বহুদিন আগে কথা প্রসঙ্গে একজন সমাজতন্ত্রী বন্ধুর সঙ্গে বিতর্কর এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, একজন কঠোর স্বৈরশাসক হিসেবে স্ট্যালিনের অপকর্মর প্রতিবাদ করার সাহস কার ছিল বা তার অমানবিক কাজ-কর্মকে বাধা দেবার মত কেউ ছিল কি না? তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি। হ্যাঁ, হয়ত বলতে পারতেন তার বিবেকই তাকে থামাতে পারত। কিন্তু বিবেক যখন ঝিমিয়ে পড়ে বা মৃতবৎ হয়ে পড়ে তখন? এই যে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীকে অন্যায় বা অপকর্ম থামাবার জন্য আসলে কেউ নেই এই দুনিয়ায়। তাই কোন স্বৈরশাসকের মনে যদি পরকালের ভয় বা শেষ বিচারে জবাবদিহির সম্মুখীন হবার ভয় না থাকে তবে তার অন্যায়-অত্যাচার থামাবার মত কেউ থাকে না। ঠিক এ কারনেই একজন মুসলমান অন্যায়-অপরাধ বা অপকর্ম করতে গিয়ে দু’বার ভাবে। কারন সে বিশ্বাস করে যে সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন এবং তিনি তার সকল কাজের হিসাব রাখছেন।
কিন্তু অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে মুসলমান আজ আর পাপ-পুণ্য বিচার করে বা হিসাব করে কাজ করছে না। এমনকি ষাটোর্ধ চুল-দাড়ি পাকা মানুষও অবলীলায় সত্যকে মিথ্যা বলছে, দিনকে রাত করছে, রাতকে দিন করছে। ন্যায়-অন্যায় তার কাছে কোন বিষয়ই নয়। তার সকল কাজকর্মর লক্ষ্য অর্থসম্পদ আর ক্ষমতা। তার মনে এতটুকু ভয় নেই যে এই মুহুর্তটিই তার জীবনের শেষ মুহুর্ত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে মহাভারতের একটি কাহিনীর কথা মনে পড়ে। পঞ্চ পান্ডব বনবাসজীবন যাপন কালে একদিন প্রচন্ড পানি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লে পানির খোঁজে বেরুতে হয়। প্রথমে সর্বকনিষ্ঠ ভাই সহদেব গেলেন। অনেক অনুসন্ধানের পর তিনি এক সরোবরের পারে এসে পানিতে নামতে যাবেন; এমন সময় অদূরে দাঁড়ান বকরূপী ধর্মরাজ যম তাকে থামালেন। বললেন তার তিনটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পানি স্পর্শ করলে তাকে পাথর হয়ে যেতে হবে। প্রশ্ন তিনটি শুনে সহদেব বিমূঢ় হয়ে পড়লেন; উত্তর দিতে পারলেন না। কিন্তু তৃষ্ঞায় প্রান ওষ্ঠাগত। তাই বেপরোয়া হয়ে পানিতে নামতেই তিনি পাথর হয়ে গেলেন। এভাবেই নকুল, অর্জুন ও ভীম গেলেন। পরিণতি একই হলো। অতঃপর ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির গেলেন। যে তিনটি প্রশ্ন তাকে করা হলো তার মধ্যে একটি ছিল জগতে সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় কি? যুধিষ্ঠির উত্তর দিলেন, ‘প্রতিদিন শত শত লোক মৃত্যু বরন করছে: কিন্তু কেউ-ই মৃত্যু সম্পর্কেএক মুহুর্ও চিন্তা করে না। এটাই কি সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় নয়?’
সত্যিই বড় আশ্চর্য বিষয় যে এই নশ্বর জীবনে মানুষ যা খুশী তাই করছে। তাকে যে যেকোন মুহুর্ত পরলোকে পাড়ি দিতে হতে পারে এবং তাকে শেষাবধি সেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সকল বিচারকের বিচারক মহাবিশ্বের প্রতিপালকের সমক্ষে জবাবদিহি করতে হবে এ কথা তার মনেই পড়ে না।
এই দেশে নাকি জনসংখ্যার ৮৫% মানুষ মুসলমান। আর একজন মুসলমানকে পরকালে বিশ্বাস করতে হয়; শেষ বিচারের দিনে জবাবদিহি করার বিষয়ে বিশ্বাস করতে হয়। তাই যখন চুলদাড়ি পাকা মুসলমান অবলীলায় মিথ্যা বলে, রাতকে দিন আর দিনকে রাত করে, অন্যায়কে আর অন্যায় বলে মনে করে না তখন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যেতে হয়। এই-ই কি মুসলমানের ফিতরাত? ভেবে পাই না।
The prevailing situation all around and also all over the world seems so wierd when I look back a few decades ago to make a comparison. That pains me much. The incongruity and contrast is sometimes so incomprehensible and tragically unacceptable that my whole mind burns in rebellion. But as I can't do anything, so can't I share my feelings with anyone; that's why this monologue.
