Thursday, April 19, 2018

দুর্নীতি দমনই গুরুত্বপুর্ন কাজ' শিরোনামে জনাব আ,ই,মজুমদার সাহেবের একটি নিবন্ধ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।   তার সাথে একটু দ্বিমত প্রকাশ করে বলতে হয়দুর্নীতি দমন নয় বরং নির্মুল করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যই এই দেশের জন্য অত্যাবশ্যক।   তবে দুর্নীতি নির্মুলই হোক আর দমনই হোক তার জন্য যে শক্ত মেরুদন্ড ও দৃঢ়চিত্ত মানুষের দরকার সে ধরনের মানুষ বাংলাদেশ সম্ভবতঃ জন্ম দিতেই ভুলে গেছে।   দাঁত ভাঙ্গা সিংহ যে শিকার করতে পারে না সেটা কে না জানে? তাই যে দেশে রাজনৈতিক সর্বাধিকারীর সে রকম মনোভাব নেই যে তিনি বা তাঁরা দুর্নীতির মুলোৎপাটন করবেন, সে দেশ থেকে দুর্নীতি দুর হবার কোন সম্ভবনা নেই।   আমাদের দেশের আশেপাশেই সিংগাপুর।   সেখানকার নেতা লি কুয়ান ইউ ছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত 'জিরো টলারেন্স' কার্যকর করার একজন আদর্শ পুরুষ।  তাঁর নীতি ও আদর্শে সিংগাপুর এখনো পরিচালিত হচ্ছে বলে সেখানে করাপশন  দৃশ্যমান নয়।  তেমনই জার্মানী ও জাপান বা ইউরোপের প্রায় সব দেশেই দুর্নীতি প্রায় শুন্যের কোঠায়।   কদাচ কোথাও দুর্নীতি হলে তাতে দুর্নীতিবাজদের ছাড় পাবার কোন উপায় নেই।   কিন্তু আমাদের দেশটি দুর্নীতিকে সাথে নিয়েই জন্মেছে।   যে কারনে খোদ বঙ্গবন্ধুকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে লোকে পায় সোনার খনি আর তিনি পেয়েছেন চোরের খনি।   তিনি আরো বলেছেন, সাত কোটি কম্বল আসল;কিন্তু আমারটা গেল কোথায়? কিন্তু এসব বলেই তিনি কাজ সমাপ্ত করেছেন।   তখন যদি একজন দুর্নীতিবাজও ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের সম্মুখীন হতো তবে আজ এই অবস্থা হতে পারত না।  দুর্নীতি দুর করার জন্য সর্বাগ্রে দরকার মুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে মানুষ তাদের পছন্দমত দুর্নীতিমুক্ত একজনকে ভোট দিতে পারে।   সেটারই কোন অবকাশ এই দেশে এখন নেই।   জনমত যাচাইএর যে একটি পথ ছিল 'গনভোট' ব্যবস্থা, তার বিধানটাই বর্তমান সরকার উঠিয়ে দিয়েছে।  তাই প্রথমেই বলা যায় যে দুর্নীতি দুর করার কোন আগ্রহ বা ইচ্ছা বর্তমান সরকারের (বরং বলা যায় কোন সরকারের) আছে সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।   তো এই যে দেশের অবস্থা সেই দেশ থেকে দুর্নীতি দুর করবার জন্য বর্তমান প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা সেই দাঁতভাঙ্গা সিংহের মত।   এর শিকার করার ক্ষমতা নেই।   বড়জোর একটু গর্জন করতে পারে বুড়ো গলায়।  --- 20/4/2018

