Wednesday, December 26, 2018

প্রকৃত মুসলমান কি মিথ্যা বলতে পারে?

বহুদিন আগে কথা প্রসঙ্গে একজন সমাজতন্ত্রী বন্ধুর সঙ্গে বিতর্কর এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, একজন কঠোর স্বৈরশাসক হিসেবে স্ট্যালিনের অপকর্মর প্রতিবাদ করার সাহস কার ছিল বা তার অমানবিক কাজ-কর্মকে বাধা দেবার মত কেউ ছিল কি না? তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি। হ্যাঁ, হয়ত বলতে পারতেন তার বিবেকই তাকে থামাতে পারত। কিন্তু বিবেক যখন ঝিমিয়ে পড়ে বা মৃতবৎ হয়ে পড়ে তখন? এই যে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীকে অন্যায় বা অপকর্ম থামাবার জন্য আসলে কেউ নেই এই দুনিয়ায়। তাই কোন স্বৈরশাসকের মনে যদি পরকালের ভয় বা শেষ বিচারে জবাবদিহির সম্মুখীন হবার ভয় না থাকে তবে তার অন্যায়-অত্যাচার থামাবার মত কেউ থাকে না। ঠিক এ কারনেই একজন মুসলমান অন্যায়-অপরাধ বা অপকর্ম করতে গিয়ে দু’বার ভাবে। কারন সে বিশ্বাস করে যে সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন এবং তিনি তার সকল কাজের হিসাব রাখছেন।
কিন্তু অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে মুসলমান আজ আর পাপ-পুণ্য বিচার করে বা হিসাব করে কাজ করছে না। এমনকি ষাটোর্ধ চুল-দাড়ি পাকা মানুষও অবলীলায় সত্যকে মিথ্যা বলছে, দিনকে রাত করছে, রাতকে দিন করছে। ন্যায়-অন্যায় তার কাছে কোন বিষয়ই নয়। তার সকল কাজকর্মর লক্ষ্য অর্থসম্পদ আর ক্ষমতা। তার মনে এতটুকু ভয় নেই যে এই মুহুর্তটিই তার জীবনের শেষ মুহুর্ত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে মহাভারতের একটি কাহিনীর কথা মনে পড়ে। পঞ্চ পান্ডব বনবাসজীবন যাপন কালে একদিন প্রচন্ড পানি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লে পানির খোঁজে বেরুতে হয়। প্রথমে সর্বকনিষ্ঠ ভাই সহদেব গেলেন। অনেক অনুসন্ধানের পর তিনি এক সরোবরের পারে এসে পানিতে নামতে যাবেন; এমন সময় অদূরে দাঁড়ান বকরূপী ধর্মরাজ যম তাকে থামালেন। বললেন তার তিনটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পানি স্পর্শ করলে তাকে পাথর হয়ে যেতে হবে। প্রশ্ন তিনটি শুনে সহদেব বিমূঢ় হয়ে পড়লেন; উত্তর দিতে পারলেন না। কিন্তু তৃষ্ঞায় প্রান ওষ্ঠাগত। তাই বেপরোয়া হয়ে পানিতে নামতেই তিনি পাথর হয়ে গেলেন। এভাবেই নকুল, অর্জুন ও ভীম গেলেন। পরিণতি একই হলো। অতঃপর ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির গেলেন। যে তিনটি প্রশ্ন তাকে করা হলো তার মধ্যে একটি ছিল জগতে সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় কি? যুধিষ্ঠির উত্তর দিলেন, ‘প্রতিদিন শত শত লোক মৃত্যু বরন করছে: কিন্তু কেউ-ই মৃত্যু সম্পর্কেএক মুহুর্ও চিন্তা করে না। এটাই কি সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় নয়?’
সত্যিই বড় আশ্চর্য বিষয় যে এই নশ্বর জীবনে মানুষ যা খুশী তাই করছে। তাকে যে যেকোন মুহুর্ত পরলোকে পাড়ি দিতে হতে পারে এবং তাকে শেষাবধি সেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সকল বিচারকের বিচারক মহাবিশ্বের প্রতিপালকের সমক্ষে জবাবদিহি করতে হবে এ কথা তার মনেই পড়ে না।
 এই দেশে নাকি জনসংখ্যার ৮৫% মানুষ মুসলমান। আর একজন মুসলমানকে পরকালে বিশ্বাস করতে হয়; শেষ বিচারের দিনে জবাবদিহি করার বিষয়ে বিশ্বাস করতে হয়। তাই যখন চুলদাড়ি পাকা মুসলমান অবলীলায় মিথ্যা বলে, রাতকে দিন আর দিনকে রাত করে, অন্যায়কে আর অন্যায় বলে মনে করে না তখন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যেতে হয়। এই-ই কি মুসলমানের ফিতরাত? ভেবে পাই না।

No comments:

Post a Comment