Wednesday, May 30, 2018

আমাদের বদভ্যাসসমূহ ও এর কারন
বর্তমান সমাজে নানা অসঙ্গতি, নানা অনাচার, অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেই চলেছে। এসব ঘটনায় অশিক্ষিত মূর্খ দের চেয়ে শিক্ষিত লোকদেরই সংশ্লিষ্টতা বেশী। কারন কি? কারন খুবই সহজ ও বোধগম্য। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করে বলা যাক।
শিক্ষার অর্থ হচ্ছে ’আচরনের কাংখিত পরিবর্তন।’ ইংরেজীতে বলা যায়, ডেজায়ার্ড চেঞ্জ অব বিহেভিয়ার। এই ’বিহেভিয়ার’ নিত্য অভ্যাসেরই সামষ্টিক রূপ। আবার এই অভ্যাস একটা শিশুর শৈশবকাল থেকেই  নিত্য জীবনাচরনের মধ্যেই গড়ে ওঠে। সে সেটা তার পরিবার, পারিপার্শ্বিকতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রমাগত আয়ত্ব করে থাকে। এটা হঠাৎ একদিনকার বিষয় নয়। তাহলে শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিষয় নয়; বরং শিক্ষা এমনই একটি বিষয় যা মানুষের জীবনাচরনকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন সাধন করে। এখন মিলিয়ে দেখুন তো এই কথাটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বা সিলেবাসের কোন অংশে আছে? আজকে শিক্ষার চেয়ে জিপিএ-৫/এ+ পাওয়াটাই শিক্ষার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন স্কুল বা কলেজের মান নির্নীত হচ্ছে সেখান থেকে কতজন জিপিএ-৫ বা এ+ পেয়েছে। সেইসব শিক্ষার্থী আসলেই কিছু শিখেছে কি না, তার আচরনের কাংখিত পরিবর্তন হয়েছে কি না সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। এইসব শিক্ষিত (?) নামীয় মানুষগুলো কি আদৌ শিক্ষিত? তাহলে তারা সামান্য কমনসেন্সের অধিকারী নয় কেন? কেন তাদের সিভিক সেন্স বলে কোন বিষয় তাদের মনের মধ্যে নেই? কেন তারা শেখেনি কিভাবে নাগরিক জীবন যাপন করতে হয়; কিভাবে সামষ্টিক জীবন বা ’collective living’-এ অভ্যস্ত হতে হয়? কেন একজন শিক্ষিত মানুষ স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, মর্ষকামী বা ধর্ষকামী হয়? কারন তাকে কেউ এসব শেখায় না। না পরিবার, না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মনমানসে থাকে কেবল কিভাবে ভাল স্কোর করতে হবে; কিভাবে জিপিএ-৫/এ+ পেতে হবে। অথচ বিদেশে শিক্ষার সাথে সাথে সহমর্মিতা ও অন্যের সাথে অংশীদারী হওয়া - ইংরেজীতে যাকে বলে ’fellow-feeling and sharing - পারষ্পরিক সাহায্য ও সহযোগীতার মনোভাব, সহপাঠীদের সাফল্য ও ব্যর্থতাকে টীমস্পিরিট হিসেবে নিজের সাফল্য ও ব্যর্থতা বলে মেনে নেওয়া ইত্যাদি বিষয় পাঠ্যসূচীর সাথে সমানভাবে গুরুত্বসহকারে শেখানো হয় যাতে শিক্ষার্থী স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা না শেখে। এসব বিষয় কি আমাদের পাঠ্যসূচীতে আছে, এমনকি শ্রেনীকে কোন শিক্ষক আলোচনা করেন? বাড়ীতে কি শিক্ষার্থীদের বাবা-মা তাদেরকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কিছু বলেন?
তাই শিক্ষিত লোকেরা যত্রতত্র কেবল থুথুই ফেলে না, যত্রতত্র প্রাকৃতিক কর্ম সারতেও ইতস্ততঃ বা লজ্জা বোধ করে না, আশেপাশের ফুলগাছগুলোকে দুমড়েমুচড়ে ফেলতে কার্পন্য করে না, ফুটপাতে মটরবাইক চালানো তো কোন ব্যাপারই না। এই শিক্ষিত লোকেরা রাস্তার বামপাশে গাড়ী রেখে অন্যকে বামে যাবার সুযোগ দেবার বদলে পুরো রাস্তাই ব্লক করে রাখে। দ্রুত ছোটার জন্য অনায়াসে লেন পরিবর্তন করে পিছনে নিকটেই আর কোন গাড়ী কোন গাড়ী আছে কি না তা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। এমনই ভাব যেন রাস্তাটা তার একার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। ফুটপাত হাঁটার জায়গা হলেও অবলীলায় সেখানে জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে গালগল্প করছে অন্য পথচারীদের সুবিধা-অসুবিধা তার পরোয়া না করেই। শৃংখলা বলতে একটা বিষয় আছে, সেটা বিদ্যালয়ে মুখ¯থ করানো হলেও তাদের কাজে তার কোন প্রতিফলন দেখা যায় না। তথাকথিত উচচশিক্ষিত লোকেরা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সাহেবরাও হাতা গুটিয়ে মারামারি করতে বা আপন কন্যাসম শিক্ষার্থীকে যৌন হেনস্তা করতেও ইতস্ততঃ করেন না; সামান্য বৈষয়িক লাভ বা আপন সুবিধার্থে বিশেষ বিশেষ শিক্ষার্থীকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া তো অতি সাধারন ব্যাপার। নিজেকে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহনযোগ্য, আদর্শ ও অনুকরন-অনুসরনযোগ্য করে তোলার বদলে বিশেষ রাজনৈতিক ছাতার নীচে আশ্রয় নিয়ে নানা রঙে রঙিন হতেও তারা কুন্ঠিত হন না। আবার তারাই কোন ছাত্র-ছাত্রী তাদেরকে যথাযথ সম্মান করল না বলে তাদের ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করে ফেলেন। কি আজব ব্যাপার!
তো পুরো বিষয়টা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে শিক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের আচরনের কাংখিত পরিবর্তন আনতে পারে, সে শিক্ষা বর্তমানে এদেশে দুর্লভ বা নেই বললেই চলে। আর এর বিষময় ফল আমরা নিত্যই প্রত্যক্ষ করছি। তাই অশিক্ষিত গাড়ীচালক, মুটে-মজুর, রিক্সাচালক ইত্যাদিকে আমরা দোষারোপ না করে নিজেদের দিকে একটু তাকালেই অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের গন্ডাগন্ডা ডক্টরেট ডিগ্রীধারীগনও যে কমনসেন্স ও সিভিকসেন্সের প্রচন্ড অভাবে ভোগেন তার ভুরি ভুরি উদাহরন আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে। আমাদের যারা ভাগ্যবিধাতা, তারা নিজেরা কতটা দায়িত্বশীল, কতটা সত্যিকার দেশপ্রেমিক, কতটা জনকল্যানকামী, কতটা সৌন্দর্যপিপাসু সেটা তাদের প্রশাসন, পরিকল্পনা, কর্মপদ্ধতি, তাদের জীবনাচরনের মধ্যেই প্রকটভাবে প্রকাশমান। তাই তাদের যারা অনুসারী, তাদের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু আশা করাটা অসঙ্গত ও অযৌক্তিক। যারা জানেই না একটা দেশ বা একটা শহর পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকরভাবে, জনবান্ধব ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হয়, কিভাবে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, তাদেও দ্বারা আর যাই হোক কোন শহরকে সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য করে রাখার আশা মোরগের কাছে ডিম পাবার মতই একেবারে নিরর্থক।

