশ্যে ঘুষ প্রদান না করা (১৮৮:২)
৩. এতিমের হক/সম্পদ নষ্ট/অত্মসাৎ না করা (১৭৭, ২২০:২; ১০:৪))
৪. সত্য সাক্ষ্য দেওয়া, মিথ্যা না বলা (৮:৫)
৫. মাদক গ্রহন, জুয়া, ভাগ্য গননা, প্রতিমা পূজা না করা (৯০:৫)
৬. ওজনে কম না দেওয়া/বেশী না নেওয়া (৩৫:১৭; ৯:৫৫; ৮৫:৭; ১-৪:৮৩)
৭. মজুতদারী না করা; সোনা-রূপা ও সম্পদ মজুদদারী না করা (৩৪,৩৫:৯)
৮. মুনাফেকি (মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা ও আমানতে খেয়ানত করা) না করা (১৪৫:৪)
৯. পরনিন্দা/গীবত না করা (১২:৪৯; ১:১০৪)
১০. সুবিচার করা (৫৮,১৩৫:৪)
১১. অংশীদারদের (ভাই-বোন ও নিকটাত্মীয়) হক নষ্ট না করা (৭:১১,১২,১৯)
প্রশ্ন হচ্ছে এসব কিছুর বিষয়েই পবিত্র কুরআন শরীফের মাধ্যমে নির্দেশনা এসেছে।কিন্তু মুসলমান কি এগুলো পালন করার ব্যাপারে আন্তরিক? এখন উপরোক্ত বিষয়গুলি পারিবারিক ও সমাজ জীবনে শান্তি ও শৃংখলা প্রতিষ্টা করার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। কিন্ত মুসলমান আজ ওসব কিছুই বাদ দিয়ে কেবল নামাজ-কালাম, জিকির-আজকার নিয়ে বসে আছে বলেই সমাজদেহে নানা রকম ব্যধি বাসা বেঁধেছে। উপরোক্ত সব কিছুর ৯০% কিন্তু অমুসলিম দেশগুলোতে কার্যকর করা হয়েছে, যে কারনে তাদের দেশে ঘুষ-দুর্নীতি, ঠকবাজি, পরস্বপহরন, নোংরামি-অপরিচ্ছন্নত্, খাদ্যে ভেজাল ইত্যাদি নেই। অথচ এসব গুনাবলীর সব কিছুই মুসলমানদের মধ্যে থাকার কথা; কারন মুসলমানদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা উল্লেখ করছেন এজন্যই যে --
”তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দান করবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনবে।” (১১০:৩)
উপরোক্ত ‘শ্রেষ্ঠ উম্মত’ মুসলমান কিভাবে হতে পারে যদি আল্লাহ সুবহানাহু তা’লার সকল আদেশ-নিষেধ এবং নির্দেশ-নির্দেশনা পরিপালন করতে না পারে বা না করে?
প্রকৃতপক্ষে মুসলমান যখন ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে বাধা দেবার ইচ্ছা, তাগিদ বা সাহস হারিয়ে ফেলবে তখন কি তারা ‘শ্রেষ্ঠ উম্মত’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে? এমন অবস্থায় কি ভাল এবং সৎ মানুষ সমাজে টিকে থাকতে পারবে যেমন আজকের দিনে দেখা যাচ্ছে? ইসলাম তো কেবল নিজের গা বাঁচানোর ধর্ম নয়; ইসলামের অনুসারীদের তো বলা হয়েছে একটি সমগ্র শরীরের মত, যার কোন এক জায়গাতে আঘাত লাগলে সারা শরীরেই তার ব্যথা অনুভুত হয়।এই ’গা বাঁচানো’র আত্মঘাতি প্রবৃত্তিই কি মুসলমানদের সকল জাগতিক দুর্গতির কারন হয়ে দাঁড়ায় নি?আজ দিকে দিকে মুসলমান জুলুমের শিকার হলেও তাদের পাশের মুসলমান তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে না। দুরে থেকে গা বাঁচিয়ে চলছে।
একজন দাসের কাজ মনিব/প্রভুর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। কিন্তু মুসলমান আল্লাহ সুবহানাহু তা’লার বান্দা/দাস হয়েও কি তার মনিবের আদেশ-নিষেধ মেনে চলছে? এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা যে কঠোর ভাষায় এরশাদ করেছেন তা এই ---
” যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ন করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফের। . . . .তারাই জালেম। . . . তারাই পাপাচারী। (৪৪,৪৫,৪৭:৫)
মুসলমান যদি আল্লাহ সুবহানাহু তা’লার নির্দেশনা সম্পুর্নভাবে পালন না করে তবে তাদের সম্মন্ধে আরো এরশাদ হচ্ছে ---
“তবে কি তোমরা এই গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া তাদের আর কোন পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।” (৮৫:২)
আজ মুসলমান যে বিশ্বের চারিদিকে নানা রকম দুর্দশা ও দুর্গতির শিকার হচ্ছে তা কি উপরোক্ত কারনে নয়?
’কুফর’ শব্দের অর্থ অস্বীকার করা। তো সেই অর্থে যারা কুরআনে বর্নিত আদেশ-নিষেধ, নির্দেশ-নির্দেশনাকে অস্বীকার করে, তারাই কি কাফের নয়? আল্লাহর দেওয়া বিধানকে অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে এরশাদ হচ্ছে---
”কাফেররা যেন মনে না করে যে আমি যে অবকাশ দান করি তাদের জন্য তা কল্যানকর।। আমি তাদেরকে অবকাশ দেই যাতে তারা পাপে উন্নতি (?) করতে পারে। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (৭৮:৩)
আরো এরশাদ হচ্ছে ---
”বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি তাদের ক্রমন্বেয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে যার সম্পর্কে তাদের ধারনাও হবে না। বস্তুতঃ আমি তাদের ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুন।” (১৮২,১৮৩:৭)
সারা দুনিয়ার দিকে দৃষ্টি ফেরালে আমরা আজ কি দেখতে পাচ্ছি? পৃথিবী আজ নানা রকম রোগে রুগ্ন হয়ে পড়েছে। টর্নেডো, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, ভুমিকম্প, সুনামি, দাবানল, ভুমিধ্বস, খরা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদি প্রকিৃতিক দুর্যোগ, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, করোনা ইত্যাদি মহামারী কি আজ বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলেনি? এ থেকে কি মুসলমানের শিক্ষা নেবার সময় পার হয়ে যাচ্ছে না?

