নতুন বিশ^ ব্যবস্থা ও ইসলাম
আজ থেকে প্রায় বছর চল্লিশেক আগে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে ’The Irony of Capitalism’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই নিবন্ধে তিনি যা বলেছিলেন তার সারাংশ হচ্ছে এক সময় পুঁজিবাদ তার অন্তর্নিহিত গুন বা দোষেই ধ্বংস হয়ে সমাজবাদের জন্ম দেবে। অন্যদিকে সমাজবাদও এক সময় তার অন্তর্নিহিত দোষ বা গুনে পুঁজিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। আজকে তার সেই প্রেডিকশন প্রায় ৯০% ভাগ সত্যে পরিনত হয়েছে। পুঁজিবাদের বিপুল আগ্রাসী নীতির ফলে ‘ইরম ভরংযবং ংধিষষড়ি ংসধষষ ভরংযবং’ - এই থিওরীর মতে খুবই অল্প সংখ্যক মালিকের হাতে আসবে শিল্প ও বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট বা কনগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে যাতে করে অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মালিক থেকে কর্মীতে পরিনত হবে। অপর দিকে সমাজতন্ত্র যেহেতু মানুষের স্বভাবজাত উচ্চাকাংখা, যেমন একটু বেশী আরাম আয়েস, একটু অতিরিক্ত বিনোদনের সুযোগ ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে, সেহেতু তাদের মনমানসিকতা সমাজতন্ত্রের পক্ষে আর কাজ করতে চাইবে না। এই বিষয়ের বা¯তব প্রতিফলন আমরা সোভিয়েট ইউনিয়নের পতন এবং মাও সে তুঙ-এর কট্টর কম্যুনিজমের বদলে দেং শিয়াও পিং-এর নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বর্তমান চীনের অভাবনীয় ও অবিশ^াস্য উন্নতির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।
রবার্ট জে, স্যামুয়েলসনের উপরোক্ত নিবন্ধের উত্তরে আমি একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম এবং তা টাইম ম্যাগাজিনে পাঠিয়েও ছিলাম। যদিও জানতে পারিনি তা প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। তবে আমার নিবন্ধটি ছিল পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্রের বিপরীতে ইসলামিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট এবং তার সুবিধা ও কল্যানকর দিক সম্মন্ধে। এই নিবন্ধে তার একটু বিস্তারিত পরিচয় দেবার চেষ্টা করব।
সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণমুলক আলোচনার দেখা গেল কিভাবে পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদ দেশে দেশে ব্যর্থ হয়েছে। তেমনি কট্টর কম্যুনিজম বা সোভিয়েট ধাঁচের সমাজতন্ত্রেরও একই পরিনতি ঘটেছে এবং এক পর্যায়ে সোভিয়েট ইউনিয়ন ধ্বসে পড়েছে। আলোচক আফগানিস্তানের উদাহরন টেনে বলার চেষ্টা করেছেন যে প্রথমে সোভিয়েটরা সেখানে সমাজতন্ত্র চালু করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু দশ বছরের চেষ্টায়ও তাতে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক কোন উন্নতি তো হয়-ইনি, বরং পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে। এরপর মার্কিন যুক্তরাস্ট্র ও তার মিত্ররা ভুয়া অজুহাতে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ধ্বংস করে সেখান তাদের ধাঁচের গনতন্ত্র ও পুঁজিবাদ চালু করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফলাফল আজ কতটা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁচেছে তা বিশ^বাসী দেখছে। সেখানে বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। পশ্চিমা ধাঁচের গনতন্ত্র এবং তার প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক পুঁজিবাদ কোন দেশেই সাধারন মানুষের আশা-আকাংখা পুরন করতে পারে নি; সমাজে ধনবৈষম্যও দুর করতে পারেনি। বরং পুঁজিবাদ ধনীকে আরো ধনী এবং দরিদ্রকে আরো দরিদ্র করেছে। বাংলাদেশ তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরনে পরিনত হয়েছে। এই দেশে নাকি ধনীর সংখ্যা বিশে^ অবিশ^াস্যভাবে বেড়েছে যার শতকরা হার বিশে^ সর্বোচ্চ - ১৭%। বস্তুতঃ পুঁজিবাদের বৈশিষ্টই হচ্ছে মুনাফার হার বৃদ্ধি। যত বেশী মুনাফা ততবেশী পুঁজি সঞ্চয় এবং ততবেশী ব্যবসার বিস্তার। এবং কার্ল মার্ক্সের মতে শ্রমিকের মজুরী ’চুরি’ করেই মালিক মুনাফা করে থাকে। জোসেফ প্রুঁধোর ভাষায় ‘চৎড়ঢ়বৎঃু রং ঃযবভঃ.’ এসব বক্তব্যের সারাংশ হচ্ছে পুঁজিবাদ ধনীকে আরো ধনী হবার সুযোগ করে দেবার সাথে সাথে শ্রমিককে আরো দরিদ্র করে ফেলে। শ্রমিকের মজুরী যে সব মালিকানার প্রতিষ্ঠান অধিকতর চতুরতার সাথে চুরি করতে পারে, তত দ্রুতই তাদের পৃুঁজির আয়তন বাড়ে এবং এ কারনেই কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কখনোই ধনী হবার সুযোগ পেয়েছে বলে দেখা যায় না।
পুঁজিবাদের আরেক বৈশিষ্ট হ’ল যে কোন উপায়ে মুনাফা বাড়ানো। একারনেই দেখা যায় ৯৫% শিল্প মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকে অথবা তার চেষ্টা করে থাকে। আর এর ফলশ্রুতিতে রাস্ট্র প্রত্যাশামত রাজস্ব আয় করতে পারেনা যার ফলে রাস্ট্রীয় বিভিন্ন ব্যয়, সে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক বা উন্নয়ন বিষয়ক হোক, তা মেটানোর জন্য নানা রকম পরোক্ষ করের আওতা বাড়িয়ে থাকে। এর ফলে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়; দরিদ্র আরো অর্থনৈতিক চাপে পড়ে যায়। আর এর চক্রক্রমিক ফল হ’ল এই যে তার সঞ্চয় বলতে কিছু থাকে না; ফলে দ্রব্যমুল্যের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে সে আরো দরিদ্র হয়ে পড়ে।
উল্টো দিকে ধনীরা তাদের আর্থিক সক্ষমতার জোরে যেমন নিয়ন্ত্রিত ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করনতে পাওে তেমনি সরকারকে তাদেও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রভাবিতও করতে পারে। এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানাভাবে তাদের ধনসম্পদের আয়তন আরো বাড়িয়ে নিতে পারে। এর ফলেই দেখা যায় বাংলাদেশের মত দেশে গনতন্ত্র প্রায় ’নিয়ন্ত্রিত গনতন্ত্রে’ পরিনত হয়েছে; ফলশ্রুতিতে সবচেয়ে ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের ধনসম্পদ কেবল দেশের ভেতরেই থাকে না, বাইরেও চলে যায় অথচ দরিদ্র জনগন তাদের ভোটের অধিকার তাদের ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারে না, তেমনি তাদের পরিবারের জন্য দু’মুঠো ভাতের জোগাড় করতেই নাভিশ্বাস তুলে ফেলে। বর্তমান বিশ্বে অনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের এটাই বাস্তব চিত্র।
