Monday, October 8, 2018

তারা মানুষকে আর মানুষ মনে করে না।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘এ দেশের রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, বড় বড় আমলা, বিচারপতি পুলিশের আইজি, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী, কেবিনেট সেক্রেটারী, সচিব এবং এই ধরণের যারা আছে তারা একটু বড় হইয়া গেলে, নামিদামি হয়ে গেলে, মানুষকে আর মানুষ মনে করে না। এটা একদম ঠিক না। মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে এবং জনগনের প্রতিনিধি যারা তাদেরকে আরো বেশি মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে। কারণ জনগনের ভোটেই তারা প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। জনগনের ভোটে প্রতিনিধি হইয়া তাদের উপরেই আবার মাতাব্বরি দেখাইবা বেডাগিরি দেখাইবা এটাতো হতে পারে না। জনগনের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।’ --- দৈনিক নয়া দিগন্ত। মহামান্য রাসট্রপতির এসব কথার সাথে নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে কারা জনগনকে পরোয়া করবে? তাদেরকে মানুষ মনে করবে? যারা মনে করেন যে ক্ষমতায় আসার জন্য পাবলিকের ভোট তাদের না হলেও কোন সমস্যা নেই, যারা মনে করেন যে পাবলিকের টাকায় বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা আকন্ঠ ভোগ করলেও তারা তাদের প্রজা ছাড়া আর কিছু নয়, তারা জনগনকে মানুষ মনে করবেই বা কেন? মহামান্য রাস্ট্রপতি এই যে সদ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিলে স্বাক্ষর করলেন, এর বিরুদ্ধে জনমতকে তিনি কি যথাযথ গুরুত্ব দিতে পেরেছেন? তাকেও তো এক ধরনের 'লাইনে' পড়েই নিশ্চয়ই ঐ বিলে স্বাক্ষর দান করতে হয়েছে। জনগনের আবেগ অনুভুতি বা আপত্তি কোন গুরুত্বই পায়নি। তাই এদেশে বলা সহজ অনেক কিছুই, কিন্তু তার বাস্তব রুপ দেওয়াটা খুবই কঠিন। কারন আমাদের মনমানস সে রকমই যেমন সেই আবু হোসেনের এক দিনের খলিফাগিরি-তে দেখেছি। গরীব আবু হোসেনের পুর্বের অবস্থা ভাল থাকলেও প্রচুর অপব্যয় তাকে গরীবই করে ফেলেছিল। অনেক আক্ষেপ করে সে বলছিল একবার খলিফা হতে পারলে সে অনেক কিছুই করতে পারত। খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর নিয়মিত নৈশভ্রমনকালে আবু হোসেনের এই উক্তি শুনে তাকে কৌশলে প্রাসাদে নিয়ে আসেন। তাকে একদিনের জন্য খলিফা হিসেবে ক্ষমতা দান করেন। আবু হোসেন ভাবতেই পারেনি এরক কিছু হতে পারে। রাত্রে সে জাগ্রত হয়ে তার কামরা ও তার চাকচিক্য আসবাব ইত্যাদি দেখে তার মাথা বিগড়ে যায়। সে খাপ থেকে তলোয়ার বের করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। তার উন্মাদের মত কোপাকুপিতে বিছানার গদী, বালিম, ঘরের পর্দা ইত্যাদি কেটে যা তা অবস্থা হয়ে যায়। এই যে অবস্থা, এটার সাথে আমাদের 'হঠাৎ-নবাবদের' কি খুব বেশী গরমিল আছে?হঠাৎ-নবাবেরা তাদের 'মেন্টাল ব্যালান্স' ঠিক রাখতে পারেনা। তাই তাদের কাছে ন্যায় ও ৗচিত্যবোধ আশা করা যায় না।

