দেশপ্রেম
বন্ধুরা, প্রেম কথাটার মধ্যেই একটা অপূর্ব ব্যঞ্জনা ও মহিমা লুকিয়ে আছে। প্রেমের কারনে মানুষ কঠিন পাথর ভাঙে, পাহাড় কেটে নদী বইয়ে দিতে চায়, এমনকি আত্মহত্যাও করে। প্রেমের এমনই মহিমা। দেশপ্রেমও তেমনি একটা বিষয়; তবে এর অর্থ আরো অনেক বড় ও ব্যপক। প্রেমের জন্য বড়জোর একজন বা দুইজন ভোগ করে, তা সে সুখই হোক বা দুঃখই হোক। কিন্তু দেশপ্রেমের জন্য হাজারে হাজারে লাখে লাখে লোক অকাতরে জীবন দেয়। তবে এক ব্যক্তিও দেশপ্রেমের চূড়ান্ত উদাহরন স্থাপন করতে পারে তার দুটো উদাহরন এখানে তুলে ধরছি।
১. সম্রাট শাহজাহানকন্যা জাহানারার শরীরে একবার দুর্ঘটনাবশতঃ আগুন লাগে। তাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর জীবন সংশয় হয়। দেশীয় কোন চিকিৎসক তাকে সারিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। এ সময় এক ইংরেজ ডাক্তার মিঃ ব্রাইডন সম্রাটের কাছে রাজকুমারীর চিকিৎসার অনুমতি চান। পিতৃস্নেহে বিগলিত দিশেহারা সম্রাট অজানা এই ডাক্তারকে তাঁর কন্যার চিকিৎসার অনুমতি দেন। সৌভাগ্যবশতঃ সেই চিকিৎসায় জাহানারা সেরে ওঠেন। সম্রাট এর জন্য ঐ ইংরেজ ডাক্তারকে যা খুশী পারিতোষিক চাইবার অনুমতি দেন। অবাক করার বিষয় যে ডাক্তার সাহেব নিজের জন্য কিছুই চান নি। তিনি সম্রাটের কাছে চাইলেন বিনা শুল্কে ভারতে বানিজ্য করার অনুমতি। লক্ষ্য করার বিষয় যে তিনি চাইলে সম্রাট তাকে মণিমুক্তা, হীরা-জহরত দিয়ে পুরস্কৃত হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তার জাতির জন্য দেশের জন্য ইংরেজদেরকে বিনা শুল্কে বানিজ্য করবার অনুমতি চাইলেন। একেই বলে স্বজাতি প্রেম; দেশপ্রেম।
২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ড বেশ মার খেয়েছিল বিস্ফোরকের অভাবে। সেই কারনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চীল বিস্ফোরক তৈরীর জন্য কৃত্রিম এসিটোন আবিষ্কারের দায়িত্ব দেন এক ইহুদী বিজ্ঞানীর উপর। খুব অল্প সময়ে ঐ বিজ্ঞানী ডঃ কাইম ভাইজম্যান কৃত্রিম এসিটোন আবিষ্কার করে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চমৎকৃত করে দেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি কি চান? সবিনয়ে ভাইজম্যান বলেন তার জাতির জন্য এক টুকরো ভুমি, যেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। উল্লেখ্য যে তিনিও কিন্তু ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার কিছুই চান নি। (সূত্রঃ দৃষ্টিপাত- যাযাবর)
উপরোক্ত অবস্থা যদি কোন বাঙালীর সামনে আসত তবে তিনি যে বড় একটা সুবেদারী/জায়গীরদারীর আব্দার করতেন তাতে বিশেষ সন্দেহ নেই। হয়ত গোটা সাম্রাজ্য চাইলেও অবাক হবার কিছু থাকত না কারন বাঙালী স্বভাবতঃ এমনই লোভী। ঐ লোভ যে কত সর্বগ্যারাসী সেটা বেনজীর কান্ড, মিয়া কান্ড, মতিয়ার কান্ড, ফয়সাল কান্ড ইত্যাদি কান্ড প্রকাশপাওয়ায় মানুষ জানতে পারছে।
ভারতীয় হিরো সানি দেওলের ’দ্য ইন্ডিয়ান’ ছবিটি যারা দেখেছেন, তারা হয়ত দেখে থাকবেন ‘ইন্ডিয়ানদের দেশপ্রেম কত গভীর। দেশের জন্য আপন শ্বশুরকেও হত্যা করতে তার হাত কাঁপেনি। সেই তুলনায় আমাদের দেশের মানুষের দেশপ্রেম? হ্যাঁ, দেশের খেটে খাওয়া আম পাবলিককে বাদ দিলে, প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ত ৫% ও হবে কি না সন্দেহ। যদি তা না হতো তবে দেশকে এতটা নির্মমভাবে লুটপাট ও ধর্ষণ করা সম্ভব হতো না; দেশ থেকে এত এত সম্পদ ও টাকা পয়সা পাচার করা সম্ভব হতো না। দেশের শাসন ক্ষমতার চূড়ায় বসে দেশকে লুটেরাদের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিনত হতে দেওয়াও সম্ভব হতো না। স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশকে পরাধীনতার ঝুঁকির মধ্যে ফেলাও সম্ভব হতো না।
No comments:
Post a Comment