Tuesday, February 5, 2019

সরকারের রাজস্ব আয়বৃদ্ধি এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি

             
আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়গন সর্বদাই সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আয়করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা করেন। তারা বলে থাকেন টিআইএন ধারীদের সংখ্যা ৩৪/৩৫ লাখ হলেও প্রকৃত করদাতাদের সংখ্যা নাকি ১৩/১৪ লাখের মত। এছাড়া এদের মধ্যে অবসরভোগীরাও অন্তর্ভুক্ত কারন তাদের কষ্টার্জিত সম্বল ব্যাংক আমানতের উপরও তাদের শ্যেনদৃষ্টি আছে। তাদের হিসাবে প্রাপ্য দু’চার পয়সা লাভের উপরও সরকার ভাগ বসায়। তবে আয়করদাতাদের সংখ্যার বিষয়ে তাদের কথার যথার্থতা থাকলেও মানুষ কেন কর দিতে আগ্রহী হয় না সে বিষয়ে এন্তার কথাবার্তা আছে। উন্নত দেশগুলোতে মানুষ কর দিতে মোটেই পিছপা হয় না কারন তারা জানে যে তাদের দেওয়া করের টাকা সরকার সঠিকভাবে ব্যয় করবে, অপচয় অপব্যয় করবেনা। তারা জানে সরকার তাদের নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; তারা প্রয়োজনে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য সেবা ও সঠিক বিচার পাবে। এদেশে কি এর কোনটা আছে? প্রতিটা সেবার জন্য অতিরিক্ত পয়সা ব্যয় করতে হবে তথা ঘুষ/উপরি দিতে হবে। সরকার নির্ধারিত প্রাপ্য সেবা পেতে হলে বহু কাঠখড় পোড়াতে হবে, পায়ের ঘাম মাথায় তুলতে হবে। আয়কর নির্ধারনের বেলায়ও কর কর্মকর্তাদের ’খুশী’ করতে হবে। রাস্তায় চলতে নিরাপত্তা নেই, বেঘোরে প্রান হারাতে হতে পারে হয়ত গাড়ীর চাপায়, খানা-খন্দে পড়ে নয়ত লঞ্চ ডুবিতে। রাস্তাঘাট শত বা হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে কিন্তু বছর না ঘুরতেই তা আবার মেরামত করতে হবে। বিল্ডিং নির্মিত হবে কিন্তু তা হয়ত রডের বদলে বাঁশ, সিমেন্টের বদলে বালি দিয়ে যা শ্রমিকদের মাথার উপরই হয়ত ধ্বসে পড়বে। দোকান-পাটে মালে ভেজাল ওজনে কম, ওষুধে পর্যন্ত ভেজাল আবার মাসে মাসে ব্যাখ্যাহীন অযৌক্তিক মুল্যবৃদ্ধি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নেই সেই ’কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই’-এর মত। বিচার পেতে ২/৩ পুরুষ কেটে যাবে তবু মামলা-মোকদ্দমা - তা সে ভুয়া হলেও - শেষ হবে না, তারিখের পর তারিখ পড়তে থাকবে। আর এ সবই হবে সরকারের নাকের ডগায় কিন্তু কোন প্রতিকার? সে দুর অস্ত!
অথচ এ সবের অনেক কিছুই নিরাময় করা সম্ভব। তবে সেটা সরকারের সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করে। মাথাপিছু আয়কর নিয়ে মাথা গরম না করলেও অন্যবিধ উপায়ে আয় বাড়ানো হয়ত সম্ভব এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতিও সম্ভব। এ বিষয়ে আমাদের মত আম পাবলিক কি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগে নি¤œলিখিত কিছু প্রস্তাব রাখতে পারে?   
ক. দেশের আনাচে কানাচে দোকান, মেরামতি ওয়ার্কশপ (মটর গ্যারেজ, ওয়েল্ডিং, ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদি, ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), বিভিন্ন প্রকারের মটরগাড়ীর বডিমেকার, গ্রোসারীসহ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সুইটমিট শপ, জুয়েলারী শপ ইত্যাদি কম্পিউটার ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন এবং তাদের নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন ;
খ. সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার,  মেডিক্যাল স্টোর, ডাক্তারদের চেম্বার, হেলথ সেন্টার, জিম ইত্যাদি ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন ও তাদের নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন;
গ. সকল প্রকার মটর যান ক্যাটিগরীওয়াইজ ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন ও আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন;
ঘ. সকল রকমের মোটরযান মালিক ও চালকের ব্যক্তিগত তথ্যাদি ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন এবং তাদের নির্দিষ্ট আইড নং রেজিস্ট্রিকরন;
ঙ. প্রত্যেক শহর/নগরে চলমান রিকশা এবং তার চালকদের তথ্যাদি ডাটাবেজে এন্ট্রিকরন এবং তাদের নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন। একইভাবে সকল হকারদেরকেও ডাটাবেজের আওতায় আনয়ন;
চ. প্রত্যেক বাড়ী/ফ্লাট/প্লট মালিকদেরকে ডাটাবেজের আওতায় এনে তাদের তথ্যাদি এন্ট্রিকরন এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইডি নং রেজিস্ট্রিকরন।
বর্তমানে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রকৃত সফল পদক্ষেপ হিসেবে এসব করা অবশ্যই সম্ভব এবং এগুলো করা গেলে এর থেকে সরকার নি:র্ধারিত যৌক্তিক হারে নির্দিষ্ট ফিস আদায় করা হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় প্রভুত বাড়বে তেমনি যানবাহন চুরি- ছিনতাই -ডাকাতি-, বেআইনী বেচাকেনা ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট অপরাধমুলক কর্মকান্ড তথা আইন-শৃংখলা অবস্থারও পজিটিভ উন্নতি সম্ভব হবে। 
উপরোক্ত বিষয়গুলির জেলাভিত্তিক ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই সম্ভব এবং তাতে পুরো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার গতি-প্রকৃতি সরকারের নজরে থাকবে এবং সফলভাবে রাস্ট্র পরিচালনায় গতি সঞ্চার হবে বলেই বিশ্বাস।   --০৬/০২/২০১৯ইং
                                                      --এম, শওকত আলী; প্রধান শিক্ষক (অবঃ)

No comments:

Post a Comment