Bangladesh & Development

বাংলাদেশ ও উন্নয়ন
বাংলাদেশ নাকি বর্তমানে উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। কিন্তু উন্নয়ন আসলে কাকে বলে? চতুর্দিকে অরাজক পরিস্থিতি বহাল রেখে দেশ উন্নয়ন করছে বলে যারা বগল বাজাচ্ছেন তাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়। কোন উন্নয়নকামী দেশে ঘরে ঘরে অলিতে গলিতে বিশ্ববিদ্যালয, এমনকি স্কুল কলেজ থাকে? অলিতে গলিতে খেয়ালখুশীমত দোকান-পশারী, গ্যারেজ-কারখানা থাকে? সম্পুর্ন অপরিকল্পিত বাড়ীঘর, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, কোন রকম পার্কিং প্লেস বিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক, শপিংমল, কমিউনিটি সেন্টার  থাকে? শহরে ব্যস্ত রাস্তার পাশেই অবাধে হকার বা কাঁচামালের বা মাছ-মাংসের দোকান থাকে? 
সরকার প্রতি বছর নানা ভাবে নানা রঙের করারোপের মাধ্যমে সরকারী খাজাঞ্চখানা ভরছে। অথচ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা এজেন্সীর নাকের নীচে পিওন-দারোয়ান-মিটার রীডার-ড্রাইভার রাজধানীসহ নানা শহরে গ্রামে কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাসাদ বানাচ্ছে; কিন্তু তাদেরকে কেউ জিজ্ঞাসা করছে না ১০/১৫ হাজার টাকা বেতন পেয়েও এত টাকা তারা ব্যয় করে কিভাবে, এত টাকা পায় কিভাবে।  সরকার তার কর্মচারীদের বেতন বর্তমানে সাধারন মানুষের আয়-ইনকামের তুলনায় কয়েকগুন বেশী প্রদান করছে। এতে বাজারে দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতিতে সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও সরকারের তাতে কিছু এসে যাচ্ছে না। বর্তমানে আয় বৈষম্য এতটাই বেড়েছে যে তাতে অনেক অর্থনীতি বিশ্লেষকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানুষের মাথাপিছু আয় দেখানো হচ্ছে ১৬৭০ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় $=১,৩৭,০০০/= (এক লাখ সাঁয়ত্রিশ হাজার টাকা)। কিন্তু এই অংক যে বিরাট শুভঙ্করের ফাঁকি সেটা যে কোন সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও বোঝে। দেশের ৮৫% মানুষের এই মাথাপিছু আয়ের সাথে কোন সম্পর্ক আছে?
বর্তমান সময়ে উন্নয়নের যে মচ্ছব চলছে তাতে এই উন্নয়নের মুল্য যে কত বেশী সেটা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া থেকেই প্রকট হয়ে ওঠে। যেখানে প্রকৃত ব্যয় হাজার টাকা সেখানে ব্যয় বরাদ্দ করা হয় দশ হাজার। তাও আবার নির্দিষ্ট সময়ে তা শেষ হয়না বলে তার বরাদ্দ ও মেয়াদ বারবারই বাড়ানো হয়। এ ব্যাপারে কারো কোন জবাবদিহিতা নেই।
দেশের যত্রতত্র ইচ্ছামত বাড়ীঘর বানানো, দোকান-পশারী বসানোর ওপরে কারো নিয়ন্ত্রন নেই। ব্যস্ত রাস্তার পাশে লাখো লাখো দোকানপাট বসছে। যেখানে সেখানে বাড়ীঘর নির্মান করা হচ্ছে। হাইওয়ের ওপর নানা রকম বাজার-হাট বসছে। দেশের এক হাজার মাইল রাস্তাকে নিরাপত্তাহীন করে তার  দুপাশে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দোকানপাট বাড়ীঘর বানানো হচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে ফ্রি-স্টাইল চলছে।
এসবই কি উন্নয়নের মহাসড়কে চলার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়? অথচ উপরোক্ত সব অনিয়ম ও অনাচারের গতি থামানো সম্ভব যদি সত্যিকার উন্নয়ন করার দৃঢ় সংকল্প সরকারের তাকে।  বর্তমানে দেশ ডিজিটাল হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই সুবিধাকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। আবার সেই সুবিধাকে জায়গামত কাজে না লাগিয়ে অ-জায়গাতে লাগানো হচ্ছে। ডিজিটাল সুবিধা কি কেবল মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকীর্ন করার জন্য?  অথচ এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি দোকানপাট, গ্যারেজ-ওয়ার্কশপ, হাসপাতাল-ক্লিনিক, কমিউনিটি সেন্টার, এমনকি গ্রাম্য হাটবাজার দোকানপাট ইত্যাদিকেও ডাটাবেজের আওতায় আনা যায়। দেশে চলমান প্রতিটি যানবাহন ডাটা বেজের আওতায় আনা যায়। এর মাধ্যমে দেশে গাড়ীচোরদের অপকর্মকেও ৯০% নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মকান্ড, আয়-ব্যয় মনিটর করা যায়। প্রতিটি টাকার গতিবিধি মনিটর করা যায়। বর্তমান অবস্থায় শতভাগ সম্ভব না হলেও ৮০% সম্ভব সেটা। উন্নত দেশগুলোতে এমনকি একটা মোবাইল স্টলও ডাটাবেজের আওতায় আছে যেটার সরকারের দৃষ্টি এড়ানো বা দেয় ট্যাক্স ফাঁকি দেবার কোন উপায় নেই। দেশকে প্রকৃত উন্নয়নশীল বা উন্নত করতে হলে ওইসব উদাহরনকে কাজে লাগিয়ে সবরকম প্রতিষ্ঠান, সে ছোট হোক আর বড় হোক, ডাটাবেজে এন্ট্রি ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বসানোর কোন রকম সুযোগ থাকা প্রকৃত উন্নয়নের পথে বিরাট বাধা বলে বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটা দেশের ইউনিয়নকে ও ওয়ার্ডকে সক্ষম করে তুললে এ কাজ কঠিন হবার কথা নয়। যে দুর্নীতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা, এই সব প্রক্রিয়াকে যথাযথভাবে কাজে লাগালে বহুলাংশে দুর্নীতি দুর করা সম্ভব।
তাই বলতে হয় উন্নয়ন উন্নয়ন করে ঢাকঢোল পেটালেই দেশ উন্নয়নশীল বা উন্নত করার কোন সুযোগ নেই। সেটা করার জন্য বুদ্ধি, মেধা, আন্তরিক প্রচেষ্টা, দৃঢ় সংকল্প ও সর্বোপরি নিখাদ দেশপ্রেম অত্যাবশ্যক। নইলে কিছুদিন মানুষকে চমক দেওয়া গেলেও আসলে কাজের কাজ কতটুকু হবে সেটা সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন সবাই জানে।  ---- ৩০/৫/২০১৫ইং

Saturday, April 28, 2018

সমাজে ধর্মীয় মুল্যবোধের অভাব - নারী নির্যাতনের মুল কারন

কথায় বলে কচু কাটতে কাটতে মানুষ খুন করা। এক কবিও বলেছেন
’ছোট বালুকার কণা বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ি তোলে মহাদেশ সাগর অতল।’
বক্ষ্যমান লেখিকা বলেছেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর নান রকম যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের কথা। পুরুষ মানুষ নারীকে ভোগ্যবস্তু বলেই মনে করে ইত্যাদি। কিন্তু কেন এই জঘন্য মানসিকতা তৈরী হয় সেটা তিনি কেন, কেউ-ই বলেন না। এ যেন গোড়া কেটে আগায় জল ঢালা। রোগের কারন না জেনে ওষুধ দেবার ব্যবস্থা। বস্তুতঃ ধর্মীয় মুল্যবোধই যাবতীয় মানবিক মুল্যবোধের উৎস। ভিনদেশীয় সমাজে, ভিন্ন ধর্মে নারীদের যে মর্যাদা সেটা প্রায় শিক্ষিত সকলেই জানেন। ইউরোপীয় কোন কোন দেশে বিবাহ নামের বিষয়টি একটি ’অপশনাল’ বিষয়। উত্তর ইউরোপীয় কয়েকটি দেশে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অবৈধ বা খারাপ, কোনভাবেই দেখা হয় না। বয়ফ্রেন্ড ও বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে এক টেবিলে খেতেও সেখানে কোন বাধা নেই। নারীদের স্বাধীনতা সেখানে এমনই যে বিয়ে-শাদী বা পরিবার বলে কোন বিষয় মোটেই গুরুত্বপুর্ন নয়। ব্যক্তিগত সুখ-সুবিধা, আরাম-আয়েসই বড় কথা। সেখানে যেহেতু ফ্রি-মিক্সিং স্বাভাবিক বিষয়, নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক যেহেতু একেবারেই স্বাভাবিক বিষয় তাই সেখানে নারী নির্যাতন বলে কোন কিছুই নেই। কিন্তু যেখানে পারিবারিক বন্ধনের ব্যাপারে বিবাহের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপুর্ন, সেই প্রাচ্যদেশীয় আবহে নারী নির্যাতন কথাটা খুবই প্রাসঙ্গিক। তো আমাদের সমাজে যখন সেই পাশ্চাত্যধারা অনুকরনকেই প্রগতিশীলতার নিয়ামক বলে মানা হচ্ছে, তখন তাদেও মত ফ্রি-মিক্সিং বা বিবাহ-বহির্ভুত যৌন সম্পর্ককে মেনে নিতে বাধা থাকবে কেন? নাচতেই যদি নামতে হয় তবে আর ঘোমটা দেওয়া কেন?
কিন্তু প্রকৃত ব্যাপারটাকে আরেকটি দৃষ্টিকোন থেকে যদি দেখা যায় তবে একথা বলতেই হয় যে আমাদের কালচারে যেটা গুরুত্বপুর্ন, সেটা হচ্ছে ধর্ম। এই দেশের ৮৫% মানুষ মুসলমান । তারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী, সে নামে হলেও ।আর ইসলামে নারীকে যে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে তা আর কোন ধর্মে দেওয়া হয়নি। এটা যারা অন্য ধর্মের অআকখ জানেন তাদেরও জানা আছে। সে বিষয়ে ভুরি ভুরি উদাহরন দেওয়া যায়। কিন্তু আমাদের সমাজে ইসলাম আজকে কোন গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে কি? দুই যুগ আগেও যেভাবে পরিবারে আমাদের ধর্মের গুরুত্ব ছিল, আজ সেটা আর আছে কি? আগে ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা প্রায় ৯০% পরিবারে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। পরিবার থেকেই শিশুরা ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক পাঠ পেতে পারত। সব পরিবারে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন পড়তে না পারলেও ধর্মের সাধারনভাবে পালনীয় বিধিবিধানগুলো প্রায় সবাই জানত। কিন্তু আজকের অবস্থা কি? হ্যাঁ, অনেকেই বলবেন প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী লেভেলে ধর্মীয় শিক্ষা তো আছে। কিন্তু পাশ করার জন্য শিক্ষা আর কার্যকরী শিক্ষার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক সেটা তো অস্বীকার করার যো নেই। তাছাড়া ক্লাশে ধর্মীয় যে তালিম শিক্ষার্থী পেল, সেটা পরিবারে গৃহ পরিবেশে যদি না থাকে তবে তো ক্লাশের সে তালিম তাকে দারুনভাবে বিভ্রান্ত করবে। আর তার ফল যে উল্টো ফলতে বাধ্য সেটাও নিশ্চিত। তাই ধর্মীয় মুল্যবোধকে যদি যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া হয় তবে ধর্ম যে মানবিক মুল্যবোধ, পারষ্পরিক শ্রদ্ভাবোধ যথা বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদের প্রতি ভালবাসা ইত্যাদি শেখায় সেগুলো শেখার সুযোগ কোথায়?
আজকে কিশোর-তরুনদেরকেও দেখা যাচ্ছে ইভটিজিং, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষনের মত গ ুরুতর অপরাধে লিপ্ত হতে। কিভাবে এটা সম্ভব, যদি সে পরিবারে সঠিকভাবে ধর্মীয় মুল্যবোধের শিক্ষা পেয়ে থাকে? পরিবার তো তাকে শেখাবে কার সাথে কি আচরন করতে হয়। যে শিশু মা-কে সম্মান করতে, মর্যাদা দিতে শিখলনা সে নারী হিসেবে আর কাকে সম্মান করবে? যে বোনকে সুস্থভাবে ভালবাসতে শিখলনা সে অন্য মেয়েকে কিভাবে সুস্থভাবে ভালবাসবে? তার মধ্যে সুস্থ চিন্তা আসবেই বা কেমন করে?
আসলে কেবল নারীদের প্রতি লোভাতুর দৃষ্টিই নয়, যে কোন কিছুর প্রতি অশোভন বা অবৈধ লোভ না করাাটা পরিবারের ভেতর থেকেই শিখতে হয়। এটা শিশুকে তার মা-বাবাই দিয়ে থাকেন। কিন্তু আজকের অবস্থা কি? আজকে দরিদ্র পরিবারে নয়, বরং ধনী ও স্বচ্ছ্বল পরিবারের সন্তানরাই অকল্পনীয় অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। এর কারন হচ্ছে সহায়-সম্পদের সাথে সাথে ধর্মীয় মুল্যবোধ ’ফেড আউট’ হয়ে যাওয়া। যে সন্তান শিখেছে যে ’মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের বেহেশত’, যে সন্তান শিখেছে যে ’ব্যাভিচার কবীরা গুনাহের কাজ’, যে সন্তান শিখেছে ’কবীরা গুনাহ আল্লাহ সহজে মাফ করবেন না’, যে সন্তান শিখেছে যে ’প্রকৃত মোমিন (মুসলমান) তারাই যাদের মুখ ও হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ’, তারা কোনো খারাপ কাজ করতে দশবার ভাবে। যে শিশু পরিবারে শেখে আল্লাহ সুন্দর; আর তিনি সুন্দরকে ভালবাসেন, সে শিশু সুšদরকে ভালবাসবে। সুন্দরকে দলা-মোচড়া বা বিকৃত করতে সে কখনোই আগ্রহী হতে পারে না। যে শিশু শিখেছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ, সে কখনো এখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করবে না। তবে হ্যাঁ, এ ছাড়াও আমাদের শৈশবে নৈতিক শিক্ষামুলক নানা কবিতা, গল্প ইত্যাদি যেসব পাঠ্য ছিল সেগুলোর কোন কিছু বর্তমানে আর চোখে পড়ে না।
প্রকৃতপক্ষে আজ সমাজে কেবল নারীর প্রতি সহিংসতা নয়, সকল বিষয়ই সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। সব কিছুকে লোভাতুর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে অভ্যস্ত চোখ কেবল নারীকেই না, সব কিছুকেই বৈধ অবৈধ যে কোন ভাবে পাবার জন্য লালায়িত হবে এটাই সত্য। এই অপকর্মে ধর্ম সবচেয়ে দৃঢ় ও কার্যকর প্রতিবন্ধক। সেই ধর্মীয় শিক্ষা সে যদি না পায়, সে যদি পরিবার থেকে একজন ভাল মানুষ হবার শিক্ষা না পায়, তবে তার কাছ থেকে ভাল কছিু পাবার আশা করা একান্তই নিরর্থক। আমাদের দৃষ্টি যে কেবল নারী নির্যাতনের উপর নিবদ্ধ সেটা এক রকমের ভ্রান্তি। যে সুন্দরকে দলিত-মথিত করতে, রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে প্রাকৃতিক কর্ম সারতে, মানুষের প্রতি খারাপ আচরন করতে, দুর্নীতি করতে লজ্জা পায় না, সে কেবল নারীর প্রতি সু-আচরন করবে, তাকে সম্মান করবে এটা ভাবাই এক ধরনের মূঢ়তা ছাড়া আর কিছু নয়। যতক্ষন আমাদের সমাজের দায়িত্বশীল মানুষদের এই দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন না হবে ততক্ষন কেবল নারী নিপীড়নের বিষয়ে হা-হুতাশ করাই সার হবে। কাজের কাজ কিছু হবে বলে মনে হয় না।


Monday, April 23, 2018

দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার হাল বর্ননা করতে হলে সংযুক্ত গল্পটি একটু ভাল করে পড়ার জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি। গল্পটি সম্ভবতঃ বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে কোন শ্রেনীতে পাঠ্য নেই।   সম্ভবতঃ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা বর্ননা করতে বিশ্বকবির এই গল্পটির চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কোন কিছু নেই।   তাই খোদ বিশ্বকবির পূজারীরাও আর এই গল্পটি পাঠ্যসূচীতে রাখতে সাহস করে নি। 
                              তোতা কাহিনী
                                          রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এক যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ; সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে। রাজা বলিলেন এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়। মন্ত্রী কে ডাকিয়া বলিলেন, ’পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’

রাজার ভাগিনাদের উপর পড়িল পাখিটাকে শিক্ষা দেবার দায়িত্ব। পন্ডিতেরা বসিয়া অনেক বিচার করিলেন। প্রশ্নটা এই যে উক্ত জীবের অবিদ্যার কারনটা কি? সিদ্ধান্ত হইল সামান্য খড়কুটা দিয়া পাখি যে বাসা বাঁধে সে বাসায় বিদ্যা বেশী ধরে না। তাই সকলের আগে দরকার ভালো করিয়া খাঁচা বানাইয়া দেওয়া।
রাজ পন্ডিতেরা দক্ষিনা পাইয়া খুশী হইয়া বাসায় ফিরিলেন।

স্যাকরা বসিল সোনার খাঁচা বানাইতে। খাঁচাটা হইল এমন আশ্চর্য যে দেখিবার জন্য দেশবিদেশের লোক ঝুঁকিয়া পড়িল।কেহ বলে, শিক্ষার একেবারে হদ্দমুদ্দ।কেহ বলে, শিক্ষা যদি নাও্র হয় খাঁচা তো হইল। পাখির কি কপাল!
স্যাকরা থলি বোঝাই করিয়া বকসিস পাইল। খুশী হইয়া সে তখনি পাড়ি দিল বাড়ীর দিকে। পন্ডিত বসিলেন পাখিকে বিদ্যা শিখাইতে। নস্য লইয়া বলিলেন, ’অল্প পুঁথির কর্ম নয়।’
ভাগিনা তখন পুঁথি লিখকদের তলব করিলেন। তারা পুঁথির নকল করিয়া এবং নকলের নকল করিয়া পর্বতপ্রমান করিয়া তুলিল। যে দেখিল সেই বলিল, ’সাবাস! বিদ্যা আর ধরেনা।’
লিপিকরের দল পারিতোষিক লইয়া বলদ বোঝাই করিয়া তখনি ঘরের দিকে দৌড় দিল। তাদের সংসারে আর টানাটানি রহিল না।
অনেক দামের খাঁচাটার জন্য ভাগিনাদের খবরদারির সীমা নাই। মেরামত তো লাগিয়াই আছে। তার পরেও মোছা পালিশ করার ঘটা দেখিয়া সকলেই বলিল, ’উন্নতি হইতেছে।’
লোক লাগিল বিস্তর এবং তাদের উপর নজর রাখিবার জন্য লোক লাগিল আরো বিস্তর। তারা মাস-মাস মুঠামুঠা তনখা পাইয়া সিন্দুক বোঝাই করিল। তারা এবং এবং তাদের মামাতো খুড়তুতো, মাসতুতো ভাইরা খুশী হইয়া কোঠা-বালাখানায় গদি পাতিয়া বসিল।

সংসারে অন্য অভাব অনেক আছে, কেবল নিন্দুক আছে যথেষ্ঠ। তারা বলিল, খাঁচাটার উন্নতি হইতেছে কিন্তু পাখিটার খবর কেহ রাখে না।
কথাটা রাজার কানে গেল। তিনি ভাগিনাকে ডাকিয়া বলিলেন, ’ভাগিনা, একি কথা শুনি?’
ভাগিনা বলিল, ’মহারাজ, সত্য কথা যদি শুনিবেন তবে ডাকুন স্যাকরাদের, পন্ডিদের, লিপিকরদের এবং যারা মেরামত করে এবং যারা মেরামত তদারক করিয়া বেড়ায়।নিন্দুকগুলি খাইতে পায় না বলিয়াই মন্দ কথা কয়।’
জবাব শুনিয়া রাজা অবস্থাটা পরিষ্কার বুঝিলেন। আর তখনই ভাগিনাদের গলায় সোনার হার চড়িল।শিক্ষা যে কি ভয়ঙ্কর তেজে চলিতেছে রাজার ইচ্ছা হইল স্বয়ং দেখিবেন। একদিন তাই পাত্র-মিত্র অমাত্য লইয়া শিক্ষাশালায় তিনি স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত। দেউড়ির কাছে অমনি বাজিল শাঁখ-ঘন্টা, ঢাক-ঢোল কাড়া-নাকাড়া, ত’রী ভেরী, দামামা, কাঁসি, বাঁশি, কাঁসের খোল, করতাল, মৃদঙ্গ, জগঝম্প। পন্ডিতেরা গলা ছাড়িয়া টিকি নাড়িয়া মন্ত্রপাঠে লাগিলেন। মিস্ত্রি মজুর স্যাকরা লিপিকর তদারকনবিশ আর মামাতো, পিসতুতো খুড়তুতো ভাইয়েরা জয়ধ্বনি তুলিল।
ভাগিনা বলিল, মহারাজ, কান্ডটা দেখিতেছেন? মহারাজ বলিলেন, আশ্চর্য, শব্দ কম নয়। ভাগিনা বলিল, কেবল শব্দ নয়, অর্থও কম নাই।
রাজা খুশি হইয়া দেউড়ি পার হইয়া যেই হাতিতে উঠিবেন এমন সময় নিন্দুক ঝিল ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়া, সে বলিয়া উঠিল, ’মহারাজ, পাখিটাকে দেখিয়াছেন কি?’
রাজার চমক লাগিল, ’ঐ যা, মনে তো ছিল না। পাখিটাকে দেখা হয় নাই।’ ফিরিয়া আসিয়া পন্ডিতকে বলিলেন, ’পাখিকে তোমরা কেমন শেখাও তার কায়দাটা দেখা চাই।’ দেখা হইল। দেখিয়া বড় খুশি। কায়দাটা পাখির চেয়ে এত বেশী বড় যে পাখিটাকে দেখাই যায় না। মনে হয় তাকে না দেখিলেও চলে। রাজা বুঝিলেন আয়োজনের ত্রুটি নাই। খাঁচায় দানা নাই, পানি নাই। কেবল রাশি রাশি পুঁথি হইতে রাশি রাশ পাতা ছিঁড়িয়া কলমের ডগা দিয়া পাখির মুখে ঠাসা হইতেছে। গান তো বন্ধ, চিৎকার করিবার ফাঁকটুকু পর্যন্ত বোঁজা। দেখিলেই শরীরের রোমাঞ্চ হয়। এবার রাজা হাতিতে চড়িবার সময় কানমলা-সর্দারকে বলিয়া দিলেন, নিন্দকুটাকে যেন আচ্ছা করিয়া কানমলা দেওয়া হয়।

পাখিটা দিনে দিনে ভদ্র, দস্তুরমত আধমরা হইয়া আসিল। অভিভাবকেরা বুঝিল, বেশ আশাজনক। তবু স্বভাবদোষে সকালবেলার আলোর দিকে পাখি চায় আর অন্যায়রকমে পাখা ঝটপট করে। এমনকি এক-একদিনে দেখা যায় সে তার রোগা ঠোঁট দিয়া খাঁচার শলাকা কাটিবার চেষ্টায় আছে।
কোতোয়াল বলিল, ’একি বেয়াদবি!’
তখন শিক্ষামহলে হাপর হাতুড়ি আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির। কী দমাদ্দম পিটানি! লোহার শিকল তৈরী হইল। পাখির ডানাও গেল কাটা। রাজার সম্মন্ধীরা মুখ হাঁড়ি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, এ রাজ্যে পাখিদের কেবল যে আক্কেল নাই তা নয়, কৃতজ্ঞতাও নাই। তখন পন্ডিতেরা এক হাতে কলম এক হাতে সড়কি লইয়া এমনি কান্ড করিল যাকে বলে শিক্ষা! কামারের পসার বাড়িয়া কামার গিন্নির গায়ে সোনাদানা চড়িল এবং কোতোয়ালের হুঁশিয়ারি দেখিয়া রাজা তাকে শিরোপা দিলেন।     

পাখিটা মরিল। কোনকালে যে তা কেউ ঠাহর করিতে পারে নাই। নিন্দুক লক্ষীছাড়া রটাইল, পাখি মরিয়াছে। ভাগিনাকে রাজা ডাকিয়া বলিলেন, ’ভাগিনা একি কথা শুনি?’ ভাগিনা কহিল, ’মহারাজ, পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে।’
রাজা শুধাইলেন, ’ওকি আর লাফায়?’ ভাগিনা বলিল, ’আরে রাম!’
’আর কি নড়ে?’
’না।’
’আর কি গান গায়?’
’না।’
’দানা না পাইলে আর কি চেঁচায়?’
’না।’
রাজা বলিলেন, ’একবার পাখিটাকে আনো তো দেখি।’
পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন। সে হাঁ করিল না, হুঁ করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে শুকনো পুঁথির পাতা খস্খস্ গজ্গজ্ করিতে লাগিল।
বাহিরে নববসন্তের দক্ষিন হাওয়ায় কিশলয়গুলি দীর্ঘনঃিশ্বাসে মুকুলিত বনের আকাশ আকুল করিয়া দিল।

Thursday, April 19, 2018

দুর্নীতি দমনই গুরুত্বপুর্ন কাজ' শিরোনামে জনাব আ,ই,মজুমদার সাহেবের একটি নিবন্ধ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।   তার সাথে একটু দ্বিমত প্রকাশ করে বলতে হয়দুর্নীতি দমন নয় বরং নির্মুল করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যই এই দেশের জন্য অত্যাবশ্যক।   তবে দুর্নীতি নির্মুলই হোক আর দমনই হোক তার জন্য যে শক্ত মেরুদন্ড ও দৃঢ়চিত্ত মানুষের দরকার সে ধরনের মানুষ বাংলাদেশ সম্ভবতঃ জন্ম দিতেই ভুলে গেছে।   দাঁত ভাঙ্গা সিংহ যে শিকার করতে পারে না সেটা কে না জানে? তাই যে দেশে রাজনৈতিক সর্বাধিকারীর সে রকম মনোভাব নেই যে তিনি বা তাঁরা দুর্নীতির মুলোৎপাটন করবেন, সে দেশ থেকে দুর্নীতি দুর হবার কোন সম্ভবনা নেই।   আমাদের দেশের আশেপাশেই সিংগাপুর।   সেখানকার নেতা লি কুয়ান ইউ ছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত 'জিরো টলারেন্স' কার্যকর করার একজন আদর্শ পুরুষ।  তাঁর নীতি ও আদর্শে সিংগাপুর এখনো পরিচালিত হচ্ছে বলে সেখানে করাপশন  দৃশ্যমান নয়।  তেমনই জার্মানী ও জাপান বা ইউরোপের প্রায় সব দেশেই দুর্নীতি প্রায় শুন্যের কোঠায়।   কদাচ কোথাও দুর্নীতি হলে তাতে দুর্নীতিবাজদের ছাড় পাবার কোন উপায় নেই।   কিন্তু আমাদের দেশটি দুর্নীতিকে সাথে নিয়েই জন্মেছে।   যে কারনে খোদ বঙ্গবন্ধুকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে লোকে পায় সোনার খনি আর তিনি পেয়েছেন চোরের খনি।   তিনি আরো বলেছেন, সাত কোটি কম্বল আসল;কিন্তু আমারটা গেল কোথায়? কিন্তু এসব বলেই তিনি কাজ সমাপ্ত করেছেন।   তখন যদি একজন দুর্নীতিবাজও ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের সম্মুখীন হতো তবে আজ এই অবস্থা হতে পারত না।  দুর্নীতি দুর করার জন্য সর্বাগ্রে দরকার মুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে মানুষ তাদের পছন্দমত দুর্নীতিমুক্ত একজনকে ভোট দিতে পারে।   সেটারই কোন অবকাশ এই দেশে এখন নেই।   জনমত যাচাইএর যে একটি পথ ছিল 'গনভোট' ব্যবস্থা, তার বিধানটাই বর্তমান সরকার উঠিয়ে দিয়েছে।  তাই প্রথমেই বলা যায় যে দুর্নীতি দুর করার কোন আগ্রহ বা ইচ্ছা বর্তমান সরকারের (বরং বলা যায় কোন সরকারের) আছে সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।   তো এই যে দেশের অবস্থা সেই দেশ থেকে দুর্নীতি দুর করবার জন্য বর্তমান প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা সেই দাঁতভাঙ্গা সিংহের মত।   এর শিকার করার ক্ষমতা নেই।   বড়জোর একটু গর্জন করতে পারে বুড়ো গলায়।  --- 20/4/2018

Friday, April 13, 2018

শিক্ষা শিক্ষা শিক্ষা
শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এদেশে শোরগোল হৈ চৈ চলছেই। তবে এই হৈ চৈ শোরগোল যে সবটাই কেজো তা বোধ হয় বলা যাবে না। যেমন অভিভাবকদের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর অনাবশ্যক পাঠ্য-পুস্তকের বোঝা কমানোর জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা। কিন্তু অভিভাবকরা সে দিকে যান নি, যাচ্ছেনও না। তারা প্রাইভেট টিউশনির সিস্টেম বন্ধ করে স্কুলে যাতে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া হয়, তার জন্য আন্দোলন করতে পারতেন। কিন্তু সেটা তারা করছেন না। মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষক দরকার। সেই শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না; হচ্ছে টাকা-পয়সার বিনিময়ে বা দলবাজির গুনে গুনান্বিত শিক্ষক নিয়োগ। সেটা বšধ করার জন্য যে আন্দোলন দরকার ছিল সেটা তারা করছেন না। কথায় বলে পাহাড় থেকে নেমে আসা ¯্রাোতস্বিনীকে মাঝপথে আটকানো অসম্ভব। উপরোক্ত সব কিছুকে মেষসুলভ নমনীয়তায় মেনে নেবার পর অভিভাবকদের এই শোরগোল কেবল পানি ঘোলা করতে পারে; কাজের কাজ কিছু হবে বলে মনে হয় না।
শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য, বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফিস আদায়ের কথায় আসা যাক। শিক্ষকরা তো তবু গতর খাটিয়ে পড়িয়ে কিছু টাকা-পয়সা আয়-রোজগার করেন। কিন্তু হঠাত করে সরকারের অসীম বদান্যতায় ডাবল বেতন পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যে ফাইল আটকিয়ে  জনগনের ট্যাঁক খসাচ্ছেন সেটা সম্মানিত অভিভাবকদের চোখে পড়ে না কেন? নাকি শিক্ষকগন ’নরম জায়গা’ বলে? জনগনের ০.০১% সরকারী কর্মচারীদের বেতন ডাবল হলেও আম জনগনের তো আর সেই হারে আয় বাড়েনি। কিন্তু তাদের জন্য তো কোন আলাদা হাট-বাজার নেই। তাই শিক্ষকগন, যারা সেই আম জনতারই অংশ, তারা প্রাইভেট পড়িয়ে যদি দু’পয়সা আয় করেনই তবে অভিভাবকদের তাতে গা জ্বালা করে কেন? তারা কি এ সমাজের বাইরে থেকে আসা ভিনগ্রহের মানুষ? শিক্ষামন্ত্রনালয় তো এর আগে দুর্নীতিতে প্রায় পয়লা নম্বরে স্থান করে নিয়েছিল। সেটা তো আর এমনিতে না। সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত 'nurse the baby, protect the child, free the adult.’ কিন্তু সরকারের কাজই হচ্ছে তেলা মাথায় তেল ঢালা। এই শহরে যে সব স্কুল নিজে স্বয়ং সম্পুর্ন তাদের জন্য এমপিও কেন? তারা তো তাদের শিক্ষকদের মুল বেতনের ৩/৪ গুন পর্যন্ত বেশী বেতন দিচ্ছে। অথচ এই শহরে এমন স্কুলের সংখ্যাই প্রায় ৮০% - ৮৫% যারা স্কুল থেকে মুল বেতনের অর্ধেকই দিতে পারে না। সরকারের কি এসব দিকে খেয়াল দেওয়া উচিত ছিল না? তাছাড়া যে বেতন কাঠামো নির্ধারন করা হয়েছে, সেই একই কাঠামোতে মফস্বলে ও রাজধানী শহরে একই হারে বেতন দেওয়া হচ্ছে। অথচ মফস্বলে যেখানে একটা তিন কামরার সুন্দর মানসম্পন্ন বাড়ীর ভাড়া তিন থেকে চার হাজার টাকা, সেখানে এই শহরে ঐ একই বাড়ীর ভাড়া অন্ততঃপক্ষে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা। সরকারের কি এদিকটাও দেখা উচিত নয়? কিন্তু না; এসব কিছুই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সাহেব বা অর্থমন্ত্রী সাহেবদের মাথায় ঢোকেই না।
এসবই এ দেশের সরকার ও প্রশাসনের অবিচনা ও অবিচারের নীতি। শিক্ষামন্ত্রনালয় নি¤œপর্যায়ে অনাবশ্যক বিষয় চাপিয়ে সেগুলোর জন্য যেসব শিক্ষক নির্দেশিকা ইত্যাদি চালু করছে, সেসব বি,এড, বা এম, এড পর্যায়েই শিক্ষদের শেখানো হয়ে তাকে। যেটা দরকার সেটা রিফ্রেসারস ট্রেনিং কোর্স হিসেবে করানো যেতে পারে। আর সেটাই বেশী দরকার। কিন্তু এই সব নির্দেশিকা টির্দেশিকা করতে যে অনাবশ্যক বিপুল অংকের অর্থব্যয় হচ্ছে সেটা তো জনগনের পকেট থেকেই আসছে। অথচ এর উপযোগীতা কতটুকু? প্রকৃতপক্ষে থিওরী আর প্র্যাকিটসের মধ্যে যে বহুত পার্থক্য সেটা এই মহামহিমগন কতটুকু বোঝেন তা বোঝা বেশ কঠিনই বটে। এ বিষয়ে বেশী বলা অনাবশ্যক; কারন দেশের জনগনের অর্থনৈতিক অবস্থার সার্বিক মান এবং শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের কতরকমের ক্যাটাগরী সেটা বিবেচনায় নিলে শ্রেণীতে একজন শিক্ষক কতটুকু কি করতে পারেন সেটা যারা ফিল্ডে কাজ করেন তারাই অনেক বেশী বোঝেন। গাছের মগডালে বসে বার্ডস্ আই ভিউ নিয়ে তা বোঝা অনেকটাই কঠিন। কিন্তু সে কথা কে কাকে বোঝাবে?
 যাহোক, শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ম্যা-লা কথা হয় ও হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কতটুকু হচ্ছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার অবস্থা দেখে অনেকটাই ধারনা করা যায়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সাহেব এ-প্লাস পাওয়া নিয়ে যে লড়াই-কসরত করছেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে শিক্ষার প্রকৃত মান উন্নয়ন সম্পর্কে তার অর্ধেক চিন্তাও যদি তাঁর থাকত তবে হয়ত পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতে পারত না। কিন্তু কি আর বলা।

এদেশে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এত রকমের এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে যে এদেশটা এক্ষেত্রে সম্ভবতঃ একটা বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পেরেছে। সেই পাকিস্তান আমল থেকে এদেশে প্রতিবারই এক একটা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে আর তার বিরুদ্ধে একশ্রেনীর আঁতেল আদাজল খেয়ে লেগে সেটাকে বস্তাবন্দী করতে বাধ্য করেছে। অনেক কসরত করে শেষাবধি এই হালে ২০১০ সালে একাট শিক্ষানীতি হয়েছে তবে সেটাও সমালোচনার উর্দ্ধে উঠতে পারেনি। বস্তুতঃ শিক্ষানীতিতে যত বেশী কথা বলা হয়েছে কাজ ততটাই কম হয়েছে ও হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ’বুশ আমেরিকা ২০০০ এডুকেশন প্ল্যান’-এর কথাটা এখানে উল্লেখ করা হয়ত অপ্রাসঙ্গিক হবে না। এই প্ল্যানে বলা হয়েছে ---
Bush ‘America 2000 Plan’ for Education:-
1.       That all children must be physically and mentally ready to learn.
2.       That the graduation rate must rise to 90%, the international standard.
3.       The American students will leave grades 4th, 8th and 12th having demonstrated the highest competency in challenging subjects including English, mathematics, science, history and geography and have a meaningful set of examinations to measure whether they know what they are supposed to know at those levels.
4.       That the American students will be the first in the world in science and mathematics achievements.
5.       That every adult American will be literate and will possess the knowledge and skills necessary to compete in the global economy and exercise the rights and responsibilities of citizenship; and