    ইসলামের কিছু মৌলিক নীতি এবং দেশের সুশীল ও আলেম সমাজের ভুমিকা

দেশে ধর্ম হিসেবে ইসল্lম বেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কেউ বা একে মধ্যযুগীয় বলছেন আবার কেউ উল্টোটা। তবে এই তথাকথিত ৯০% মুসলমানের দেশে বিভিন্ন স্তরে সত্যি সত্যি ্ইসলাম কতটা পালিত হচ্ছে সেটা বিরাট প্রশ্নসাপেক্ষ বটে। বিষয়টি ক্রমান্বয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা যাক।

১. আমাদের দেশের বাজেট প্রতি বছর বাড়ছে। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠান করছেন তারা বুক ফুলিয়ে তা প্রচার করছেন। বিভিন্ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে কাজ একশ’ টাকায় করা সম্ভব তা শেষ করতে লাগছে হাজার টাকা। সময়ের ক্ষেত্রেও এক মাসের কাজ শেষ করতে লাগছে এক বছর। আচ্ছা ক্ষমতাসীনদের কেউ তাদের নিজেদের কাজে এরকম অরাজকতা চলতে দিতেন?  যে টাকা তারা অতিরিক্ত ব্যয় করছেন নানা অজুহাতে তা কি নিজেদের হলে এটা চলতে পারত? তারা তো নিজেদের জন্য কোন কিছু কেনাকাটা বা নিজেদের ঘরবাড়ী তৈরীতে কম খরচে ভাল জিনিসটি চাইতেন। অথচ ইসলাম বলে - তোমাদের ্একের জান ও মাল/সম্পদ অন্যের কাছে সমান পবিত্র। এটা কি মানা হচ্ছে? প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে টাকা তারা ব্যয় করছেন তা তো জনগনের টাকা। যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের কাছে তো এ টাকা আমানত। এই আমানতে তারা কি খেয়ানত করছেন না?

২. আমাদের দেশের রাজনীতিকরা ভোট পাবার আগে অনেক্ প্রতিশ্রæতি দেন। কিšতু ক্ষমতায়          বসার পর সেগুলো শুধু বেমালুম ভুলে যান তাই না, অনেক উল্টো কাজও করেন। অথচ ইসলাম বলে, যারা প্রতিশ্রæতি দিয়ে তা রাখেনা তারা ্্ইমানদার নয়।

৩. আজ বিশ্বের সব দেশেই মাদকদ্রব্যকে মানবসমাজের জন্য খারাপ বলে তাকে হয় নিষিদ্ধ করা হচ্ছে নইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইন করা হচ্ছে। তেমনি ব্যাভিচারকেও কোন সমাজেই ভাল কাজ বলা হয় না। বরং একে পরিবার ধ্বংসের প্রধান কারন বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলাম বলে, তোমরা মাদক ও অশ্লীলতার দিকে যেওনা। এগুলা অবশ্যই মন্দ কাজ। ্এমনকি এসব কাজকে কবীরা গুনাহ বলে ্আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এসব বাড়ছে না কমছে?

৪. দেশে ন্যায়বিচার পাবার ক্ষেত্রে কি রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেটা আজ আর কোন গোপন ব্যাপার নয়। অনেকে বলেন ’বিচারের বানী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’ অথচ ইসলlম বলে, তোমরা যখন বিচার কর তখন ন্যায় বিচার করবে এমনকি যদি তা তোমার নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হয়। কিন্তু তা কি মানা হচ্ছে?

মোটামুটি এই কয়টি বিষয়ে আমাদের সুশীল ও আলেম সমাজের বক্তব্য কি? ইসলামে মুনাফিক-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে মুনাফিক-এর বৈশিষ্ট ৩টি। ১. যা বলে তা মিথ্যা বলে। ২. ওয়াদা ক’রে তার খেলাফ করে। ৩. আমানতে খেয়ানত করে। আর বলা হয়েছে মুনফিকের স্থান হবে জাহান্নামের সবচেয়ে নি¤œস্তরে। আমাদের আলেমগন মানুষকে শোনান ’কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরেজাত লিন্নাছ তা’মুরুনা বিল মারুফ ওয়া তানহাওনা আ’নিল মুনকার।’ অর্থাৎ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত (কারন) তোমরা ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করবে। আরো বলা হয়েছে: তোমরা আল্লাহ-র রজ্জুকে শক্ত করে ধর আর পরষ্পর বিচ্ছিন্ন হইওনা। কিন্তু  এসব কথা কি তারা নিজেরা মানেন? মানলে তাদের মধ্যে এতগুলো দল হয় কিভাবে? হাদিসে আছে জালিম শাসকের সামনে সত্য বলাটাই ’জিহাদে আকবর’। কিন্তু তারা কি তা করছেন? তাদের মধ্যে তো কোন ’কমন ইন্টারেস্ট’ বা ’কমন প্লাটফর্ম’ নেই। সবাই ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তাই তারা নিজেদেরকে নানা মত ও পথে বিভক্ত করে ফেলেছেন। 

ইসলাম সম্পর্কে যারা প্রতিকুল ধারনা পোষন করেন তারা উপরে বর্নিত খারাপ কাজগুলোকে হয়ত সমর্থন করেন বলেই ইসলামকে পছন্দ করেন না। কিন্তু আমাদের আলেম সমাজের ভুমিক্্াই বা কি?