অপরদিকে মাও সে তুঙ-এর কট্টর কম্যুনিজমও যে মানুষের জাগতিক সমস্যার সমাধান করতে পারেনি তার বড় প্রমান অল্প কিছুদিনের মাথায় কমরেড দেং শিয়াও পিং-এর নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের লাইনে চীনের অর্থনীতির গতি পরিবর্তন। সমাজতন্ত্রে বলা হয় each according to his need, each according to his ability অর্থাৎ যার যেমন প্রয়োজন এবং যার যেমন সামর্থ্য। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে আমার সামর্থ্যের পুরোটি না দিলেও যদি আমার প্রয়োজন মিটে যায় তবে আমার পুরো সামর্থ্য কেন কাজে লাগাব? উদাহরন হিসেবে ধরা যাক আমি দৈনিক দশটি টিভি ক্যাবিনেট বানাতে পারি। কিন্তু আমার প্রয়োজন মেটানোর জন্য সাতটি বানানোই যথেষ্ঠ। তাহলে আমি অতিরিক্ত শ্রম কেন দেব? অথচ কার্ল মার্ক্সের ‘Theory of surplus value’-র মোদ্দা কথাটিই হচ্ছে ঐ ’সারপ্লাস ভ্যালুই’ পুঁজিবাদের মৌলিক বিষয় যার ফলে পুঁজি পুঞ্জীভুত হয়ে বাড়ে এবং মালিক ছোট পুঁজিপতি থেকে বড় পুঁজিপতি হয়ে ওঠে। এছাড়া শ্রমিকের বাড়তি মজুরী, যা নির্দিষ্ট পরিমান শ্রমের জন্য তার প্রাপ্য, সেটা চুরি করেই মালিক তার মুনাফা বৃদ্ধি করে। এ বিষয়ে এ বক্তব্যটি খুবই পরিষ্কার। যদি আমার অতিরিক্ত শ্রমের বিনিময়ে আমি কোন সুবিধা না পাই তবে কেন অনির্দিষ্টকাল ধরে আমি ঐ বেগার খাটতে যাব? আমি তো কোন যন্ত্র বা মেশিন নই। আমার তো আশা-আকাঙ্খা আছে, আছে প্রত্যাশা। একটু বেশী শ্রম দিই একটু অধিক আরামে থাকার জন্য। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু তা যদি না পাই তবে আমি বেশী শ্রম দিয়ে তো ঐ অতিরিক্ত তিনটি টিভি কেবিনেট বানাব না। আর এর ফলে উৎপাদন কমে যাবে এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় আয় কমে যাবে। এর আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যায় না গিয়েই বলা যায় যে এ কারনেই প্রেসিডেন্ট ইউরি আšেদ্রাপভের সময়ে সোভিয়েট ইউনিয়নে প্রায় দুই কোটি টন খাদ্য ঘাটতি দেখা যায়। এর ফলশ্রুতিতে কৃষিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয় এবং মুলতঃ তখন থেকেই সোভিয়েট ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের দুর্বলতা ক্রমশঃ প্রকাশমান হতে থাকে। এ অবস্থা আরো ঘনীভুত হয় যখন তাসখন্দের ভয়াবহ ভুমিকম্পে দেখা যায় যে উদ্ধারকাজে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই এবং এজন্য পুঁজিবাদী দেশের সহায়তা নিতে হচ্ছে। এর কিছু দিন পরই তো বিশ^ দেখল প্রেসিডেন্ট গর্বাচেভের আমলেই সোভিয়েট ইউনিয়ন পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ল।
ওদিকে চীনের কম্যুনিস্ট পার্টির ’অভিভাবক’ অত্যন্ত বাস্তববাদী দেং শিয়াও পিং চীনে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করলেন। তাঁর কথা ছিল, বিড়ালটি কালো না সাদা, তার চাইতেও গুরুত্বপুর্ন হলো সেটা ইঁদুর ধরতে পারে কি না। চেয়ারম্যান মাও-এর কট্টর কম্যুনিজমের স্থলে তিনি অনেকটাই ফ্লেক্সিবল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করলেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সামান্য কিছু জমি, তাতে একটি বাসঘর, একটি ফ্রিজ রাখার অনুমতি দেওয়া হ’ল। মানুষ একেবারে আবদ্ধ অবস্থা থেকে একটু খোলা বাতাসে নিঃশ^াস নেবার সুযোগ পেল। বস্তুতঃ সেখান থেকেই শুরু হ’ল চীনের দ্রুততম গতিতে অগ্রযাত্রার। আর এর ফলশ্রুতিতেই আজ চীন বিশে^ প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিনত হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটা বলা যায় যে মনুষ্যসৃষ্ট পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র, কোন ’বাদ’ই মানুষের স্বভাবজাত আশা-আকাংখা পুরন করতে পারে নি। কারন এক ’বাদ’-এ ব্যক্তির আশা-আকাংখার কোন সুযোগ নেই, আর অন্যটিতে ধনসম্পদ পুঞ্জীভুত করার কোন সীমারেখা নেই যার ফলে ধনবৈষম্য অতি দ্রুতই সমাজের শ্রেনী বিন্যাসকে প্রতিকুলভাবে প্রভাবিত করে। উপরন্তু দ্রুততম সময়ে ধনবৃদ্ধির আরেকটি কুফল হচ্ছে সমাজে অনৈতিকতার ব্যপক বিস্তার; যার প্রকৃষ্ট উদাহরনও এই বাংলাদেশ। এই কুফলের বাস্তব উদাহরন হচ্ছে ক্রমবর্ধমানভাবে পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে পড়া ও ডিভোর্সের সংখ্যাবৃদ্ধি, এলিট গনিকাবৃত্তির ব্যপক বিস্তার, এমনকি বাসাবাড়ী পর্যন্ত যার ব্যপ্তি। এমতাবস্থায় সমাধান কি? হ্যাঁ, সমাধান অবশ্যই আছে। আর সেটা হচ্ছে ইসলামিক অর্থনীতি ও সমাজনীতি। পুর্বোল্লিখিত রবার্ট জে, স্যামুয়েলসনের ’ঞযব ওৎড়হু ড়ভ ঈধঢ়রঃধষরংস’-এর উত্তরে যেটা আমি বলেছিলাম।
সমাজবাদী অর্থনীতিতে যেমন ব্যক্তি মালিকানার কোন জায়গা নেই, তেমনি পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ধনসম্পদ পুঞ্জীভুত করার কোন সীমা নেই। আর মার্ক্সের Theory of surplus value’-কে আরেকটু ব্যাখ্যা করলে যে সার কথা বেরিয়ে আসে তা হ’ল শ্রমিকের মজুরীর ঐ অতিরিক্ত অংশ চুরি করেই দ্রুত মুনাফা বাড়ানো হয়; আর মুনাফা না বাড়লে পুঁজি বাড়ানো সম্ভব হয় না। তেমনি জোসেফ প্রুধোঁর ভাষায় ’Property is theft -এর সূত্র অনুসারে কারো না কারোর সম্পদ ’চুরি’ করা ছাড়া কেউ ধনসম্পদ এক্যুমুলেট বা জড়ো করতে পারে না। কিন্তু ইসলামিক অর্থনীতিতে কারো শ্রম বা সম্পদ চুরি করার প্রশ্ন আসে না কারন ইসলামের জাকাত প্রথা একটি বাধ্যতামুলক বিষয়। এই জাকাত ’সাহেবে নিসাব’ অর্থাৎ যার হাতে সংসার খরচ বাদে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন থাকে, তার জন্য এর অতিরিক্ত সম্পদের ওপর শতকরা আড়াই ভাগ জাকাত দেওয়া বাধ্যতামুলক। আর এই জাকাতের অর্থ প্রধানতঃ দরিদ্র, খাণগ্রস্থ ব্যক্তি, প্রার্থী, মুসাফির এবং অভাবী নবদীক্ষিত মুসলিম, অসহায় এতিম - এই শ্রেনীর মানুষের প্রাপ্য। সমাজে ধনবৈষম্য দুর করার বা অন্ততঃপক্ষে কমিয়ে আনার এর চাইতে উত্তম কোন পদ্ধতি সমাজবাদ বা পুঁজিবাদ, কোন ’বাদ’এই নেই। ইসলাম এই জাকাতকে এমন গুরুত্ব দিয়েছে যে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে --
আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপনতা করে , এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে এটা যেন তারা ধারনা না করে। বরং তাদের জন্য এটা একান্তই ক্ষতিকর হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধনসম্পদকে কিয়ামতের দিন বেড়ী বানিয়ে তাদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে। (সুরা:৩, আয়াত:১৮০)
আবার বলা হয়েছে --
আর যারা স্বর্ন ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে কঠোর আযাবের কথা শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পাশর্^ ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধকরা হবে এবং বলা হবে এগুলো সেই সব যা তোমরা জমা করে রেখেছিলে নিজেদের জন্য। এক্ষনে তার আস্বাদ গ্রহন কর। (সুরা:৯, আয়াত:৩৪, ৩৫)
এইসব নির্দেশনা থেকে এটা পরিষ্কার যে সমাজবাদে বা কম্যুনিজমে ধনসম্পদ জমা করার কোন সুযোগ যেমন নেই, তেমনি পুঁজিবাদে প্রকৃত দরিদ্র, অভাবী, এতিমদের সাহায্যের জন্য রাস্ট্রীয় কোন সিস্টেমও নেই। যেটুকু আছে সেটুকু রাস্ট্রের বদান্যতা; বাধ্যতামুলক নয়। এজন্যই রাস্ট্র পুঁজির ’এক্যুমুলেশন’ বা পুঞ্জীভুত করার বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে পারে না। প্রত্যক্ষ আয়করের মাধ্যমে হয়ত প্রকৃত অংকের একটা অংশ বড়জোর আদায় করতে পারে। অথচ ইসলামী অর্থনীতিতে জাকাতকে রাস্ট্র আইনী ও বাধ্যতামুলকভাবে আদায়ের ব্যবস্থা নিতে পারে। এবং যেহেতু ইসলামী জাকাত ব্যবস্থায় জাকাতের হকদারদেরকে সুচিহ্নিত করা হয়েছে, তাই এখানে জাকাতের অর্থ নয়ছয় করার কোন সুযোগ নেই। জাকাতের ব্যবস্থাটি এমনই অনুপম ও অনন্য অর্থব্যবস্থা যে একসময় ইসলামী খেলাফতের রাজধানী মদীনায় জাকাত নেবার লোক পাওয়া যেত না।
বস্তুতঃ জাকাত মানুষের ধনসম্পদকে পবিত্র করে কারন ’জাকাত’-এর আভিধানিক অর্থ পবিত্রকরন। জাকাত দিলে সম্পদ কমে না বরং তাতে আরো বরকত লাভ হয়। একইভাবে তা সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষদের জন্য বিশেষ কল্যানকর একটি অর্থ ব্যবস্থা। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরো এরশাদ হয়েছে --
ওয়া ফি আমওয়ালেকুম হাক্কুল লিস্ সায়েলে ওয়াল মাহরুম। (অর্থাৎ, তোমাদের অর্থসম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।) তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ধনীদের সম্পদকে একচেটিয়াভাবে পুঞ্জীভুত করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে এটা ধনীদের কোন বদান্যতার বিষয় নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহর নির্দেশের যারা পরোয়া করে না তারা তো মুসলমান বলে গন্য হবার যোগ্যই নয়।
তাই উপসংহারে বলা যায় যে ইসলামিক অর্থনীতিতে দেশ পরিচালিত হলে দেশে একজন হাজার কোটি টাকার মালিক আর অপরজন অর্ধভুক্ত ও গাছতলার বাসিন্দা হবার কোন সুযোগ নেই। পরিষ্কার গনিতের হিসাবে বলা যায় যে যিনি একশ’ কোটি টাকার মালিক তাঁর কাছে জাকাতের পরিমান আসে আড়াই কোটি টাকা। এই আড়াই কোটি টাকা একহাজার দরিদ্রকে ভাগ করে দিলে তারা প্রত্যেকে পঁচিশ হাজার টাকা করে পাবে। এতে তাদের কিছু না কিছু একটা করে স্বাবলম্বী হবার সুযোগ তৈরী হতে পারে যাতে তার আর পরের বছর জাকাত নেবার দরকারই হবে না। এভাবে দেশের সম্পদশালীরা যদি তাদের প্রদেয় জাকাত সঠিকভাবে আদায় করে তবে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বছর দশেকের মধ্যেই শুন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫০০০ পরিবার আছে যাদের মালিকানায় কয়েকশ’ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আছে। তারা যদি সঠিক পরিমানে জাকাত আদায় করেন তবে একদিকে তাদের অর্থসম্পদে বরকত আসবে, অপর দিকে তাদের অর্থে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের অবস্থার উন্নতি হবে। তবে এ ব্যাপাওে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগী ভুমিকা অত্যাবশ্যক। সরকার দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জাকাত বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তা সংগ্রহ ও বন্টনের সুচারু ব্যবস্থা করতে পারে। এই জাকাত বন্টনের দায়িত্ব প্রতিটি গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেবদেরকে অর্পন করলে তা যথাযথভাবে জাকাতের প্রকৃত হকদার ব্যক্তিগন পেতে পারে।
সাম্প্রতিককালে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে শরীয়া ভিত্তিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যব¯থা কায়েম করার প্রক্রিয়া চলছে। আজকে বিশ^ পরিস্থিতি বলছে সমাজবাদ ও পুঁজিবাদ, কোনটাই কোন দেশে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে নি। যে গনতন্ত্রের ধুয়া তুলে সা¤্রাজ্যবাদ দেশে দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে, সেখানেও তাদের প্রেস্ক্রৃপশন অনুযায়ী গনতন্ত্র চলেনি। কারন গনতন্ত্র সত্যিকারভাবে কার্যকর এবং সুফলদায়ক হয় সেখানেই যেখানে মানুষ তাদের ভোটের মুল্য বোঝে। সুতরাং এখন ইসলামী শাসনব্যবস্থা তথা ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে মঞ্চে আবির্ভুত হয়েছে। এখন নতুন বিশ^ব্যবস্থা চালুর মুখে উপনীত হয়েছে যে ব্যবস্থা ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর আগে মানব সমাজের সার্বিক কল্যানের লক্ষ্যেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে রসুলে করিম হযরত মুহম্মদ (দঃ) এর মাধ্যমে নাজিল হয়েছিল।
The prevailing situation all around and also all over the world seems so wierd when I look back a few decades ago to make a comparison. That pains me much. The incongruity and contrast is sometimes so incomprehensible and tragically unacceptable that my whole mind burns in rebellion. But as I can't do anything, so can't I share my feelings with anyone; that's why this monologue.
