Wednesday, February 28, 2018

গনতন্ত্র এবং বাংলাদেশ


স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরে বাংলাদেশের গনতন্ত্রের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। মুখে আমরা গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে যতই চেঁচামেচি করি না কেন, গনতন্ত্রের সত্যকার চেহারা আমাদের মনে হয় অজানাই থেকে গেছে। এর কারন খুজতে গেলে দেখা যাবে যে আমাদের গনতন্ত্র কেবল পাচ বছর পর একদিন ভোট দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অত:পর এই পাচ বছরের মধ্যে ভোটারদেরকে আর কেউ পাত্তা দেবার কথা ভাবত্ওে চায় না; তাদের সুখ-দু:খের কথা, সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবা দুরে থাক। কিন্তু এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নেই? নিশ্চয়ই আছে। তবে তার জন্য কতিপয় ব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে সংযুক্ত করা অতি আবশ্যক ছিল। আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। তব্ওু দু:খের সাথে বলতে হয় তাড়াহুড়ো করে সংবিধান রচনা করার কৃতিত্ব লাভের আকাংখায় সেই অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির দিকে যথাযথ মনোযোগ দ্ওেয়া হয়নি। আমাদের সংবিধান পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি লক্ষ্যনীয় সেটি হলো গনতন্ত্রের ছদ্মাবরনে একধরনের স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখা। সন্দেহ জাগে হয়ত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি অতিআনুগত্যের মনোভাবই এই মারাত্মক ত্রটির কারন ছিল। আজ অবধি সংবিধান যেভাবেই সংশোধন করা হয়ে থাকুক না কেন - প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিরই হোক আর পার্লামেন্টারী পদ্ধতিরই হোক - সরকারপ্রধানই সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক । তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার কোন মসৃন পথ রাখা হয়নি। মহামান্য প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক প্রধান। কিন্তু সাবেক বিচারপতি জনাব শাহাবুিদ্দন সাহেবের ভাষায় মিলাদ পড়া আর ’উদ্বোধন’ ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার ক্ষমতা তাকে দ্ওেয়া হয়নি। সংবিধানের এই মারাত্মক ত্রুটির জন্যই এদেশে গনতন্ত্র জনগনের কল্যানে কার্যকর কোন ভ’মিকা পালন করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েকশ’ বছর্ওে এই গনতন্ত্র জনগনকে যে কিছু দিতে পারবেনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সংবিধানে নি¤েœাক্ত বিষয়গুলি সংযুক্ত করা অত্যাবশ্যক; অবশ্য আদৌ যদি আমরা গনতন্ত্রকে কার্যকর অবস্থায় দেখতে চাই। বিষয়গুলি নি¤œরূপ:
১. ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচন নয় বরং দলভিত্তিক নির্বাচন হবে। দলীয় মেনিফেস্টো রেড্ওি এবং টিভিতে প্রয়োজনে এক মাস ধরে প্রচারিত হবে। যে কোন রকম আঞ্চলিক ্ও ব্যক্তিগতভাবে প্রচার-প্রচারনা নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. সাধারন নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য নির্ধারিত হবে। কোন দল প্রদত্ত মোট ভোটের অন্যুন ৩% ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে সেই দল বিলুপ্ত বলে ঘোষিত হবে।
৩. নির্বাচনের দুই বছর পর বিশ্বাসযোগ্য জনমত যাচাইএর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির জনপ্রিয়তার পরিমাপের ব্যবস্থা রাখা। এই জনমত কমপক্ষে ৫০% এর কম হলে ঐ প্রতিনিধিকে রি-কল করার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই শুন্য পদে গ্রহনযোগ্য নতুন ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। সেটা স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্ওা হতে পারে।
৪. প্রেসিডেন্ট ও/বা স্পীকার নির্বাচিত হবার পর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ই¯তফা দ্ওেয়া বাধ্যতামুলক করা এবং পরবর্তীতে তাকে ভোটপ্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে।
৫. এক ব্যক্তি একই সাথে দলীয় প্রধান, সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
৬. প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগুরু দলের মনোনীত হল্ওে বিরোধী দলের অন্তত: ২/৫ অংশ সদস্যের সমর্থন লাভ আবশ্যিক করতে হবে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে অতীব প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমানিত হয়েছে বিধায় প্রেসিডেন্টকে যে কোন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিল ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
৮. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হল্ওে আইনের দৃষ্টিতে কাউকেই কোন রকম প্রিভিলেজ না দ্ওেয়ার বিধান রাখতে হবে। সকল প্রকার ট্যাক্সের টাকা জনগনের টাকা; তাই ’ট্যাক্স-ফি’্র প্রথা স¤পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
৯. সংবিধানের বিধি অনুযায়ী ’আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার’কে কেবল কাগজে না রেখে বাস্তবে সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০. বিচার, শিক্ষা, এক্সিকিউটিভ বিভাগ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী দলীয়করনকে শা¯িতযোগ্য অপরাধ হিসেবে  গন্য করার আইন পাশ করতে হবে।
১১. সরকারী চাকুরীবিধির মাথায় পা দিয়ে রাজনৈতিক দলের লেজুড় হবার সুযোগ কঠোরভাবে
নিষিদ্ধ করতে হবে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য সংক্ষিপ্ত তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি(দের)কে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে বরখাস্ত করার বিধান করতে হবে।
১২. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সকল সাংবিধানিক পদে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিল্ওে জাতীয় সংসদে শুনানীর মাধ্যমে তাকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলি এদেশে বর্তমানে প্রচলিত গনতন্ত্রের খোলসে ছদ্ম স্বৈরতন্ত্রকে বিদুরিত করার জন্যই অপরিহার্য্য বিধায় অবিলম্বে জনসচেতনতা ্ও জনমত তৈরী করার লক্ষ্যে সকল ধরনের মিডিয়াকর্মীসহ সকল স্তরের জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। দেশে ’সমাজতš’¿ বলতে কিছু নেই, এটা পরিষ্কার। তাই মুক্তবাজার অর্থনীতি বহাল রেখে সংবিধানে সমাজতন্ত্র চার মুলনীতির একটি হিসেবে রাখা যে চরম স্ববিরোধী তা সুস্পষ্ট। এতদসত্ব্ওে ’সমাজতন্ত্র’ ’সমাজতন্ত্র’ বলে চেঁচামেচি করাটা জাতির সাথে প্রতারনা করা কি না সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর একটি বিষয়। ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে রাখার ব্যপারে যারা যুদ্ধংদেহী তাদেরকে পন্ডিত নেহরুর সার্বজনীন ভোটাধিকারের গনতন্ত্র স¤মন্ধে আসক্তির বিষয়টি মনে রাখতে অনুরোধ করি। ’এক ব্যক্তি এক ভোট’ - এই নীতির ভিত্তিতে ভারত যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত তবে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যা করছে তাই কি হতো না? এবং সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের কোন বক্তব্য বা মতামত পাত্তা পেত কি? তাছাড়া মহাত্মা গান্ধীকে সত্যিই ’মহাত্মা’ বলে মানেন  এমন ’বিদগ্ধ’ ব্যক্তির অভাব এদেশে নেই। ধর্মের সাথে রাজনীতির সম্পর্কের বিষয়ে মহাত্মা বলেছেন, ’যারা বলেন রাজনীতির সংগে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই তারা জানেনই না ধর্ম জিনিসটা আসলে কি।’ আশা করি এ বিষয়েও দেশের বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ কিছু আলোকপাত করবেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ-র ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যারা রাখতে নারাজ, তারা আসলেই কোন ধর্ম অনুসরন করেন বা আদৌ করেন কি না তাও দেশের আম জনগন জানতে পারলে কৃতার্থ হতো।  যারা দেশের প্রথম সংবিধান রচনার কৃতিতের অধিকারী, তাদের কাছ্ওে সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনার্ওা উপরে বর্ণিত যুক্তিগুলির গ্রহনযোগ্যতা বিচার করবেন এবং এগুলি আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করবেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে জাতির ভবিষ্যত মঙ্গলের জন্য এই আহ্বান জানাচ্ছি।
১৫.০৩.২০১২        এম, শ্ওকত আলী (X-Headmaster); উত্তরা; ঢাকা - ১২৩০। 
পুুনশ্চ: লেখাটি অনেক আগেকার হলেও এর প্রাসঙ্গিকতা আরো বেড়েছে বলেই আমার ধারনা। তাই এটা ছাপলে বাধিত হবো। 