Friday, April 13, 2018

শিক্ষা শিক্ষা শিক্ষা
শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এদেশে শোরগোল হৈ চৈ চলছেই। তবে এই হৈ চৈ শোরগোল যে সবটাই কেজো তা বোধ হয় বলা যাবে না। যেমন অভিভাবকদের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর অনাবশ্যক পাঠ্য-পুস্তকের বোঝা কমানোর জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা। কিন্তু অভিভাবকরা সে দিকে যান নি, যাচ্ছেনও না। তারা প্রাইভেট টিউশনির সিস্টেম বন্ধ করে স্কুলে যাতে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া হয়, তার জন্য আন্দোলন করতে পারতেন। কিন্তু সেটা তারা করছেন না। মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষক দরকার। সেই শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না; হচ্ছে টাকা-পয়সার বিনিময়ে বা দলবাজির গুনে গুনান্বিত শিক্ষক নিয়োগ। সেটা বšধ করার জন্য যে আন্দোলন দরকার ছিল সেটা তারা করছেন না। কথায় বলে পাহাড় থেকে নেমে আসা ¯্রাোতস্বিনীকে মাঝপথে আটকানো অসম্ভব। উপরোক্ত সব কিছুকে মেষসুলভ নমনীয়তায় মেনে নেবার পর অভিভাবকদের এই শোরগোল কেবল পানি ঘোলা করতে পারে; কাজের কাজ কিছু হবে বলে মনে হয় না।
শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য, বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফিস আদায়ের কথায় আসা যাক। শিক্ষকরা তো তবু গতর খাটিয়ে পড়িয়ে কিছু টাকা-পয়সা আয়-রোজগার করেন। কিন্তু হঠাত করে সরকারের অসীম বদান্যতায় ডাবল বেতন পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যে ফাইল আটকিয়ে  জনগনের ট্যাঁক খসাচ্ছেন সেটা সম্মানিত অভিভাবকদের চোখে পড়ে না কেন? নাকি শিক্ষকগন ’নরম জায়গা’ বলে? জনগনের ০.০১% সরকারী কর্মচারীদের বেতন ডাবল হলেও আম জনগনের তো আর সেই হারে আয় বাড়েনি। কিন্তু তাদের জন্য তো কোন আলাদা হাট-বাজার নেই। তাই শিক্ষকগন, যারা সেই আম জনতারই অংশ, তারা প্রাইভেট পড়িয়ে যদি দু’পয়সা আয় করেনই তবে অভিভাবকদের তাতে গা জ্বালা করে কেন? তারা কি এ সমাজের বাইরে থেকে আসা ভিনগ্রহের মানুষ? শিক্ষামন্ত্রনালয় তো এর আগে দুর্নীতিতে প্রায় পয়লা নম্বরে স্থান করে নিয়েছিল। সেটা তো আর এমনিতে না। সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত 'nurse the baby, protect the child, free the adult.’ কিন্তু সরকারের কাজই হচ্ছে তেলা মাথায় তেল ঢালা। এই শহরে যে সব স্কুল নিজে স্বয়ং সম্পুর্ন তাদের জন্য এমপিও কেন? তারা তো তাদের শিক্ষকদের মুল বেতনের ৩/৪ গুন পর্যন্ত বেশী বেতন দিচ্ছে। অথচ এই শহরে এমন স্কুলের সংখ্যাই প্রায় ৮০% - ৮৫% যারা স্কুল থেকে মুল বেতনের অর্ধেকই দিতে পারে না। সরকারের কি এসব দিকে খেয়াল দেওয়া উচিত ছিল না? তাছাড়া যে বেতন কাঠামো নির্ধারন করা হয়েছে, সেই একই কাঠামোতে মফস্বলে ও রাজধানী শহরে একই হারে বেতন দেওয়া হচ্ছে। অথচ মফস্বলে যেখানে একটা তিন কামরার সুন্দর মানসম্পন্ন বাড়ীর ভাড়া তিন থেকে চার হাজার টাকা, সেখানে এই শহরে ঐ একই বাড়ীর ভাড়া অন্ততঃপক্ষে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা। সরকারের কি এদিকটাও দেখা উচিত নয়? কিন্তু না; এসব কিছুই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সাহেব বা অর্থমন্ত্রী সাহেবদের মাথায় ঢোকেই না।
এসবই এ দেশের সরকার ও প্রশাসনের অবিচনা ও অবিচারের নীতি। শিক্ষামন্ত্রনালয় নি¤œপর্যায়ে অনাবশ্যক বিষয় চাপিয়ে সেগুলোর জন্য যেসব শিক্ষক নির্দেশিকা ইত্যাদি চালু করছে, সেসব বি,এড, বা এম, এড পর্যায়েই শিক্ষদের শেখানো হয়ে তাকে। যেটা দরকার সেটা রিফ্রেসারস ট্রেনিং কোর্স হিসেবে করানো যেতে পারে। আর সেটাই বেশী দরকার। কিন্তু এই সব নির্দেশিকা টির্দেশিকা করতে যে অনাবশ্যক বিপুল অংকের অর্থব্যয় হচ্ছে সেটা তো জনগনের পকেট থেকেই আসছে। অথচ এর উপযোগীতা কতটুকু? প্রকৃতপক্ষে থিওরী আর প্র্যাকিটসের মধ্যে যে বহুত পার্থক্য সেটা এই মহামহিমগন কতটুকু বোঝেন তা বোঝা বেশ কঠিনই বটে। এ বিষয়ে বেশী বলা অনাবশ্যক; কারন দেশের জনগনের অর্থনৈতিক অবস্থার সার্বিক মান এবং শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের কতরকমের ক্যাটাগরী সেটা বিবেচনায় নিলে শ্রেণীতে একজন শিক্ষক কতটুকু কি করতে পারেন সেটা যারা ফিল্ডে কাজ করেন তারাই অনেক বেশী বোঝেন। গাছের মগডালে বসে বার্ডস্ আই ভিউ নিয়ে তা বোঝা অনেকটাই কঠিন। কিন্তু সে কথা কে কাকে বোঝাবে?
 যাহোক, শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ম্যা-লা কথা হয় ও হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কতটুকু হচ্ছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার অবস্থা দেখে অনেকটাই ধারনা করা যায়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সাহেব এ-প্লাস পাওয়া নিয়ে যে লড়াই-কসরত করছেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে শিক্ষার প্রকৃত মান উন্নয়ন সম্পর্কে তার অর্ধেক চিন্তাও যদি তাঁর থাকত তবে হয়ত পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতে পারত না। কিন্তু কি আর বলা।

এদেশে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এত রকমের এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে যে এদেশটা এক্ষেত্রে সম্ভবতঃ একটা বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পেরেছে। সেই পাকিস্তান আমল থেকে এদেশে প্রতিবারই এক একটা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে আর তার বিরুদ্ধে একশ্রেনীর আঁতেল আদাজল খেয়ে লেগে সেটাকে বস্তাবন্দী করতে বাধ্য করেছে। অনেক কসরত করে শেষাবধি এই হালে ২০১০ সালে একাট শিক্ষানীতি হয়েছে তবে সেটাও সমালোচনার উর্দ্ধে উঠতে পারেনি। বস্তুতঃ শিক্ষানীতিতে যত বেশী কথা বলা হয়েছে কাজ ততটাই কম হয়েছে ও হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ’বুশ আমেরিকা ২০০০ এডুকেশন প্ল্যান’-এর কথাটা এখানে উল্লেখ করা হয়ত অপ্রাসঙ্গিক হবে না। এই প্ল্যানে বলা হয়েছে ---
Bush ‘America 2000 Plan’ for Education:-
1.       That all children must be physically and mentally ready to learn.
2.       That the graduation rate must rise to 90%, the international standard.
3.       The American students will leave grades 4th, 8th and 12th having demonstrated the highest competency in challenging subjects including English, mathematics, science, history and geography and have a meaningful set of examinations to measure whether they know what they are supposed to know at those levels.
4.       That the American students will be the first in the world in science and mathematics achievements.
5.       That every adult American will be literate and will possess the knowledge and skills necessary to compete in the global economy and exercise the rights and responsibilities of citizenship; and

6.       That every school in America will be free of drugs and violence and offer a disciplined environment conducive to learning.
এখানে ৩ ও ৬-নং উদ্দেশ্যটি কি আমাদের শিক্ষানীতিতে কোন গুরুত্ব পেয়েছে? আজকে শিক্ষার মান নিয়ে যে হাহুতাশ চলছে সেটার পেছনে কারন কি? মোটা দাগে একাধিক কারনের মধ্যে বিশেষ তিনটি কারনই প্রধান। এক, রাজনৈতিক বিবেচনা তথা দলবাজি ও টাকা-পয়সার বিনিময়ে অযোগ্য, অদক্ষ ও আদর্শহীন শিক্ষক নিয়োগ; দুই, শিক্ষাক্ষেত্রে সফ্ট্ওয়্যার (ট্রেনিং, পদোন্নতির জন্য ট্র্যাক রেকর্ড ও পিরিওডিক স্কিল টেস্ট, মোটিভেশন ইত্যাদি)-এর পেছনে ব্যয় না বাড়িয়ে হার্ডওয়্যার (বিল্ডিং ইত্যাদি জাতীয় অবকাঠামো)-এর পেছনে সিংহভাগ ব্যয় এবং সরকারী সিদ্ধান্তের লিকুইডিটি। আমাদের সামগ্রিক শিক্ষার ’goal-ই বা কি? উচ্চ-ডিগ্রীধারী বেকার সংখ্যা বাড়ানো, না কি প্রকৃত কর্মদক্ষ জনসম্পদ বাড়ানো? যদি দ্বিতীয়টিই goal বা উদ্দেশ্য হয় তবে দেশে এত এত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা কি?  দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়িয়ে উচ্চ ডিগ্রীধারীর সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে কোন জাতীয় দুরদর্শিতা বা দেশপ্রেম (?!) কাজ করছে? বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে যে মাননীয় শিক্ষমন্ত্রী শিক্ষার মান বাড়ানোর বদলে পাশের হার বাড়ানোর এক মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন। বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাহেবগন নাকি পরীক্ষকদের নির্দেশ দিচ্ছেন কাউকে ফেল করানো যাবে না।এই রকম তোগলোকি ব্যবস্থা বহাল রেখে দেশে শিক্ষার মান উন্নত করার যে হাস্যকর ব্যর্থ চেষ্টা সেটা বুঝমান মানুষকে কেবল হাসানো ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারে? দেশের শিক্ষার মান এমনই উন্নত হয়েছে যে দেশের লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত (??) তরুন-তরুনী থাকা সত্বেও দেশের কর্পোরেট বিজনেসগুলোকে নাকি বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করে আনতে হচ্ছে। এবং সেই পথ দিয়ে দেশ থেকে বছরে নাকি ৩৪/৩৫ হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। কি তামশা! এই যদি অবস্থা হয় তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কি ধরনের ’মাল’ উৎপাদন করছে? এই প্রশ্নেরও সম্ভবতঃ জবাব দেবার কেউ নেই।

Wednesday, April 4, 2018

Unabated incidents of rape

ইদানিং ধর্ষণ নিয়ে বেশ তোলপাড় হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়াতে। অনেক প্রগতিশীলদের মত হচ্ছে পোষাক নয় পুরুষের মানসিকতাই এই ন্যাক্কারজনক অপরাধের জন্য দায়ী। কথাটা একেবারে ফেলনা নয়। তবে আরো বেশ কিছু বিষয় অবশ্যই আছে। মানুষ মুলতঃ একটি এনিম্যাল বা প্রাণী। তবে সে র‌্যাশনাল এনিম্যাল। তার বিবেক আছে; আছে লজ্জা। এজন্যই সে অন্য প্রাণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। প্রাণীরা প্রকাশ্যে প্রাকৃতিক কর্ম সারে, এমনকি যৌনকর্মও। কিন্তু মানুষ তা করে না; করতে পারে না। তাহলে তার ও প্রানীদের মধ্যে আর পার্থক্য থাকে না। তবে এই বিবেক কিভাবে জাগ্রত হয় এবং সঞ্জীবিত থাকে? প্রধানতঃ তা তিনটি কারনে। এক, তার পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষা; দুই, তার মনের মধ্যে রোপিত ধর্মীয় বিধি-নিষেধের প্রতি অটল শ্রদ্ধা এবং তিন, রাস্ট্রীয় আইনের শাসন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর কোনটি আমাদের সমাজে বিরাজমান? কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনটিই নেই। এদেশে এক শ্রেনীর আঁতেল ধর্মীয় বিধি-নিষেধকে পশ্চাৎপদতা বলে তথাকথিত প্রগতিশীলতার ধ্বজা ধরে আছেন। তারা নাকি পাশ্চাত্য ও পৌত্তলিকতার চাদরে মোড়ানো সভ্যতা ও কালচারকে এদেশে চালু করার নিরন্তর চেষ্টায় নিরত। কিন্তু তারা পাশ্চাত্যের ’পারমিসিভনেস’ বা ফ্রি-সেক্স-কে বা কুমারী মাতৃত্বকে পছন্দ করেন না। এ যেন সেই জলে নামব, জল ছিটাবো কিন্তু জল তো ছোঁবনা-র মত আব্দার! সামজিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে চলার যে কতটা আবশ্যকতা, সেটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এইডস্-এর ব্যপক বিস্তারের বিষয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন যে ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতা মেনে চলাটা এই দুরারোগ্য ও প্রাণঘাতি রোগের বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। বিল ক্লিন্টন সাহেবকে তো আর প্রগতিবিরোধী বা প্রতিক্রিয়াশীল বলার সাহস ঐ সব আতেঁলদের নেই। প্রকৃতপক্ষে যখন থেকে ধর্মীয় বিধি-বিধানকে পদদলিত করে নিজেদের দুরাকাংখা ও দুশ্চারিত্র্যকে প্রগতিশীলতা বলে চালানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, লক্ষ্য করলে পরিষ্কার দেখা যাবে যে তখন থেকেই এই লাম্পট্য ও ধর্ষণকান্ড দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। পবিত্র কোরআন বলে, তোমরা (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) যখন রাস্তায় চলবে তখন যেন তোমাদের দৃষ্টি নত থাকে। আরো উত্তম উদাহরন হচ্ছে মনে মহান আল্লাহতায়ালার ভয় লালন করা। কারন মুসলমান রোজা রাখে এমনকি সারাদিন এক ফোঁটা পানিও না খেয়ে। অথচ গোপনে পেট পুরে খেলেও তো তাকে কেউ দেখছে না। তবুও কেবল আল্লাহতায়ালার ভয়েই সে পানাহার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে। এই একটি বিষয়ই কি অনেক কিছু বোঝার জন্য যথেষ্ঠ নয়? যদি মানুষের মনে খোদাভীতি কাজ করে তবে সমাজে বহু পাপ ও দুষ্কৃতি দুর না হয়ে পারেই না। কিন্তু এ কথাটা কে কাকে বোঝাবে?