Friday, November 19, 2021
গণপরিবহনে নৈরাজ্য
শৃঙ্খলা ফেরানোর দায়িত্ব সরকারের - দৈনিক সমকাল।
গনপরিবহনে চলমান নৈরাজ্য যে খোদ সরকারেরই সৃষ্টি সেটা আর লুকানো কোন বিষয় নয়। কোন দেশে একটি সরকারের কাজ কি? দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা এবং বৈদেশিক শত্রুর হাত থেকে দেশ ও দেশের জনগনকে রক্ষা করা। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীন শৃংখলা রক্ষা করাটা সরকারের পরিচালকদের সূক্ষ দুরদৃষ্টি, সুচিন্তিত ও সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং তা কার্যকর করার শক্ত মানসিকতা এবং সর্বোপরি নিখাদ দেশপ্রেম একান্তই অত্যাবশ্যক। কিন্তু এই দেশের পরিচালকদের মধ্যে ঐ সব গুনাবলীর তীব্র অভাব। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিক আর রাস্ট্রনায়ক সমার্থক নয়। রাস্ট্রনায়ক অন্ততঃ একশ’ বছর পরে কি হতে পারে সেই দুরদৃষ্টি দিয়েই তার সকল পরিকল্পনার ছক আকেন। আর রাজনীতিকরা আপাতঃলাভের অংক কতটা হবে সেই ভাবনা মাথায় রেখে কাজ করেন। বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল ছোট্ট্ একটি দেশ। এই দেশের মাটি কতটুকু কিভাবে ব্যবহার করা হবে তার কোন পরিকল্পনা নেই। শহর পরিকল্পকদের মাথায় নেই এই শহরে কোন এলাকায় কতসংখ্যক পরিবার থাকলে সেখানকার সকল ইউটিলিটি সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে দেওয়া যাবে। কতটুকু রাস্তা দরকার, সেই রাস্তায় কতটা যানবাহন চলাচল করলে রাস্তায় শৃংখলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাদের মাথায় এটা নেই, ছিলনা কখনো, যে এত ঘনবসতিপুর্ন শহরে প্রাইভেট মালিকানায় পরিবহন ব্যবস্থা ছেড়ে দিলে তার পরিনামফল কি দাঁড়াবে। শহরের যত্রতত্র অসংখ্য রিকশা চলাচলোর অনুমতি দিলে রাস্তার শৃংখলা সম্পুর্ন ভেঙ্গে পড়বে কি না। এত ঘনবসতিপুর্ন শহরে সবচাইতে উপযোগী হতো সরকারী মালিকানায় সমান সংখ্যক পাবলিক ট্র্যান্সপোর্ট ব্যবস্থা। কিন্তু সরকারী মালিকানাধীন বিআরটিসি চোর-ডাকাতে আকীর্ন করে রাখা হয়েছে যারা বিশ্বের নামকরা ভোলভো ডাবলডেকার বাসগুলিও বছর না ঘুরতেই ডাম্পিংএ পাঠিয়েছে অথচ এমন বাস প্রাইভেট মালিকানায় থাকলে দশ বছরেও কিছু হতো না। এর পেছনে যে সরকারী বেসরকারী স্যাবোটিয়ারদের উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রয়েছে তা আজ আর গোপন বিষয় নয়। এদেশের পুর্ববর্তী সরকারগুলো জনবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন করেনি। এর পেছনে সরকার পরিচালক এবং আমলাদের যে ঘোর অশুভ যোগসাজস ছিল সেটা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আশা ও প্রশংসার বিষয় যে বর্তমান সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেই সাথে এটা দুঃখ ও হতাশাজনক যে বর্তমানে সারা দেশে রাস্তায় যে বিশৃংখলা ও আইন ভাঙার প্রবল প্রবনতা চলছে, তার বিরুদ্ধে সরকার যথেষ্ঠ প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বেসরকারী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যে তাদের খেয়ালখুশীমত যখন তখন হরতাল ধর্মঘট ডেকে জনসাধারনকে অসীম দুর্ভোগে ফেলছে, সেটা সম্ভব হতো না যদি সরকার সমান সংখ্যক ডাবলডেকার বাস শহরের রাস্তায় নামাতে পারত। কিন্তু সরকারের মধ্যেই যদি ‘বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া’র মত এজেন্ট থেকে থাকে তবে রাস্তায় শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কোন প্রচেষ্টাই সফল হবে না।
Tuesday, March 17, 2020
Bangladesh Administration vis a vis Pakistani administration
Onion prices shoot up to record high- The Daily Star reports.
Now could we put up a few questions to the present administration? Has the administration of independent Bangladesh ever done any better than the administration of the Pakistan era? During Pakistani period, we saw any sudden and unexpected hike of any essential commodity was immediately called in the market operation instrument such as the Marketing Officer. They got down to supervise and control the price without delay and the traders and shopkeepers would not dare to increase price arbitrarily. They were sure that it would cost them high. But in independent Bangladesh traders and shopkeepers hike the price of the commodities at their sweet will with the least fear of being adequately punished. Most unfortunately, the government itself hikes the price of utility services at its will to compensate the loss through corruption and pilferage. The price of electricity and various governmental fees are bright examples.
The same thing, albeit a bit different issue, the roads and highways lay unattended days and months together until the potholes are enlarged into deep ditches. While a little attention could have spared the public unjustified and high taxes, the road authorities do not bother to give attention to them. We saw in the Pakistan era that a truck loaded with a small road roller, bitumen, stone chips move on the roads to fill the potholes before they turned into deeper ditches. In the developed countries such as our neighbour Singapore, this is a common sight that a truck loaded with necessary materials fill the potholes saving the road from being infested with ditches. There were road overseers whose work was to check if the roads are not filled with potholes and ditches. Even in the city areas under City Corporations, no such activity is ever visible. Are there no post of road supervisors/overseers? If there are, what work do they do?
Now question is:
A. Is the administration of independent Bangladesh has been doing any better than the administration of the Pakistani era? The questions arise because in almost every sector inactivity and inefficiency prevails that tantamount to deep-seated corruption. Projects are never completed in allocated time, quality of the work almost always sub-standard, willful delays are allowed by the concerned authorities to swallow more money, public accountability painfully disregarded.
B. Is it a fact that the authorities wait for the roads and highways to get dilapidated demanding large amount of money from which they an swallow a bulk of it? or is there some clandestine nexus with the contractors that the engineers and supervisors allow the roads to get dilapidated so that they too can gulp down a good sum of money?
গনতন্ত্র এবং বাংলাদেশ
স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরে বাংলাদেশের গনতন্ত্রের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। মুখে আমরা গনতন্ত্র গনতন্ত্র বলে যতই চেঁচামেচি করি না কেন, গনতন্ত্রের সত্যকার চেহারা আমাদের মনে হয় অজানাই থেকে গেছে। এর কারন খুজতে গেলে দেখা যাবে যে আমাদের গনতন্ত্র কেবল পাচ বছর পর একদিন ভোট দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অত:পর এই পাচ বছরের মধ্যে ভোটারদেরকে আর কেউ পাত্তা দেবার কথা ভাবতেও চায় না; তাদের সুখ-দু:খের কথা, সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবা দুরে থাক। কিন্তু এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নেই? নিশ্চয়ই আছে। তবে তার জন্য কতিপয় ব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে সংযুক্ত করা অতি আবশ্যক ছিল। আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। তব্ওু দু:খের সাথে বলতে হয় তাড়াহুড়ো করে সংবিধান রচনা করার কৃতিত্ব লাভের আকাংখায় সেই অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির দিকে যথাযথ মনোযোগ দ্ওেয়া হয়নি। আমাদের সংবিধান পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি লক্ষ্যনীয় সেটি হলো গনতন্ত্রের ছদ্মাবরনে একধরনের স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখা। সন্দেহ জাগে হয়ত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি অতিআনুগত্যের মনোভাবই এই মারাত্মক ত্রটির কারন ছিল। আজ অবধি সংবিধান যেভাবেই সংশোধন করা হয়ে থাকুক না কেন - প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিরই হোক আর পার্লামেন্টারী পদ্ধতিরই হোক - সরকারপ্রধানই সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক । তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার কোন মসৃন পথ রাখা হয়নি। মহামান্য প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক প্রধান। কিন্তু সাবেক বিচারপতি জনাব শাহাবুিদ্দন সাহেবের ভাষায় মিলাদ পড়া আর ’উদ্বোধন’ ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার ক্ষমতা তাকে দ্ওেয়া হয়নি। সংবিধানের এই মারাত্মক ত্রুটির জন্যই এদেশে গনতন্ত্র জনগনের কল্যানে কার্যকর কোন ভ’মিকা পালন করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েকশ’ বছর্ওে এই গনতন্ত্র জনগনকে যে কিছু দিতে পারবেনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সংবিধানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি সংযুক্ত করা অত্যাবশ্যক; অবশ্য আদৌ যদি আমরা গনতন্ত্রকে কার্যকর অবস্থায় দেখতে চাই। বিষয়গুলি নিম্নরুপ:
১. ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচন নয় বরং দলভিত্তিক নির্বাচন হবে। দলীয় মেনিফেস্টো রেডিও এবং টিভিতে প্রয়োজনে এক মাস ধরে প্রচারিত হবে। যে কোন রকম আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগতভাবে প্রচার-প্রচারনা নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. সাধারন নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য নির্ধারিত হবে। কোন দল প্রদত্ত মোট ভোটের অন্যুন ৩% ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে সেই দল বিলুপ্ত বলে ঘোষিত হবে।
৩. নির্বাচনের দুই বছর পর বিশ্বাসযোগ্য জনমত যাচাইএর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির জনপ্রিয়তার পরিমাপের ব্যবস্থা রাখা। এই জনমত কমপক্ষে ৫০% এর কম হলে ঐ প্রতিনিধিকে রি-কল করার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই শুন্য পদে গ্রহনযোগ্য নতুন ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। সেটা স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেওয়া হতে পারে।
৪. প্রেসিডেন্ট ও/বা স্পীকার নির্বাচিত হবার পর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বাধ্যতামুলক করা এবং পরবর্তীতে তাকে ভোটপ্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে।
৫. এক ব্যক্তি একই সাথে দলীয় প্রধান, সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
৬. প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগুরু দলের মনোনীত হলেও বিরোধী দলের অন্তত: ২/৫ অংশ সদস্যের সমর্থন লাভ আবশ্যিক করতে হবে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে অতীব প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমানিত হয়েছে বিধায় প্রেসিডেন্টকে যে কোন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিল ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
৮. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও আইনের দৃষ্টিতে কাউকেই কোন রকম প্রিভিলেজ না দেওয়ার বিধান রাখতে হবে। সকল প্রকার ট্যাক্সের টাকা জনগনের টাকা; তাই ’ট্যাক্স-ফ্রি প্রথা স¤পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
৯. সংবিধানের বিধি অনুযায়ী ’আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার’কে কেবল কাগজে না রেখে বাস্তবে সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০. বিচার, শিক্ষা, এক্সিকিউটিভ বিভাগ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী দলীয়করনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য করার আইন পাশ করতে হবে।
১১. সরকারী চাকুরীবিধির মাথায় পা দিয়ে রাজনৈতিক দলের লেজুড় হবার সুযোগ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য সংক্ষিপ্ত তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি(দের)কে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে বরখাস্ত করার বিধান করতে হবে।
১২. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সকল সাংবিধানিক পদে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিলেও জাতীয় সংসদে শুনানীর মাধ্যমে তাকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলি এদেশে বর্তমানে প্রচলিত গনতন্ত্রের খোলসে ছদ্ম স্বৈরতন্ত্রকে বিদুরিত করার জন্যই অপরিহার্য্য বিধায় অবিলম্বে জনসচেতনতা ্ও জনমত তৈরী করার লক্ষ্যে সকল ধরনের মিডিয়াকর্মীসহ সকল স্তরের জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। দেশে ’সমাজতন্ত্র বলতে কিছু নেই, এটা পরিষ্কার। তাই মুক্তবাজার অর্থনীতি বহাল রেখে সংবিধানে সমাজতন্ত্র চার মুলনীতির একটি হিসেবে রাখা যে চরম স্ববিরোধী তা সুস্পষ্ট। এতদসত্ব্ওে ’সমাজতন্ত্র’ ’সমাজতন্ত্র’ বলে চেঁচামেচি করাটা জাতির সাথে প্রতারনা করা কি না সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর একটি বিষয়। ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে রাখার ব্যপারে যারা যুদ্ধংদেহী তাদেরকে পন্ডিত নেহরুর সার্বজনীন ভোটাধিকারের গনতন্ত্র স¤মন্ধে আসক্তির বিষয়টি মনে রাখতে অনুরোধ করি। ’এক ব্যক্তি এক ভোট’ - এই নীতির ভিত্তিতে ভারত যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত তবে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যা করছে তাই কি হতো না? এবং সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের কোন বক্তব্য বা মতামত পাত্তা পেত কি? তাছাড়া মহাত্মা গান্ধীকে সত্যিই ’মহাত্মা’ বলে মানেন এমন ’বিদগ্ধ’ ব্যক্তির অভাব এদেশে নেই। ধর্মের সাথে রাজনীতির সম্পর্কের বিষর্য়ে মহাত্মা বলেছেন, ’যারা বলেন রাজনীতির সংগে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই তারা জানেনই না ধর্ম জিনিসটা আসলে কি।’ আশা করি এ বিষয়েও দেশের বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ কিছু আলোকপাত করবেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ-র ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যারা রাখতে নারাজ, তারা আসলেই কোন ধর্ম অনুসরন করেন বা আদৌ করেন কি না তাও দেশের আম জনগন জানতে পারলে কৃতার্থ হতো। যারা দেশের প্রথম সংবিধান রচনার কৃতিতের অধিকারী, তাদের কাছেও সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা উপরে বর্ণিত যুক্তিগুলির গ্রহনযোগ্যতা বিচার করবেন এবং এগুলি আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করবেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে জাতির ভবিষ্যত মঙ্গলের জন্য এই আহ্বান জানাচ্ছি।
১৫.০৩.২০১২ এম, শ্ওকত আলী; ৯/১৯/১১, উত্তরা; ঢাকা - ১২৩০।
১. ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচন নয় বরং দলভিত্তিক নির্বাচন হবে। দলীয় মেনিফেস্টো রেডিও এবং টিভিতে প্রয়োজনে এক মাস ধরে প্রচারিত হবে। যে কোন রকম আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগতভাবে প্রচার-প্রচারনা নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. সাধারন নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য নির্ধারিত হবে। কোন দল প্রদত্ত মোট ভোটের অন্যুন ৩% ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে সেই দল বিলুপ্ত বলে ঘোষিত হবে।
৩. নির্বাচনের দুই বছর পর বিশ্বাসযোগ্য জনমত যাচাইএর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির জনপ্রিয়তার পরিমাপের ব্যবস্থা রাখা। এই জনমত কমপক্ষে ৫০% এর কম হলে ঐ প্রতিনিধিকে রি-কল করার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সেই শুন্য পদে গ্রহনযোগ্য নতুন ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। সেটা স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেওয়া হতে পারে।
৪. প্রেসিডেন্ট ও/বা স্পীকার নির্বাচিত হবার পর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বাধ্যতামুলক করা এবং পরবর্তীতে তাকে ভোটপ্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে।
৫. এক ব্যক্তি একই সাথে দলীয় প্রধান, সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
৬. প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগুরু দলের মনোনীত হলেও বিরোধী দলের অন্তত: ২/৫ অংশ সদস্যের সমর্থন লাভ আবশ্যিক করতে হবে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশে অতীব প্রয়োজন এবং এ বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমানিত হয়েছে বিধায় প্রেসিডেন্টকে যে কোন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিল ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
৮. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও আইনের দৃষ্টিতে কাউকেই কোন রকম প্রিভিলেজ না দেওয়ার বিধান রাখতে হবে। সকল প্রকার ট্যাক্সের টাকা জনগনের টাকা; তাই ’ট্যাক্স-ফ্রি প্রথা স¤পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
৯. সংবিধানের বিধি অনুযায়ী ’আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার’কে কেবল কাগজে না রেখে বাস্তবে সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০. বিচার, শিক্ষা, এক্সিকিউটিভ বিভাগ এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী দলীয়করনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য করার আইন পাশ করতে হবে।
১১. সরকারী চাকুরীবিধির মাথায় পা দিয়ে রাজনৈতিক দলের লেজুড় হবার সুযোগ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য সংক্ষিপ্ত তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি(দের)কে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে বরখাস্ত করার বিধান করতে হবে।
১২. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সকল সাংবিধানিক পদে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিলেও জাতীয় সংসদে শুনানীর মাধ্যমে তাকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলি এদেশে বর্তমানে প্রচলিত গনতন্ত্রের খোলসে ছদ্ম স্বৈরতন্ত্রকে বিদুরিত করার জন্যই অপরিহার্য্য বিধায় অবিলম্বে জনসচেতনতা ্ও জনমত তৈরী করার লক্ষ্যে সকল ধরনের মিডিয়াকর্মীসহ সকল স্তরের জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। দেশে ’সমাজতন্ত্র বলতে কিছু নেই, এটা পরিষ্কার। তাই মুক্তবাজার অর্থনীতি বহাল রেখে সংবিধানে সমাজতন্ত্র চার মুলনীতির একটি হিসেবে রাখা যে চরম স্ববিরোধী তা সুস্পষ্ট। এতদসত্ব্ওে ’সমাজতন্ত্র’ ’সমাজতন্ত্র’ বলে চেঁচামেচি করাটা জাতির সাথে প্রতারনা করা কি না সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর একটি বিষয়। ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে রাখার ব্যপারে যারা যুদ্ধংদেহী তাদেরকে পন্ডিত নেহরুর সার্বজনীন ভোটাধিকারের গনতন্ত্র স¤মন্ধে আসক্তির বিষয়টি মনে রাখতে অনুরোধ করি। ’এক ব্যক্তি এক ভোট’ - এই নীতির ভিত্তিতে ভারত যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত তবে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যা করছে তাই কি হতো না? এবং সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের কোন বক্তব্য বা মতামত পাত্তা পেত কি? তাছাড়া মহাত্মা গান্ধীকে সত্যিই ’মহাত্মা’ বলে মানেন এমন ’বিদগ্ধ’ ব্যক্তির অভাব এদেশে নেই। ধর্মের সাথে রাজনীতির সম্পর্কের বিষর্য়ে মহাত্মা বলেছেন, ’যারা বলেন রাজনীতির সংগে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই তারা জানেনই না ধর্ম জিনিসটা আসলে কি।’ আশা করি এ বিষয়েও দেশের বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ কিছু আলোকপাত করবেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ-র ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যারা রাখতে নারাজ, তারা আসলেই কোন ধর্ম অনুসরন করেন বা আদৌ করেন কি না তাও দেশের আম জনগন জানতে পারলে কৃতার্থ হতো। যারা দেশের প্রথম সংবিধান রচনার কৃতিতের অধিকারী, তাদের কাছেও সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা উপরে বর্ণিত যুক্তিগুলির গ্রহনযোগ্যতা বিচার করবেন এবং এগুলি আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করবেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে জাতির ভবিষ্যত মঙ্গলের জন্য এই আহ্বান জানাচ্ছি।
১৫.০৩.২০১২ এম, শ্ওকত আলী; ৯/১৯/১১, উত্তরা; ঢাকা - ১২৩০।
Friday, October 25, 2019
No advance tax on MPs’ duty-free cars
শাস্ত্রে বলে মানুষ ষ্ষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের দাস। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য - এই কয়টি মানুষের প্রধান প্রবৃত্তি। এগুলোর মধ্যে যারা ডুবে যায় তারা আর মনুষ্য পদবাচ্য থাকে না। সে কারনে সর্ব ধর্ম সর্ব শাস্ত্রে এই প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। যারা ইসলাম ধর্ম মানেন বা অনুসরন করেন, তাদেরকে এসব থেকে দুরে থাকার নির্দশ স্বয়ং স্রষ্টাই দিয়েছেন। তাই অন্যদের কথা বাদ দিলেও মুসলমান এই সব প্রবৃত্তির উর্ধ থাকবে এটাই কাম্য। কিন্তু এই দেশে বসবাসকারীদের ৮৫% নাকি মুসলমান; অন্ততঃ নামে সেটাই দেখা যায়। কিন্তু এই দেশের মানুষের মধ্যে উপরোক্ত প্রবৃত্তিগুলোর প্রাবল্য এতটাই যে তারা স্বয়ং মহান স্রষ্টার নির্দশাবলীকেও পাত্তা দেয় না।
আগে মুরুব্বীদের কাছে শুনেছি মানুষ রাজনীতি করে সমাজ ও মানুষের মঙ্গল করার লক্ষ্যে। বহু রাজনীতিক নিজেদের পকেটের পয়সা ব্যয় করে সমাজ ও মানব সেবা করতেন। তার উল্লেখযোগ্য উদাহরন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ। এমনকি বঙ্গবন্ধুও কোন বৈষয়িক লাভালাভের জন্য রাজনীতি করতেন এমন কোন প্রমান নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গত ২০/২৫ বছর যাবত মানুষ রাজনীতি করছে, রাজনীতিতে আসছে রাতারাতি আঙুল ফুলে বটগাঠ হবার জন্য। এর পেছনের কারন খুঁজতে গেলে দেখা যাবে রাজনীতিতে আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা যত ক্ষীয়মান হয়েছে, ততই মানুষের মধ্যে অর্থলিপ্সা ক্রমাগত জেঁকে বসেছে। যারা রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে ফেলায় টাকা-পয়সা বা পেশী শক্তি ব্যবহার করে রাজনীতি করছেন। এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনীতিক দলই মনোনয়ন বিক্রী,ও অন্য যেনতেন প্রকারে অর্থ সংগ্রহ, করে থাকে; কারন এই অর্থই তাদের পক্ষে সমর্থক ও লাঠিয়াল বাহিনী পুষতে অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এরপর ক্ষমতাসীন হয়ে দল ভারী করার লক্ষ্যে সমর্থকদের মধ্যে পাবলিকের পকেটের টাকা অকাতরে বিলিয়ে দেবার এক অসুস্থ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার বড় প্রমান এই যে যারা দেশ সেবা বা জনসেবার জন্য নির্বাচন করেন তাদের তো অন্য সবার উপরে অর্থবিত্তের যোগান দেবার কথা নয়; বরং তারা নিজেরা কিছু দিতে না পারলেও জনগনের অর্থর বিরাট অংশ পকেটস্থ করার চিন্তা করতে পারেন না। দেশের সংবিধান যদি (হ্যাঁ, সতর্কতার সাথেই বলা হচ্ছে ‘যদি’) দেশের সকল নাগরিককে সমান বলে গন্য করার নির্দশ দেয়, তবে বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠি কোন রকম বিশেষ সুবিধা পাবার হকদার হয় কিভাবে? দেশের সকল মানুষ ট্যাক্স দেবে আর সংসদ সদস্যগন বিনা ট্যাক্সে গাড়ী আমদানী করার সুযোগ কিভাবে পেতে পারেন? তারা কিভাবে পাবলিকের ট্যাক্সের টাকায় সরকারী সব রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন? সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে (?) জনগনের সরকার হিসেবে দাবীদার একটি সরকার কিভাবে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে স্বেচ্ছাচারমুলকভাবে একতরফা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে পারে? সংবিধান বলে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান। তাহলে যাদেরকে সংবিধান ‘পাবলিক সার্ভন্ট’ বলে তারা কিভাবে পাবলিকের ‘স্যার’ ডাক না শুনলে ক্রোধী হয়ে পড়েন? সারা দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড যে কৃষক শ্রমিক, তাদের বেতন বা আয় ৫% - ১০% এর বেশী বাড়ে না, কৃষকের রক্ত-ঘাম ঝরানো ফসলের উপযুক্ত মুল্য দিতে সরকার অপারগ হয়, অথচ সেই ‘পাবলিক সার্ভন্ট’দের বেতন বিনা দাবীতে, বিনা চাহিদায় রাতারাতি ১০০% - ১৫০% বাড়তি হয়ে যায় কিভাবে, কোন যুক্তিতে? সরকারী দপ্তরের কর্তারা পাবলিকের টাকায় ইচ্ছামত কারনে অকারনে বিদেশ ভ্রমন করেন কিভাবে, কোন যুক্তিতে?
যারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন, তারা দেশকে ভালবেসেই তা করেছিলেন। যারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারা তো কোন ভাতার জন্য যুদ্ধে যান নি। তাহলে আজ কেন তারা এই ভাতা পাবার জন্য হন্যে হয়ে পড়েছেন? তাছাড়া যখন ভাতার ব্যবস্থা ছিল না তখনকার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ভাতার দাবীতে আজকে কিভাবে ৩/৪ গুন বেড়ে গেল? এটা কি চরম অর্থলোভের কারনে নয়?
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে মানুষের যেসব প্রবৃত্তি মানুষকে মানুষের পর্যায় থেকে পশুর পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেসব প্রবৃত্তিকে যখন রাস্ট্রীয়ভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয় তখন সমাজে অন্যায় অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়াটা ঠেকানো সম্ভব হয় না। আজকেই যদি এইসব অর্থ স্ংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করা হয় তবে দেখা যাবে যে রাজনীতিতে সৎ, নির্লাভ, প্রকৃত সমাজসেবী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে; হয়ত সেটা ঝড়ের গতিতে না হলেও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ইত্যাদির বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে আজকে দেখা যাচ্ছে কারা তাঁর দলের ছত্রছায়ায় অবৈধ ও বেআইনী পন্থায় অর্থবিত্তের পাহাড় গড়েছে এবং এর মাধ্যমে তাঁকে অপ্রস্তুত ও কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকেছে। আজ যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকার সংসদ সদস্যদের বর্তমানে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা অর্ধকও করে দেন তবে দেখা যাবে পদ-পদবীর লোভে মারামারি দলাদলির মচ্ছব অন্ততঃ ৫০% ভাগ কমে গেছে। কথায় বলে ’অর্থই অনর্থর মুল।’ এই অর্থবিত্তের লোভ এমনই যে তা তরুন ছাত্র সমাজকেও চরমভাবে কলুষিত করে ফেলেছে। আজ ছাত্র নেতারা কোন রকম পড়াশুনা করে পাশ করার চাইতে আগেই বাড়ী, গাড়ী, ব্যাংক ব্যালান্স বা ব্যাংকের মালিক বনে যাচ্ছে। এই অবস্থায় তাদেরকে সুপথে ফেরানোর একটাই উপায়; আর তা হলো এই সব অনুপার্জত অর্থবিত্তের মালিক হবার সকল রাস্তা বন্ধ করা। মনে রাখা দরকার যে বেহুলার স্বামী লখিন্দরকে কামড়ানোর জন্য সাপের প্রবেশপথ সদর দরজা ছিল না; ছিল সূচের ছিদ্রের মতই সঙ্কীর্ন পথ।
Saturday, September 28, 2019
দুর্নীতি দুর্নীতি আর দুর্নীতি!
’উপাচার্যরা নিয়োগ-বানিজ্যে ব্যস্ত’, তিন বিচারপতিকে অব্যহতি’ (নিশ্চয়ই কোন ভাল/সৎ কাজের জন্য নয়), ’বিএসইসি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক’, ’আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত সব অনিয়মে’, ’খোঁজা হচ্ছে এনডিআই জালিয়াতচক্র - প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের ৪৫ কর্মকর্তা’, ’উত্তরায় বিআরটি-তে দালালের দৌরাত্ম’, ’ডিবি অফিসের ড্রয়ার ভেঙে ইয়াবা চুরি - কনস্টেবল গ্রেপ্তার’ - ইত্যাকার সব সংবাদে আজকের দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার পাতা ভর্তি। দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মত দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত (না কি ’কুশিক্ষিত?’) ব্যক্তি থেকে পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত চুরি-চামারি ও দুর্নীতিতে আকন্ঠ জড়িত হয়ে পড়েছে। এর আগে পুলিশের খুবই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দুদক-এর পরিচালকের মত উচ্চ পদধারীদেরকেও দুর্নীতিতে জড়িত হতে দেখা গেছে। এই মহামারী বছর দশেক আগেও দেখা যায় নি। তাহলে যে কোন সামান্য জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই এর তাৎপর্য বুঝতে পারে। গত দশ বছরে দেশ থেকে যে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ, সেটাও এই রকম ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
আসলে যে যত সাফাই-ই দিন না কেন, যে কোন সরকারের গোড়ায় গলদ থেকে গেলে তাদের পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ দুরে থাক, দমন করাও যে সম্ভব হয় না সেটা বিগত এক যুগ থেকেই মানুষ দেখে আসছে। এই দেশে দুর্নীতির বিস্তারের জন্য খোদ বঙ্গবন্ধুকেই যখন আক্ষেপ করতে হয়েছে, তখন আর কেউ যে ভাল করতে পারবে সেটা এমনিতেই ধারনা করা মুশকিল। তাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল, দেখা গেছে তাদের আমলেই দুর্নীতির বিস্তার ততটাই ব্যপক হয়েছে। কিন্তু কেন এ রকম দুর্বিষহ অবস্থা? এর একমাত্র কারন সঠিক জায়গাতে সঠিক লোক না থাকা বা না বসানো। কামারের কাজ যেমন কুমোর দিয়ে সম্ভব নয়, তেমনি যাদের লক্ষ্য থাকে যেনতেন পকেট ভারী করা, তারা যতই দলের প্রতি হাঁটুগাড়া আনুগত্য দেখাক না কেন, তাদের দ্বারা ভাল কোন কাজ বা দুর্নীতিমুক্ত থেকে কোন কাজ কদাচ সম্ভব নয়। দেশের শাসকগন, তা সে গনতান্ত্রিকই হোক বা স্বৈরতান্ত্রিক হোক, যদি মেধা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতা না দেখে কেবল তাদের জ্বি-হুজুরদের দিয়ে সব কাজ চালাতে মরিয়া হয়ে থাকেন তবে দেশে এরকম অরাজক মাত্রায় দুর্নীতি বাড়া ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এটা যে সব শাসকরা বোঝেন না বা বুঝতে চান না তারা মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে রকম আস্ফালনই করুন না কেন তা প্রবল প্রসব বেদনান্তে পর্বতের মুষিক প্রসবের মতই হাস্যকর হতে বাধ্য। এটা শাসকগন তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ’ইগো’-র জন্য বুঝতে না চাইলেও এটাই বাস্তব সত্য।