Saturday, February 10, 2018

দেশ এগিয়ে চলছে।


ইদানিং আঁতেল শ্রেনীর অনেককেই বলতে শোনা যায় ’দেশ এগিয়ে চলছে।’ কথাটা শুনে মাঝে মাঝে ভাবতে হয় এগিয়ে চলা আসলে কাকে বলে। শামুকও এগিয়ে চলে, গরুর গাড়ীও এগিয়ে চলে আবার মোটরকারও এগিয়ে চলে। এখন তুলনা করা যায় কি যে কোনটি আসলে এগিয়ে চলে?  গরুর গাড়ী ঘন্টায় বড়জোর ৪/৫ মাইল যায় অথচ মোটরগাড়ীর গতি কমপক্ষে তার দশগুন। দেখা যায় গরুর গাড়ী চালানোর জন্য কোন লাইসেন্স লাগেনা। কিন্তু মোটরকার চালানোর জন্য লাইসেন্স অত্যাবশ্যক। একটা দেশের এগিয়ে চলার বিষয়ে যদি গরুর গাড়ীর এগিয়ে চলার কথাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় তবে সেটা কি প্রকৃতই এগিয়ে যাওয়া বলা যায়? বিষয়টি খোলসা করার জন্য নি¤œবর্নিত কিছু বিষয়ের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষন করা যেতে পারে।
দেশের প্রানভোমরা যেখানে সেই রাজধানীর কথাই ধরা যাক। এখানে কোন প্রশাসন, কোন সিস্টেম, কোন পরিকল্পনা কি কার্যকর আছে? সরকার আছে, আইন-শৃংখলা বাহিনী আছে, আমলা-ফয়লা, মন্ত্রী-সান্ত্রী আছে, কিন্তু এই শহরের বাসিন্দারা এইসব থাকার জন্য কোন সুবিধা কি পাচ্ছে? রাস্তায় এক ঘন্টার জায়গায় ৩/৪ ঘন্টা, লক্কড়-ঝক্কড় বাস ও অন্য যানবাহনের প্রানঘাতি অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে অবাধে। অথচ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ আছে, যানবাহন বিষয়ক ’অথরিটি’ আছে। শহরে রাস্তাঘাট দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর নালা-নর্দমা, খানা-খন্দে ভরা, ড্রেনের আবর্জনার অসহনীয় দুর্গন্ধ, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ছয়লাব, সড়কের ওপর মোটরগাড়ীর বেপরোয়া পার্কিং, কোন রকম পার্কিংস্পেস ছাড়াই রাস্তার ওপর বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক-হাসপাতাল, শপিংমল ইত্যাদি কি এটা বোঝায় যে এই রাজধানী শহরে কোন কার্যকর ’অথরিটি’ আছে যারা এই শহরটিকে একটি সুশৃংখল, সুস্থ, শান্তিপুর্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে রক্ষনাবেক্ষন করছে?
এই দেশে কতশত নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে এবং বড় গর্ব করে বলা হচ্ছে ’দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে।’ অথচ ৯৮% প্রকল্প আঠারো মাসে বছর করে এক বছরের কাজ তিন চার বছর লাগাচ্ছে, শ’কোটি টাকার স্থলে হাজার কোটি টাকা খেয়ে ফেলছে। যতটা উন্নয়নখাতে ব্যয় হচ্ছে তার প্রায় ২৫% - ৩০% বিদেশে পাচার হচ্ছে। আইনসংগতভাবেই (??) কিছু ব্যক্তি/গোষ্ঠিকে পাবলিকের টাকা লোপাট করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। বছরের পর বছর কুইক রেন্টাল নামের বিদ্যুতকেন্দ্রের মাধ্যমে নাকি তা করা হচ্ছে। অথচ সরকার আছে; তার বিভিন্ন মন্ত্রনালয় আছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রতিবছর বাজেটের অংক বাড়িয়ে বিরাট আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। কিন্তু এক টাকার কাজে একশ’ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে কখনো তার বক্তব্য তো শোনা গেল না। বছর বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে সে বিষয়েও তাকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেবার প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয় হলো না। বরং তিনি চার/পাঁচ হাজার কোটি টাকা লুট-লোপাটকে ’সামান্য ব্যপার’ বলে শিবনেত্র হয়ে থাকাকেই পছন্দ করেছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপী লোন গোটা ব্যাংক ব্যবস্থাকে ছ্যারাবেরা করে ফেললেও তাকে তেমন উদ্বিগ্ন হতে দেখা গেলনা। খোদ রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেলেও তার ’সাড়া জাগতেই’ বছর পার হয়ে গেল।
খোদ এই শহরের উল্লেখযোগ্য ২৬/২৭টি খাল নালার অধিকাংশই দখল-ভরাটের কবলে শেষ হয়ে গেছে ও যাচ্ছে। বাইরে সারা দেশব্যপী নদী-নালা, সরকারী খাসজমি, রেলের জমি, বাড়ীঘর, বালু মহাল অবলীলায় দখল বেদখল হয়ে গিয়েছে বা যাচ্ছে। এমনকি গুরুত্বপুর্ন ব্রিজএর সন্নিকটেও অবাধে বালু তুলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঐ ব্রিজকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এ বিষয়ে সব সরকারের আমলেই এইসব দখলদারদের ব্যাপারে হাতেম তাই-সুলভ উদারতা দেখানোয় কোন সরকারেরই অনাগ্রহ দেখা যায় নি। অথচ সরকারগুলো নাকি অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরোধ করার জন্যই আইন-আদালত স্থাপন করে; শান্তি-শৃংখলা বহিনী পুষে থাকে পাবলিকের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকায়। 