Thursday, March 22, 2018

নি¤œতম উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরন
বাংলাদেশ গতকাল নি¤œতম (লীস্ট বলতে নি¤œতম-ই বোঝায়) উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের খেতাব পেয়েছে। এটা খুবই আনন্দের সংবাদ বটে। তবে আজ আবার এক খবরে দেখা গেল এর জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত, একটু ভদ্র ভাষায় চ্যালেঞ্জ, আরোপ করা হয়েছে, যা পুরন করতে পারলে ২০২৪ সাল নাগাদ বাস্তবিকই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরন ঘটবে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্বেও বাংলাদেশের মানুষের যে উচ্ছ্বাস সেটা ছোট করে দেখা যায় না। তবুও কয়েকটি বিষয়ে মনে প্রশ্ন জাগে। যখন বর্তমান ঘোষিত ডিজিটাল উন্নয়নের জন্য রকেট গতিতে না হলেও অন্ততঃ মেল ট্রেনের গতিতে ছোটা অত্যাবশ্যক, সেখানে আমরা কি এখনো গরুর গাড়ীর চেয়ে বেশী গতিতে এগুতে পারছি? নাকি সেই পুঁথির পয়ারের মত ’ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’ - এমন অবস্থা আমাদের? সরকারী উন্নয়নের ফিরিস্তিতে যে লাখো কোটি টাকার ঝনঝনানি শুনতে পাওয়া যায় তা কি সেই পুঁথির মতই ’লাখে লাখে লোক মরে কাতারে কাতার, হিসাব করিয়া দেখে চল্লিশ হাজার’ - মত অবস্থা?
এসব বিষয় ভাবতে গেলে অনেক দিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে। সম্ভবতঃ ১৯৭৮/৭৯ সালের দিকে। মহকুমা শহর ঝিনাইদহে (তখনো মহকুমা থেকে জেলায় উত্তরন ঘটেনি) তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা আসবেন স্বানির্ভর আন্দোলন বিষয়ে বক্তব্য দেবার জন্য। মহকুমা প্রশাসককে  সে লক্ষ্যে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তাদেরকে বেলা দশটার মধ্যেই যথাস্থানে উপস্থিত থাকতে বলা হ’ল। আমরা সকল কর্মকর্তা যথাসময়ে হাজির হ’লাম সেখানে। এরপর সময় যেতে লাগল। জরুরী দাপ্তরিক কাজকর্ম ফেলে সবাই অপেক্ষা করছেন। এক ঘন্টা, দু’ঘন্টা, আড়াই ঘন্টা চলে গেল। শেষে শোনা গেল উপদেষ্টা মহোদয় আর আসবেন না। মহকুমা প্রশাসক দু’একজনকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুযোগ দিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষনা করবেন এ সময় আমি বললাম আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দিতে, কিছু বলার জন্য। অনেকটা অনিচ্ছা ও বিরক্তি সত্বেও আমাকে বলার সুযোগ দেওয়া হ’ল। আমি বললাম স্বনির্ভর আন্দোলন কেবল ভাষন ও বক্তৃতাবাজি করে সফল করার কোন সুযোগ নেই। মাত্র মাসখানেক আগে চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং মারা গেছেন। কিন্তু তার মত বিশ্ব কাঁপানো নেতার মৃত্যুতেও চীন মাত্র এক মিনিট কর্মবিরতি দিয়েছে। কাজকর্ম বন্ধ করে তারা বক্তৃতা বা ভাষন দেবার ও শোনার জন্য বসে থাকেনি। স্বনির্ভর হতে গেলে কাজ করতে হয়। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আর যারা কাজ করেন তারা বক্তৃতা বা ভাষনে সময় নষ্ট করেন না। এ বিষয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে বৃটিশ প্রাইম মিনিষ্টার উইনস্টন চার্চিল সবচেয়ে ক্ষুদ্র বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ’লেডিজ এন্ড জেন্টলমনে, লেটস্ গেট টু ওয়ার্ক।’ এটুকু বলেই তিনি বক্তৃতা সমাপ্ত করে কাজে নেমে পড়েছিলেন। আর আমরা এখানে দু’আড়াই ঘন্টা কাজকাম ফেলে বসে আছি স্বনির্ভর হবো বলে।
বস্তুতঃ আমার এ বক্তৃতায় মহকুমা প্রশাসকসহ দু’একজন একটু বিরক্তি প্রকাশ করলেও বেশীরভাগ লোকই তাতে সমর্থন করলেন। অবাক হতে হয় সেই ঐতিহ্য আজও সমানে চলছে দেখে। এর কারন খুঁজতে গেলে দেখা গেছে যখন শাসকদের কাছে কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে না, থাকে না আদর্শ, তখন সেই ফাঁকা জায়গা নানা ভেল্কি দিয়ে জনগনের একটা শ্রেনীকে মোহগ্রস্থ করে এবং অপর শ্রেনীকে উন্মাদনাগ্রস্থ করে পুরন করতে হয়। এই পদ্ধতি হিটলার ও মুসোলিনি বেশ ভালভাবেই কাজে লাগাতে পেরেছিলেন। ধর্মকে হিটলার প্রতিস্থাপন করেছিলেন তার নাজী দর্শনকে এক উন্মাদনার বিষয় হিসেবে কাজে লাগিয়ে। তার বিরাট নাৎসী বাহিনীকে ঘন্টার পর ঘন্টা ’হেইল হিটলার’ ধ্বনিতে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকতে হ’তো। তার এই উন্মাদনা জনমানসে এমনই উন্মাদনা সুৃষ্টি করেছিল যে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে রে‌্যাম ও রিবেনট্রপকে ফাঁসির মঞ্চে উঠানোর পর তারা ’হেইল হিটলার’ বলে চীৎকার দিয়ে ছিলেন। জোসেফ গোয়েবল্স তো ফ্যুরার নেই যে পৃথিবীতে সে পৃথিবীতে তার বেঁচে থাকার কোন মানেই নেই বলে তার স্ত্রী ও এগার জন সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন। এদেশেও দেখা যাচ্ছে যখন যখন সুনির্দিষ্ট কোন আদর্শ নেই, লক্ষ্য নেই, সময়ের কোন মুল্য নেই, যখন একদিনের কাজে এক মাস, এক মাসের কাজে বছরের ধাক্কা লাগছে, চারদিকে লুটপাটের মচ্ছব চলছে, চলছে সুশাসনের অনুপস্থিতি; চারিদিকে যখন ’নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস’, তখন সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য নানা অজুহাতে উন্মাদনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর সেই উন্মাদনায় সতের কোটি মানুষের ক্ষুদ্র একটি অংশ ভেসে যাচ্ছে আর অপর বৃহত্তর অংশটি যেন কি এক মাদকতায় মোহগ্রস্থ হয়ে আছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলিকে নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় আমরা সত্যি সত্যিই মোহগ্রস্থতার এক ঘুর্নিপাকে পড়েছি। স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছর পরেও আমরা সেই পুরান ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে চলেছি। এমনই সে ঘুির্নপাক যে তার থেকে বেরুনোই যেন অসম্ভব হয়ে দাঁিড়য়েছে। সামনের দিকে তাকানোরও ক্ষমতা, সাহস বা যোগ্যতা কোনটাই যেন নেই। একটা দেশকে দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে যে জাতীয় ঐক্যমত, সহযোগীতা ও একাত্মতাবোধ অত্যাবশ্যক, সেগুলো পাশে ঠেলে নানা রকম বিভক্তির ফাটলে নিজেদেরকে আটকে ফেলেছি। আমাদের অবস্থা সেই বানরের মত, যে একফুট উপরে উঠতে গেলে দ’ুফুট পিছলে নীচে নেমে যায়। প্রকৃতপক্ষে দেশকে উন্নত করে গড়তে আমাদের দ্বিগুন তিনগুন গতিতে কাজ করা দরকার। যে কাজ এক বছরে শেষ হবার জন্য নির্ধারিত, সে কাজ যেন এক দু’মাস আগেই শেষ করা যায়। অফিসিয়াল কাজে ফাইলের গতি যেন শামুকের মত না হয়ে খরগোসের গতিতে চলতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে যেন তিনবার চারবার রিভাইজ না করতে হয়। দুর্নীতির বিষয়ে যেন প্রকৃতই ’জিরো টলারেন্স’ কার্যকর হয়। এসব না হলে কেবল কল্পিত ’জয়োল্লাসে’ উন্মাদনাগ্রস্থ হয়ে পড়লে কোন ’ভিশনই’ সময়মত সফল করার আশা করা যায় কি?

