তিনি (শিক্ষামন্ত্রী) বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়? যে ঘটনাগুলো আমরা শুনছি, এর পেছনের কথা শুনছি, ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ --- তবে যদি বলা হয় যে সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবার ব্যপারে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ব্যর্থতা ও অবহেলার কারনেই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে তবে হয়ত সবাই ভুরু কোঁচকাবেন। কিন্তু এরকম ট্রাজেডির জন্য অভিভাবকদের দায়ও কম নয়। এর আগে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বলেছিলাম যে উন্নত দেশগুলোর মত অন্ততঃ সেকেন্ডারী লেভেলে খানাভিত্তিক এন্ট্রি বাধ্যতামুলক করা যাতে মোহাম্মদপুরের শিক্ষার্থীদেরকে উত্তরা বা পল্টন অথবা উত্তরা/পল্টনের শিক্ষার্থীদেরকে মোহাম্মদপুর আসতে না হয়। জনাব এন,আই, খান সাহেব সচিব থাকাকালেও এই প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু সেটা করার সুবিবেচনা বা সাহস (?) সরকারের হয় নি। কেন, তা সরকারই ভাল বলতে পারবে। অভিভাবকগনও বিশেষ কোন স্কুলে বাচ্চাদের ভতির জন্য উন্মাদ হয়ে পড়েন। কেন এই পাগলামি? তারা যদি নিজ নিজ এলাকায় বাচ্চাদের ভরতি করেন তো আরো অনেক স্কুল ভাল হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারন যে স্কুল ৫০০০/৭০০০ ভরতিচ্ছুদের মধ্যে ৫০০ জন ভরতি করে, তারা কি করে ভাল স্কুলের তকমা পায়? অথচ কোন স্কুলের এক থেকে দশম স্থান লাভ করা ছাত্রছাত্রীরা সেই স্কুল ছেড়ে ভাল (?) স্কুলে ভর্তী হয় আর সেই স্কুল গড়পড়তা মানের ছাত্রছাত্র নিয়ে খারাপ স্কুলের তকমা পায়। তথাকথিত ভাল স্কুল থেকেও তো অনেকে এ+ পায় না। তাহলে তারা কি আশায় ভাল (?) স্কুলে ভর্তী হয়? এই দেশের দুর্ভাগ্য হচ্ছে যে সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে কারো সাহস বা আগ্রহ কোনটাই হয় না। অথচ তারা বড় বড় কথা বলতে কোন বিবেকদংশন বোধ করেন না।
অথচ বাচ্চাদের ভর্তী করতে অভিভাবকদের যে প্রানান্ত দৌড়ঝাঁপ এবং তার প্রেক্ষিতে শহরে যে যানজট, তার অনেকটাই কমে যেত যদি অন্ততঃ থানাভিত্তিক ভর্তীর বাধ্যবাধকতা থাকত। এর ফলে শহরে একাধিক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারত। শিক্ষার একাডেমিক পরিবেশও ভাল হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে উন্নত বিশ্বের উদাহরন টানতে কর্তাব্যক্তিদের ভুল না হলেও তাদের ভাল কাজগুলো দেশে অনুসরন করতে তাদের বড়ই অনীহা। এরাই নাকি আবার উন্নত দেশ গড়বে! হাহ!
No comments:
Post a Comment