দেশে পর্যটনের জন্য এত এত আকর্ষনীয় জায়গা থাকার পরও এই খাতে এই ৪৫/৪৬ বছরে কি উন্নতি সাধিত হয়েছে? এই পাশের দেশ সিংগাপুরে ৯০% পর্যটন স্পট কৃত্রিম, মানবসৃষ্ট।   অথচ সেখানে মাসে প্রায় দশ লাখ পর্যটক গেলেও হাজার হাজার পর্যটন স্পট থাকা সত্বেও বাংলাদেশে বছরে পাঁচলাখ পর্যটক আসে কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।  তাহলে এখানে সরকারের ভুমিকাটা কি?
দেশের আইন-শৃংখলা বিষয়ে বোধহয় কিছু না বলাই ভাল। আইন যে কাদের প্রতি নির্মম আর কাদের প্রতি ’হাজি মহসিন’/হাতেম তাই’ সেটা তো দেশবাসী ইতিমধ্যে বেশ ভালভাবেই জেনে গেছে। দেশে যখন তথাকথিত ’নাশকতা’ এবং জিহাদী বই (??) রাখার দায়ে হাজার হাজার ব্যক্তিকে পাইকারী গ্রেপ্তার করে জেলে রাখতে হয়, সেই দেশ কিভাবে এগিয়ে চলে সেটা বেশ গবেষনার বিষয নয় কি?
দেশে ভয়াবহভাবে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির বিষয়ে এমনকি সরকারের গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রীদেরকেও সময়ে সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সরকারগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কখনো ’জিরো টলারেন্স’ কখনো ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় আরোহন করে। কিন্তু সেই সব সরকারের মন্ত্রীরাই স্বীকার করেন যে  তারা দুর্নীতিবাজ, চোর। সরকারের এমন কোন বিভাগ নেই যেখানে দুর্নীতি জাঁকিয়ে বসেনি। সাধারন মানুষের ট্যাঁকের পয়সায় যারা বেতন-ভাতা ভোগ করেন, আয়েসী জীবন যাপন করেন, তারাই সেই জনগনকে হীন প্রজা হিসেবে দেখেন। টাকা-পয়সা ছাড়া সরকারের কোন দপ্তর কাজ করানো প্রায় অসম্ভব। কেন, কিজন্য?
সরকার দেশের সকল নাগরিকের জন্য; নিশ্চয়ই কোন বিশেষ শ্রেনীর জন্য নয়। তাহলে সরকার ব্যবসায়ীদেও ন্যায্য অন্যায্য সকল দাবী অবলীলায় মেনে নিলেও যে কৃষক দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড, সেই কৃষকের বৃহত্তর কল্যানের জন্য কোন পদক্ষেপ কি নিচ্ছে? ব্যবসায়ীরা তিন টাকার দ্রব্য তিরিশ টাকায় বেচতে পারলেও কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মুল্য কি পাচ্ছে? দেশের মোট জনসংখ্যার বড়জোর ৫% ব্যবসায়ীদের জন্য ৭০% জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সংসদে থাকলেও ৮৫% কৃষকের জন্য তাদের কোন প্রতিনিধি কি জাতীয় সংসদে আছে?্র সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতার দাবী করলেও যারা সেই খাদ্যের উৎপাদক, ব্যবসায়ীদের তুলনায় তাদের কল্যানের জন্য সরকার কি করে? আজও বহু প্রত্যন্ত এলাকায় কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কৃষক তার ফসল পানির দামে বিক্রী করতে বাধ্য হয়। সামান্য একটা ব্রিজ-কালভার্টের জন্য তাদেরকে বাঁশের সাঁকো বা ডিঙ্গি নৌকা সম্বল করতে হয় অথচ বহু ফাঁকা জায়গাতে লিংকরোডবিহিীন শুধুমাত্র একটি ব্রিজ সরকারের উন্নয়নের দাবীকে যেন ব্যঙ্গ করতে থাকে। কেন? সরকারের বড় বড় বুলি সত্বেও অকালে বাঁধ ভেঙ্গে কৃষকের ফসল ডুবে ধ্বংস হয়ে যায় অথচ সেই বাঁধ রক্ষার দায়িত্বে যারা তাদেরকে কোন জবাবদিহি করতে হয় না। অসহায় কৃষকের আর্তনাদ বাতাসেই মিশে যায়।
 যে দেশে কোন অবকাঠামো বিষয়ক প্রকল্প এক বছরের স্থলে ৪/৫ বছর পর্যন্ত লাগিয়ে দেয়, বরাদ্দের অংক কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে ক্রমাগতভাবে বাড়িয়েই চলে আর সরকার তা উদারভাবে অনুমোদন করে যায় সে দেশ কিভাবে ’এগিয়ে চলে?’ কিভাবে সে দেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বলে গালগল্প করা হয়? যে দেশ সম্পর্কে কবি বলেছেন ’ধন-ধান্য পুষ্পে ভরা’, যা অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ তার সন্তানেরা, যার ’বুকভরা মধু’, সেই দেশকে উন্নত দেশে পরিনত করতে চার যুগ লেগে যেতে পারে? তাই যদি হয় তবে দেশে কি সত্যিই কোন সরকারের প্রয়োজনের বিষয়টি কি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে না? তাদের ও তাদেরঢাকবাজিয়েদের ’দেশ এগিয়ে চলেছে’ এই কথা কি চরম হাস্যকর হয়ে পড়ে না? কোন বিশেষ সরকার নয়, এদেশে সব সরকারই কি প্রকৃত উন্নয়ন বা উন্নয়নের গতি সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছে? তা যদি পেরে থাকে তবে তারা কি এই পাশের দেশ সিংগাপুর বা মালয়েশিয়ার কথা জানে না? একেবারে ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৫/৩০ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে জার্মানী বা জাপানের কথা কি তারা জানে না? তাই বলতে হয় যে উন্নয়ন বা উন্নয়নের গতি আসলে কি সে সম্পর্কে আমাদের সরকারগুলোর আসলেই কোন ধারনা আছে, এটা কি প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে পড়ে না?

