Friday, May 31, 2019

কৃষকের ধান পুড়ে হরিলুট রূপপুরে ধর্ষক উল্লাস করে

কৃষকের ধান পুড়ে হরিলুট রূপপুরে ধর্ষক উল্লাস করে -- জনাব পীর হাবিবুর রহমান-এর লেখা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত। 
জনাব পীর সাহেব অনেক কথাই বলেছেন। বর্মান সরকারের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অকুন্ঠ প্রশংসাও করেছেন। সবই ঠিক আছে। একথাও সত্য যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে একজন আইরন লেডীর মত দেশ চালাচ্ছেন তার প্রশংসাও দেশ-বিদেশে বিস্তৃত। বর্তমানে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানোর মত আর কেউ নেই এদেশে। তিনি যে সাহসিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে বিরোধী পক্ষকে প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্থ করে ফেলেছেন সেটাও তাঁ শত্রু-মিত্র সবাই স্বীকার করে। এছাড়াও তাঁর সম্মন্ধে বলতে গিয়ে তাঁকে অত্যন্ত পরহেজগার ধর্মভীরু মানুষ হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন। অনেকে এর আগে তাঁকে মদিনা সনদের আলোকে দেশ শাসন করার বা হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)-র মত বিচক্ষণতার অধিকারী বলেও মন্তব্য করেছেন। হয়ত এসবও ঠিক।
তবে যেটা মনে বড় একটা প্রশ্নের জন্ম দেয় সেটা হচ্ছে পৃথিবীতে সকল শাসকই - অবশ্য স্বৈরতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী শাসকদের কথা আলাদা - তাঁর প্রজাদের সুখ-সুবিধা দেখার চেষ্টা করেছেন। হযরত ওমর (রাঃ) তো বলেছেন যে সুদুর ফোরাতের তীরে যদি একটা কুকুরও অেভুক্ত থাকে সেজন্যও মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এসব আমরা কি দেখছি? জনাব পীর সাহেবদের মত অনেকে, এমনকি তাঁর মিত্র দলের সদ্য সাবেক এক মন্ত্রী সাহেবও বলেছেন সরকারী প্রশাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো কথা শোনে না। বাস্তবেও দেখা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গ্রীন সিগন্যাল ছাড়া সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের একটা পাতি নেতাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রাখে না।
তাহলে দেশে এই যে অনাচার, ধর্ষণ, লুটপাটের মহামারী লেগে গেছে, তার জন্য সরোচ্চ পদের অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কি কোন নৈতিক দায়িত্ব নেই? তিনি যদি এসব কিছু সামলাতে না-ই পারেন, তবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হিসেবে তিনি তো তার দলকে এই হুশিয়ারীও দিতে পারতেন যে এসব অবিলম্বে বন্ধ না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন? তিনি তো তাঁর আটত্রিশ বছরের সভাপতির পদের জন্য বেশ আস্থার সাথেই বলেছেন নতুন নেতৃত্বের আগমনের কথা। মানুষের ভালবাসার জন্য তিনি তো অন্ততঃ মৌখিতভাবে হলেও একটা সাবধানবানীও দিতে পারতেন।
তাই বলছি, জনাব পীর সাহেব বিখ্যাত বিদূষী খনা-র বচনে যে বলা হয়েছে -
রাজার পাপেতে হয় রাজ্য ছারখার;
সুখ নাহি থাকে প্রানে রায়েত প্রজার।
তাই যত উন্নয়নই দেশে হোক না কেন, যত ওভারপাস, ফ্লাইওভার, ব্রিজ, রেলপথই বানানো হোক না কেন, সেসব ব্যবহার করার মানুষ যদি না থাকে তবে সে উন্নয়ন দিয়ে সাধারন মানুষ কি করবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী,ডাইনামিক, দুরদর্শী ও সৃজনশীল নেতৃত্বের প্রশংসা আমাদের মত আম পাবলিকও করে; কিন্তু যখন দেখা যায় যে তাঁর কথা ছাড়া প্রশাসন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জুডিশিয়ারীও, কার্যকর হয় না, সেখানে তিনি কেন এমন দৃষ্টান্তমুলক পদক্ষেপ নিতে পারেন না যাতে লুটেরা, খাণখেলাপী, খুনী-ধর্ষক, দুর্নীতিবাজদের প্রান কেঁপে ওঠে? কেন তিনি দেশের অর্থনীতির বেদনাদায়ক বিকৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে উন্নয়নের সাথে জ্যামিতিকহারে বৈষম্য বাড়ছে, সে ব্যাপারে বা দেশের অর্থ বেদেরেগভাবে বিদেশে পাচারের বিরুদ্ধে, বা ধর্ষক-খুনীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে পারছেন না? কোথায় তাঁর দুর্বলতা, এটা ভাবতেই মাথা ঘুরে যায়।

No comments:

Post a Comment