Wednesday, February 28, 2018

গনতন্ত্র এবং বাংলাদেশ


স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরে বাংলাদেশের গনতন্ত্রের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। মুখে আমরা গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে যতই চেঁচামেচি করি না কেন, গনতন্ত্রের সত্যকার চেহারা আমাদের মনে হয় অজানাই থেকে গেছে। এর কারন খুজতে গেলে দেখা যাবে যে আমাদের গনতন্ত্র কেবল পাচ বছর পর একদিন ভোট দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অত:পর এই পাচ বছরের মধ্যে ভোটারদেরকে আর কেউ পাত্তা দেবার কথা ভাবত্ওে চায় না; তাদের সুখ-দু:খের কথা, সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবা দুরে থাক। কিন্তু এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নেই? নিশ্চয়ই আছে। তবে তার জন্য কতিপয় ব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে সংযুক্ত করা অতি আবশ্যক ছিল। আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। তব্ওু দু:খের সাথে বলতে হয় তাড়াহুড়ো করে সংবিধান রচনা করার কৃতিত্ব লাভের আকাংখায় সেই অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির দিকে যথাযথ মনোযোগ দ্ওেয়া হয়নি। আমাদের সংবিধান পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি লক্ষ্যনীয় সেটি হলো গনতন্ত্রের ছদ্মাবরনে একধরনের স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখা। সন্দেহ জাগে হয়ত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি অতিআনুগত্যের মনোভাবই এই মারাত্মক ত্রটির কারন ছিল। আজ অবধি সংবিধান যেভাবেই সংশোধন করা হয়ে থাকুক না কেন - প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিরই হোক আর পার্লামেন্টারী পদ্ধতিরই হোক - সরকারপ্রধানই সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক । তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার কোন মসৃন পথ রাখা হয়নি। মহামান্য প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক প্রধান। কিন্তু সাবেক বিচারপতি জনাব শাহাবুিদ্দন সাহেবের ভাষায় মিলাদ পড়া আর ’উদ্বোধন’ ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার ক্ষমতা তাকে দ্ওেয়া হয়নি। সংবিধানের এই মারাত্মক ত্রুটির জন্যই এদেশে গনতন্ত্র জনগনের কল্যানে কার্যকর কোন ভ’মিকা পালন করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েকশ’ বছর্ওে এই গনতন্ত্র জনগনকে যে কিছু দিতে পারবেনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সংবিধানে নি¤েœাক্ত বিষয়গুলি সংযুক্ত করা অত্যাবশ্যক; অবশ্য আদৌ যদি আমরা গনতন্ত্রকে কার্যকর অবস্থায় দেখতে চাই। বিষয়গুলি নি¤œরূপ:
১. ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচন নয় বরং দলভিত্তিক নির্বাচন হবে। দলীয় মেনিফেস্টো রেড্ওি এবং টিভিতে প্রয়োজনে এক মাস ধরে প্রচারিত হবে। যে কোন রকম আঞ্চলিক ্ও ব্যক্তিগতভাবে প্রচার-প্রচারনা নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. সাধারন নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য নির্ধারিত হবে। কোন দল প্রদত্ত মোট ভোটের অন্যুন ৩% ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে সেই দল বিলুপ্ত বলে ঘোষিত হবে।
৩. নির্বাচনের দুই বছর পর বিশ্বাসযোগ্য জনমত যাচাইএর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির জনপ্রিয়তার পরিমাপের ব্যবস্থা রাখা। এই জনমত কমপক্ষে ৫০% এর কম হলে ঐ প্রতিনিধিকে রি-কল করার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই শুন্য পদে গ্রহনযোগ্য নতুন ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। সেটা স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্ওা হতে পারে।
৪. প্রেসিডেন্ট ও/বা স্পীকার নির্বাচিত হবার পর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ই¯তফা দ্ওেয়া বাধ্যতামুলক করা এবং পরবর্তীতে তাকে ভোটপ্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে।
৫. এক ব্যক্তি একই সাথে দলীয় প্রধান, সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
৬. প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগুরু দলের মনোনীত হল্ওে বিরোধী দলের অন্তত: ২/৫ অংশ সদস্যের সমর্থন লাভ আবশ্যিক করতে হবে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে অতীব প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমানিত হয়েছে বিধায় প্রেসিডেন্টকে যে কোন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিল ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
৮. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হল্ওে আইনের দৃষ্টিতে কাউকেই কোন রকম প্রিভিলেজ না দ্ওেয়ার বিধান রাখতে হবে। সকল প্রকার ট্যাক্সের টাকা জনগনের টাকা; তাই ’ট্যাক্স-ফি’্র প্রথা স¤পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
৯. সংবিধানের বিধি অনুযায়ী ’আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার’কে কেবল কাগজে না রেখে বাস্তবে সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০. বিচার, শিক্ষা, এক্সিকিউটিভ বিভাগ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী দলীয়করনকে শা¯িতযোগ্য অপরাধ হিসেবে  গন্য করার আইন পাশ করতে হবে।
১১. সরকারী চাকুরীবিধির মাথায় পা দিয়ে রাজনৈতিক দলের লেজুড় হবার সুযোগ কঠোরভাবে
নিষিদ্ধ করতে হবে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য সংক্ষিপ্ত তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি(দের)কে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে বরখাস্ত করার বিধান করতে হবে।
১২. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সকল সাংবিধানিক পদে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিল্ওে জাতীয় সংসদে শুনানীর মাধ্যমে তাকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলি এদেশে বর্তমানে প্রচলিত গনতন্ত্রের খোলসে ছদ্ম স্বৈরতন্ত্রকে বিদুরিত করার জন্যই অপরিহার্য্য বিধায় অবিলম্বে জনসচেতনতা ্ও জনমত তৈরী করার লক্ষ্যে সকল ধরনের মিডিয়াকর্মীসহ সকল স্তরের জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। দেশে ’সমাজতš’¿ বলতে কিছু নেই, এটা পরিষ্কার। তাই মুক্তবাজার অর্থনীতি বহাল রেখে সংবিধানে সমাজতন্ত্র চার মুলনীতির একটি হিসেবে রাখা যে চরম স্ববিরোধী তা সুস্পষ্ট। এতদসত্ব্ওে ’সমাজতন্ত্র’ ’সমাজতন্ত্র’ বলে চেঁচামেচি করাটা জাতির সাথে প্রতারনা করা কি না সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর একটি বিষয়। ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে রাখার ব্যপারে যারা যুদ্ধংদেহী তাদেরকে পন্ডিত নেহরুর সার্বজনীন ভোটাধিকারের গনতন্ত্র স¤মন্ধে আসক্তির বিষয়টি মনে রাখতে অনুরোধ করি। ’এক ব্যক্তি এক ভোট’ - এই নীতির ভিত্তিতে ভারত যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত তবে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যা করছে তাই কি হতো না? এবং সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের কোন বক্তব্য বা মতামত পাত্তা পেত কি? তাছাড়া মহাত্মা গান্ধীকে সত্যিই ’মহাত্মা’ বলে মানেন  এমন ’বিদগ্ধ’ ব্যক্তির অভাব এদেশে নেই। ধর্মের সাথে রাজনীতির সম্পর্কের বিষয়ে মহাত্মা বলেছেন, ’যারা বলেন রাজনীতির সংগে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই তারা জানেনই না ধর্ম জিনিসটা আসলে কি।’ আশা করি এ বিষয়েও দেশের বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ কিছু আলোকপাত করবেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ-র ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যারা রাখতে নারাজ, তারা আসলেই কোন ধর্ম অনুসরন করেন বা আদৌ করেন কি না তাও দেশের আম জনগন জানতে পারলে কৃতার্থ হতো।  যারা দেশের প্রথম সংবিধান রচনার কৃতিতের অধিকারী, তাদের কাছ্ওে সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনার্ওা উপরে বর্ণিত যুক্তিগুলির গ্রহনযোগ্যতা বিচার করবেন এবং এগুলি আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করবেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে জাতির ভবিষ্যত মঙ্গলের জন্য এই আহ্বান জানাচ্ছি।
১৫.০৩.২০১২        এম, শ্ওকত আলী (X-Headmaster); উত্তরা; ঢাকা - ১২৩০। 
পুুনশ্চ: লেখাটি অনেক আগেকার হলেও এর প্রাসঙ্গিকতা আরো বেড়েছে বলেই আমার ধারনা। তাই এটা ছাপলে বাধিত হবো। 