Thursday, December 28, 2017

অপচয়-অপব্যয়ের মহানামা
যে কোন দারিদ্রসীমা অতিক্রান্তেচ্ছু দেশের নেতৃত্ব সর্বাগ্রে তার দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকার সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে দৃঢসংকল্পবদ্ধ থাকে। সর্বনি¤œ ব্যয়ে টেকসই নির্মান সে দেশের প্রায়রিটি বলে বিবেচিত হয়। এবং সেটা কোন অলীক অবাস্তব বিষয় নয়। যদি দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যক্তিরা, দেশের নেতৃত্ব প্রকৃত দেশপ্রেমিক হন তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে দেশকে তারা কি দিচ্ছেন ও দেবেন এবং কত সাশ্রয়ীভাবে তা দেবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপ ও হতাশার বিষয় এ দেশে সেটা যেন হবার নয়। এদেশে এক বছরের কাজ ৪/৫ বছরে গড়ায়; ব্যয়ের অংকও সেই সাথে গানিতিক হারে বাড়তে থাকে। কৈফিয়ত নেবারও কেউ নেই, দেবারও কেউ নেই। টপ টু বটম এই ধারনারই বাহক ও পোষক - লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন। এসব কারনেই যে ফ্লাইওভার সমাপ্ত হতে ২/২১/২ বছর লাগার কথা তা ৫/৬ বছরেও হয় না। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দ্বিগুন ত্রিগুন অর্থ হজম করে ফেলে। আর এ কারনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারকেও কোন রকমের জবাবদিহি করতে হয় না। অথচ উন্নয়নের একটা গুরুত্বপুর্ন দিক হলো টাইমফ্রেম এবং বরাদ্দকৃত বাজেট কঠিনভাবে মেনে চলা। এ ব্যাপারে আমাদেও বাম নেতাদেরও তো জানা থাকার কথা যে সোভিয়েত রাশিয়ার স্ট্যালিন তার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কতজন ইঞ্জিনিয়ার ও টিকাদারকে বুলডোজারের নীচে পাঠিয়েছিলেন। তার ফল এই হয়েছিল যে পাঁচসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ৫/৬ মাস আগেই কার্যকর করা সম্ভব হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কৃষিপ্রধান রাশিয়া মাত্র এক দশকের মধ্যে ইউরেশিয়ার অন্যতম শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত হয়েছিল। 
এই যানজটে শ্বাসরুদ্ধকারী রাাজধানী শহরে স্থানাভাব তথা স্থান সংকুলানের লক্ষ্যে একই ভুমি একাধিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো একান্তভাবে কাম্য ছিল। এজন্য একজন ’আম আদমী’ হিসেবে বেশ কয়েকবার একাধিক প্রস্তাব বিভিন্ন মাধ্যমে রিখেছিলাম। যদিও দেরীতে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে, তবুও প্লট বিক্রীর পরিবর্তে হাই রাইজ এপার্টমেন্ট প্রকল্পের মত কিছু কাজ (এ অধমের লেখালেখিতে তা হয়েছে বলে দাবী করছি না। তবে যে কারনে বা যাদের পরামর্শেই হোক) হয়েছে, তবে আরো অনেক কিছুই করার ছিল বা আছে। যেমন ফ্লাইওভার প্রকল্প হিসেবে অন্ততঃ দোয়েল চত্বর বা শাহবাগ থেকে গাবতলী এবং গাজীপুর পর্যন্ত বর্তমান সড়কের ডিভাইডার সরিয়ে সেখানে কংক্রিট পিলার ফর্মেশনের মাধ্যমে উড়াল সড়ক করলে যেমন জমির সাশ্রয় হতো, তেমনি অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহন ব্যয় শুন্য হবার ফলে মোট ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতো। উন্নত দেশে দেখেছি কন্সট্রাকশন ইকুইপমেন্ট হিসেবে পাইলিং ও সুপারস্ট্রাকচার বানানোর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কত সহজে বড় বড় পিলার বসিয়ে উপরে প্রি-কাস্ট কংক্রিট স্প্যান বসিয়ে অতি কম সময়ে বহু লম্বা সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। তাতে বর্তমানের মত জনসাধারনের ভোগান্তি ও অপব্যয়-অতিব্যয়ও বহুলাংশে কমে যেত। উপরন্তু ঐসব সড়ক নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধের মাধ্যমে কেবল হাল্কা মোটরযানের (সর্বোচ্চ পাঁচ টন) জন্য করা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে যেত। সেই সাথে নগরের যানজট সমস্যারও বহুলাংশে সমাধান হতে পারত। তবে এসব প্রস্তাব কোটারী স্বার্থের অনুকুলে নয় বলেই সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের নেক নজরে পড়বে বলে ভরসা প্রায় শুন্য। তাই কি আর কর্!া