তারিখঃ ২৪/৫/২০১৬ইং


Friday, November 19, 2021

 নতুন বিশ^ ব্যবস্থা ও ইসলাম
আজ থেকে প্রায় বছর চল্লিশেক আগে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে ’The Irony of Capitalism’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই নিবন্ধে তিনি যা বলেছিলেন তার সারাংশ হচ্ছে এক সময় পুঁজিবাদ তার অন্তর্নিহিত গুন বা দোষেই ধ্বংস হয়ে সমাজবাদের জন্ম দেবে। অন্যদিকে সমাজবাদও এক সময় তার অন্তর্নিহিত দোষ বা গুনে পুঁজিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। আজকে তার সেই প্রেডিকশন প্রায় ৯০% ভাগ সত্যে পরিনত হয়েছে। পুঁজিবাদের বিপুল আগ্রাসী নীতির ফলে ‘ইরম ভরংযবং ংধিষষড়ি ংসধষষ ভরংযবং’ - এই থিওরীর মতে খুবই অল্প সংখ্যক মালিকের হাতে আসবে শিল্প ও বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট বা কনগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে যাতে করে অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মালিক থেকে কর্মীতে পরিনত হবে। অপর দিকে সমাজতন্ত্র যেহেতু মানুষের স্বভাবজাত উচ্চাকাংখা, যেমন একটু বেশী আরাম আয়েস, একটু অতিরিক্ত বিনোদনের সুযোগ ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে, সেহেতু তাদের মনমানসিকতা সমাজতন্ত্রের পক্ষে আর কাজ করতে চাইবে না। এই বিষয়ের বা¯তব প্রতিফলন আমরা সোভিয়েট ইউনিয়নের পতন এবং মাও সে তুঙ-এর কট্টর কম্যুনিজমের বদলে দেং শিয়াও পিং-এর নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বর্তমান চীনের অভাবনীয় ও অবিশ^াস্য উন্নতির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।
রবার্ট জে, স্যামুয়েলসনের উপরোক্ত নিবন্ধের উত্তরে আমি একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম এবং তা টাইম ম্যাগাজিনে পাঠিয়েও ছিলাম। যদিও জানতে পারিনি তা প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। তবে আমার নিবন্ধটি ছিল পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্রের বিপরীতে ইসলামিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট এবং তার সুবিধা ও কল্যানকর দিক সম্মন্ধে। এই নিবন্ধে তার একটু বিস্তারিত পরিচয় দেবার চেষ্টা করব।
সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণমুলক আলোচনার দেখা গেল কিভাবে পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদ দেশে দেশে ব্যর্থ হয়েছে। তেমনি কট্টর কম্যুনিজম বা সোভিয়েট ধাঁচের সমাজতন্ত্রেরও একই পরিনতি ঘটেছে এবং এক পর্যায়ে সোভিয়েট ইউনিয়ন ধ্বসে পড়েছে। আলোচক আফগানিস্তানের উদাহরন টেনে বলার চেষ্টা করেছেন যে প্রথমে সোভিয়েটরা সেখানে সমাজতন্ত্র চালু করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু দশ বছরের চেষ্টায়ও তাতে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক কোন উন্নতি তো হয়-ইনি, বরং পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে। এরপর মার্কিন যুক্তরাস্ট্র ও তার মিত্ররা ভুয়া অজুহাতে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ধ্বংস করে সেখান তাদের ধাঁচের গনতন্ত্র ও পুঁজিবাদ চালু করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফলাফল আজ কতটা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁচেছে তা বিশ^বাসী দেখছে। সেখানে বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। পশ্চিমা ধাঁচের গনতন্ত্র এবং তার প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক পুঁজিবাদ কোন দেশেই সাধারন মানুষের আশা-আকাংখা পুরন করতে পারে নি; সমাজে ধনবৈষম্যও দুর করতে পারেনি। বরং পুঁজিবাদ ধনীকে আরো ধনী এবং দরিদ্রকে আরো দরিদ্র করেছে। বাংলাদেশ তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরনে পরিনত হয়েছে। এই দেশে নাকি ধনীর সংখ্যা বিশে^ অবিশ^াস্যভাবে বেড়েছে যার শতকরা হার বিশে^ সর্বোচ্চ - ১৭%। বস্তুতঃ পুঁজিবাদের বৈশিষ্টই হচ্ছে মুনাফার হার বৃদ্ধি। যত বেশী মুনাফা ততবেশী পুঁজি সঞ্চয় এবং ততবেশী ব্যবসার বিস্তার। এবং কার্ল মার্ক্সের মতে শ্রমিকের মজুরী ’চুরি’ করেই মালিক মুনাফা করে থাকে। জোসেফ প্রুঁধোর ভাষায় ‘চৎড়ঢ়বৎঃু রং ঃযবভঃ.’ এসব বক্তব্যের সারাংশ হচ্ছে পুঁজিবাদ ধনীকে আরো ধনী হবার সুযোগ করে দেবার সাথে সাথে শ্রমিককে আরো দরিদ্র করে ফেলে। শ্রমিকের মজুরী যে সব মালিকানার প্রতিষ্ঠান অধিকতর চতুরতার সাথে চুরি করতে পারে, তত দ্রুতই তাদের পৃুঁজির আয়তন বাড়ে এবং এ কারনেই কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কখনোই ধনী হবার সুযোগ পেয়েছে বলে দেখা যায় না।
পুঁজিবাদের আরেক বৈশিষ্ট হ’ল যে কোন উপায়ে মুনাফা বাড়ানো। একারনেই দেখা যায় ৯৫% শিল্প মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকে অথবা তার চেষ্টা করে থাকে। আর এর ফলশ্রুতিতে রাস্ট্র প্রত্যাশামত রাজস্ব আয় করতে পারেনা যার ফলে রাস্ট্রীয় বিভিন্ন ব্যয়, সে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক বা উন্নয়ন বিষয়ক হোক, তা মেটানোর জন্য নানা রকম পরোক্ষ করের আওতা বাড়িয়ে থাকে। এর ফলে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়; দরিদ্র আরো অর্থনৈতিক চাপে পড়ে যায়। আর এর চক্রক্রমিক ফল হ’ল এই যে তার সঞ্চয় বলতে কিছু থাকে না; ফলে দ্রব্যমুল্যের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে সে আরো দরিদ্র হয়ে পড়ে।
উল্টো দিকে ধনীরা তাদের আর্থিক সক্ষমতার জোরে যেমন নিয়ন্ত্রিত ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করনতে পাওে তেমনি সরকারকে তাদেও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রভাবিতও করতে পারে। এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানাভাবে তাদের ধনসম্পদের আয়তন আরো বাড়িয়ে নিতে পারে। এর ফলেই দেখা যায় বাংলাদেশের মত দেশে গনতন্ত্র প্রায় ’নিয়ন্ত্রিত গনতন্ত্রে’ পরিনত হয়েছে; ফলশ্রুতিতে সবচেয়ে ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের ধনসম্পদ কেবল দেশের ভেতরেই থাকে না, বাইরেও চলে যায় অথচ দরিদ্র জনগন তাদের ভোটের অধিকার তাদের ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারে না, তেমনি তাদের পরিবারের জন্য দু’মুঠো ভাতের জোগাড় করতেই নাভিশ্বাস তুলে ফেলে। বর্তমান বিশ্বে অনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের এটাই বাস্তব চিত্র।