Wednesday, December 26, 2018
Tuesday, December 18, 2018
দেশ কি রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে?
পরের জন্য গর্ত খুড়লে যে নিজেই তার মধ্যে পড়তে হয় এটা এদেশে সুপ্রসিদ্ধ প্রবাদ হলেও আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠি তা মনে রাখার গরজ বোধ করে না। উদাহরন খুঁজতে বেশী দুর যেতে হবে না। এই সাম্প্রতিককালেই দেখুন বিএনপি নানা কারিগরি করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে গিয়ে পুরো তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেই যে কার্যতঃ পন্ড করে ফেলেছিল এবং তার খেসারত তাদেরকেই সবচেয়ে বেশী দিতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে তা কি সবাই দেখতে পাচ্ছে না? আজকের ক্ষমতাসীনরাও যে সব কারুকার্য করে সংবিধানে তাদের পছন্দমত বিষয়াদি সংযোজন করেছে তা ক্ষমতার পাশা পাল্টালেই যে তাদেরকেই যাঁতাকলে ফেলবে তাতে কারো সন্দেহ থাকার কোন অবকাশ আছে? যেভাবে সবকিছু দলীয়করন করে লেজেগোবরে করে ফেলা হয়েছে, পাশার দান উল্টে গেলে কি হতে পারে সেটা ভেবেই হয়ত তারা লাখ লাখ লোক মারা যাবে, রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে ইত্যাকার আতংকজনক বাক্যাবলী ব্যবহার করছেন। কিন্তু কেন? যে সব দেশ সত্যিকার গনতন্ত্র লালন করে সেই বৃটেন, আমেরিকা বা ইউরোপের প্রাক্তন ও বর্তমান শাসকেরা তো সব সময়্ই একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ফটো তোলেন, হাসি-তামাশা করেন, উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কৈ, তারা তো পরষ্পরের বিরুদ্ধে সর্বদা হাতা গুটিয়ে খাড়া থাকেন না। তো আমাদের দেশে এ অবস্থা কেন? আমরা বেশী সভ্য বলে? নাকি আমাদের চেতনার বাক্স একেবারে ভরভরন্ত বলে? বিশ্বে যে সব দেশ প্রকৃত উন্নয়ন করেছে, জনকল্যানমুলক রাস্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেছে, তারা একটা বিষয়ে সর্বদাই কঠোর থেকেছে। আর সেটা হচ্ছে দুর্নীতি বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আইনের সঠিক ও নির্মাহ প্রয়োগ। কিন্তু অতীব দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের দেশেএই দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশী হেলাফেলা করা হয়েছে; সবচেয়ে অন্যায় করা হয়েছে। আর এর তিক্ততম ফল আমাদেরকেই ভোগ করতে হচ্ছে। অনেকেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন হচ্ছে বলে বগল বাজালেও যে উন্নয়নের দাম হাজার টাকা তা লাখ টাকায় সম্পাদিত হচ্ছে। সকল মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য জরিপে উঠে আসছে যে দারিদ্রসীমার নীচে এখনো ১৩% - ১৫% মানুষ: আয় বৈষম্য প্রকটতর এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্র অতি বন্ধুর। গত দশ বছরে নাকি দেশ থেকে ছয়লক্ষ কোটি টাকারও বেশী বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। বিদেশী ও দেশী বিনিয়োগের এমনই হাল যে দেশে নাকি প্রায় দেড় কোটি শিক্ষিত (?) তরুন-তরুনী বেকার। এমনকি দেশ থেকে হাজার হাজার নারী কর্মী বিদেশে ‘রপ্তানী’ করে রেমিটেন্সের বদলে নতুন পপুলেশন ও আনা হচ্ছে। এ-ই যদি হয় স্বাধীনতার আটচল্লিশ বছরের পরের অবস্থা, তাহলে এই স্বাধীনতার প্রকৃত মুল্য কত? দেশের মানুষের এসব কথা ভাবার কি সময় এখনো হয় নি? এভাবে চলতে থাকলে আগামী একশ’ বছরেও কি আমরা প্রকৃত উন্নত দেশ হতে পারব?