Friday, September 14, 2018

প্রশ্নফাঁসের এই মহোৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং নীতিহীন চরিত্রহীন কুশিক্ষিত একটি শ্রেনী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। তবে এজন্য কেবল এরাই দায়ী ভাবলে বড় ধরনের ভুল হবে। পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র বা এমসিকিউ জাতীয় প্রশ্নপত্র এর আগেও তো ছিল। কিন্তু এখনকার মত মহামারী তো ছিল না। তাহলে এই ধ্বস নামার কারন কি? এই বাংলায়ই একটা প্রবাদ আছে। ’রাজার পাপেতে হয় রাজ্য ছারখার; সুখ নাহি থাকে প্রানে রায়েত প্রজার।’ বিগত ১২/১৪ বছর ধরে এদেশে বিপুল অংশের মানুষের মধ্যে যে নৈতিকতার যে দুর্ভিক্ষ ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যপকতর হয়েছে তা ধারাবাহিক কু-শাসন ও অপশাসনের ফলশ্রুতিতেই ঘটেছে। নীতি-নৈতিকতা ও মুল্যবোধের বিকল্প কোন ধরনের চেতনা বা ্েশ্লাগানের গালভরা বুলি হতে পারে না। ’বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ই হোক আর ’বাঙালী জাতীয়তাবাদ’ই হোক, নীতি-নৈতিকতা ও মুল্যবোধের ব্যাপারে এর কোন প্রভাব যে এই সমাজে পড়েনি সেটা সাদা চোখেই দেখা যায়। নইলে ক্রমাগত ধারাবাহিকভাবে দেশটি দুর্নীতিতে বিশ্ব রেকর্ড করতে পারত না। যারা এখন ’গনতন্ত্র নাই’ বলে বুক চাপড়াচ্ছে, তারা তাদের সময়ে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের যে প্রশংসনীয় কাজটা করেছিল, পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনীতির পাঁক ঢুকিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। গনতন্ত্রকে ভয়াবহভাবে ঝুঁকিগ্রস্থ করার জন্য বিজয়োৎসবকে প্রতিপক্ষকে হামলার শিকারে পরিনত করা, গ্রেনেড হামলা চালানোকে ঠাট্টার বিষয় বলে ভাবা, মারাত্মক অস্ত্র পাচারে প্রশ্রয় দেওয়া, বিশেষ ভবনের মাধ্যমে প্যারালাল সরকার চালানো ইত্যাকার কর্মকান্ডকে ’নজরআন্দাজ’ করেছে। অবশেষে তত্বাবধায়ক সরকারের অস্তিত্বকেই নানা অপকৌশল করে চরমভাবে ভংগুর করে দিয়েছে। অপরদিকে পরবর্তী সরকার ক্ষমতা পেয়েই বিশেষ বিশেষ চেতনার নামে ক্রমাগত জাতিকে বিভক্ত করে নানা রকম অপশাসনের দৃষ্টান্ত এমনভাবে রেখেছে যে গত ৮/৯ বছরে কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার, ব্যাংক-শেয়ার বাজার লুট, গুম-খুন, নিষ্ঠুরভাবে প্রতিপক্ষকে দমন রাস্ট্রের বিভিন্ন বিভাগকে চরমভাবে দলীয়করন ইত্যাদির মাধ্যমে একটা বিশেষ শ্রেনীকে আংগুল ফুলে বটগাছ হবার সুযোগ করে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ কেবল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনাপুঁজির ব্যবসাকেন্দ্র ও সাথে সাথে রাজনীতির মল্লযুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে একদিকে যেমন গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে ছ্যারাবেরা করে ফেলা হয়েছে, তেমনি শিক্ষদের মধ্যে নৈতিকতা ও মুল্যবোধেরও কবর রচনা করা হয়েছে। নীতিহীন চরিত্রহীন মানুষ জাগতিক উন্নতিকেই জীবনের মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়েছে যে কারনে ঘুষ-বানিজ্যের মাধ্যমে হোক আর প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমেই হোক, আর খাদ্যে ভেজাল দিয়েই হোক বা মুনাফাখোরী সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই হোক - মোট কথা যেন তেন প্রকারেন রাতারাতি পকেট ভারি করতে যা কিছু করা দরকার তা-ই করা হচ্ছে। আর এসব করতে একটা শ্রেনী যার মধ্যে উঁচু মানের ডক্টরেট ডিগ্রীধারী থেকে স্কুল-কলেজে পাঠরত শিক্ষার্থী, মুদী দোকানী থেকে শিল্পপতি কেউ পিছিয়ে নেই। এসব কিন্তু দু’একদিনে হয়নি। কিন্তু একদল দলকানা আঁতেল বিশেষ বিশেষ চেতনার নাম নিয়ে ক্রমাগতভাবে এইসব অপকর্মের চুলায় ফুঁ মেরে এসেছেন। আজ যখন চুলোর আগুন চালে ধরেছে তখন তারা নানা নোসখা বাতলাচ্ছেন। শিক্ষানীতি প্রনয়নের সময়েও দেখা গেছে তথাকথিত অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে নীতি-নৈতিকতা শিক্ষার মুল বিষয়গুলোকে কিভাবে অবহেলা করা হয়েছে। কোন ধর্মই যে ভিন্ন ধর্মকে অবজ্ঞা করে না বা কোন ধর্মেই যে খারাপ কাজকে সমর্থন করে না সেটা জানা সত্বেও তথাকথিত প্রগতিশীলতার নামে জাতীয় ও সমাজ জীবনে ধর্মের প্রভাবকে সনিষ্ঠভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে। অন্য দিকে ’ডিজিটাল’ ’ডিজিটাল’ বলে দেশকে উথাল পাথাল করার বাতিক চললেও সকল কাজে আঠার মাসে, এমনকি চব্বিশ মাসে বছরের এনালগ সিস্টেম ঠিকই চলছে।


তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখে টোটকা ব্যবস্থা নেবার কোন সুযোগ নেই; আর নিলেও সমস্যার সমাধান হবে না। বরং টপ-টু-বটম নতুন করে দেশপ্রেম ও নীতি-নৈতিকতাকে আরো বহুগুন দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। এবং বর্তমান সরকারী দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সকল প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিহাদ ঘোষনা করেছিল তার প্রকৃত ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে কেবল প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, কোন ক্ষেত্রেই এই জাতির ভবিষ্যত ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার পরিনতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।।