অপরদিকে মাও সে তুঙ-এর কট্টর কম্যুনিজমও যে মানুষের জাগতিক সমস্যার সমাধান করতে পারেনি তার বড় প্রমান অল্প কিছুদিনের মাথায় কমরেড দেং শিয়াও পিং-এর নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের লাইনে চীনের অর্থনীতির গতি পরিবর্তন। সমাজতন্ত্রে বলা হয় each according to his need, each according to his ability অর্থাৎ যার যেমন প্রয়োজন এবং যার যেমন সামর্থ্য। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে আমার সামর্থ্যের পুরোটি না দিলেও যদি আমার প্রয়োজন মিটে যায় তবে আমার পুরো সামর্থ্য কেন কাজে লাগাব? উদাহরন হিসেবে ধরা যাক আমি দৈনিক দশটি টিভি ক্যাবিনেট বানাতে পারি। কিন্তু আমার প্রয়োজন মেটানোর জন্য সাতটি বানানোই যথেষ্ঠ। তাহলে আমি অতিরিক্ত শ্রম কেন দেব? অথচ কার্ল মার্ক্সের ‘Theory of surplus value’-র মোদ্দা কথাটিই হচ্ছে ঐ ’সারপ্লাস ভ্যালুই’ পুঁজিবাদের মৌলিক বিষয় যার ফলে পুঁজি পুঞ্জীভুত হয়ে বাড়ে এবং মালিক ছোট পুঁজিপতি থেকে বড় পুঁজিপতি হয়ে ওঠে। এছাড়া শ্রমিকের বাড়তি মজুরী, যা নির্দিষ্ট পরিমান শ্রমের জন্য তার প্রাপ্য, সেটা চুরি করেই মালিক তার মুনাফা বৃদ্ধি করে। এ বিষয়ে এ বক্তব্যটি খুবই পরিষ্কার। যদি আমার অতিরিক্ত শ্রমের বিনিময়ে আমি কোন সুবিধা না পাই তবে কেন অনির্দিষ্টকাল ধরে আমি ঐ বেগার খাটতে যাব? আমি তো কোন যন্ত্র বা মেশিন নই। আমার তো আশা-আকাঙ্খা আছে, আছে প্রত্যাশা। একটু বেশী শ্রম দিই একটু অধিক আরামে থাকার জন্য। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু তা যদি না পাই তবে আমি বেশী শ্রম দিয়ে তো ঐ অতিরিক্ত তিনটি টিভি কেবিনেট বানাব না। আর এর ফলে উৎপাদন কমে যাবে এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় আয় কমে যাবে। এর আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যায় না গিয়েই বলা যায় যে এ কারনেই প্রেসিডেন্ট ইউরি আšেদ্রাপভের সময়ে সোভিয়েট ইউনিয়নে প্রায় দুই কোটি টন খাদ্য ঘাটতি দেখা যায়। এর ফলশ্রুতিতে কৃষিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয় এবং মুলতঃ তখন থেকেই সোভিয়েট ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের দুর্বলতা ক্রমশঃ প্রকাশমান হতে থাকে। এ অবস্থা আরো ঘনীভুত হয় যখন তাসখন্দের ভয়াবহ ভুমিকম্পে দেখা যায় যে উদ্ধারকাজে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই এবং এজন্য পুঁজিবাদী দেশের সহায়তা নিতে হচ্ছে। এর কিছু দিন পরই তো বিশ^ দেখল প্রেসিডেন্ট গর্বাচেভের আমলেই সোভিয়েট ইউনিয়ন পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ল।
ওদিকে চীনের কম্যুনিস্ট পার্টির ’অভিভাবক’ অত্যন্ত বাস্তববাদী দেং শিয়াও পিং চীনে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করলেন। তাঁর কথা ছিল, বিড়ালটি কালো না সাদা, তার চাইতেও গুরুত্বপুর্ন হলো সেটা ইঁদুর ধরতে পারে কি না। চেয়ারম্যান মাও-এর কট্টর কম্যুনিজমের স্থলে তিনি অনেকটাই ফ্লেক্সিবল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করলেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সামান্য কিছু জমি, তাতে একটি বাসঘর, একটি ফ্রিজ রাখার অনুমতি দেওয়া হ’ল। মানুষ একেবারে আবদ্ধ অবস্থা থেকে একটু খোলা বাতাসে নিঃশ^াস নেবার সুযোগ পেল। বস্তুতঃ সেখান থেকেই শুরু হ’ল চীনের দ্রুততম গতিতে অগ্রযাত্রার। আর এর ফলশ্রুতিতেই আজ চীন বিশে^ প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিনত হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটা বলা যায় যে মনুষ্যসৃষ্ট পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র, কোন ’বাদ’ই মানুষের স্বভাবজাত আশা-আকাংখা পুরন করতে পারে নি। কারন এক ’বাদ’-এ ব্যক্তির আশা-আকাংখার কোন সুযোগ নেই, আর অন্যটিতে ধনসম্পদ পুঞ্জীভুত করার কোন সীমারেখা নেই যার ফলে ধনবৈষম্য অতি দ্রুতই সমাজের শ্রেনী বিন্যাসকে প্রতিকুলভাবে প্রভাবিত করে। উপরন্তু দ্রুততম সময়ে ধনবৃদ্ধির আরেকটি কুফল হচ্ছে সমাজে অনৈতিকতার ব্যপক বিস্তার; যার প্রকৃষ্ট উদাহরনও এই বাংলাদেশ। এই কুফলের বাস্তব উদাহরন হচ্ছে ক্রমবর্ধমানভাবে পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে পড়া ও ডিভোর্সের সংখ্যাবৃদ্ধি, এলিট গনিকাবৃত্তির ব্যপক বিস্তার, এমনকি বাসাবাড়ী পর্যন্ত যার ব্যপ্তি। এমতাবস্থায় সমাধান কি? হ্যাঁ, সমাধান অবশ্যই আছে। আর সেটা হচ্ছে ইসলামিক অর্থনীতি ও সমাজনীতি। পুর্বোল্লিখিত রবার্ট জে, স্যামুয়েলসনের ’ঞযব ওৎড়হু ড়ভ ঈধঢ়রঃধষরংস’-এর উত্তরে যেটা আমি বলেছিলাম।
সমাজবাদী অর্থনীতিতে যেমন ব্যক্তি মালিকানার কোন জায়গা নেই, তেমনি পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ধনসম্পদ পুঞ্জীভুত করার কোন সীমা নেই। আর মার্ক্সের Theory of surplus value’-কে আরেকটু ব্যাখ্যা করলে যে সার কথা বেরিয়ে আসে তা হ’ল শ্রমিকের মজুরীর ঐ অতিরিক্ত অংশ চুরি করেই দ্রুত মুনাফা বাড়ানো হয়; আর মুনাফা না বাড়লে পুঁজি বাড়ানো সম্ভব হয় না। তেমনি জোসেফ প্রুধোঁর ভাষায় ’Property is theft -এর সূত্র অনুসারে কারো না কারোর সম্পদ ’চুরি’ করা ছাড়া কেউ ধনসম্পদ এক্যুমুলেট বা জড়ো করতে পারে না। কিন্তু ইসলামিক অর্থনীতিতে কারো শ্রম বা সম্পদ চুরি করার প্রশ্ন আসে না কারন ইসলামের জাকাত প্রথা একটি বাধ্যতামুলক বিষয়। এই জাকাত ’সাহেবে নিসাব’ অর্থাৎ যার হাতে সংসার খরচ বাদে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন থাকে, তার জন্য এর অতিরিক্ত সম্পদের ওপর শতকরা আড়াই ভাগ জাকাত দেওয়া বাধ্যতামুলক। আর এই জাকাতের অর্থ প্রধানতঃ দরিদ্র, খাণগ্রস্থ ব্যক্তি, প্রার্থী, মুসাফির এবং অভাবী নবদীক্ষিত মুসলিম, অসহায় এতিম - এই শ্রেনীর মানুষের প্রাপ্য। সমাজে ধনবৈষম্য দুর করার বা অন্ততঃপক্ষে কমিয়ে আনার এর চাইতে উত্তম কোন পদ্ধতি সমাজবাদ বা পুঁজিবাদ, কোন ’বাদ’এই নেই। ইসলাম এই জাকাতকে এমন গুরুত্ব দিয়েছে যে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে --
আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপনতা করে , এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে এটা যেন তারা ধারনা না করে। বরং তাদের জন্য এটা একান্তই ক্ষতিকর হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধনসম্পদকে কিয়ামতের দিন বেড়ী বানিয়ে তাদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে। (সুরা:৩, আয়াত:১৮০)
আবার বলা হয়েছে --
 আর যারা স্বর্ন ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে কঠোর আযাবের কথা শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পাশর্^ ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধকরা হবে এবং বলা হবে এগুলো সেই সব যা তোমরা জমা করে রেখেছিলে নিজেদের জন্য। এক্ষনে তার আস্বাদ গ্রহন কর। (সুরা:৯, আয়াত:৩৪, ৩৫)
এইসব নির্দেশনা থেকে এটা পরিষ্কার যে সমাজবাদে বা কম্যুনিজমে ধনসম্পদ জমা করার কোন সুযোগ যেমন নেই, তেমনি পুঁজিবাদে প্রকৃত দরিদ্র, অভাবী, এতিমদের সাহায্যের জন্য রাস্ট্রীয় কোন সিস্টেমও নেই। যেটুকু আছে সেটুকু রাস্ট্রের বদান্যতা; বাধ্যতামুলক নয়। এজন্যই রাস্ট্র পুঁজির ’এক্যুমুলেশন’ বা পুঞ্জীভুত করার বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে পারে না। প্রত্যক্ষ আয়করের মাধ্যমে হয়ত প্রকৃত অংকের একটা অংশ বড়জোর আদায় করতে পারে। অথচ ইসলামী অর্থনীতিতে জাকাতকে রাস্ট্র আইনী ও বাধ্যতামুলকভাবে আদায়ের ব্যবস্থা নিতে পারে। এবং যেহেতু ইসলামী জাকাত ব্যবস্থায় জাকাতের হকদারদেরকে সুচিহ্নিত করা হয়েছে, তাই এখানে জাকাতের অর্থ নয়ছয় করার কোন সুযোগ নেই। জাকাতের ব্যবস্থাটি এমনই অনুপম ও অনন্য অর্থব্যবস্থা যে একসময় ইসলামী খেলাফতের রাজধানী মদীনায় জাকাত নেবার লোক পাওয়া যেত না।
বস্তুতঃ জাকাত মানুষের ধনসম্পদকে পবিত্র করে কারন ’জাকাত’-এর আভিধানিক অর্থ পবিত্রকরন। জাকাত দিলে সম্পদ কমে না বরং তাতে আরো বরকত লাভ হয়। একইভাবে তা সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষদের জন্য বিশেষ কল্যানকর একটি অর্থ ব্যবস্থা। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরো এরশাদ হয়েছে --
ওয়া ফি আমওয়ালেকুম হাক্কুল লিস্ সায়েলে ওয়াল মাহরুম। (অর্থাৎ, তোমাদের অর্থসম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।) তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ধনীদের সম্পদকে একচেটিয়াভাবে পুঞ্জীভুত করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে এটা ধনীদের কোন বদান্যতার বিষয় নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহর নির্দেশের যারা পরোয়া করে না তারা তো মুসলমান বলে গন্য হবার যোগ্যই নয়।
তাই উপসংহারে বলা যায় যে ইসলামিক অর্থনীতিতে দেশ পরিচালিত হলে দেশে একজন হাজার কোটি টাকার মালিক আর অপরজন অর্ধভুক্ত ও গাছতলার বাসিন্দা হবার কোন সুযোগ নেই। পরিষ্কার গনিতের হিসাবে বলা যায় যে যিনি একশ’ কোটি টাকার মালিক তাঁর কাছে জাকাতের পরিমান আসে আড়াই কোটি টাকা। এই আড়াই কোটি টাকা একহাজার দরিদ্রকে ভাগ করে দিলে তারা প্রত্যেকে পঁচিশ হাজার টাকা করে পাবে। এতে তাদের কিছু না কিছু একটা করে স্বাবলম্বী হবার সুযোগ তৈরী হতে পারে যাতে তার আর পরের বছর জাকাত নেবার দরকারই হবে না। এভাবে দেশের সম্পদশালীরা যদি তাদের প্রদেয় জাকাত সঠিকভাবে আদায় করে তবে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বছর দশেকের মধ্যেই শুন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫০০০ পরিবার আছে যাদের মালিকানায় কয়েকশ’ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে। তারা যদি সঠিক পরিমানে জাকাত আদায় করেন তবে একদিকে তাদের অর্থসম্পদে বরকত আসবে, অপর দিকে তাদের অর্থে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের অবস্থার উন্নতি হবে। তবে এ ব্যাপাওে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগী ভুমিকা অত্যাবশ্যক। সরকার দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জাকাত বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তা সংগ্রহ ও বন্টনের সুচারু ব্যবস্থা করতে পারে। এই জাকাত বন্টনের দায়িত্ব প্রতিটি গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেবদেরকে অর্পন করলে তা যথাযথভাবে জাকাতের প্রকৃত হকদার ব্যক্তিগন পেতে পারে।
সাম্প্রতিককালে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে শরীয়া ভিত্তিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যব¯থা কায়েম করার প্রক্রিয়া চলছে। আজকে বিশ^ পরিস্থিতি বলছে সমাজবাদ ও পুঁজিবাদ, কোনটাই  কোন দেশে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে নি। যে গনতন্ত্রের ধুয়া তুলে সা¤্রাজ্যবাদ দেশে দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে, সেখানেও তাদের প্রেস্ক্রৃপশন অনুযায়ী গনতন্ত্র চলেনি। কারন গনতন্ত্র সত্যিকারভাবে কার্যকর এবং সুফলদায়ক হয় সেখানেই যেখানে মানুষ তাদের ভোটের মুল্য বোঝে। সুতরাং এখন ইসলামী শাসনব্যবস্থা তথা ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে মঞ্চে আবির্ভুত হয়েছে। এখন নতুন বিশ^ব্যবস্থা চালুর মুখে উপনীত হয়েছে যে ব্যবস্থা ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর আগে মানব সমাজের সার্বিক কল্যানের লক্ষ্যেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে রসুলে করিম হযরত মুহম্মদ (দঃ) এর মাধ্যমে নাজিল হয়েছিল।