Tuesday, December 4, 2018
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা
তিনি (শিক্ষামন্ত্রী) বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়? যে ঘটনাগুলো আমরা শুনছি, এর পেছনের কথা শুনছি, ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ --- তবে যদি বলা হয় যে সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবার ব্যপারে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ব্যর্থতা ও অবহেলার কারনেই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে তবে হয়ত সবাই ভুরু কোঁচকাবেন। কিন্তু এরকম ট্রাজেডির জন্য অভিভাবকদের দায়ও কম নয়। এর আগে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বলেছিলাম যে উন্নত দেশগুলোর মত অন্ততঃ সেকেন্ডারী লেভেলে খানাভিত্তিক এন্ট্রি বাধ্যতামুলক করা যাতে মোহাম্মদপুরের শিক্ষার্থীদেরকে উত্তরা বা পল্টন অথবা উত্তরা/পল্টনের শিক্ষার্থীদেরকে মোহাম্মদপুর আসতে না হয়। জনাব এন,আই, খান সাহেব সচিব থাকাকালেও এই প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু সেটা করার সুবিবেচনা বা সাহস (?) সরকারের হয় নি। কেন, তা সরকারই ভাল বলতে পারবে। অভিভাবকগনও বিশেষ কোন স্কুলে বাচ্চাদের ভতির জন্য উন্মাদ হয়ে পড়েন। কেন এই পাগলামি? তারা যদি নিজ নিজ এলাকায় বাচ্চাদের ভরতি করেন তো আরো অনেক স্কুল ভাল হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারন যে স্কুল ৫০০০/৭০০০ ভরতিচ্ছুদের মধ্যে ৫০০ জন ভরতি করে, তারা কি করে ভাল স্কুলের তকমা পায়? অথচ কোন স্কুলের এক থেকে দশম স্থান লাভ করা ছাত্রছাত্রীরা সেই স্কুল ছেড়ে ভাল (?) স্কুলে ভর্তী হয় আর সেই স্কুল গড়পড়তা মানের ছাত্রছাত্র নিয়ে খারাপ স্কুলের তকমা পায়। তথাকথিত ভাল স্কুল থেকেও তো অনেকে এ+ পায় না। তাহলে তারা কি আশায় ভাল (?) স্কুলে ভর্তী হয়? এই দেশের দুর্ভাগ্য হচ্ছে যে সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে কারো সাহস বা আগ্রহ কোনটাই হয় না। অথচ তারা বড় বড় কথা বলতে কোন বিবেকদংশন বোধ করেন না।
অথচ বাচ্চাদের ভর্তী করতে অভিভাবকদের যে প্রানান্ত দৌড়ঝাঁপ এবং তার প্রেক্ষিতে শহরে যে যানজট, তার অনেকটাই কমে যেত যদি অন্ততঃ থানাভিত্তিক ভর্তীর বাধ্যবাধকতা থাকত। এর ফলে শহরে একাধিক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারত। শিক্ষার একাডেমিক পরিবেশও ভাল হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে উন্নত বিশ্বের উদাহরন টানতে কর্তাব্যক্তিদের ভুল না হলেও তাদের ভাল কাজগুলো দেশে অনুসরন করতে তাদের বড়ই অনীহা। এরাই নাকি আবার উন্নত দেশ গড়বে! হাহ!
অথচ বাচ্চাদের ভর্তী করতে অভিভাবকদের যে প্রানান্ত দৌড়ঝাঁপ এবং তার প্রেক্ষিতে শহরে যে যানজট, তার অনেকটাই কমে যেত যদি অন্ততঃ থানাভিত্তিক ভর্তীর বাধ্যবাধকতা থাকত। এর ফলে শহরে একাধিক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারত। শিক্ষার একাডেমিক পরিবেশও ভাল হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে উন্নত বিশ্বের উদাহরন টানতে কর্তাব্যক্তিদের ভুল না হলেও তাদের ভাল কাজগুলো দেশে অনুসরন করতে তাদের বড়ই অনীহা। এরাই নাকি আবার উন্নত দেশ গড়বে! হাহ!
