Thursday, February 7, 2019

জ্ঞান ও অর্থ

প্রবাদ আছে জ্ঞান ও অর্থ দুটো পরষ্পরবিরোধী বস্তু। তবে জ্ঞানীর কাছে অর্থ থাকলে তা বিচক্ষণতার সাথে ব্যয় হয়; কিন্তু জ্ঞানহীন অর্থবানের অর্থ অপব্যয় ও অপচয়ের মধ্যেই ব্যয়িত হয়। জ্ঞানী জানেন কিভাবে অর্থ ব্যয় করলে সর্বাপেক্ষা কম ব্যয়ে সবচেয়ে বেশী ফলোৎপাদিত হবে। ঠিক একইভাবে দেশের সরকারের মধ্যে অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ যদি জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হন, তবে পাবলিকের ট্যাক্সের টাকা বিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার সাথে ব্যয়িত হয়ে জনগনের ব্যপকতর কল্যান বয়ে আনতে পারে। কিন্তু অদুরদর্শী ও অপচয় পরায়ন অর্থমন্ত্রীগন পাবলিকের টাকাকে যেহেতু নিজের পৈত্রিক সম্পদ বলে মনে করেন তাই তাদের ব্যয়ের কোন সীমা সচরাচর থাকে না। এজন্যই দশ টাকার স্থলে একশ’ টাকা ব্যয় হয়, আর সেটাও টেকসই হয় না। তবে এসবের সাথে যেটা অত্যাবশ্যক শর্ত সেটা হলো নিখাদ দেশপ্রেম। কেবল দেশপ্রেমের গান গেয়ে গলা না ফাটিয়ে যিনি সত্যি সত্যিই দেশকে নিজের মায়ের মতই ভালবাসেন, তিনি কোন অবস্থাতেই দেশের ও জনগনের স্বার্থর সাথে আপোষ করতে পারেন না। বর্তমানে বিশ্বে যে সব দেশ সর্বাধিক জনপ্রিয়, প্রকৃতই ওয়েলফেয়ার স্টেট’ সে সব দেশের শাসকদের কর্মকান্ড ও আচার-আচরন দেখে সেটাই মনে হয়েছে।
আরেকটা কথা খুবই গুরুত্বপুর্ন মনে হয়েছে। শাসনকার্য পরিচালনায় হৃদয়াবেগের চাইতে মস্তিষ্কের ব্যবহার অনেক অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ন ও অত্যাবশ্যক। আইন-কানুনের যথাযথ ও সঠিক প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই। ‘আপন ছেলে সোনাটি আর পরের ছেলে বানরটি’ - এই নীতি নিয়ে চললে কোন শাসকই দেশ ও জনগনের কল্যান সাধন করতে পারে না। শাসকদের তাই কোন দলের নয় বরং দেশের সকলের হতে হয়। তবে স্বৈরশাসকদের কথা একেবারেই আলাদা।

No comments:

Post a Comment