ইসলামের কিছু মৌলিক নীতি এবং দেশের সুশীল ও আলেম সমাজের ভুমিকা
দেশে ধর্ম হিসেবে ইসল্lম বেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কেউ বা একে মধ্যযুগীয় বলছেন আবার কেউ উল্টোটা। তবে এই তথাকথিত ৯০% মুসলমানের দেশে বিভিন্ন স্তরে সত্যি সত্যি ্ইসলাম কতটা পালিত হচ্ছে সেটা বিরাট প্রশ্নসাপেক্ষ বটে। বিষয়টি ক্রমান্বয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা যাক।
১. আমাদের দেশের বাজেট প্রতি বছর বাড়ছে। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠান করছেন তারা বুক ফুলিয়ে তা প্রচার করছেন। বিভিন্ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে কাজ একশ’ টাকায় করা সম্ভব তা শেষ করতে লাগছে হাজার টাকা। সময়ের ক্ষেত্রেও এক মাসের কাজ শেষ করতে লাগছে এক বছর। আচ্ছা ক্ষমতাসীনদের কেউ তাদের নিজেদের কাজে এরকম অরাজকতা চলতে দিতেন? যে টাকা তারা অতিরিক্ত ব্যয় করছেন নানা অজুহাতে তা কি নিজেদের হলে এটা চলতে পারত? তারা তো নিজেদের জন্য কোন কিছু কেনাকাটা বা নিজেদের ঘরবাড়ী তৈরীতে কম খরচে ভাল জিনিসটি চাইতেন। অথচ ইসলাম বলে - তোমাদের ্একের জান ও মাল/সম্পদ অন্যের কাছে সমান পবিত্র। এটা কি মানা হচ্ছে? প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে টাকা তারা ব্যয় করছেন তা তো জনগনের টাকা। যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের কাছে তো এ টাকা আমানত। এই আমানতে তারা কি খেয়ানত করছেন না?
২. আমাদের দেশের রাজনীতিকরা ভোট পাবার আগে অনেক্ প্রতিশ্রæতি দেন। কিšতু ক্ষমতায় বসার পর সেগুলো শুধু বেমালুম ভুলে যান তাই না, অনেক উল্টো কাজও করেন। অথচ ইসলাম বলে, যারা প্রতিশ্রæতি দিয়ে তা রাখেনা তারা ্্ইমানদার নয়।
৩. আজ বিশ্বের সব দেশেই মাদকদ্রব্যকে মানবসমাজের জন্য খারাপ বলে তাকে হয় নিষিদ্ধ করা হচ্ছে নইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইন করা হচ্ছে। তেমনি ব্যাভিচারকেও কোন সমাজেই ভাল কাজ বলা হয় না। বরং একে পরিবার ধ্বংসের প্রধান কারন বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলাম বলে, তোমরা মাদক ও অশ্লীলতার দিকে যেওনা। এগুলা অবশ্যই মন্দ কাজ। ্এমনকি এসব কাজকে কবীরা গুনাহ বলে ্আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এসব বাড়ছে না কমছে?
৪. দেশে ন্যায়বিচার পাবার ক্ষেত্রে কি রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেটা আজ আর কোন গোপন ব্যাপার নয়। অনেকে বলেন ’বিচারের বানী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’ অথচ ইসলlম বলে, তোমরা যখন বিচার কর তখন ন্যায় বিচার করবে এমনকি যদি তা তোমার নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হয়। কিন্তু তা কি মানা হচ্ছে?
মোটামুটি এই কয়টি বিষয়ে আমাদের সুশীল ও আলেম সমাজের বক্তব্য কি? ইসলামে মুনাফিক-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে মুনাফিক-এর বৈশিষ্ট ৩টি। ১. যা বলে তা মিথ্যা বলে। ২. ওয়াদা ক’রে তার খেলাফ করে। ৩. আমানতে খেয়ানত করে। আর বলা হয়েছে মুনফিকের স্থান হবে জাহান্নামের সবচেয়ে নি¤œস্তরে। আমাদের আলেমগন মানুষকে শোনান ’কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরেজাত লিন্নাছ তা’মুরুনা বিল মারুফ ওয়া তানহাওনা আ’নিল মুনকার।’ অর্থাৎ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত (কারন) তোমরা ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করবে। আরো বলা হয়েছে: তোমরা আল্লাহ-র রজ্জুকে শক্ত করে ধর আর পরষ্পর বিচ্ছিন্ন হইওনা। কিন্তু এসব কথা কি তারা নিজেরা মানেন? মানলে তাদের মধ্যে এতগুলো দল হয় কিভাবে? হাদিসে আছে জালিম শাসকের সামনে সত্য বলাটাই ’জিহাদে আকবর’। কিন্তু তারা কি তা করছেন? তাদের মধ্যে তো কোন ’কমন ইন্টারেস্ট’ বা ’কমন প্লাটফর্ম’ নেই। সবাই ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তাই তারা নিজেদেরকে নানা মত ও পথে বিভক্ত করে ফেলেছেন।
ইসলাম সম্পর্কে যারা প্রতিকুল ধারনা পোষন করেন তারা উপরে বর্নিত খারাপ কাজগুলোকে হয়ত সমর্থন করেন বলেই ইসলামকে পছন্দ করেন না। কিন্তু আমাদের আলেম সমাজের ভুমিক্্াই বা কি?
তারিখঃ ২৪/৫/২০১৬ইং
No comments:
Post a Comment