Saturday, February 10, 2018

দেশ এগিয়ে চলছে।


ইদানিং আঁতেল শ্রেনীর অনেককেই বলতে শোনা যায় ’দেশ এগিয়ে চলছে।’ কথাটা শুনে মাঝে মাঝে ভাবতে হয় এগিয়ে চলা আসলে কাকে বলে। শামুকও এগিয়ে চলে, গরুর গাড়ীও এগিয়ে চলে আবার মোটরকারও এগিয়ে চলে। এখন তুলনা করা যায় কি যে কোনটি আসলে এগিয়ে চলে?  গরুর গাড়ী ঘন্টায় বড়জোর ৪/৫ মাইল যায় অথচ মোটরগাড়ীর গতি কমপক্ষে তার দশগুন। দেখা যায় গরুর গাড়ী চালানোর জন্য কোন লাইসেন্স লাগেনা। কিন্তু মোটরকার চালানোর জন্য লাইসেন্স অত্যাবশ্যক। একটা দেশের এগিয়ে চলার বিষয়ে যদি গরুর গাড়ীর এগিয়ে চলার কথাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় তবে সেটা কি প্রকৃতই এগিয়ে যাওয়া বলা যায়? বিষয়টি খোলসা করার জন্য নি¤œবর্নিত কিছু বিষয়ের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষন করা যেতে পারে।
দেশের প্রানভোমরা যেখানে সেই রাজধানীর কথাই ধরা যাক। এখানে কোন প্রশাসন, কোন সিস্টেম, কোন পরিকল্পনা কি কার্যকর আছে? সরকার আছে, আইন-শৃংখলা বাহিনী আছে, আমলা-ফয়লা, মন্ত্রী-সান্ত্রী আছে, কিন্তু এই শহরের বাসিন্দারা এইসব থাকার জন্য কোন সুবিধা কি পাচ্ছে? রাস্তায় এক ঘন্টার জায়গায় ৩/৪ ঘন্টা, লক্কড়-ঝক্কড় বাস ও অন্য যানবাহনের প্রানঘাতি অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে অবাধে। অথচ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ আছে, যানবাহন বিষয়ক ’অথরিটি’ আছে। শহরে রাস্তাঘাট দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর নালা-নর্দমা, খানা-খন্দে ভরা, ড্রেনের আবর্জনার অসহনীয় দুর্গন্ধ, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ছয়লাব, সড়কের ওপর মোটরগাড়ীর বেপরোয়া পার্কিং, কোন রকম পার্কিংস্পেস ছাড়াই রাস্তার ওপর বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক-হাসপাতাল, শপিংমল ইত্যাদি কি এটা বোঝায় যে এই রাজধানী শহরে কোন কার্যকর ’অথরিটি’ আছে যারা এই শহরটিকে একটি সুশৃংখল, সুস্থ, শান্তিপুর্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে রক্ষনাবেক্ষন করছে?
এই দেশে কতশত নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে এবং বড় গর্ব করে বলা হচ্ছে ’দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে।’ অথচ ৯৮% প্রকল্প আঠারো মাসে বছর করে এক বছরের কাজ তিন চার বছর লাগাচ্ছে, শ’কোটি টাকার স্থলে হাজার কোটি টাকা খেয়ে ফেলছে। যতটা উন্নয়নখাতে ব্যয় হচ্ছে তার প্রায় ২৫% - ৩০% বিদেশে পাচার হচ্ছে। আইনসংগতভাবেই (??) কিছু ব্যক্তি/গোষ্ঠিকে পাবলিকের টাকা লোপাট করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। বছরের পর বছর কুইক রেন্টাল নামের বিদ্যুতকেন্দ্রের মাধ্যমে নাকি তা করা হচ্ছে। অথচ সরকার আছে; তার বিভিন্ন মন্ত্রনালয় আছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রতিবছর বাজেটের অংক বাড়িয়ে বিরাট আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। কিন্তু এক টাকার কাজে একশ’ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে কখনো তার বক্তব্য তো শোনা গেল না। বছর বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে সে বিষয়েও তাকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেবার প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয় হলো না। বরং তিনি চার/পাঁচ হাজার কোটি টাকা লুট-লোপাটকে ’সামান্য ব্যপার’ বলে শিবনেত্র হয়ে থাকাকেই পছন্দ করেছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপী লোন গোটা ব্যাংক ব্যবস্থাকে ছ্যারাবেরা করে ফেললেও তাকে তেমন উদ্বিগ্ন হতে দেখা গেলনা। খোদ রাস্ট্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেলেও তার ’সাড়া জাগতেই’ বছর পার হয়ে গেল।
খোদ এই শহরের উল্লেখযোগ্য ২৬/২৭টি খাল নালার অধিকাংশই দখল-ভরাটের কবলে শেষ হয়ে গেছে ও যাচ্ছে। বাইরে সারা দেশব্যপী নদী-নালা, সরকারী খাসজমি, রেলের জমি, বাড়ীঘর, বালু মহাল অবলীলায় দখল বেদখল হয়ে গিয়েছে বা যাচ্ছে। এমনকি গুরুত্বপুর্ন ব্রিজএর সন্নিকটেও অবাধে বালু তুলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঐ ব্রিজকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এ বিষয়ে সব সরকারের আমলেই এইসব দখলদারদের ব্যাপারে হাতেম তাই-সুলভ উদারতা দেখানোয় কোন সরকারেরই অনাগ্রহ দেখা যায় নি। অথচ সরকারগুলো নাকি অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরোধ করার জন্যই আইন-আদালত স্থাপন করে; শান্তি-শৃংখলা বহিনী পুষে থাকে পাবলিকের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকায়। 
দেশে পর্যটনের জন্য এত এত আকর্ষনীয় জায়গা থাকার পরও এই খাতে এই ৪৫/৪৬ বছরে কি উন্নতি সাধিত হয়েছে? এই পাশের দেশ সিংগাপুরে ৯০% পর্যটন স্পট কৃত্রিম, মানবসৃষ্ট।   অথচ সেখানে মাসে প্রায় দশ লাখ পর্যটক গেলেও হাজার হাজার পর্যটন স্পট থাকা সত্বেও বাংলাদেশে বছরে পাঁচলাখ পর্যটক আসে কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।  তাহলে এখানে সরকারের ভুমিকাটা কি?
দেশের আইন-শৃংখলা বিষয়ে বোধহয় কিছু না বলাই ভাল। আইন যে কাদের প্রতি নির্মম আর কাদের প্রতি ’হাজি মহসিন’/হাতেম তাই’ সেটা তো দেশবাসী ইতিমধ্যে বেশ ভালভাবেই জেনে গেছে। দেশে যখন তথাকথিত ’নাশকতা’ এবং জিহাদী বই (??) রাখার দায়ে হাজার হাজার ব্যক্তিকে পাইকারী গ্রেপ্তার করে জেলে রাখতে হয়, সেই দেশ কিভাবে এগিয়ে চলে সেটা বেশ গবেষনার বিষয নয় কি?
দেশে ভয়াবহভাবে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির বিষয়ে এমনকি সরকারের গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রীদেরকেও সময়ে সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সরকারগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কখনো ’জিরো টলারেন্স’ কখনো ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় আরোহন করে। কিন্তু সেই সব সরকারের মন্ত্রীরাই স্বীকার করেন যে  তারা দুর্নীতিবাজ, চোর। সরকারের এমন কোন বিভাগ নেই যেখানে দুর্নীতি জাঁকিয়ে বসেনি। সাধারন মানুষের ট্যাঁকের পয়সায় যারা বেতন-ভাতা ভোগ করেন, আয়েসী জীবন যাপন করেন, তারাই সেই জনগনকে হীন প্রজা হিসেবে দেখেন। টাকা-পয়সা ছাড়া সরকারের কোন দপ্তর কাজ করানো প্রায় অসম্ভব। কেন, কিজন্য?
সরকার দেশের সকল নাগরিকের জন্য; নিশ্চয়ই কোন বিশেষ শ্রেনীর জন্য নয়। তাহলে সরকার ব্যবসায়ীদেও ন্যায্য অন্যায্য সকল দাবী অবলীলায় মেনে নিলেও যে কৃষক দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড, সেই কৃষকের বৃহত্তর কল্যানের জন্য কোন পদক্ষেপ কি নিচ্ছে? ব্যবসায়ীরা তিন টাকার দ্রব্য তিরিশ টাকায় বেচতে পারলেও কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মুল্য কি পাচ্ছে? দেশের মোট জনসংখ্যার বড়জোর ৫% ব্যবসায়ীদের জন্য ৭০% জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সংসদে থাকলেও ৮৫% কৃষকের জন্য তাদের কোন প্রতিনিধি কি জাতীয় সংসদে আছে?্র সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতার দাবী করলেও যারা সেই খাদ্যের উৎপাদক, ব্যবসায়ীদের তুলনায় তাদের কল্যানের জন্য সরকার কি করে? আজও বহু প্রত্যন্ত এলাকায় কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কৃষক তার ফসল পানির দামে বিক্রী করতে বাধ্য হয়। সামান্য একটা ব্রিজ-কালভার্টের জন্য তাদেরকে বাঁশের সাঁকো বা ডিঙ্গি নৌকা সম্বল করতে হয় অথচ বহু ফাঁকা জায়গাতে লিংকরোডবিহিীন শুধুমাত্র একটি ব্রিজ সরকারের উন্নয়নের দাবীকে যেন ব্যঙ্গ করতে থাকে। কেন? সরকারের বড় বড় বুলি সত্বেও অকালে বাঁধ ভেঙ্গে কৃষকের ফসল ডুবে ধ্বংস হয়ে যায় অথচ সেই বাঁধ রক্ষার দায়িত্বে যারা তাদেরকে কোন জবাবদিহি করতে হয় না। অসহায় কৃষকের আর্তনাদ বাতাসেই মিশে যায়।
 যে দেশে কোন অবকাঠামো বিষয়ক প্রকল্প এক বছরের স্থলে ৪/৫ বছর পর্যন্ত লাগিয়ে দেয়, বরাদ্দের অংক কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে ক্রমাগতভাবে বাড়িয়েই চলে আর সরকার তা উদারভাবে অনুমোদন করে যায় সে দেশ কিভাবে ’এগিয়ে চলে?’ কিভাবে সে দেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বলে গালগল্প করা হয়? যে দেশ সম্পর্কে কবি বলেছেন ’ধন-ধান্য পুষ্পে ভরা’, যা অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ তার সন্তানেরা, যার ’বুকভরা মধু’, সেই দেশকে উন্নত দেশে পরিনত করতে চার যুগ লেগে যেতে পারে? তাই যদি হয় তবে দেশে কি সত্যিই কোন সরকারের প্রয়োজনের বিষয়টি কি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে না? তাদের ও তাদেরঢাকবাজিয়েদের ’দেশ এগিয়ে চলেছে’ এই কথা কি চরম হাস্যকর হয়ে পড়ে না? কোন বিশেষ সরকার নয়, এদেশে সব সরকারই কি প্রকৃত উন্নয়ন বা উন্নয়নের গতি সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছে? তা যদি পেরে থাকে তবে তারা কি এই পাশের দেশ সিংগাপুর বা মালয়েশিয়ার কথা জানে না? একেবারে ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৫/৩০ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে জার্মানী বা জাপানের কথা কি তারা জানে না? তাই বলতে হয় যে উন্নয়ন বা উন্নয়নের গতি আসলে কি সে সম্পর্কে আমাদের সরকারগুলোর আসলেই কোন ধারনা আছে, এটা কি প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে পড়ে না?

Thursday, December 28, 2017

অপচয়-অপব্যয়ের মহানামা
যে কোন দারিদ্রসীমা অতিক্রান্তেচ্ছু দেশের নেতৃত্ব সর্বাগ্রে তার দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকার সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে দৃঢসংকল্পবদ্ধ থাকে। সর্বনি¤œ ব্যয়ে টেকসই নির্মান সে দেশের প্রায়রিটি বলে বিবেচিত হয়। এবং সেটা কোন অলীক অবাস্তব বিষয় নয়। যদি দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যক্তিরা, দেশের নেতৃত্ব প্রকৃত দেশপ্রেমিক হন তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে দেশকে তারা কি দিচ্ছেন ও দেবেন এবং কত সাশ্রয়ীভাবে তা দেবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপ ও হতাশার বিষয় এ দেশে সেটা যেন হবার নয়। এদেশে এক বছরের কাজ ৪/৫ বছরে গড়ায়; ব্যয়ের অংকও সেই সাথে গানিতিক হারে বাড়তে থাকে। কৈফিয়ত নেবারও কেউ নেই, দেবারও কেউ নেই। টপ টু বটম এই ধারনারই বাহক ও পোষক - লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন। এসব কারনেই যে ফ্লাইওভার সমাপ্ত হতে ২/২১/২ বছর লাগার কথা তা ৫/৬ বছরেও হয় না। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দ্বিগুন ত্রিগুন অর্থ হজম করে ফেলে। আর এ কারনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারকেও কোন রকমের জবাবদিহি করতে হয় না। অথচ উন্নয়নের একটা গুরুত্বপুর্ন দিক হলো টাইমফ্রেম এবং বরাদ্দকৃত বাজেট কঠিনভাবে মেনে চলা। এ ব্যাপারে আমাদেও বাম নেতাদেরও তো জানা থাকার কথা যে সোভিয়েত রাশিয়ার স্ট্যালিন তার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কতজন ইঞ্জিনিয়ার ও টিকাদারকে বুলডোজারের নীচে পাঠিয়েছিলেন। তার ফল এই হয়েছিল যে পাঁচসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ৫/৬ মাস আগেই কার্যকর করা সম্ভব হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কৃষিপ্রধান রাশিয়া মাত্র এক দশকের মধ্যে ইউরেশিয়ার অন্যতম শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত হয়েছিল। 
এই যানজটে শ্বাসরুদ্ধকারী রাাজধানী শহরে স্থানাভাব তথা স্থান সংকুলানের লক্ষ্যে একই ভুমি একাধিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো একান্তভাবে কাম্য ছিল। এজন্য একজন ’আম আদমী’ হিসেবে বেশ কয়েকবার একাধিক প্রস্তাব বিভিন্ন মাধ্যমে রিখেছিলাম। যদিও দেরীতে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে, তবুও প্লট বিক্রীর পরিবর্তে হাই রাইজ এপার্টমেন্ট প্রকল্পের মত কিছু কাজ (এ অধমের লেখালেখিতে তা হয়েছে বলে দাবী করছি না। তবে যে কারনে বা যাদের পরামর্শেই হোক) হয়েছে, তবে আরো অনেক কিছুই করার ছিল বা আছে। যেমন ফ্লাইওভার প্রকল্প হিসেবে অন্ততঃ দোয়েল চত্বর বা শাহবাগ থেকে গাবতলী এবং গাজীপুর পর্যন্ত বর্তমান সড়কের ডিভাইডার সরিয়ে সেখানে কংক্রিট পিলার ফর্মেশনের মাধ্যমে উড়াল সড়ক করলে যেমন জমির সাশ্রয় হতো, তেমনি অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহন ব্যয় শুন্য হবার ফলে মোট ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতো। উন্নত দেশে দেখেছি কন্সট্রাকশন ইকুইপমেন্ট হিসেবে পাইলিং ও সুপারস্ট্রাকচার বানানোর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কত সহজে বড় বড় পিলার বসিয়ে উপরে প্রি-কাস্ট কংক্রিট স্প্যান বসিয়ে অতি কম সময়ে বহু লম্বা সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। তাতে বর্তমানের মত জনসাধারনের ভোগান্তি ও অপব্যয়-অতিব্যয়ও বহুলাংশে কমে যেত। উপরন্তু ঐসব সড়ক নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধের মাধ্যমে কেবল হাল্কা মোটরযানের (সর্বোচ্চ পাঁচ টন) জন্য করা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে যেত। সেই সাথে নগরের যানজট সমস্যারও বহুলাংশে সমাধান হতে পারত। তবে এসব প্রস্তাব কোটারী স্বার্থের অনুকুলে নয় বলেই সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের নেক নজরে পড়বে বলে ভরসা প্রায় শুন্য। তাই কি আর কর্!া