Thursday, July 26, 2018

দেশে মামলাজট

দেশে মামলাজট বলে একটা কথা বহুল প্রচলিত হয়েছে। বর্তমানে জটবদ্ধ মামলার সংখ্যা নাকি চৌত্রিশ লক্ষ। এই জটবদ্ধ মামলার ৮০% নাকি জমিজমা সংক্রান্ত। তবে কেন এই জটের সৃষ্টি হয়েছে তা পর্যালোচনা করতে গেলে দেখা যায় এর বিরাট অংশ একশ্রেনীর মামলাবাজ ব্যক্তি, উকিল, এবং পেশকারের অর্থলোভ এবং ক্ষেত্রবিশেষে খোদ কিছুসংখ্যক বিচারকের অনভিজ্ঞতা ও অন্যবিধ কারনও এর জন্য দায়ী। আমরা জানি বিচারককে ’বিজ্ঞ’ বলে সম্বোধন করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই ’বিজ্ঞ’ কথাটার ভেতরেই বেশ সমস্যা রয়েছে। একটি মামলার মেরিট কতটুকু সেটা আরজি ও তার জবাবের মধ্যেই একজন প্রকৃত ’বিজ্ঞ’ বিচারকের প্রথম দৃষ্টিতেই ধরা পড়ার কথা। কিন্তু দেখা যায় যে যে কোন মামলা আসলেই কোন রকম আপাতঃ পরিবীক্ষণ ছাড়াই দিনের পর দিন সেই মামলার তারিখ দিয়ে মামলাবাজ বাদীকে উতসাহিত এবং উকিল, মুহুরী ও পেশকারকে বিবাদীকে দুয়ে নেবার সুযোগ করে দেওয়া হয়। উদাহরন হিসেবে বলা যায় কোন একটি জমিসংক্রান্ত মামলা রুজু হলো সাজানো কারন উদ্ভবের ৩০/৩৫ এমনকি ৬০/৬২ বছর পরে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে। এই দীর্ঘ সময়ে সেই বাদীর সংশ্লিষ্ট জমির দখল তো দুরে থাক, সিএস, এসএ, আরএস, বিএস - কোন খতিয়ানেই তার নাম নেই, কোন দাখিলা নেই। এই দীর্ঘ সময় পরে হঠাত কোথা থেকে কিছু বানানো কাগজপত্র নিয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। এরকম মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকে আর এর মধ্যে অনেক বাদী বা বিবাদী মারা গেলেও সেসব মামলার সুরাহা হয় না। বরং মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদেরকে নতুন করে মামলার পক্ষ করে তা চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মামলার জট জমে ওঠে। বিচারক বদলী হয়ে যান, হয়ত উকিলও মারা যান; কিন্তু তাদের উত্তরসুরীরা সেই মামলা চালাতেই থাকে। আবার এমনও দেখা যায় যে কোন একটুকরো জমির একবার নাম ও জমা খারিজ হবার পর ৮/১০ বছর খাজনা ইত্যাদি দেবার পর হঠাৎ কিভাবে যেন একরকম ভৌতিকভাবেই সে জমির দাগ-খতিয়ান, চৌহদ্দী বা পরিমান বদলে গেল প্রকৃত মালিকের অজ্ঞাতসারে। কিংবা কানুনগো বা জরিপকারীর ভুলে - তা সে ইচ্ছাকৃতই হোক আর অনিচ্ছাকৃতই হোক (অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয় সেটাও বাস্তব সত্য), সে ভুল সংশোধন করার সহজ বা সুলভে কোন সমাধান নেই। এর জন্য দীর্ঘকালীন মামলায় জড়িয়ে থাকতে হবে, যা অবিশ্বাস্য সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। হ্যাঁ, ভুল হতেই পারে; কিন্তু সে ভুল সংশোধন করার পদ্ধতি এতই জটিল যে সে ধরনের মামলাও মামলাজটের অন্যতম কারন হয়ে থাকে।
এসব বিষয় যদি আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বের সাথে বিচেনা করা না হয়; যদি প্রকৃত যৌক্তিক কারন ছাড়াই দিনের পর দিন সেই মামলার তারিখ পড়তে থাকে আর সেই মান্ধাতার আমলের আইন দিয়েই এসবের বিচারের (?) সিলসিলা চালু থাকে তবে চলমান মামলাজট কমানোর কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে বলে মনে হয় না। মাননীয় আইনমন্ত্রী মহোদয় যদি এ ব্যপারে একটু দৃষ্টি দেন তবে এই মামলাজট এবং এর সাথে বাদী-বিবাদীর হয়রানি ও অনর্থক অর্থনাশ - দুটোরই ইতিবাচক সমাপ্তি হতে পারে।