Monday, October 8, 2018
আইন বিভাগ কি সন্ত্রাসী, অপরাধী বানানোর ফ্যাক্টরী?
এ প্রশ্নে অনেকেই ভ্রু কোঁচকাবেন। অনেকেই বিরূপ মন্তব্যও করতে পারেন। কিন্তু বিষয়টির একটু গভীরে গেলে যা দেখা যায় তার সাথে বাস্তবের কতটুকু মিল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।
এই সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ অনেকেই বিনা বিচারে ১০/১২ এমন কি ১৪/১৫ বছর ধরে জেলে আছেন। সম্প্রতি এরকম একজনকে সদাশয় মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে জেলমুক্ত করা হয়েছে। জীবনের সুবর্ন সময় জেলে কাটিয়ে আজ যদি এই লোক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ওঠে তবে এর জন্য দায়ী হবে কে? একজন খুনী খুন করে হাজতে গেল। দেখা গেল ২/৪ দিনের মধ্যেই সে জামিনে বেরিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে মামলাকারীকে বা সাক্ষীকে খুন করে ফেলল। হয়ত এতে তার কঠোর সাজা হবে (অথবা আবারো সে ছাড়া পেয়ে যেতে পারে সাক্ষীর অভাবে) তখন নিহত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন যদি প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ঐ খুনীকে খুন করে ফেলে তবে এই সব খুন-খারাবীর দায় কার ঘাড়ে চাপানো উচিৎ?
আজকের দৈনিক প্রথম আলোর এক খবরে প্রকাশ একজন নিরীহ কিশোরকে থানায় নিয়ে খুন করে ফেলার পর নানা অজুহাতে সেটাকে ক্রসফায়ারে হত্যা বা আরো নতুন কোন অজুহাত বের করে মামলাকেই ভিন্ন খাতে নেওয়া হয় নি, মামলার বাদী নিহত কিশোরের মা-সহ তার পরিবারকে প্রচন্ড ভয়ভিিত দেখিয়ে সেই মামলা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। বাদী এখন একমাত্র আল্লাহতায়ালার কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া আর বিকল্প খুঁজে পান নি। খুনের মামলায় নাকি রাস্ট্র বাদী হয়। খুনের মামলাকে নাকি কোনভাবেই ধামাচাপা দেওয়া যায় না। তাহলে নামকাওয়াস্তে তদন্ত কমিটি করে যে নৃশংস খুনের এই মামলাটিকে আদালত বাতিল করে দিল তাতে কি বিচারের বানী হাসছে না কি নিরবে কাঁদছে? এই বাদী যদি অর্থে-বিত্তে শক্তিশালী হতো তবে কি বিচারের নামে এরকম অবিচার সম্ভব হতো? আদালতে ন্যায়বিচার না পেয়ে বাদী যদি পাল্টা একটা খুন করে ফেলত তবে তাকে কি আইন কঠোর দন্ড দিত?
জমাজমি নিয়েও বিচারের নামে চরম অবিচার চলে আসছে। একজন জমির মালিক যে পুর্বপুরুষের আমল থেকে ৬০/৬৫ বছর কোন এক টুকরো জমি ভোগ-দখল করে আসছে, হঠাৎ দেখা গেল একজন কোথা থেকে জাল দলিলাদি বের করে তাকে গায়ের জোরে উৎখাত বা বেদখল করে ফেলল। সেই ব্যক্তি আদালতে গেল। কিন্তু ট্যাঁকের জোর না থাকায় সে মামলায় হেরে গিয়ে পিতৃপুরুষের জমি থেকে চিরতরে উৎখাত হয়ে গেল। এখন সে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়ে যদি ঐ জবরদখলদারকে খুন করে ফেলে তবে কার উপরে এই খুনের দায় চাপানো হবে?
এরকমভাবে এই দেশে আইনের মাধ্যমে অপরাধের যথাযথ প্রতিকার না হওয়ায় খুন-জখম, নির্যাতন-ধর্ষণ ইত্যাদি যে বেড়ে গেছে একথা সবাই স্বীকার করেন। কিন্তু আমাদের বিচারব্যবস্থায় মারাত্মক ত্রুটি থাকার কারনে অপরাধীদের অধিকাংশ, বিশেষ করে যাদের অর্থকড়ির জোর কম, তারা ন্যায় বিচার পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই একথা বললে হয়ত অত্যুক্তি হবে না যে আমাদের আইন-আদালত সজ্ঞানে হোক আর যেভাইে হোক, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী বানানোর ফ্যাক্টরীতে পরিণত হয়েছে।
দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্ব
একটি দেশকে প্রকৃত উন্নতির দিকে টেনে নিতে সেই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে অবশ্যই একাধিক গুনের অধিকারী হতে হয়। সে সব গুনের মধ্যে সর্বপ্রথম দেশপ্রেম, তারপর সততা, দুরদৃষ্টি এবং কঠোর সংকল্প গ্রহন ও তা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। এ ছাড়াও দরকার জ্ঞান ও দক্ষতা এবং ঠিক ব্যক্তিকে ঠিক জায়গায় বসানোর মত অন্তর্দৃষ্টি। যে সব দেশের নেতৃত্বে মধ্যে এসব গুন নেই তাদের দ্বারা দেশের উন্নয়নের বদলে গোষ্ঠিস্বার্থ ও পকেটস্বার্থ উন্নয়নই কেবল সম্ভব। যেসব নেতৃত্ব উপরোক্ত গুনের অধিকারী তাদের দ্বারা দেশ বড় জোর ১৫/২০ বছরের মধ্যেই উন্নতি লাভ করেছে। যে দেশের সে সৌভাগ্য হয় নি তারা আমাদের মতই অর্ধ শতাব্দী ধরে মার্ক টাইম করে যাচ্ছে। কিন্তু তারই আড়ালে বিদেশে সেকেন্ড হোম, বেগমপাড়া ইত্যাদিও গড়ে উঠছে। এটা কিভাবে সম্ভব? তা আমাদের দেশের উদ্াহরন দেখলেই বোঝা যাবে। কথাটা একটু কর্কশ শোনালেও সত্যি হচ্ছে এই যে আমাদের দেশের রাজনীতিতে ’চোঙা ফোঁকা’ নেতাদেরই জয়জয়কার। গলাবাজিতে যে যত দক্ষ সে ততটাই বড় রাজনীতিক। নিজেদের দায়িত্ব তারা কতটা পালন করেছেন বা করছেন সেটা বলার আগে তারা বিরোধী পক্ষকে ধোলাই করতেই ব্যস্ত থাকেন। তাদের বক্তৃতায় সেই তিন চার দশক আগের বাক্ধারা ও শব্দাবলীর হুবহু ব্যবহার দেখা যাবে। তাদের নতুন কোন চিন্তাভাবনা বা দেশ গড়ার কাজে দলের কর্মীদেরকে নতুন কোন দিকনির্দেশনা দেবার দরকার পড়েনা। দল ঠিক রাখার জন্য তারা কর্মীদের যাবতীয় অপকর্মকেও নজরআন্দাজ করে থাকেন। খুবই বড় মাপের একজন তো বলেনই যে তার দল ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা ’কিছু’ পায়। এর ফলে দেখা যায় যে দেশ কিছু পাক না পাক, তার দলের নেতা-কর্মীরা প্রতি বছর তাদের সম্পদ ৩/৪ গুন বাড়িয়ে ফেলেছে। পাঁচ বছরে তাদের অনেক নেতার সম্পদ ২৫০ থেকে ৩০০ গুন বেড়েছে বলে একাধিক সংবাদে প্রকাশ। কিন্তু দেশের উন্নতি ঘটতে অর্ধ শতাব্দী লেগে যাচ্ছে। হয়ত অনেকে বলবেন যে তারা ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় ছিলেন না। কিন্তু অন্য দল ক্ষমতায় আসলেই দেশ পিছিয়ে পড়ে কেন? কারন তারাও তো একই গুরুর শিষ্য। তাদেরও তো ফিলসফি একই। ’নগদ যা পাও হাত পেতে নাও বাকীর খাতায় শুন্য থাক, দুরের বাদ্য লাভ কি শুনে মাঝখানে তার বেজায় ফাঁক।’ মহাকবি ওমর খৈয়ামের এই অমর কবিতাই তো তাদের আদর্শ। সে কারনেই নানা রকম ’ভবন’ ইত্যাদি গজিয়ে ওঠে আর অদৃশ্যভাবে প্যারালাল সরকারও কাজ চালায়। তাই এই দেশে বারবার ক্ষমতার হাত বদল হলেও দেশ এগিয়ে না গিয়ে কেবল পিছিয়েই যায়। কারন নতুন কিছু করবার যোগ্যতা বা দক্ষতা যেখানে অনুপস্থিত সেখানে মার্ক টাইম করা ছাড়া তো অন্য কিছু আশা করা যায় না। এ কারনেই দেখা যায় দেশে শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু দেশে উচ্চশিক্ষিত (?) বেকারের সংখ্যা ২২/২৩ লাখ। আর