Thursday, September 28, 2017

Hi guys, good evening. Last night I talked about the uses of Passive verbs. Now let's talk about some exceptional uses of a few words with their position in the sentence. Look below:
He is such a nice man that everybody likes him.
He is so nice a man that everybody likes him.
He followed his teacher; so do I. (not I do so.)
Such is his position in the company that all obey his order.
So much for now. More when we meet next. (not for now so much)
I don't know any man such as he. (such as he does.)
I don't know any man such as him. (such as I know him.)
I hit the ball hard. (not hardly)
Stand here. You first. (not you firstly)
He went on. (ordinary expression)
On he went. (=>He went on and on.) 
That's all for now guys. Ask any question if you like. Good night. Sweet dreams.
For convenience you can visit my blog S. Ali's Monologue
http://sardarsali-bangladeshtour.blogpost.com 



Wednesday, September 27, 2017

Hi guys, how are you? Coming back after a brief recess. I guess I've discussed a good number of basic grammar items in the meantime. Tonight let's talk about the use of passive verbs. Look below:
Active Verb:    The Romans did not build Rome in a day.   (not commonly used)
Passive Verb:  Rome was not built in a day. (commonly used)
Active Verb: They say he is very rich.
Passive Verb: He is said to be very rich.
Active Verb: People may regain lost money, lost health but not lost honour. (very uncommon)
Passive Verb: Lost money, lost health can be regained, but not lost honour.
Active Verb: The school management ordered the school to be closed for the next week. (very                                  uncommon)
Passive Verb: The school has been closed for the next week. (disregard tense)
Active Verb:  The authority has passed this order that none is allowed to leave before 4.00 p.m.
Passive Verb: An order has been passed that none shall leave before 4.00 p.m. 
Active Verb: The Judge ordered to hang the criminal to death.
Passive Verb: The criminal was ordered to be hanged to death. (although not strictly grammatical) 
  The above are a few example how passive verbs can be used to shorten the sentence and also to make its meaning simple and easy.                                                                               
  That's all for now guys. Good night and sweet dreams.
N.B.: For easier reading and understanding visit my blog: S. Ali's Monologue>
       http://sardarsali-bangladeshtour.blogpost.com