Tuesday, July 3, 2018

Political leaders of Bangladesh - Quality and opportunity

বিশ্বে সম্ভবতঃ বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ এবং লাভজনক পেশা হচ্ছে রাজনীতি।  যে কোন চাকুরী-বাকরীতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষন, মেধা ইত্যাদি অত্যাবশ্যক। কিন্তু দেখা যায় রাজনীতিই এই দেশে এমন একটি পেশা যাতে উপরোক্ত কোনটিরই দরকার নেই। হ্যাঁ, একটি বিষয়ে বিশেষ গুন থাকা অত্যাবশ্যক এবং সেটা হচ্ছে কিছু গৎবাঁধা মুখস্ত বহুল উচ্চারিত বুলি, গলার জোর এবং মারদাঙ্গায় পটুত্ব। গোলাগুলি চালাতে পারলে আরো ’উন্নতি’। এতে ’নেতা’ হওয়াটা আরো সহজ হয়ে যায়। রাজনীতি অন্যান্য দেশে করে জনগনের সেবা করা দেশকে কিছু দেওয়ার জন্য। এসবই করা হয় দেশকে ভালবেসে, দেশের প্রতি দায় এবং দায়িত্ববোধ থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনটাই প্রয়োজন নেই। কারন এখানে রাজনীতি করা হয় বিনা পুঁজিতে অতি স্বল্প সময়ে কোটিপতি হবার জন্য। বস্তুতঃ অতি স্বল্প সময়ে ধনী হবার জন্য রাজনীতির চেয়ে আর কোন পন্থা এদেশে নেই। একটু লক্ষ্য করলেই এ কথার যথার্থতা মিলবে। দেখুন, ছাত্রাবস্থা শেষ হয়নি; এমন সময়েও ব্যাংকমালিক হওয়া যায়, হেলিকপ্টারে দাওয়াত খেতে যাওয়া যায়, রাজধানী শহরের সবচেয়ে পশ এলাকায় হাইরাইজ বিল্ডিং করা যায় এমনকি বিদেশে সেকেন্ড হোমও করা সম্ভব। কারন রাজনীতি করলেই, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করলেই এসব যেন আপনাআপনিই এস পায়ের কাছে জমা হয়। যে ব্যক্তি এই কিছুদিন আগে সামান্য বিড়ি চেয়ে খেত, বা চোরাচালানের বাহক ছিল, মাদকের ক্যারিয়ার ছিল, বা এমনকি গাড়ী চুরির সাথেও জড়িত ছিল, রাজনীতিতে আসার পরপরই, অথবা রাজনীতির ব্যক্তিদের সাথে ’গ্লাসফ্রেন্ড’ হবার সুবাদেও শুধু কোটি নয়, হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারে। এটা এ দেশ ছাড়া, যেখানে দিবারাত্র বিশেষ বিশেষ চেতনার ধুয়া তুলে চারদিক ’আন্ধার’ করে তোলা হয়, সেখানে ছাড়া আর কোন দেশে সম্ভব? এখানে রাজনীতিতেও মেধা, যোগ্যতা বা আদর্শবাহী ব্যক্তিত্বও কোন কল্কে পায় না।  একেবারে মৌরসী পাট্টার মত এখানেও জমিদারের ছেলেমেয়েকেই জমিদার হতেই হবে, সে বোবা-কালা-অন্ধ-বধির যেই হোক। এ কারনেই ঠিক যেমন বটগাছের নীচে আর কোন ছোট গাছ বাড়তেই পারে না তেমনি সর্বোচ্চ নেতার ছায়ায় আর কোন নেতা উঠতেই পারে না। অথচ এ সবই করা হয় গনতন্ত্রের নামে। এর কারন সুবিধাবাদের রাজনীতি কেবল সেই তন্ত্রেরই ধারক-বাহক হয়ে তাকে যে তন্ত্র তাদেরকে অবাধ ক্ষমতা চর্চা ও প্রয়োগ করতে কার্যকরভাবে সহায়তা করে।
এবং উপরোক্ত কথাগুলির সত্যতা ও যথার্থতা প্রতিনিয়তই এদেশে দৃশ্যমান। কারন এদেশই এমন একটি দেশ যেখানে কোন রকম পরিকল্পনা ছাড়াই যে কোন কিছু করা সম্ভব। এখানে শহর গড়ে ওঠে কোন পরিকল্পনা ছাড়াই, যা অল্প দিনের মধ্যেই আর বাসযোগ্য থাকে না। ’উন্নয়ন’ পরিকল্পনা করা হয় কোন সুবিবেচনা, দুরদর্শিতা ও সু-পরিকল্পনা ছাড়াই যাতে শত টাকার কাজ হাজারেও শেষ হয় না; বছরের কাজ যুগেও শেষ হয় না। শিক্ষা একটি জাতির মেরুদন্ড হলেও তা নিয়ে গিনিপিগসুলভ এক্সপেরিমেন্ট যুগের পর যুগ চলতেই থাকে আর দেশ একদল তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত বেকার শ্রেনী উৎপাদন করে। যেখানে মেধার কোন কদর নেই, অ-মেধাবী/মেধাহীনদেরকে গুরুত্বপুর্ন সব কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এমনই শাসন-প্রশাসন চলে যে ডাক্তারকে ব্যাংকার, ব্যবসায়ীকে শিক্ষাব্যবস্থার কর্নধার, নকলবাজ ও নীতি-নৈতিকতাহীনদেরকে শিক্ষক ইত্যাদির মাধ্যমে সর্বত্র  ’স্কয়ার পেগ ইন এ রাউন্ড হোল’ অবস্থা সৃষ্টি হয়। প্রকৃত আদর্শ না থাকার ফলেই রাজনীতির নামে যে সুবিধাবদিতা বা ’অপরচ্যুনিজম’ চলে তাতে আজকের ’friend  (বন্ধু) কালকে ’foe (শত্রু)-তে পরিনত হয়। আজকে যা ভাল অবস্থান বদলে গেলে কালকে তা সবচেয়ে অপছন্দনীয় হয়ে পড়ে। হ্যাঁ, শিক্ষা-ই যে সব কিছু সেটা না হলেও মানুষের অন্তর্নিহিত গুনকে বোঝার ক্ষমতা তো অবশ্যই থাকতে হয়, নইলে অতি সাধারন একজন বিড়ি ব্যবসায়ী বা সামান্য একজন সাব-কন্ট্রাক্টরও গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মালিক হতে পারতেন না। স¤্রাট আকবর নিরক্ষর হলেও তিনি ’রতন’ চিনতেন। তাই তিনি ’আকবর দি গ্রেট’ হতে পেরেছিলেন। কিন্তু ব্যতিক্রম তো আর নিয়ম নয়।
