Saturday, September 28, 2019

ছাত্রলীগ - বঙ্গবন্ধুর যুগ এবং তাঁর কন্যার যুগ

ছাত্রলীগ কর্মীদের ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর -- একটি জাতীয় দৈনিকের খবর।
হ্যাঁ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে বলেছেন তারা এ পর্যন্ত কোথায় কতগুলো কাজ করেছে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে, সেটা এই সাম্প্রতিককালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই কোটি টাকা নগদ সেলামী গ্রহনের মাধ্যমে উঠে এসেছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে যে ছাত্রলীগ, তারা কোন কাজটি ত্যাগের মাধ্যমে করেছে, আর সেটা দেশের কতজন লোক জানে তাও বড় প্রশ্ন। তবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, দখলদারি, মাদক ব্যবসা, খুন-ধর্ষণ ইত্যাদি কাজে তাদের সংশ্লিষ্টতা দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাদেরকে কি বলছেন আর তারা কি করছে সেটা ভেবে আকুল হতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের ছেলেদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন করে চলতে বলেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের কেউ কি ছাত্রজীবন শেষ হবার আগেই ব্যাংকের মালিক বা হেলিকপ্টারে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাবার মত মালদার হতে পেরেছিল? নেতা হয়ে স্বল্পকালেই কোটিপতি হবার কোন সুযোগ কি ছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের? নেতৃত্ব পাবার জন্য কি এত মারামারি, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুন করে ফেলার মত ঘটনা ছিল?
প্রসঙ্গে এদেশে নিন্দিত মিঃ জিন্নাহর একটি কথা মনে পড়ে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যে তিনি একবার আলীগড় কলেজে যান। তখন তৎকালীন মুসলিম ছাত্রলীগের নেতা ওয়াসেক হোসেন (যতদুর মনে পড়ে) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন ছাত্রদের এখনই সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুমতি তিনি দেবেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘You know political languages are woolly and deceptive. .... You should first prepare yourself so that you can shoulder the responsibilities of the nation in future.' (উদ্ধৃতিতে কিছু ভুল থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী)। আর আজ কি হচ্ছে? সেটা চক্ষুষ্মান যে কোন লোকই দেখতে পাচ্ছেন, শুনতেও পাচ্ছেন। তখন মুল দল রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করত আর অঙ্গ সংগঠনগুলো মুল দলের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী কাজ করত। আর এখন যে অবস্থা, তাতে দেখা যায় ক্ষমতাসীনদের বলতে হয়, ‘বিরোধীদের দমন করার জন্য আমার ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ।’ সেই দমন তারা করছে, এমনকি সহপাঠি শিক্ষার্থীদেরকে ভয়ংকরভাবে মারপিট, হাতুড়ীপেটা এমনকি নারী শিক্ষার্থীদেরকে শ্লীলতাহানি করেও।
ছাত্রদের পরিচিতি শিক্ষাঙ্গনের সাথে, এটাই সাধারন মানুষ জানত। কিন্তু ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ইত্যাদিতে ছাত্রলীগের প্রকৃত সমাজকল্যানমুলক বা জনহিতকর কাজ কোনটি তারা করেছে, সেটা যদি কোন পত্রকারগন একটু বিশদভাবে জানাতে পারতেন তবে আম পাবলিক বড়ই বাধিত হ’ত।

No comments:

Post a Comment