Monday, August 28, 2017

পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের তুলনা? এত্তবড় ---!
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি (তাঁর আরো ছয় জন সহযোগী বিচারপতিসহ) সাম্প্রতিক সময়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রসঙ্গে কিছু পর্যবেক্ষন দিয়েছেন। তা নিয়ে সরকারী দলের হৈ চৈ ও কঠোর সমালোচনার জবাবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি প্রসঙ্গক্রমে পাকিস্তানের বিচার বিভাগের কথা বলেছেন। এতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ড ক্ষুব্ধ তো হয়েছেনই, সেই সাথে সরকারের চাঁই চাঁই ব্যক্তিরা একেবারে শেয়ালের হুক্কাহুয়া রব তুলে যে শোরগোল শুরু করেছেন তাতে আম পাবলিকও বেশ হকচকিয়ে গেছে। তাদের ঘোর ক্ষোভ ও ক্রোধের কারন –পাকিস্তানের সাথে আমাদের তুলনা! এত্তবড় সাহস! সত্যিই তো। কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় পাকিস্তান! যতদুর বিভিন্ন মিডিয়ার কল্যানে জানা যায় তাদের সাথে আমাদের দেশের কোন তুলনাই হতে পারে না। কারন, উদাহরন দেখা যাক -----
১. পাকিস্তানের বিচার বিভাগ তার প্রশাসনিক বিভাগ থেকে এত শক্তিশালী যে সেখানে একজন প্রধান বিচারপতির সাথে (প্রধান বিচারপতি জনাব ইফতিখার চৌধুরী) গোলমাল বাধিয়ে পারভেজ মোশাররফ সাহেব ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন নি। এবার আবার নওয়াজ শরিফকেও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে? এখন প্রধান বিচারপতির পদ তো দুরে থাক, তাকে দেশ ছাড়া হতে হবে বলে খোদ আরেকজন ’বিপ্লবী’ বিচারপতি হুমকি দিয়ে দিয়েছেন। সরকারী দলের অংগ সংগঠনের কেউ কেউ নাকি আবার তার জীবন নাশেরও হুমকি দিচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে মাননীয় বিচারপতিকে বলতে হয়েছে ’জীবন দিতেও তিনি প্রস্তুত আছেন; তবুও তাঁর নীতি পাল্টাবেন না।
২. পাকিস্তানের লোক এমন ভয়ংকর যে সেখানে ’অনার কিলিং-এর নামে দু-একজন মেয়ের জীবন যায়। কিন্তু তারা এত সাহসী নয় যে ৩/৪ বছরের শিশু মেয়েকেও তারা যৌন লালসার শিকারে পরিণত করে। এমন কি তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও কোন শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলে খবর পাওয়া যায় নি। কিন্তু স্বাধীন সোনার বাংলাদেশে শিশু-তরুনী-যুবতী নির্বিশেষে নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ফেলেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে সে দেশে সর্বোচ্চ পদে মহিলাদের সংখ্যা একেবারেই নগন্য যদিও বাংলাদেশের প্রায় অর্ধ ডজন সর্বোচ্চ পদাধিকারী মহিলা। আরো ব্যাপার যে তাদের পুরুষরা বাংলাদেশের পুরুষদের মত এত দ্রুতগতিতে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়াতে পারে নি। তাদের পৌরুষের অভাব যে কতটা প্রকট, ঐ সব ঘটনা থেকেই তা প্রমানিত।
৩. পাকিস্তান ভেঙে যাবার পর তাদের কোন কলকারখানা দেনার দায়ে দেউলিয়া হয়ে বন্ধ করে দিতে হয়েছে, এটা কোন সংবাদে পাওয়া যায় নি। কিন্তু বাংলাদেশে ’সোনার ডিম পাড়া আদমজী জুট মিল’ স্বাধীনতার এক দেড় যুগের ভেতরেই তেরশ’ কোটি টাকা দেনা মাথায় নিয়ে পটল তুলেছে। তাছাড়া পাকিস্তান আমলে যে সব কলকারখানা গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের ধুরন্ধর, তিলিসমাত রাজনীতিক ও কর্মকর্তাদের কারনে সেগুলোও হয় বন্ধ, নয় অকেজো হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানীরা যে এসব ব্যাপারে একেবারেই নাবালক সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
৪. পাকিস্তান ভেঙে যাবার পর এই ছেচল্লিশ বছরে সেখান থেকে হাজার দশেক কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলেও তেমন কোন খবর পাওয়া না গেলেও বাংলাদেশ থেকে কেবল বিগত ৮/৯ বছরে ছয় লাখ কোটি টাকারও বেশী বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতেই প্রকাশ। এমন কি খোদ রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা গায়েব করে দেবার ঘটনাও সেখানে ঘটানোর মত উদাহরন নেই। সে দেশে তাবড় তাবড় খাণ খেলাপীরা ব্যাংকের টাকা মেরে সরকারের বিরাট উচ্চপদে বসে আছে এটাও জানা যায় না। এসব ব্যাপারেও ঐ ব্যাটা পাকিস্তানীরা বহু বহু দুর পিছিয়ে।