উপরোক্ত বিষয়গুলির যথার্থতা কতটুকু সেটা আমাদের দেশের সার্বিক অবস্থার দিকে তাকালেই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি প্রকৃত কোন কমিটমেন্ট না থাকায়, প্রকৃত ভালবাসা না থাকায় দেশ দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। মাৎসান্যায় প্রবলপ্রতাপে রাজত্ব করে। শাসকদের জবাবদিহিতা বলতে কোন বস্তুর অস্তিত্ব থাকে না। আর এসব না থাকলে গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে যতই গলা ফাটানো হোক, দেশকে অমুক স্তরে তমুক স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে যতই বাগাড়ম্বর করা হোক, কোন কিছুতেই দেশের সাধারন মানুষের কোন উপকার হয় না। দেশও উন্নয়নের রাস্তায় গো-শকটের চেয়ে বেশী গতি পায় না।
আজকে এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে বাংলাদেশ স্বাধীন হবে, এটা তদানীন্তন অধিকাংশ রাজনীতিক নেতা ভাবেন নি। ভাবলে একটা নতুন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পরিচালনা করতে সক্ষম এমন অন্ততঃ একটি শ্রেনী বা গ্রুপ তো তৈরী থাকত। মহামতি (?) লেনিনের ভাষায়, ’Give me thirty professional revolutionaries and I will turn Russia upside down - এই কথাটার মর্মার্থ আমাদের নেতারা উপলব্ধি করতেন। এরকম প্রস্তুতি ছিলনা বলেই সদ্যস্বাধীন দেশটি অনতিবিলম্বেই লুটেরাদের দারুন মৃগয়াক্ষেত্রে পরিনত হয় যা বঙ্গবন্ধুর মত ’monumental'  ব্যক্তিত্বও সামলাতে পারেন নি । ইতিহাস সাক্ষী সম্পুর্ন বিধ্বস্ত জার্মানী বা জাপান সে রকম নেতৃত্ব পেয়েছিল বলেই তারা মাত্র ২৫/৩০ বছরের মধেই সেই ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকে ফিনিক্স পাখীর মত পুনর্জীবন লাভ করে এবং ঐ সময়ের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক শক্তিতে উন্নীত হয়। এমনকি মহাযুদ্ধোত্তর সোভিয়েট ইউনিয়নও একটি কৃষিপ্রধান দেশ থেকে শিল্পোন্নত পরাশক্তিতে পরিনত হয়। দেশপ্রেমিক, দৃঢ়সংকল্প ডিক্টেটররাও অনেক ক্ষেত্রে এমন উদাহরন রেখে গেছেন যে কারনে প্রথম মহাযুদ্ধে প্রায় সর্বস্ব হারানো জার্মানী ১৯২৯ থেকে ১৯৩৯ সাল – মাত্র এই দশ বছরের মধ্যে এমন অকল্পনীয় উন্নতি করে যে তাকে থামাতে আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্সের মত শক্তিকেও বিপুল ক্ষতির শিকার হতে হয়। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার উদ্গাতা লেনিনের মৃত্যুর পর জোসেফ স্ট্যালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাকে ৪/৫ মাস আগেই সমাপ্ত করেছেন এবং তাঁর দেশকে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের প্যারালাল একটি শক্তিতে পরিনত করেছেন। তাদের লক্ষ্য সুদুর হলেও ছিল সুনির্দিষ্ট। তাই তাদের কাছে সময়ের মুল্য ছিল সবচেয়ে বেশী, যার জন্য তাদের কাজকর্ম ছিল ’Race against time’।  আর আমাদের দেশে? স্বাধীনতার দু’তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে এক নির্মম দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে হয়। হতে হয় ’তলাবিহীন ঝুড়ির’ তকমাধারী এক ছ্যারাবেরা দেশ। আজও এক বছরের কাজ শেষ হতে চার/পাঁচ বছর লেগে যায়, হাজার টাকার প্রকল্প কোটি টাকা খেয়ে ফেলে। অথচ ’উন্নয়নের জোয়ারে’ দেশ ভেসে যাচ্ছে বলে আমরা নিজেরা নিজেদের পিঠ নিজেরাই চাপড়াই। এসবই ঘটে তখনই যখন অদুরদর্শী, অ-দেশপ্রেমিক, অ-জনবান্ধব এবং অদক্ষ নেতৃত্ব সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়।
উপরোক্ত কথাগুলি হয়ত অনেকের কাছেই অগ্রহনযোগ্য এমনকি কট’ও লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা তাতে বদলায় না। আজ স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছরেও আমাদের দেশ যে কেবল ’উন্নয়নশীল’ তকমা পেল এতে খুশী হবার চেয়ে দুঃখিত হওয়ারই কথা। কিন্তু আমাদের স্বভাব বৈপরীত্যের কারনে আমরা দেশ ডিজিটাল বলে গর্ব করি অথচ আমাদের আঠার মাসে নয় বরং চব্বিশ মাসে বছর হচ্ছে এটা মনে আসে না।

Friday, June 29, 2018

বৈষম্য দূরের আশা জোগাচ্ছে না বাজেট

বৈষম্য দূরের আশা জোগাচ্ছে না বাজেট ---জনাব তুহিন ওয়াদুদের এই লেখাটির প্রেক্ষিতে বলতেই হয় এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে যদি সত্যিকারের কোন আদর্শ থাকত তবে এ অবস্থা হবার কোনই কারন ছিলনা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা দৃষ্টে আজ একথা স্বীকার না করে উপায় নেই যে এদেশের স্বাধীনতার পেছনে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্পৃহা কতটা ছিল সেটা নিশ্চিত বলা না গেলেও অবাঙালীদের সম্পদ লুটপাট এবং এদেশের কিছু সুযোগসন্ধানী সুবিধাবাদীদেরকে তাদের স্থলাভিসিক্ত করা যে উদ্দেশ্য ছিল সেটা অস্বীকার করার বোধহয় আজ উপায় নেই। নইলে যে আদমজী জুটমিল নিয়ে বাঙালীদের এত গর্ব, এত ক্ষোভ যে এই সোনার ডিম পাড়া রাজহংসটির সব ডিম পাকিস্তানীরা নিয়ে যাচ্ছে আর তা দিয়ে তাদের রাস্তাঘাট সোনা দিয়ে বাঁধাচ্ছে, সেই আদমজী জুট মিল এই বাঙালী পুঙ্গবদের হাতেই তেরশ' কোটি টাকা দেনা মাথায় নিয়ে ডুবে যেত না। স্বাধীনতার পরপরই যে অবাঙালীদের সহায়-সম্পত্তি ব্যপক লুটপাট হয়ে গেল, কোন রকমের সু-আদর্শের অনুপস্থিতিই যে তার জন্য দায়ী ছিল সেটা আজ অকাট্য বাস্তব। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের মধ্যে কোটিতে হয়ত একজনও নেই যিনি সত্যি কথাটা বলবেন। এই যে উত্তরাঞ্চলের দারিদ্রের বর্তমান অবস্থা সেটা দুর করার জন্য কোন সরকারই কি উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে? আজও যে নিচ্ছে না সেটা তো জনাব তুহিনের লেখায়ই ফুটে উঠেছে। কিন্তু কেন এই অবস্থা, যখন বৈষম্যের বিরুদ্ধেই এদেশের মানুষ প্রানপণ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল?
স্বাধীনতার পেছনে সঠিক আদর্শের যে ঘাটতি ছিল সেটার ফলশ্রুতিতে আজ এদেশ দুর্নীতির পঙ্কে প্রায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে দেশের তরুন সমাজ আজ ধুঁকছে। সর্বত্র ন্যায়, সত্য ও সাম্যতার প্রকট অভাব। অথচ ঐসমস্ত অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতেই তো মুক্তিযুদ্ধ, নয় কি? আদর্শের উপস্থিতিতে দেশকে মানুষ কি দিতে পারে সেটা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে দেখেছি। তিনি বলেছেন যে সদ্য পাওয়া পাকিস্তানে অফিস নেই, চেয়ার নেই, টেবিল নেই তবু মানুষ তাঁবুতে সামান্য একটা দুটো ভাঙ্গা টেবিল নিয়ে অফিসের কাজ করেছেন। স্টেশনে টিকিট না পেয়ে ট্রেনে চড়ে মানুষ টিটি-কে টিকেটের টাকা দিয়েছে। দুর্নীতি যেন ভোজবাজির মত উধাও হয়ে গিয়েছিল। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর দেখা গেল যে হরিল্লুটের মচ্ছব। কিছুদিন আগে সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেবের লেখায় দেখেছি যে লোক কম ভাড়ায় থাকার জন্য গোপীবাগের ঘুপচি ঘরে থাকতো, বাজারের থলে হাতে বাসের হ্যান্ডেলে ঝুলে যাতায়াত করত, স্বাধীনতার পরে তিনি দেখেছেন সেই লোক মীরপুর কি মোহাম্মদপুরে বাড়ীর মালিক হয়ে তাঁর সাথে বেশ গর্ব করে বলেছে যে তিনি এখন বাড়ীর মালিক। এর পরে বঙ্গবন্ধুর আমলে যাদেরকে তিনি বিশ্বাস করে জাতীয়করনকৃত মিল-কারখানার প্রশাসক হিসেবে বসিয়েছিলেন, তারা সেই সব মিল-কারখানার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত বিক্রী করে দিয়ে নিজেদের পকেট ভর্তি করেছে। অতি দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে তাঁকে বলতে হয়েছিল 'লোকে পায় সেনার খনি, আর আমি পেয়েছি চোরের খনি। ' এসবই ছিল আদর্শহীনতার বিষময় ফল। এসব অবস্থার কি আজো কোন পরিবর্তন হয়েছে? হ্যাঁ, অনেকেই বলবেন যে দেশ তো 'এগিয়ে চলেছে।' সত্যিই, দেশে পদ্মা সেতু হচ্ছে, বড় বড় ফ্লাইওভার হয়েছে ও হচ্ছে, ডিপ-সী পোর্ট হচ্ছে। তবে যদি গত ১০/১২ বছরের তথ্যগুলো দেখা যায় তবে দেখতে হয় ৫০/৬০ হাজার কোটি টাকার শোয়ার বাজার লুট, ব্যাংকের খাণখেলাপীর অংক লাখো কোটি টাকার উপরে উঠেছে; কয়েকটি ব্যাংক ঘোরতর লুটপাটের কারনে লালবাতি জালিয়েছে আর সরকার সেগুলোকে কোরামিন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। এমনকি রাস্ট্রীয় ব্যাংকের কোষাগার থেকেও অনায়াসে আটশ' কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেল কিন্তু তার উদ্ধারের আর কোন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হলো না। আবার তার তদন্ত রিপোর্টটিও আলোর মুখ দেখতে পেল না। এরপর দেখা যাচ্ছে হাজার টাকার প্রজেক্ট দশ হাজার টাকা খেয়ে ফেলছে এক বছরের জায়গায় ৪/৫ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে বাড়িয়ে। দেশে প্রায় পঁয়ষট্টি লাখ বেকার যার মধ্যে বিশ লাখ শিক্ষিত বেকার। ঐ লুটপাট হওয়া অর্থ দিয়ে আরো ৪/৫ টা পদ্মা সেতু বানানো যেত। নতুন নতুন শিল্পে বিনিয়োগ করে লাখো বেকারের বেকারত্ব ঘোঁচানো যেত। এসবই কি আদর্শহীনতার বিষময় ফল নয়? যে বৈষম্য এই ছোট্ট দেশটিতে ক্রমবর্ধমান, সে বৈষম্যও প্রকৃত কোন আদর্শের অভাবেই ঘটছে। তাই মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সাহস নেই যে তিনি কোটারী স্বার্থের বাইরে গিয়ে প্রকৃত জনবান্ধব কোন বাজেট দেবেন। এত এত লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে, খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে গেছে, লাখো কোটি টাকা খান-খেলাপী হয়ে পড়েছে, কিন্তু অর্থমন্ত্রী তাদের নাম পর্যন্ত সংসদে উচ্চারন করার ক্ষমতা রাখেন না। স্বাধীনতার পর বাইশ পরিবার বেড়ে বাইশ হাজার পরিবার হয়েছে। বিদেশে সেকেন্ড হোম, বেগমপাড়া ইত্যাদি হয়েছে। আগে মানুষ রাজনীতি করত মানুষের কল্যানের লক্ষ্যে। তাঁরা ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানোর ব্রত নিয়েই রাজনীতি করতেন। আর আজ? আজ নাকি সংসদে ৭৫% - ৮০% ব্যবসায়ী, যারা কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নমিনেশন কেনেন আর ইলেকশন (?) করেন। তারপর সেই বিনিয়োগের দশগুন উসুল করেন সংসদ বা মন্ত্রী হয়ে। কিন্তু স্বাধীন দেশে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের কি লাভ হয়েছে?

