Friday, November 19, 2021

 

গণপরিবহনে নৈরাজ্য
শৃঙ্খলা ফেরানোর দায়িত্ব সরকারের - দৈনিক সমকাল।
গনপরিবহনে চলমান নৈরাজ্য যে খোদ সরকারেরই সৃষ্টি সেটা আর লুকানো কোন বিষয় নয়। কোন দেশে একটি সরকারের কাজ কি? দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা এবং বৈদেশিক শত্রুর হাত থেকে দেশ ও দেশের জনগনকে রক্ষা করা। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীন শৃংখলা রক্ষা করাটা সরকারের পরিচালকদের সূক্ষ দুরদৃষ্টি, সুচিন্তিত ও সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং তা কার্যকর করার শক্ত মানসিকতা এবং সর্বোপরি নিখাদ দেশপ্রেম একান্তই অত্যাবশ্যক। কিন্তু এই দেশের পরিচালকদের মধ্যে ঐ সব গুনাবলীর তীব্র অভাব। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিক আর রাস্ট্রনায়ক সমার্থক নয়। রাস্ট্রনায়ক অন্ততঃ একশ’ বছর পরে কি হতে পারে সেই দুরদৃষ্টি দিয়েই তার সকল পরিকল্পনার ছক আকেন। আর রাজনীতিকরা আপাতঃলাভের অংক কতটা হবে সেই ভাবনা মাথায় রেখে কাজ করেন। বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল ছোট্ট্ একটি দেশ। এই দেশের মাটি কতটুকু কিভাবে ব্যবহার করা হবে তার কোন পরিকল্পনা নেই। শহর পরিকল্পকদের মাথায় নেই এই শহরে কোন এলাকায় কতসংখ্যক পরিবার থাকলে সেখানকার সকল ইউটিলিটি সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে দেওয়া যাবে। কতটুকু রাস্তা দরকার, সেই রাস্তায় কতটা যানবাহন চলাচল করলে রাস্তায় শৃংখলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাদের মাথায় এটা নেই, ছিলনা কখনো, যে এত ঘনবসতিপুর্ন শহরে প্রাইভেট মালিকানায় পরিবহন ব্যবস্থা ছেড়ে দিলে তার পরিনামফল কি দাঁড়াবে। শহরের যত্রতত্র অসংখ্য রিকশা চলাচলোর অনুমতি দিলে রাস্তার শৃংখলা সম্পুর্ন ভেঙ্গে পড়বে কি না। এত ঘনবসতিপুর্ন শহরে সবচাইতে উপযোগী হতো সরকারী মালিকানায় সমান সংখ্যক পাবলিক ট্র্যান্সপোর্ট ব্যবস্থা। কিন্তু সরকারী মালিকানাধীন বিআরটিসি চোর-ডাকাতে আকীর্ন করে রাখা হয়েছে যারা বিশ্বের নামকরা ভোলভো ডাবলডেকার বাসগুলিও বছর না ঘুরতেই ডাম্পিংএ পাঠিয়েছে অথচ এমন বাস প্রাইভেট মালিকানায় থাকলে দশ বছরেও কিছু হতো না। এর পেছনে যে সরকারী বেসরকারী স্যাবোটিয়ারদের উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রয়েছে তা আজ আর গোপন বিষয় নয়। এদেশের পুর্ববর্তী সরকারগুলো জনবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন করেনি। এর পেছনে সরকার পরিচালক এবং আমলাদের যে ঘোর অশুভ যোগসাজস ছিল সেটা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আশা ও প্রশংসার বিষয় যে বর্তমান সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেই সাথে এটা দুঃখ ও হতাশাজনক যে বর্তমানে সারা দেশে রাস্তায় যে বিশৃংখলা ও আইন ভাঙার প্রবল প্রবনতা চলছে, তার বিরুদ্ধে সরকার যথেষ্ঠ প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বেসরকারী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যে তাদের খেয়ালখুশীমত যখন তখন হরতাল ধর্মঘট ডেকে জনসাধারনকে অসীম দুর্ভোগে ফেলছে, সেটা সম্ভব হতো না যদি সরকার সমান সংখ্যক ডাবলডেকার বাস শহরের রাস্তায় নামাতে পারত। কিন্তু সরকারের মধ্যেই যদি ‘বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া’র মত এজেন্ট থেকে থাকে তবে রাস্তায় শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে না।

No comments:

Post a Comment