৫. সেখানে বেকারের সংখ্যা বা শতকরা কত তা জানা না গেলেও সে দেশ থেকে জীবন-জীবিকার তাগিদে খুব বেশী লোক অবৈধভাবে পালিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় বা মালয়েশিয়া-সিংগাপুর গেছে বলে খবর পাওয়া যায় নি। কিন্তু এই সোনার বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ঐ সব দেশে গেছে ও যাচ্ছে। একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশেই নাকি প্রায় লাখ খানেক বাংলাদেশী অবৈধভাবে ঢুকেছে যার জন্য এখন তারা বাংলাদেশের ওপরই চাপ সুষ্টি করেছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য। এমনকি পাকিস্তানীরা তাদের মা-বোনদেরকে কোন মুসলিম দেশেও গৃহকর্মীর নামে (কার্যতঃ) যৌনদাসী পাঠানোর কোন উদ্যোগ নেয়নি যা এই সোনার বাংলাদেশ নিয়েছে।
৬. পাকিস্তানীরা শিক্ষা-দীক্ষায়ও যে কতটা পিছিয়ে সেটা প্রমান হয় এতে যে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে (কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন-এর মত) খ্যাত এদেশের ঢাকা বিশ্বব্যিালয় বর্তমানে বিশ্বের হাজার খানেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে না থাকলেও তাদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় সেই তালিকায় আছে বলে জানা যায়। এছাড়া তাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক মারামারি হাতাহাতি করেছে এত বড় সাহসিকতার (?!) খবরও পাওয়া যায় নি। বিশেষ কোন ছাত্র সংগঠন অপরাপর সব ছাত্র-ছাত্রীকে ’পায়ের ভৃত্য’-তে পরিনত করেছে এটাও জানা যায় নি।
৭. পাকিস্তানীরা এতটাই অকর্মা যে তাদের মধ্যে বিশ-পঁচিশ জনও কোন নির্বাচনে বিনা ভোটে সংসদ সদস্য হতে সাহস করে নি। যদিও বাংলাদেশে অন্ততঃ একশত চুয়ান্ন জন মহা সাহসিকতার সাথে বিনা ভোটে নির্বাচিত (??!!) হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাদের সরকারও এমন করিৎকর্মা হতে পারে নি যে জনগনের নির্বাচিত কয়েকশ’ জনপ্রতিনিধিকে ¯্রফে কলমের খোঁচায় বরখাস্ত করে।
৮. পাকিস্তানের বর্ডারে ভারতের বিএসএফ গোলাগুলি করতে দশবার চিন্তা করে; কারন, শোনা যায়, একজন পাকিস্তানী মারা গেলে তারা ৩/৪ জন ভারতীয়কে হত্যা করে তবে ক্ষান্ত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাপারটা একেবারেই উল্টো। এখানে ’মেরেছ কলসীর কানা, তা বলে কি প্রেম দেব না? - এই নীতি চলে। বাংলাদেশী কেউ বিএসএফ-এর গুলিতে মারা পড়লে বাংলাদেশের সীমান্তে ’গার্ড বাহিনী’ বিএসএফ-এর সৈন্যদেরকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করে পুলকিত চিত্তে তাদের কাছ থেকে লাশ গ্রহন করে (অবশ্য যদি তারা দয়া করে সেটা ফেরত দেয়) দেশের মানুষকে কৃতার্থ করে।
৯. পাকিস্তানে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, সন্ত্রাসী হামলা হয় এটা ঠিক। তবে সেখানে আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর নামে বিরোধী রাজনীতিকদেরকে গুম-খুন করার এবং সে সব ঘটনা ধামাচাপা দেবার জন্য কোরাস গাইবার মত ’বন্দুকযুদ্ধের’ কাহিনী তেমন শোনা যায় না। শোনা যায় না আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক এমন সাত সাতজনকে অবলীলায় খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মহা সাহসিকতার কাহিনী।
১০. পাকিস্তান তার নাম পেয়েছে জন্মের সাথে। ইতিহাসে কখনো পাকিস্তানের নাম কোথাও ছিল বলে প্রমান নেই। তবুও পাকিস্তানের ¯্রষ্টার নামে রাস্তাঘাট, মাঠ-ময়দান, দালান-কোঠা, ব্রিজ-কালভার্ট সেই ’পিতার’ নামে, হয় নি। মহান প্রতিবেশী ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর নামেও তা হয় নি। ভিয়েতনাম নিজেদের সাথে ও বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাধর মার্কিনীদের সাথে এক যুগেরও বেশী লড়াই করেছে। সেখানে কত লাখ মানুষ মারা গেছে তার কোন হিসাব নেই। তবু সেই কঠিন যুদ্ধে তাদের নেতৃত্বদানকারী তাদের অবিসংবাদিত নেতা হো চি মিন্হ-এর নামে দেশে আনাচে কানাচে নামকরনের হিড়িক পড়ে নি। একইভাবে নেলসন ম্যান্ডেলার মত বিশ্বনন্দিত নেতার নামেও দক্ষিন আফ্রিকার মাঠ-ময়দান নামাংকিত হয় নি। কিন্তু বাংলাদেশে জাতির পিতা (অবশ্য বাংলাদেশ নামটি নাকি হাজার বছর ধরেই বিদ্যমান ছিল) মাটি-আকাশ-বাতাস জুড়ে বিরাজমান। কেবল তাই নয়, জনগনের পয়সায় তার পরিবারের নামেই পুরো বাংলাদেশ এখন পরিচিত।
১১. সব শেষে বলতে হয় যে বঙ্গসন্তানদের মত এমন সাহসী কেউ নেই পাকিস্তানে যে তাদের কোন নেতাকে তার শিশু সন্তানসহ তারা একেবারে সবংশে নিধন করতে পেরেছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করা যে কতটা ”মানহানিকর” সেটা বলাই বাহুল্য।  