Wednesday, May 30, 2018

আমাদের বদভ্যাসসমূহ ও এর কারন
বর্তমান সমাজে নানা অসঙ্গতি, নানা অনাচার, অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেই চলেছে। এসব ঘটনায় অশিক্ষিত মূর্খ দের চেয়ে শিক্ষিত লোকদেরই সংশ্লিষ্টতা বেশী। কারন কি? কারন খুবই সহজ ও বোধগম্য। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করে বলা যাক।
শিক্ষার অর্থ হচ্ছে ’আচরনের কাংখিত পরিবর্তন।’ ইংরেজীতে বলা যায়, ডেজায়ার্ড চেঞ্জ অব বিহেভিয়ার। এই ’বিহেভিয়ার’ নিত্য অভ্যাসেরই সামষ্টিক রূপ। আবার এই অভ্যাস একটা শিশুর শৈশবকাল থেকেই  নিত্য জীবনাচরনের মধ্যেই গড়ে ওঠে। সে সেটা তার পরিবার, পারিপার্শ্বিকতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রমাগত আয়ত্ব করে থাকে। এটা হঠাৎ একদিনকার বিষয় নয়। তাহলে শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিষয় নয়; বরং শিক্ষা এমনই একটি বিষয় যা মানুষের জীবনাচরনকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন সাধন করে। এখন মিলিয়ে দেখুন তো এই কথাটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বা সিলেবাসের কোন অংশে আছে? আজকে শিক্ষার চেয়ে জিপিএ-৫/এ+ পাওয়াটাই শিক্ষার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন স্কুল বা কলেজের মান নির্নীত হচ্ছে সেখান থেকে কতজন জিপিএ-৫ বা এ+ পেয়েছে। সেইসব শিক্ষার্থী আসলেই কিছু শিখেছে কি না, তার আচরনের কাংখিত পরিবর্তন হয়েছে কি না সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। এইসব শিক্ষিত (?) নামীয় মানুষগুলো কি আদৌ শিক্ষিত? তাহলে তারা সামান্য কমনসেন্সের অধিকারী নয় কেন? কেন তাদের সিভিক সেন্স বলে কোন বিষয় তাদের মনের মধ্যে নেই? কেন তারা শেখেনি কিভাবে নাগরিক জীবন যাপন করতে হয়; কিভাবে সামষ্টিক জীবন বা ’collective living’-এ অভ্যস্ত হতে হয়? কেন একজন শিক্ষিত মানুষ স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, মর্ষকামী বা ধর্ষকামী হয়? কারন তাকে কেউ এসব শেখায় না। না পরিবার, না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মনমানসে থাকে কেবল কিভাবে ভাল স্কোর করতে হবে; কিভাবে জিপিএ-৫/এ+ পেতে হবে। অথচ বিদেশে শিক্ষার সাথে সাথে সহমর্মিতা ও অন্যের সাথে অংশীদারী হওয়া - ইংরেজীতে যাকে বলে ’fellow-feeling and sharing - পারষ্পরিক সাহায্য ও সহযোগীতার মনোভাব, সহপাঠীদের সাফল্য ও ব্যর্থতাকে টীমস্পিরিট হিসেবে নিজের সাফল্য ও ব্যর্থতা বলে মেনে নেওয়া ইত্যাদি বিষয় পাঠ্যসূচীর সাথে সমানভাবে গুরুত্বসহকারে শেখানো হয় যাতে শিক্ষার্থী স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা না শেখে। এসব বিষয় কি আমাদের পাঠ্যসূচীতে আছে, এমনকি শ্রেনীকে কোন শিক্ষক আলোচনা করেন? বাড়ীতে কি শিক্ষার্থীদের বাবা-মা তাদেরকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কিছু বলেন?
তাই শিক্ষিত লোকেরা যত্রতত্র কেবল থুথুই ফেলে না, যত্রতত্র প্রাকৃতিক কর্ম সারতেও ইতস্ততঃ বা লজ্জা বোধ করে না, আশেপাশের ফুলগাছগুলোকে দুমড়েমুচড়ে ফেলতে কার্পন্য করে না, ফুটপাতে মটরবাইক চালানো তো কোন ব্যাপারই না। এই শিক্ষিত লোকেরা রাস্তার বামপাশে গাড়ী রেখে অন্যকে বামে যাবার সুযোগ দেবার বদলে পুরো রাস্তাই ব্লক করে রাখে। দ্রুত ছোটার জন্য অনায়াসে লেন পরিবর্তন করে পিছনে নিকটেই আর কোন গাড়ী কোন গাড়ী আছে কি না তা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। এমনই ভাব যেন রাস্তাটা তার একার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। ফুটপাত হাঁটার জায়গা হলেও অবলীলায় সেখানে জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে গালগল্প করছে অন্য পথচারীদের সুবিধা-অসুবিধা তার পরোয়া না করেই। শৃংখলা বলতে একটা বিষয় আছে, সেটা বিদ্যালয়ে মুখ¯থ করানো হলেও তাদের কাজে তার কোন প্রতিফলন দেখা যায় না। তথাকথিত উচচশিক্ষিত লোকেরা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সাহেবরাও হাতা গুটিয়ে মারামারি করতে বা আপন কন্যাসম শিক্ষার্থীকে যৌন হেনস্তা করতেও ইতস্ততঃ করেন না; সামান্য বৈষয়িক লাভ বা আপন সুবিধার্থে বিশেষ বিশেষ শিক্ষার্থীকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া তো অতি সাধারন ব্যাপার। নিজেকে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহনযোগ্য, আদর্শ ও অনুকরন-অনুসরনযোগ্য করে তোলার বদলে বিশেষ রাজনৈতিক ছাতার নীচে আশ্রয় নিয়ে নানা রঙে রঙিন হতেও তারা কুন্ঠিত হন না। আবার তারাই কোন ছাত্র-ছাত্রী তাদেরকে যথাযথ সম্মান করল না বলে তাদের ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করে ফেলেন। কি আজব ব্যাপার!
তো পুরো বিষয়টা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে শিক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের আচরনের কাংখিত পরিবর্তন আনতে পারে, সে শিক্ষা বর্তমানে এদেশে দুর্লভ বা নেই বললেই চলে। আর এর বিষময় ফল আমরা নিত্যই প্রত্যক্ষ করছি। তাই অশিক্ষিত গাড়ীচালক, মুটে-মজুর, রিক্সাচালক ইত্যাদিকে আমরা দোষারোপ না করে নিজেদের দিকে একটু তাকালেই অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের গন্ডাগন্ডা ডক্টরেট ডিগ্রীধারীগনও যে কমনসেন্স ও সিভিকসেন্সের প্রচন্ড অভাবে ভোগেন তার ভুরি ভুরি উদাহরন আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে। আমাদের যারা ভাগ্যবিধাতা, তারা নিজেরা কতটা দায়িত্বশীল, কতটা সত্যিকার দেশপ্রেমিক, কতটা জনকল্যানকামী, কতটা সৌন্দর্যপিপাসু সেটা তাদের প্রশাসন, পরিকল্পনা, কর্মপদ্ধতি, তাদের জীবনাচরনের মধ্যেই প্রকটভাবে প্রকাশমান। তাই তাদের যারা অনুসারী, তাদের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু আশা করাটা অসঙ্গত ও অযৌক্তিক। যারা জানেই না একটা দেশ বা একটা শহর পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকরভাবে, জনবান্ধব ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হয়, কিভাবে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, তাদেও দ্বারা আর যাই হোক কোন শহরকে সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য করে রাখার আশা মোরগের কাছে ডিম পাবার মতই একেবারে নিরর্থক।

