অপচয়-অপব্যয়ের মহানামা
যে কোন দারিদ্রসীমা অতিক্রান্তেচ্ছু দেশের নেতৃত্ব সর্বাগ্রে তার দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকার সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে দৃঢসংকল্পবদ্ধ থাকে। সর্বনি¤œ ব্যয়ে টেকসই নির্মান সে দেশের প্রায়রিটি বলে বিবেচিত হয়। এবং সেটা কোন অলীক অবাস্তব বিষয় নয়। যদি দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যক্তিরা, দেশের নেতৃত্ব প্রকৃত দেশপ্রেমিক হন তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে দেশকে তারা কি দিচ্ছেন ও দেবেন এবং কত সাশ্রয়ীভাবে তা দেবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপ ও হতাশার বিষয় এ দেশে সেটা যেন হবার নয়। এদেশে এক বছরের কাজ ৪/৫ বছরে গড়ায়; ব্যয়ের অংকও সেই সাথে গানিতিক হারে বাড়তে থাকে। কৈফিয়ত নেবারও কেউ নেই, দেবারও কেউ নেই। টপ টু বটম এই ধারনারই বাহক ও পোষক - লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন। এসব কারনেই যে ফ্লাইওভার সমাপ্ত হতে ২/২১/২ বছর লাগার কথা তা ৫/৬ বছরেও হয় না। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দ্বিগুন ত্রিগুন অর্থ হজম করে ফেলে। আর এ কারনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারকেও কোন রকমের জবাবদিহি করতে হয় না। অথচ উন্নয়নের একটা গুরুত্বপুর্ন দিক হলো টাইমফ্রেম এবং বরাদ্দকৃত বাজেট কঠিনভাবে মেনে চলা। এ ব্যাপারে আমাদেও বাম নেতাদেরও তো জানা থাকার কথা যে সোভিয়েত রাশিয়ার স্ট্যালিন তার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কতজন ইঞ্জিনিয়ার ও টিকাদারকে বুলডোজারের নীচে পাঠিয়েছিলেন। তার ফল এই হয়েছিল যে পাঁচসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ৫/৬ মাস আগেই কার্যকর করা সম্ভব হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কৃষিপ্রধান রাশিয়া মাত্র এক দশকের মধ্যে ইউরেশিয়ার অন্যতম শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত হয়েছিল। এই যানজটে শ্বাসরুদ্ধকারী রাাজধানী শহরে স্থানাভাব তথা স্থান সংকুলানের লক্ষ্যে একই ভুমি একাধিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো একান্তভাবে কাম্য ছিল। এজন্য একজন ’আম আদমী’ হিসেবে বেশ কয়েকবার একাধিক প্রস্তাব বিভিন্ন মাধ্যমে রিখেছিলাম। যদিও দেরীতে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে, তবুও প্লট বিক্রীর পরিবর্তে হাই রাইজ এপার্টমেন্ট প্রকল্পের মত কিছু কাজ (এ অধমের লেখালেখিতে তা হয়েছে বলে দাবী করছি না। তবে যে কারনে বা যাদের পরামর্শেই হোক) হয়েছে, তবে আরো অনেক কিছুই করার ছিল বা আছে। যেমন ফ্লাইওভার প্রকল্প হিসেবে অন্ততঃ দোয়েল চত্বর বা শাহবাগ থেকে গাবতলী এবং গাজীপুর পর্যন্ত বর্তমান সড়কের ডিভাইডার সরিয়ে সেখানে কংক্রিট পিলার ফর্মেশনের মাধ্যমে উড়াল সড়ক করলে যেমন জমির সাশ্রয় হতো, তেমনি অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহন ব্যয় শুন্য হবার ফলে মোট ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতো। উন্নত দেশে দেখেছি কন্সট্রাকশন ইকুইপমেন্ট হিসেবে পাইলিং ও সুপারস্ট্রাকচার বানানোর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কত সহজে বড় বড় পিলার বসিয়ে উপরে প্রি-কাস্ট কংক্রিট স্প্যান বসিয়ে অতি কম সময়ে বহু লম্বা সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। তাতে বর্তমানের মত জনসাধারনের ভোগান্তি ও অপব্যয়-অতিব্যয়ও বহুলাংশে কমে যেত। উপরন্তু ঐসব সড়ক নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধের মাধ্যমে কেবল হাল্কা মোটরযানের (সর্বোচ্চ পাঁচ টন) জন্য করা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে যেত। সেই সাথে নগরের যানজট সমস্যারও বহুলাংশে সমাধান হতে পারত। তবে এসব প্রস্তাব কোটারী স্বার্থের অনুকুলে নয় বলেই সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের নেক নজরে পড়বে বলে ভরসা প্রায় শুন্য। তাই কি আর কর্!া
No comments:
Post a Comment