Tuesday, June 13, 2017


Hi guys, how are you? Tonight I'm going to give you some tips regarding some patternized sentences and proverbs. Look below:
এক মাঘে শীত যায় না। > One swallow does not make a summer.
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। > Birds of the same feather flock together.
বাহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া। > Much ado about nothing.
অসারের তর্জন গর্জন সার। > Empty vessels sound much.
পরনিন্দা করা একটা বড় কু-অভ্যাস।> To speak ill of others is a very bad habit.
যেমন কর্ম তেমন ফল। > As you sow, so shall you reap.
 হায়, কি হৃদয় বিদারক দৃশ্য! > Alas, what a heart rending sight!
ক্ষমা একটি স্বর্গীয় গুন। > Forgiveness is a divine virtue.
 আয় বুঝে ব্যয় কর। > Cut your coat according to your cloth.
এক হাতে তালি বাজে না।> It takes two to make a quarrel.
সুখ-দুঃখ পালাক্রমে আসে। > Weal and woe come by turns.
চক চক করলেই সোনা হয় না। > All that glitters is not gold.
নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। > A bad workman quarrels with his tools.
দশের লাঠি একের বোঝা।> Many a little makes a mickle.
অনেক সন্যাসীতে গাজন নষ্ট। > Too many cooks spoil the broth.
 আমার ঘড়িতে এখন চারটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকী। > It's five minutes to four by my watch.
তোমlর ঘড়িতে এখন পাঁচটা বেজে পাঁচ মিনিট। > It's five minutes past five by your watch.
এই আঘাত সে সহ্য করতে পারল না। > He could not survive this shock.
চেঙ্গিজ খানের প্রপৌত্র হালাকু খান বাগদাদ নগরীকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করল। > Halaku Khan, Chengiz Khan's grandson, laid the city of Baghdad in ruins.
কে জানে সে কোথায়? > Who knows where he is?
That's all for now guys. Feel free to ask any question. Good night. Sweet dreams.