দক্ষ লোক বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। একটি সংবাদে প্রকাশ দেশের নাগরিক প্রবাসীরা ২২ জন যা আয় করে মাত্র একজন বিদেশী দক্ষ (?) লোক তা নিয়ে যায় দেশের বাইরে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯%-১০% কৃতকার্য হয়। উন্নয়ন কাজের ঢাক জোরেশোরে বাজান হয় কিন্তু এক বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয় না; হাজার টাকার প্রকল্প লাখ টাকা খেয়ে ফেলে। দালান-কোঠা নির্মানে রডের বদলে বাঁশ দেওয়া হয়; রাস্তায় বিটুমিনের বদলে পোড়া মবিল দেওয়া হয়; মানসম্মত ইট-সিমেন্টের বদলে ৩নং ৪নং জিনিস ব্যবহার করা হয় যার ফলে নির্মানাধীন ভবনও শ্রমিকদের মাথার ওপর ধ্বসে পড়ে। কিন্তু এরই বিপরীতে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ, সোনা লুট-লোপাট হয়ে যায় নানাভাবে, বাংলাদেশ বিমানের ৭২০ টাকা চুরি, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে প্রায় সোয়া দুইশ’ কোটি টাকার কয়লা চুরির বিপরীতে বিদেশে সেকেন্ড হোম বেগমপাড়া বানানো হয়, সুইস ব্যাংকে টাকার পাহাড় জমে ওঠে। ওদিকে বছরে বার মাসে তের পার্বনের মত অমুক সম্বর্ধনা তমুক অভিনন্দনের প্রতিযোগীতা, তমুক দিবস পালন ইত্যাদির মহা আড়ম্বরে জনগনের দৃষ্টিকে প্রকৃত সত্য থেকে আড়াল করার যাবতীয় আয়োজন চলতে থাকে।
উপরোক্ত কথাগুলিতে হয়ত অনেকেই ক্ষুব্ধ বোধ করতে পারেন। বলতে পারেন দেশে অনেক উন্নয়নই তো হয়েছে। উড়ালপথ হয়েছে; বেশ কিছু রাস্তাঘাট হয়েছে; বড় বড় স্থাপনা হয়েছে ইত্যাদি। নিশ্চয়ই হয়েছে এবং সে জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কত টাকার কাজ কত টাকা লাগাচ্ছে? কত বছরের উন্নয়ন কত বছর খেয়ে ফেলছে? যেখানে আমাদের অনুšনত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা পেতেই তিন চার যুগ পার হয়ে যায় সেখানে উন্নত দেশ হতে আর কতদিন লাগবে? আমাদের অর্থের অভাব আছে এটাতো সত্য নয়। নইলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কিভাবে বলতে পারেন যে ’চার হাজার কোটি টাকা কিছুই নয়?’ কিভাবে সম্ভব যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা ব্যক্তিকে দুদক চায়ের দাওয়াত দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করে? সংসদে দাঁড়িয়ে শেয়ার বাজার কেলেংকারীর বা রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে আটশ’ কোটি টাকা চুরির নাটের গুরুদের নামও উচ্চারন করতে পারেন না মাননীয় অর্থমন্ত্রী? অথচ তিনি নানা রঙের কর শুল্ক ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যপক জনগনকে দুয়ে ছাড়ছেন যদিও সেই টাকার যে বেপরোয়াভাবে নয়ছয় ঘটছে সে জন্য জবাবদিহিতার কোন ধারই ধারছেন না।
তাই দুঃখের সাথে বলতে হয় যে কেবল নেতা হলেই দেশের উন্নয়ন করা যায় না। বড় বড় অনলবর্ষী বক্তা হলেও দেশের প্রকৃত কোন লাভ হয় না যদি না সেই নেতার মধ্যে সর্বোপরি সবার উপরে দেশপ্রেম না থাকে। সততায়, সংকল্পে অটলতা, কার্য সম্পাদনে নিষ্ঠা ও দৃঢ়চিত্ততা না থাকে তবে সে নেতৃত্ব যতই আপাতঃ জনপ্রিয়তার দাবীদার হোন না কেন, তার কাছ থেকে দেশ আসলেই টেকসই কিছু পায় কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।
