এসব বিষয় যদি আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বের সাথে বিচেনা করা না হয়; যদি প্রকৃত যৌক্তিক কারন ছাড়াই দিনের পর দিন সেই মামলার তারিখ পড়তে থাকে আর সেই মান্ধাতার আমলের আইন দিয়েই এসবের বিচারের (?) সিলসিলা চালু থাকে তবে চলমান মামলাজট কমানোর কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে বলে মনে হয় না। মাননীয় আইনমন্ত্রী মহোদয় যদি এ ব্যপারে একটু দৃষ্টি দেন তবে এই মামলাজট এবং এর সাথে বাদী-বিবাদীর হয়রানি ও অনর্থক অর্থনাশ - দুটোরই ইতিবাচক সমাপ্তি হতে পারে।
The prevailing situation all around and also all over the world seems so wierd when I look back a few decades ago to make a comparison. That pains me much. The incongruity and contrast is sometimes so incomprehensible and tragically unacceptable that my whole mind burns in rebellion. But as I can't do anything, so can't I share my feelings with anyone; that's why this monologue.
Thursday, July 26, 2018
দেশে মামলাজট
দেশে মামলাজট বলে একটা কথা বহুল প্রচলিত হয়েছে। বর্তমানে জটবদ্ধ মামলার সংখ্যা নাকি চৌত্রিশ লক্ষ। এই জটবদ্ধ মামলার ৮০% নাকি জমিজমা সংক্রান্ত। তবে কেন এই জটের সৃষ্টি হয়েছে তা পর্যালোচনা করতে গেলে দেখা যায় এর বিরাট অংশ একশ্রেনীর মামলাবাজ ব্যক্তি, উকিল, এবং পেশকারের অর্থলোভ এবং ক্ষেত্রবিশেষে খোদ কিছুসংখ্যক বিচারকের অনভিজ্ঞতা ও অন্যবিধ কারনও এর জন্য দায়ী। আমরা জানি বিচারককে ’বিজ্ঞ’ বলে সম্বোধন করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই ’বিজ্ঞ’ কথাটার ভেতরেই বেশ সমস্যা রয়েছে। একটি মামলার মেরিট কতটুকু সেটা আরজি ও তার জবাবের মধ্যেই একজন প্রকৃত ’বিজ্ঞ’ বিচারকের প্রথম দৃষ্টিতেই ধরা পড়ার কথা। কিন্তু দেখা যায় যে যে কোন মামলা আসলেই কোন রকম আপাতঃ পরিবীক্ষণ ছাড়াই দিনের পর দিন সেই মামলার তারিখ দিয়ে মামলাবাজ বাদীকে উতসাহিত এবং উকিল, মুহুরী ও পেশকারকে বিবাদীকে দুয়ে নেবার সুযোগ করে দেওয়া হয়। উদাহরন হিসেবে বলা যায় কোন একটি জমিসংক্রান্ত মামলা রুজু হলো সাজানো কারন উদ্ভবের ৩০/৩৫ এমনকি ৬০/৬২ বছর পরে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে। এই দীর্ঘ সময়ে সেই বাদীর সংশ্লিষ্ট জমির দখল তো দুরে থাক, সিএস, এসএ, আরএস, বিএস - কোন খতিয়ানেই তার নাম নেই, কোন দাখিলা নেই। এই দীর্ঘ সময় পরে হঠাত কোথা থেকে কিছু বানানো কাগজপত্র নিয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। এরকম মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকে আর এর মধ্যে অনেক বাদী বা বিবাদী মারা গেলেও সেসব মামলার সুরাহা হয় না। বরং মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদেরকে নতুন করে মামলার পক্ষ করে তা চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মামলার জট জমে ওঠে। বিচারক বদলী হয়ে যান, হয়ত উকিলও মারা যান; কিন্তু তাদের উত্তরসুরীরা সেই মামলা চালাতেই থাকে। আবার এমনও দেখা যায় যে কোন একটুকরো জমির একবার নাম ও জমা খারিজ হবার পর ৮/১০ বছর খাজনা ইত্যাদি দেবার পর হঠাৎ কিভাবে যেন একরকম ভৌতিকভাবেই সে জমির দাগ-খতিয়ান, চৌহদ্দী বা পরিমান বদলে গেল প্রকৃত মালিকের অজ্ঞাতসারে। কিংবা কানুনগো বা জরিপকারীর ভুলে - তা সে ইচ্ছাকৃতই হোক আর অনিচ্ছাকৃতই হোক (অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয় সেটাও বাস্তব সত্য), সে ভুল সংশোধন করার সহজ বা সুলভে কোন সমাধান নেই। এর জন্য দীর্ঘকালীন মামলায় জড়িয়ে থাকতে হবে, যা অবিশ্বাস্য সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। হ্যাঁ, ভুল হতেই পারে; কিন্তু সে ভুল সংশোধন করার পদ্ধতি এতই জটিল যে সে ধরনের মামলাও মামলাজটের অন্যতম কারন হয়ে থাকে।
এসব বিষয় যদি আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বের সাথে বিচেনা করা না হয়; যদি প্রকৃত যৌক্তিক কারন ছাড়াই দিনের পর দিন সেই মামলার তারিখ পড়তে থাকে আর সেই মান্ধাতার আমলের আইন দিয়েই এসবের বিচারের (?) সিলসিলা চালু থাকে তবে চলমান মামলাজট কমানোর কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে বলে মনে হয় না। মাননীয় আইনমন্ত্রী মহোদয় যদি এ ব্যপারে একটু দৃষ্টি দেন তবে এই মামলাজট এবং এর সাথে বাদী-বিবাদীর হয়রানি ও অনর্থক অর্থনাশ - দুটোরই ইতিবাচক সমাপ্তি হতে পারে।
এসব বিষয় যদি আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বের সাথে বিচেনা করা না হয়; যদি প্রকৃত যৌক্তিক কারন ছাড়াই দিনের পর দিন সেই মামলার তারিখ পড়তে থাকে আর সেই মান্ধাতার আমলের আইন দিয়েই এসবের বিচারের (?) সিলসিলা চালু থাকে তবে চলমান মামলাজট কমানোর কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে বলে মনে হয় না। মাননীয় আইনমন্ত্রী মহোদয় যদি এ ব্যপারে একটু দৃষ্টি দেন তবে এই মামলাজট এবং এর সাথে বাদী-বিবাদীর হয়রানি ও অনর্থক অর্থনাশ - দুটোরই ইতিবাচক সমাপ্তি হতে পারে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment