Wednesday, April 4, 2018

Unabated incidents of rape

ইদানিং ধর্ষণ নিয়ে বেশ তোলপাড় হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়াতে। অনেক প্রগতিশীলদের মত হচ্ছে পোষাক নয় পুরুষের মানসিকতাই এই ন্যাক্কারজনক অপরাধের জন্য দায়ী। কথাটা একেবারে ফেলনা নয়। তবে আরো বেশ কিছু বিষয় অবশ্যই আছে। মানুষ মুলতঃ একটি এনিম্যাল বা প্রাণী। তবে সে র‌্যাশনাল এনিম্যাল। তার বিবেক আছে; আছে লজ্জা। এজন্যই সে অন্য প্রাণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। প্রাণীরা প্রকাশ্যে প্রাকৃতিক কর্ম সারে, এমনকি যৌনকর্মও। কিন্তু মানুষ তা করে না; করতে পারে না। তাহলে তার ও প্রানীদের মধ্যে আর পার্থক্য থাকে না। তবে এই বিবেক কিভাবে জাগ্রত হয় এবং সঞ্জীবিত থাকে? প্রধানতঃ তা তিনটি কারনে। এক, তার পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষা; দুই, তার মনের মধ্যে রোপিত ধর্মীয় বিধি-নিষেধের প্রতি অটল শ্রদ্ধা এবং তিন, রাস্ট্রীয় আইনের শাসন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর কোনটি আমাদের সমাজে বিরাজমান? কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনটিই নেই। এদেশে এক শ্রেনীর আঁতেল ধর্মীয় বিধি-নিষেধকে পশ্চাৎপদতা বলে তথাকথিত প্রগতিশীলতার ধ্বজা ধরে আছেন। তারা নাকি পাশ্চাত্য ও পৌত্তলিকতার চাদরে মোড়ানো সভ্যতা ও কালচারকে এদেশে চালু করার নিরন্তর চেষ্টায় নিরত। কিন্তু তারা পাশ্চাত্যের ’পারমিসিভনেস’ বা ফ্রি-সেক্স-কে বা কুমারী মাতৃত্বকে পছন্দ করেন না। এ যেন সেই জলে নামব, জল ছিটাবো কিন্তু জল তো ছোঁবনা-র মত আব্দার! সামজিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে চলার যে কতটা আবশ্যকতা, সেটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এইডস্-এর ব্যপক বিস্তারের বিষয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন যে ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতা মেনে চলাটা এই দুরারোগ্য ও প্রাণঘাতি রোগের বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। বিল ক্লিন্টন সাহেবকে তো আর প্রগতিবিরোধী বা প্রতিক্রিয়াশীল বলার সাহস ঐ সব আতেঁলদের নেই। প্রকৃতপক্ষে যখন থেকে ধর্মীয় বিধি-বিধানকে পদদলিত করে নিজেদের দুরাকাংখা ও দুশ্চারিত্র্যকে প্রগতিশীলতা বলে চালানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, লক্ষ্য করলে পরিষ্কার দেখা যাবে যে তখন থেকেই এই লাম্পট্য ও ধর্ষণকান্ড দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। পবিত্র কোরআন বলে, তোমরা (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) যখন রাস্তায় চলবে তখন যেন তোমাদের দৃষ্টি নত থাকে। আরো উত্তম উদাহরন হচ্ছে মনে মহান আল্লাহতায়ালার ভয় লালন করা। কারন মুসলমান রোজা রাখে এমনকি সারাদিন এক ফোঁটা পানিও না খেয়ে। অথচ গোপনে পেট পুরে খেলেও তো তাকে কেউ দেখছে না। তবুও কেবল আল্লাহতায়ালার ভয়েই সে পানাহার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে। এই একটি বিষয়ই কি অনেক কিছু বোঝার জন্য যথেষ্ঠ নয়? যদি মানুষের মনে খোদাভীতি কাজ করে তবে সমাজে বহু পাপ ও দুষ্কৃতি দুর না হয়ে পারেই না। কিন্তু এ কথাটা কে কাকে বোঝাবে?

No comments:

Post a Comment