 

গণপরিবহনে নৈরাজ্য
শৃঙ্খলা ফেরানোর দায়িত্ব সরকারের - দৈনিক সমকাল।
গনপরিবহনে চলমান নৈরাজ্য যে খোদ সরকারেরই সৃষ্টি সেটা আর লুকানো কোন বিষয় নয়। কোন দেশে একটি সরকারের কাজ কি? দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা এবং বৈদেশিক শত্রুর হাত থেকে দেশ ও দেশের জনগনকে রক্ষা করা। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীন শৃংখলা রক্ষা করাটা সরকারের পরিচালকদের সূক্ষ দুরদৃষ্টি, সুচিন্তিত ও সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং তা কার্যকর করার শক্ত মানসিকতা এবং সর্বোপরি নিখাদ দেশপ্রেম একান্তই অত্যাবশ্যক। কিন্তু এই দেশের পরিচালকদের মধ্যে ঐ সব গুনাবলীর তীব্র অভাব। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিক আর রাস্ট্রনায়ক সমার্থক নয়। রাস্ট্রনায়ক অন্ততঃ একশ’ বছর পরে কি হতে পারে সেই দুরদৃষ্টি দিয়েই তার সকল পরিকল্পনার ছক আকেন। আর রাজনীতিকরা আপাতঃলাভের অংক কতটা হবে সেই ভাবনা মাথায় রেখে কাজ করেন। বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল ছোট্ট্ একটি দেশ। এই দেশের মাটি কতটুকু কিভাবে ব্যবহার করা হবে তার কোন পরিকল্পনা নেই। শহর পরিকল্পকদের মাথায় নেই এই শহরে কোন এলাকায় কতসংখ্যক পরিবার থাকলে সেখানকার সকল ইউটিলিটি সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে দেওয়া যাবে। কতটুকু রাস্তা দরকার, সেই রাস্তায় কতটা যানবাহন চলাচল করলে রাস্তায় শৃংখলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাদের মাথায় এটা নেই, ছিলনা কখনো, যে এত ঘনবসতিপুর্ন শহরে প্রাইভেট মালিকানায় পরিবহন ব্যবস্থা ছেড়ে দিলে তার পরিনামফল কি দাঁড়াবে। শহরের যত্রতত্র অসংখ্য রিকশা চলাচলোর অনুমতি দিলে রাস্তার শৃংখলা সম্পুর্ন ভেঙ্গে পড়বে কি না। এত ঘনবসতিপুর্ন শহরে সবচাইতে উপযোগী হতো সরকারী মালিকানায় সমান সংখ্যক পাবলিক ট্র্যান্সপোর্ট ব্যবস্থা। কিন্তু সরকারী মালিকানাধীন বিআরটিসি চোর-ডাকাতে আকীর্ন করে রাখা হয়েছে যারা বিশ্বের নামকরা ভোলভো ডাবলডেকার বাসগুলিও বছর না ঘুরতেই ডাম্পিংএ পাঠিয়েছে অথচ এমন বাস প্রাইভেট মালিকানায় থাকলে দশ বছরেও কিছু হতো না। এর পেছনে যে সরকারী বেসরকারী স্যাবোটিয়ারদের উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রয়েছে তা আজ আর গোপন বিষয় নয়। এদেশের পুর্ববর্তী সরকারগুলো জনবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন করেনি। এর পেছনে সরকার পরিচালক এবং আমলাদের যে ঘোর অশুভ যোগসাজস ছিল সেটা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আশা ও প্রশংসার বিষয় যে বর্তমান সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেই সাথে এটা দুঃখ ও হতাশাজনক যে বর্তমানে সারা দেশে রাস্তায় যে বিশৃংখলা ও আইন ভাঙার প্রবল প্রবনতা চলছে, তার বিরুদ্ধে সরকার যথেষ্ঠ প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বেসরকারী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যে তাদের খেয়ালখুশীমত যখন তখন হরতাল ধর্মঘট ডেকে জনসাধারনকে অসীম দুর্ভোগে ফেলছে, সেটা সম্ভব হতো না যদি সরকার সমান সংখ্যক ডাবলডেকার বাস শহরের রাস্তায় নামাতে পারত। কিন্তু সরকারের মধ্যেই যদি ‘বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া’র মত এজেন্ট থেকে থাকে তবে রাস্তায় শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে না।

Tuesday, March 17, 2020

Bangladesh Administration vis a vis Pakistani administration

Onion prices shoot up to record high- The Daily Star reports.
Now could we put up a few questions to the present administration? Has the administration of independent Bangladesh ever done any better than the administration of the Pakistan era? During Pakistani period, we saw any sudden and unexpected hike of any essential commodity was immediately called in the market operation instrument such as the Marketing Officer. They got down to supervise and control the price without delay and the traders and shopkeepers would not dare to increase price arbitrarily. They were sure that it would cost them high. But in independent Bangladesh traders and shopkeepers hike the price of the commodities at their sweet will with the least fear of being adequately punished. Most unfortunately, the government itself hikes the price of utility services at its will to compensate the loss through corruption and pilferage. The price of electricity and various governmental fees are bright examples.
The same thing, albeit a bit different issue, the roads and highways lay unattended days and months together until the potholes are enlarged into deep ditches. While a little attention could have spared the public unjustified and high taxes, the road authorities do not bother to give attention to them. We saw in the Pakistan era that a truck loaded with a small road roller, bitumen, stone chips move on the roads to fill the potholes before they turned into deeper ditches. In the developed countries such as our neighbour Singapore, this is a common sight that a truck loaded with necessary materials fill the potholes saving the road from being infested with ditches. There were road overseers whose work was to check if the roads are not filled with potholes and ditches. Even in the city areas under City Corporations, no such activity is ever visible. Are there no post of road supervisors/overseers? If there are, what work do they do?
Now question is:
A. Is the administration of independent Bangladesh has been doing any better than the administration of the Pakistani era? The questions arise because in almost every sector inactivity and inefficiency prevails that tantamount to deep-seated corruption. Projects are never completed in allocated time, quality of the work almost always sub-standard, willful delays are allowed by the concerned authorities to swallow more money, public accountability painfully disregarded.
B. Is it a fact that the authorities wait for the roads and highways to get dilapidated demanding large amount of money from which they an swallow a bulk of it? or is there some clandestine nexus with the contractors that the engineers and supervisors allow the roads to get dilapidated so that they too can gulp down a good sum of money?