6.       That every school in America will be free of drugs and violence and offer a disciplined environment conducive to learning.
এখানে ৩ ও ৬-নং উদ্দেশ্যটি কি আমাদের শিক্ষানীতিতে কোন গুরুত্ব পেয়েছে? আজকে শিক্ষার মান নিয়ে যে হাহুতাশ চলছে সেটার পেছনে কারন কি? মোটা দাগে একাধিক কারনের মধ্যে বিশেষ তিনটি কারনই প্রধান। এক, রাজনৈতিক বিবেচনা তথা দলবাজি ও টাকা-পয়সার বিনিময়ে অযোগ্য, অদক্ষ ও আদর্শহীন শিক্ষক নিয়োগ; দুই, শিক্ষাক্ষেত্রে সফ্ট্ওয়্যার (ট্রেনিং, পদোন্নতির জন্য ট্র্যাক রেকর্ড ও পিরিওডিক স্কিল টেস্ট, মোটিভেশন ইত্যাদি)-এর পেছনে ব্যয় না বাড়িয়ে হার্ডওয়্যার (বিল্ডিং ইত্যাদি জাতীয় অবকাঠামো)-এর পেছনে সিংহভাগ ব্যয় এবং সরকারী সিদ্ধান্তের লিকুইডিটি। আমাদের সামগ্রিক শিক্ষার ’goal-ই বা কি? উচ্চ-ডিগ্রীধারী বেকার সংখ্যা বাড়ানো, না কি প্রকৃত কর্মদক্ষ জনসম্পদ বাড়ানো? যদি দ্বিতীয়টিই goal বা উদ্দেশ্য হয় তবে দেশে এত এত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা কি?  দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়িয়ে উচ্চ ডিগ্রীধারীর সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে কোন জাতীয় দুরদর্শিতা বা দেশপ্রেম (?!) কাজ করছে? বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে যে মাননীয় শিক্ষমন্ত্রী শিক্ষার মান বাড়ানোর বদলে পাশের হার বাড়ানোর এক মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন। বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাহেবগন নাকি পরীক্ষকদের নির্দেশ দিচ্ছেন কাউকে ফেল করানো যাবে না।এই রকম তোগলোকি ব্যবস্থা বহাল রেখে দেশে শিক্ষার মান উন্নত করার যে হাস্যকর ব্যর্থ চেষ্টা সেটা বুঝমান মানুষকে কেবল হাসানো ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারে? দেশের শিক্ষার মান এমনই উন্নত হয়েছে যে দেশের লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত (??) তরুন-তরুনী থাকা সত্বেও দেশের কর্পোরেট বিজনেসগুলোকে নাকি বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করে আনতে হচ্ছে। এবং সেই পথ দিয়ে দেশ থেকে বছরে নাকি ৩৪/৩৫ হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। কি তামশা! এই যদি অবস্থা হয় তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কি ধরনের ’মাল’ উৎপাদন করছে? এই প্রশ্নেরও সম্ভবতঃ জবাব দেবার কেউ নেই।

Wednesday, April 4, 2018

Unabated incidents of rape

ইদানিং ধর্ষণ নিয়ে বেশ তোলপাড় হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়াতে। অনেক প্রগতিশীলদের মত হচ্ছে পোষাক নয় পুরুষের মানসিকতাই এই ন্যাক্কারজনক অপরাধের জন্য দায়ী। কথাটা একেবারে ফেলনা নয়। তবে আরো বেশ কিছু বিষয় অবশ্যই আছে। মানুষ মুলতঃ একটি এনিম্যাল বা প্রাণী। তবে সে র‌্যাশনাল এনিম্যাল। তার বিবেক আছে; আছে লজ্জা। এজন্যই সে অন্য প্রাণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। প্রাণীরা প্রকাশ্যে প্রাকৃতিক কর্ম সারে, এমনকি যৌনকর্মও। কিন্তু মানুষ তা করে না; করতে পারে না। তাহলে তার ও প্রানীদের মধ্যে আর পার্থক্য থাকে না। তবে এই বিবেক কিভাবে জাগ্রত হয় এবং সঞ্জীবিত থাকে? প্রধানতঃ তা তিনটি কারনে। এক, তার পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষা; দুই, তার মনের মধ্যে রোপিত ধর্মীয় বিধি-নিষেধের প্রতি অটল শ্রদ্ধা এবং তিন, রাস্ট্রীয় আইনের শাসন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর কোনটি আমাদের সমাজে বিরাজমান? কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনটিই নেই। এদেশে এক শ্রেনীর আঁতেল ধর্মীয় বিধি-নিষেধকে পশ্চাৎপদতা বলে তথাকথিত প্রগতিশীলতার ধ্বজা ধরে আছেন। তারা নাকি পাশ্চাত্য ও পৌত্তলিকতার চাদরে মোড়ানো সভ্যতা ও কালচারকে এদেশে চালু করার নিরন্তর চেষ্টায় নিরত। কিন্তু তারা পাশ্চাত্যের ’পারমিসিভনেস’ বা ফ্রি-সেক্স-কে বা কুমারী মাতৃত্বকে পছন্দ করেন না। এ যেন সেই জলে নামব, জল ছিটাবো কিন্তু জল তো ছোঁবনা-র মত আব্দার! সামজিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে চলার যে কতটা আবশ্যকতা, সেটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এইডস্-এর ব্যপক বিস্তারের বিষয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন যে ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতা মেনে চলাটা এই দুরারোগ্য ও প্রাণঘাতি রোগের বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। বিল ক্লিন্টন সাহেবকে তো আর প্রগতিবিরোধী বা প্রতিক্রিয়াশীল বলার সাহস ঐ সব আতেঁলদের নেই। প্রকৃতপক্ষে যখন থেকে ধর্মীয় বিধি-বিধানকে পদদলিত করে নিজেদের দুরাকাংখা ও দুশ্চারিত্র্যকে প্রগতিশীলতা বলে চালানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, লক্ষ্য করলে পরিষ্কার দেখা যাবে যে তখন থেকেই এই লাম্পট্য ও ধর্ষণকান্ড দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। পবিত্র কোরআন বলে, তোমরা (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) যখন রাস্তায় চলবে তখন যেন তোমাদের দৃষ্টি নত থাকে। আরো উত্তম উদাহরন হচ্ছে মনে মহান আল্লাহতায়ালার ভয় লালন করা। কারন মুসলমান রোজা রাখে এমনকি সারাদিন এক ফোঁটা পানিও না খেয়ে। অথচ গোপনে পেট পুরে খেলেও তো তাকে কেউ দেখছে না। তবুও কেবল আল্লাহতায়ালার ভয়েই সে পানাহার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে। এই একটি বিষয়ই কি অনেক কিছু বোঝার জন্য যথেষ্ঠ নয়? যদি মানুষের মনে খোদাভীতি কাজ করে তবে সমাজে বহু পাপ ও দুষ্কৃতি দুর না হয়ে পারেই না। কিন্তু এ কথাটা কে কাকে বোঝাবে?