উপরোক্ত কথাগুলিতে হয়ত অনেকেই ক্ষুব্ধ বোধ করতে পারেন। বলতে পারেন দেশে অনেক উন্নয়নই তো হয়েছে। উড়ালপথ হয়েছে; বেশ কিছু রাস্তাঘাট হয়েছে; বড় বড় স্থাপনা হয়েছে ইত্যাদি। নিশ্চয়ই হয়েছে এবং সে জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কত টাকার কাজ কত টাকা লাগাচ্ছে? কত বছরের উন্নয়ন কত বছর খেয়ে ফেলছে? যেখানে আমাদের অনুšনত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা পেতেই তিন চার যুগ পার হয়ে যায় সেখানে উন্নত দেশ হতে আর কতদিন লাগবে? আমাদের অর্থের অভাব আছে এটাতো সত্য নয়। নইলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কিভাবে বলতে পারেন যে ’চার হাজার কোটি টাকা কিছুই নয়?’ কিভাবে সম্ভব যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা ব্যক্তিকে দুদক চায়ের দাওয়াত দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করে? সংসদে দাঁড়িয়ে শেয়ার বাজার কেলেংকারীর বা রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে আটশ’ কোটি টাকা চুরির নাটের গুরুদের নামও উচ্চারন করতে পারেন না মাননীয় অর্থমন্ত্রী? অথচ তিনি নানা রঙের কর শুল্ক ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যপক জনগনকে দুয়ে ছাড়ছেন যদিও সেই টাকার যে বেপরোয়াভাবে নয়ছয় ঘটছে সে জন্য জবাবদিহিতার কোন ধারই ধারছেন না।
তাই দুঃখের সাথে বলতে হয় যে কেবল নেতা হলেই দেশের উন্নয়ন করা যায় না। বড় বড় অনলবর্ষী বক্তা হলেও দেশের প্রকৃত কোন লাভ হয় না যদি না সেই নেতার মধ্যে সর্বোপরি সবার উপরে দেশপ্রেম না থাকে। সততায়, সংকল্পে অটলতা, কার্য সম্পাদনে নিষ্ঠা ও দৃঢ়চিত্ততা না থাকে তবে সে নেতৃত্ব যতই আপাতঃ জনপ্রিয়তার দাবীদার হোন না কেন, তার কাছ থেকে দেশ আসলেই টেকসই কিছু পায় কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।
গণপূর্ত অধিদফতরে বদলি আতঙ্ক
গণপূর্ত অধিদফতরে বদলি আতঙ্ক--অভিযোগ ওঠেছে, এসব বদলির বেশির ভাগই হচ্ছে আর্থিক লেনদেনে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের মেয়াদ সরকারের মেয়াদের সাথে সাথেই (ডিসেম্বর) শেষ হচ্ছে। যে কারণে, প্রধান প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম বাণিজ্য করে নিজের পকেট ভর্তি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে থাকা কর্মকর্তাদের ঢাকায় বড় বড় প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে। আবার অনেকের পোস্টিং দিচ্ছেন তাদের পছন্দ অনুযায়ী মন্ত্রিপাড়া, সংসদ, গণভবন, বঙ্গভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। আর এসব পদ ফাঁকা করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কর্মরতদের সরিয়ে দিচ্ছেন অন্যত্র। শুধু টেন্ডারে অনিয়ম ও জালিয়াতি করেই তিনি সরকারের কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপরের সংবাদ প্রতিবেদনের অংশবিশেষ আজকের দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছে। ঐ প্রতিবেদনেই প্রকাশ এই রমরমা দুর্নীতির কায়কারবার কেবল আজকারের নয়, বেশ অনেক দিন থেকেই চলছে। প্রশ্ন জাগে, এই গনপূর্ত ভবনটি তো দুদক-এর দপ্তর থেকে হাজার মাইল দুরে নয়। তাহলে এখানে এই যে দুর্নীতির মচ্ছব চলছে এ বিষয়ে তারা কি কেবল ঘুমিয়েই আছেন নাকি ভান করে আছেন? দীর্ঘ সময় ধরে এই রাজধানীরই একটি দপ্তরে দুর্নীতির মচ্ছব চলবে আর তারা তাকে পাশ কাটিয়ে কবিরোধী দলের কে ছোটখাট দুর্নীতি করছে তার পেছনে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে এটা একটা স্বাধীন গনতান্ত্রিক দেশে, যেখানে সরকার গর্ব করে বলে যে এখানে 'আইনের শাসন বহাল আছে, - সেখানে চলে কিভাবে? দেশে কি দুর্নীতির মচ্ছব এবাবেই চলবে? লাখো কোটি টাকার খান খেলাপীদেরকে কিছু বলা যাবে না। লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার কারীদের কিছু করা যাবে না। এভাবেই দেশ চলবে? এর পরও ভাবতে হবে দেশ ঠিক ভাবেই চলছে?
তারা মানুষকে আর মানুষ মনে করে না।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘এ দেশের রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, বড় বড় আমলা, বিচারপতি পুলিশের আইজি, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী, কেবিনেট সেক্রেটারী, সচিব এবং এই ধরণের যারা আছে তারা একটু বড় হইয়া গেলে, নামিদামি হয়ে গেলে, মানুষকে আর মানুষ মনে করে না। এটা একদম ঠিক না। মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে এবং জনগনের প্রতিনিধি যারা তাদেরকে আরো বেশি মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে। কারণ জনগনের ভোটেই তারা প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। জনগনের ভোটে প্রতিনিধি হইয়া তাদের উপরেই আবার মাতাব্বরি দেখাইবা বেডাগিরি দেখাইবা এটাতো হতে পারে না। জনগনের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।’ --- দৈনিক নয়া দিগন্ত। মহামান্য রাসট্রপতির এসব কথার সাথে নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে কারা জনগনকে পরোয়া করবে? তাদেরকে মানুষ মনে করবে? যারা মনে করেন যে ক্ষমতায় আসার জন্য পাবলিকের ভোট তাদের না হলেও কোন সমস্যা নেই, যারা মনে করেন যে পাবলিকের টাকায় বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা আকন্ঠ ভোগ করলেও তারা তাদের প্রজা ছাড়া আর কিছু নয়, তারা জনগনকে মানুষ মনে করবেই বা কেন? মহামান্য রাস্ট্রপতি এই যে সদ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিলে স্বাক্ষর করলেন, এর বিরুদ্ধে জনমতকে তিনি কি যথাযথ গুরুত্ব দিতে পেরেছেন? তাকেও তো এক ধরনের 'লাইনে' পড়েই নিশ্চয়ই ঐ বিলে স্বাক্ষর দান করতে হয়েছে। জনগনের আবেগ অনুভুতি বা আপত্তি কোন গুরুত্বই পায়নি। তাই এদেশে বলা সহজ অনেক কিছুই, কিন্তু তার বাস্তব রুপ দেওয়াটা খুবই কঠিন। কারন আমাদের মনমানস সে রকমই যেমন সেই আবু হোসেনের এক দিনের খলিফাগিরি-তে দেখেছি। গরীব আবু হোসেনের পুর্বের অবস্থা ভাল থাকলেও প্রচুর অপব্যয় তাকে গরীবই করে ফেলেছিল। অনেক আক্ষেপ করে সে বলছিল একবার খলিফা হতে পারলে সে অনেক কিছুই করতে পারত। খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর নিয়মিত নৈশভ্রমনকালে আবু হোসেনের এই উক্তি শুনে তাকে কৌশলে প্রাসাদে নিয়ে আসেন। তাকে একদিনের জন্য খলিফা হিসেবে ক্ষমতা দান করেন। আবু হোসেন ভাবতেই পারেনি এরকম কিছু হতে পারে। রাত্রে সে জাগ্রত হয়ে তার কামরা ও তার চাকচিক্য আসবাব ইত্যাদি দেখে তার মাথা বিগড়ে যায়। সে খাপ থেকে তলোয়ার বের করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। তার উন্মাদের মত কোপাকুপিতে বিছানার গদী, বালিম, ঘরের পর্দা ইত্যাদি কেটে যা তা অবস্থা হয়ে যায়। এই যে অবস্থা, এটার সাথে আমাদের 'হঠাৎ-নবাবদের' কি খুব বেশী গরমিল আছে?হঠাৎ-নবাবেরাও তাদের 'মেন্টাল ব্যালান্স' ঠিক রাখতে পারেনা। তাই তাদের কাছে ন্যায় ও ৗচিত্যবোধ আশা করা যায় না।
Subscribe to:
Posts (Atom)