গনতন্ত্র এবং বাংলাদেশ

স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরে বাংলাদেশের গনতন্ত্রের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। মুখে আমরা গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে যতই চেঁচামেচি করি না কেন, গনতন্ত্রের সত্যকার চেহারা আমাদের মনে হয় অজানাই থেকে গেছে। এর কারন খুজতে গেলে দেখা যাবে যে আমাদের গনতন্ত্র কেবল পাচ বছর পর একদিন ভোট দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অত:পর এই পাচ বছরের মধ্যে ভোটারদেরকে আর কেউ পাত্তা দেবার কথা ভাবতেও চায় না; তাদের সুখ-দু:খের কথা, সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবা দুরে থাক। কিন্তু এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নেই? নিশ্চয়ই আছে। তবে তার জন্য কতিপয় ব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে সংযুক্ত করা অতি আবশ্যক ছিল। আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। তব্ওু দু:খের সাথে বলতে হয় তাড়াহুড়ো করে সংবিধান রচনা করার কৃতিত্ব লাভের আকাংখায় সেই অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির দিকে যথাযথ মনোযোগ দ্ওেয়া হয়নি। আমাদের সংবিধান পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি লক্ষ্যনীয় সেটি হলো গনতন্ত্রের ছদ্মাবরনে একধরনের স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখা। সন্দেহ জাগে হয়ত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি অতিআনুগত্যের মনোভাবই এই মারাত্মক ত্রটির কারন ছিল। আজ অবধি সংবিধান যেভাবেই সংশোধন করা হয়ে থাকুক না কেন - প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিরই হোক আর পার্লামেন্টারী পদ্ধতিরই হোক - সরকারপ্রধানই সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক । তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার কোন মসৃন পথ রাখা হয়নি। মহামান্য প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক প্রধান। কিন্তু সাবেক বিচারপতি জনাব শাহাবুিদ্দন সাহেবের ভাষায় মিলাদ পড়া আর ’উদ্বোধন’ ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার ক্ষমতা তাকে দ্ওেয়া হয়নি। সংবিধানের এই মারাত্মক ত্রুটির জন্যই এদেশে গনতন্ত্র জনগনের কল্যানে কার্যকর কোন ভ’মিকা পালন করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েকশ’ বছর্ওে এই গনতন্ত্র জনগনকে যে কিছু দিতে পারবেনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সংবিধানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি সংযুক্ত করা অত্যাবশ্যক; অবশ্য আদৌ যদি আমরা গনতন্ত্রকে কার্যকর অবস্থায় দেখতে চাই। বিষয়গুলি নিম্নরুপ:
১. ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচন নয় বরং দলভিত্তিক নির্বাচন হবে। দলীয় মেনিফেস্টো রেডিও এবং টিভিতে প্রয়োজনে এক মাস ধরে প্রচারিত হবে। যে কোন রকম আঞ্চলিক ও  ব্যক্তিগতভাবে প্রচার-প্রচারনা নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. সাধারন নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য নির্ধারিত হবে। কোন দল প্রদত্ত মোট ভোটের অন্যুন ৩% ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে সেই দল বিলুপ্ত বলে ঘোষিত হবে।
৩. নির্বাচনের দুই বছর পর বিশ্বাসযোগ্য জনমত যাচাইএর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির জনপ্রিয়তার পরিমাপের ব্যবস্থা রাখা। এই জনমত কমপক্ষে ৫০% এর কম হলে ঐ প্রতিনিধিকে রি-কল করার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই শুন্য পদে গ্রহনযোগ্য নতুন ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। সেটা স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেওয়া হতে পারে।
৪. প্রেসিডেন্ট ও/বা স্পীকার নির্বাচিত হবার পর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বাধ্যতামুলক করা এবং পরবর্তীতে তাকে ভোটপ্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে।
৫. এক ব্যক্তি একই সাথে দলীয় প্রধান, সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।  অর্থাৎ একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
৬. প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগুরু দলের মনোনীত হলেও বিরোধী দলের অন্তত: ২/৫ অংশ সদস্যের সমর্থন লাভ আবশ্যিক করতে হবে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে অতীব প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমানিত হয়েছে বিধায় প্রেসিডেন্টকে যে কোন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিল ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
৮. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও আইনের দৃষ্টিতে কাউকেই কোন রকম প্রিভিলেজ না দেওয়ার বিধান রাখতে হবে। সকল প্রকার ট্যাক্সের টাকা জনগনের টাকা; তাই ’ট্যাক্স-ফ্রি প্রথা স¤পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
৯. সংবিধানের বিধি অনুযায়ী ’আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার’কে কেবল কাগজে না রেখে বাস্তবে সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০. বিচার, শিক্ষা, এক্সিকিউটিভ বিভাগ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী দলীয়করনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে  গন্য করার আইন পাশ করতে হবে।
১১. সরকারী চাকুরীবিধির মাথায় পা দিয়ে রাজনৈতিক দলের লেজুড় হবার সুযোগ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য সংক্ষিপ্ত তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি(দের)কে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে বরখাস্ত করার বিধান করতে হবে।
১২. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সকল সাংবিধানিক পদে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিলেও জাতীয় সংসদে শুনানীর মাধ্যমে তাকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলি এদেশে বর্তমানে প্রচলিত গনতন্ত্রের খোলসে ছদ্ম স্বৈরতন্ত্রকে বিদুরিত করার জন্যই অপরিহার্য্য বিধায় অবিলম্বে জনসচেতনতা ্ও জনমত তৈরী করার লক্ষ্যে সকল ধরনের মিডিয়াকর্মীসহ সকল স্তরের জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে।  দেশে ’সমাজতন্ত্র বলতে কিছু নেই, এটা পরিষ্কার। তাই মুক্তবাজার অর্থনীতি বহাল রেখে সংবিধানে সমাজতন্ত্র চার মুলনীতির একটি হিসেবে রাখা যে চরম স্ববিরোধী তা সুস্পষ্ট। এতদসত্ব্ওে ’সমাজতন্ত্র’ ’সমাজতন্ত্র’ বলে চেঁচামেচি করাটা জাতির সাথে প্রতারনা করা কি না সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর একটি বিষয়।  ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে রাখার ব্যপারে যারা যুদ্ধংদেহী তাদেরকে পন্ডিত নেহরুর সার্বজনীন ভোটাধিকারের গনতন্ত্র স¤মন্ধে আসক্তির বিষয়টি মনে রাখতে অনুরোধ করি। ’এক ব্যক্তি এক ভোট’ - এই নীতির ভিত্তিতে ভারত যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত তবে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যা করছে তাই কি হতো না? এবং সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের কোন বক্তব্য বা মতামত পাত্তা পেত কি? তাছাড়া মহাত্মা গান্ধীকে সত্যিই ’মহাত্মা’ বলে মানেন এমন ’বিদগ্ধ’ ব্যক্তির অভাব এদেশে নেই।  ধর্মের সাথে রাজনীতির সম্পর্কের বিষর্য়ে মহাত্মা বলেছেন, ’যারা বলেন রাজনীতির সংগে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই তারা জানেনই না ধর্ম জিনিসটা আসলে কি।’ আশা করি এ বিষয়েও দেশের বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ কিছু আলোকপাত করবেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ-র ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যারা রাখতে নারাজ, তারা আসলেই কোন ধর্ম অনুসরন করেন বা আদৌ করেন কি না তাও দেশের আম জনগন জানতে পারলে কৃতার্থ হতো।  যারা দেশের প্রথম সংবিধান রচনার কৃতিতের অধিকারী, তাদের কাছেও সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা উপরে বর্ণিত যুক্তিগুলির গ্রহনযোগ্যতা বিচার করবেন এবং এগুলি আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করবেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে জাতির ভবিষ্যত মঙ্গলের জন্য এই আহ্বান জানাচ্ছি।
১৫.০৩.২০১২        এম, শ্ওকত আলী; ৯/১৯/১১, উত্তরা; ঢাকা - ১২৩০।