Bangladesh & Development

বাংলাদেশ ও উন্নয়ন
বাংলাদেশ নাকি বর্তমানে উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। কিন্তু উন্নয়ন আসলে কাকে বলে? চতুর্দিকে অরাজক পরিস্থিতি বহাল রেখে দেশ উন্নয়ন করছে বলে যারা বগল বাজাচ্ছেন তাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়। কোন উন্নয়নকামী দেশে ঘরে ঘরে অলিতে গলিতে বিশ্ববিদ্যালয, এমনকি স্কুল কলেজ থাকে? অলিতে গলিতে খেয়ালখুশীমত দোকান-পশারী, গ্যারেজ-কারখানা থাকে? সম্পুর্ন অপরিকল্পিত বাড়ীঘর, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, কোন রকম পার্কিং প্লেস বিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক, শপিংমল, কমিউনিটি সেন্টার  থাকে? শহরে ব্যস্ত রাস্তার পাশেই অবাধে হকার বা কাঁচামালের বা মাছ-মাংসের দোকান থাকে? 
সরকার প্রতি বছর নানা ভাবে নানা রঙের করারোপের মাধ্যমে সরকারী খাজাঞ্চখানা ভরছে। অথচ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা এজেন্সীর নাকের নীচে পিওন-দারোয়ান-মিটার রীডার-ড্রাইভার রাজধানীসহ নানা শহরে গ্রামে কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাসাদ বানাচ্ছে; কিন্তু তাদেরকে কেউ জিজ্ঞাসা করছে না ১০/১৫ হাজার টাকা বেতন পেয়েও এত টাকা তারা ব্যয় করে কিভাবে, এত টাকা পায় কিভাবে।  সরকার তার কর্মচারীদের বেতন বর্তমানে সাধারন মানুষের আয়-ইনকামের তুলনায় কয়েকগুন বেশী প্রদান করছে। এতে বাজারে দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতিতে সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও সরকারের তাতে কিছু এসে যাচ্ছে না। বর্তমানে আয় বৈষম্য এতটাই বেড়েছে যে তাতে অনেক অর্থনীতি বিশ্লেষকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানুষের মাথাপিছু আয় দেখানো হচ্ছে ১৬৭০ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় $=১,৩৭,০০০/= (এক লাখ সাঁয়ত্রিশ হাজার টাকা)। কিন্তু এই অংক যে বিরাট শুভঙ্করের ফাঁকি সেটা যে কোন সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও বোঝে। দেশের ৮৫% মানুষের এই মাথাপিছু আয়ের সাথে কোন সম্পর্ক আছে?
বর্তমান সময়ে উন্নয়নের যে মচ্ছব চলছে তাতে এই উন্নয়নের মুল্য যে কত বেশী সেটা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া থেকেই প্রকট হয়ে ওঠে। যেখানে প্রকৃত ব্যয় হাজার টাকা সেখানে ব্যয় বরাদ্দ করা হয় দশ হাজার। তাও আবার নির্দিষ্ট সময়ে তা শেষ হয়না বলে তার বরাদ্দ ও মেয়াদ বারবারই বাড়ানো হয়। এ ব্যাপারে কারো কোন জবাবদিহিতা নেই।
দেশের যত্রতত্র ইচ্ছামত বাড়ীঘর বানানো, দোকান-পশারী বসানোর ওপরে কারো নিয়ন্ত্রন নেই। ব্যস্ত রাস্তার পাশে লাখো লাখো দোকানপাট বসছে। যেখানে সেখানে বাড়ীঘর নির্মান করা হচ্ছে। হাইওয়ের ওপর নানা রকম বাজার-হাট বসছে। দেশের এক হাজার মাইল রাস্তাকে নিরাপত্তাহীন করে তার  দুপাশে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দোকানপাট বাড়ীঘর বানানো হচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে ফ্রি-স্টাইল চলছে।
এসবই কি উন্নয়নের মহাসড়কে চলার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়? অথচ উপরোক্ত সব অনিয়ম ও অনাচারের গতি থামানো সম্ভব যদি সত্যিকার উন্নয়ন করার দৃঢ় সংকল্প সরকারের তাকে।  বর্তমানে দেশ ডিজিটাল হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই সুবিধাকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। আবার সেই সুবিধাকে জায়গামত কাজে না লাগিয়ে অ-জায়গাতে লাগানো হচ্ছে। ডিজিটাল সুবিধা কি কেবল মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকীর্ন করার জন্য?  অথচ এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি দোকানপাট, গ্যারেজ-ওয়ার্কশপ, হাসপাতাল-ক্লিনিক, কমিউনিটি সেন্টার, এমনকি গ্রাম্য হাটবাজার দোকানপাট ইত্যাদিকেও ডাটাবেজের আওতায় আনা যায়। দেশে চলমান প্রতিটি যানবাহন ডাটা বেজের আওতায় আনা যায়। এর মাধ্যমে দেশে গাড়ীচোরদের অপকর্মকেও ৯০% নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মকান্ড, আয়-ব্যয় মনিটর করা যায়। প্রতিটি টাকার গতিবিধি মনিটর করা যায়। বর্তমান অবস্থায় শতভাগ সম্ভব না হলেও ৮০% সম্ভব সেটা। উন্নত দেশগুলোতে এমনকি একটা মোবাইল স্টলও ডাটাবেজের আওতায় আছে যেটার সরকারের দৃষ্টি এড়ানো বা দেয় ট্যাক্স ফাঁকি দেবার কোন উপায় নেই। দেশকে প্রকৃত উন্নয়নশীল বা উন্নত করতে হলে ওইসব উদাহরনকে কাজে লাগিয়ে সবরকম প্রতিষ্ঠান, সে ছোট হোক আর বড় হোক, ডাটাবেজে এন্ট্রি ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বসানোর কোন রকম সুযোগ থাকা প্রকৃত উন্নয়নের পথে বিরাট বাধা বলে বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটা দেশের ইউনিয়নকে ও ওয়ার্ডকে সক্ষম করে তুললে এ কাজ কঠিন হবার কথা নয়। যে দুর্নীতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা, এই সব প্রক্রিয়াকে যথাযথভাবে কাজে লাগালে বহুলাংশে দুর্নীতি দুর করা সম্ভব।
তাই বলতে হয় উন্নয়ন উন্নয়ন করে ঢাকঢোল পেটালেই দেশ উন্নয়নশীল বা উন্নত করার কোন সুযোগ নেই। সেটা করার জন্য বুদ্ধি, মেধা, আন্তরিক প্রচেষ্টা, দৃঢ় সংকল্প ও সর্বোপরি নিখাদ দেশপ্রেম অত্যাবশ্যক। নইলে কিছুদিন মানুষকে চমক দেওয়া গেলেও আসলে কাজের কাজ কতটুকু হবে সেটা সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন সবাই জানে।  ---- ৩০/৫/২০১৫ইং