তাই আজ যে সর্বগ্রাসী সর্বব্যপী দুর্নীতির বিস্তার ’টপ-টু-বটম’ ঘটেছে, তার জন্য দেশের শাসকগন কোন মতেই দায় এড়াতে পারেন না। --- ২৩/৮/.২০১৯ইং
আসলে যে যত সাফাই-ই দিন না কেন, যে কোন সরকারের গোড়ায় গলদ থেকে গেলে তাদের পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ দুরে থাক, দমন করাও যে সম্ভব হয় না সেটা বিগত এক যুগ থেকেই মানুষ দেখে আসছে। এই দেশে দুর্নীতির বিস্তারের জন্য খোদ বঙ্গবন্ধুকেই যখন আক্ষেপ করতে হয়েছে, তখন আর কেউ যে ভাল করতে পারবে সেটা এমনিতেই ধারনা করা মুশকিল। তাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ’জিহাদ’ ঘোষনা করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল, দেখা গেছে তাদের আমলেই দুর্নীতির বিস্তার ততটাই ব্যপক হয়েছে। কিন্তু কেন এ রকম দুর্বিষহ অবস্থা? এর একমাত্র কারন সঠিক জায়গাতে সঠিক লোক না থাকা বা না বসানো। কামারের কাজ যেমন কুমোর দিয়ে সম্ভব নয়, তেমনি যাদের লক্ষ্য থাকে যেনতেন পকেট ভারী করা, তারা যতই দলের প্রতি হাঁটুগাড়া আনুগত্য দেখাক না কেন, তাদের দ্বারা ভাল কোন কাজ বা দুর্নীতিমুক্ত থেকে কোন কাজ কদাচ সম্ভব নয়। দেশের শাসকগন, তা সে গনতান্ত্রিকই হোক বা স্বৈরতান্ত্রিক হোক, যদি মেধা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতা না দেখে কেবল তাদের জ্বি-হুজুরদের দিয়ে সব কাজ চালাতে মরিয়া হয়ে থাকেন তবে দেশে এরকম অরাজক মাত্রায় দুর্নীতি বাড়া ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এটা যে সব শাসকরা বোঝেন না বা বুঝতে চান না তারা মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে রকম আস্ফালনই করুন না কেন তা প্রবল প্রসব বেদনান্তে পর্বতের মুষিক প্রসবের মতই হাস্যকর হতে বাধ্য। এটা শাসকগন তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ’ইগো’-র জন্য বুঝতে না চাইলেও এটাই বাস্তব সত্য।
তাই আজ যে সর্বগ্রাসী সর্বব্যপী দুর্নীতির বিস্তার ’টপ-টু-বটম’ ঘটেছে, তার জন্য দেশের শাসকগন কোন মতেই দায় এড়াতে পারেন না। --- ২৩/৮/.২০১৯ইং
আদর্শহীন নৈরাজ্য’-এ নিয়ন্ত্রণহীন তরুণেরা - কেন?
‘আদর্শহীন নৈরাজ্য’-এ নিয়ন্ত্রণহীন তরুণেরা - জনাব ফজলুল কবির লিখিত দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ।
আসলে গত ৬/৭ মাস ধরে দেশে যে ধরনের নৈরাজ্য চলছে, একশ্রেনীর তরুন যুবা যে ধরনের বেপরোয়া গুন্ডামিতে মেতে উঠেছে তার পেছনের কারন খুঁজতে বেশী দুর যেতে হবে না। তবে আজকে যারা এই পরিস্থিতির জন্য হাহুতাশ করছেন, নানা রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেবার চেষ্টা করছেন তারা এক রকম beating about the bush-এর কসরত করছেন। সকলেই জানে যে শিক্ষার্থীদের নিরীহ কোটা বিলুপ্তি আন্দোলনের সময় কারা তাদের উপর লাঠি, হাতুড়ী, চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল; কারা হেলমেট পরে এই সন্ত্রাস চালিয়েছিল। কিন্তু তাদের কিছু হয়েছে? কেন হয় নি? কারনটা সবাই জানে। গত ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে কারা বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাবার জন্য হুকুম জারি করেছিল এবং তাদের ওয়ানিং না শোনার জন্য অনেককে মেরে আধমরা করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল তাও সবাই জানে। কিন্তু সেই সব হুমকিদাতাদের কি কিছু হয়েছে? সেটাও সবাই জানে। তো সরকার কি করবে? সরকার তো তাদের কাঁধে ভর করেই ক্ষমতাসীন হয়েছে। তবে হ্যাঁ, এখন যখন সরকারের সামনে কোন চ্যালেঞ্জ নেই, কোন শক্তিশালী বিরোধী দলও নেই, নেই কোন সহিংস আন্দোলনও, তখন সরকার একটু সদিচ্ছা নিয়ে সৎভাবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিস্থিতির প্রভুত উন্নতি ঘটাতে পারত। কিন্তু যারা দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছেন তারা দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে যে একটু আধটু উদারতা প্রদর্শন করবেন না, সেটার নিশ্চয়তা কে দেবে?
এজন্যই দেখা যায় যে যখন সুবর্চরের গৃহবধূ, একাধিক সন্তানের মাকে গনধর্ষণ করার পরও সেই ধর্ষকদের ধরতে প্রশাসন দোনোমোনো করে, তখন পাতি ধর্ষকদেরও যে মনে সুড়সুড়ি দেয় না সেটা কে বলবে? আর তার ফলশ্রুতি তো সবাই দেখতেই পাচ্ছে। তাই বলতেই হয় যে গোড়ায় গলদ রেখে কোন কাজ ঠিকঠাকমত করা যায় না। যে ওষুধেই ভেজাল সেই ওষুধ দিয়ে রোগীকে সুস্থ্য করার বদলে তাকে পরপারে পাঠানোর ব্যবস্থাই সচরাচর হয়ে থাকে। তাই সবার আগে ওষুধকে purify করতে হবে, নইলে কাকস্য পরিবেদনা।
প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় যে নেতৃত্ব প্রকৃতই দেশপ্রেমিক সে নেতৃত্ব দেশের যুব সমাজকে দিক নির্দশনা দেয় দেশের উন্নয়নে সক্রিয় কর্মী হবার জন্য, দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য। প্রবীন, দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতারা থাকেন ড্রাইভিং সিটে, আর ইঞ্জিনের কাজ করে তরুন সম্প্রদায়। কিন্তু এই দেশে বিষয়টি একেবারেই উল্টো। এদেশে ভাইস চ্যান্সেলরকে গাইড করে ছাত্রনেতারা। ছাত্র নেতৃত্ব দেশের আভ্যন্তরীন পলিসি নির্ধারনে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। প্রশাসন কিভাবে চলবে অনেক ক্ষেত্রে তারাই সেটা ঠিক করে দেয় যার ফলে অনেক জায়গায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের হাতে লাঞ্ছনা এমনকি বেশ মারধরেরও শিকার হয়। তো যে দেশে রথ উল্টো চলে সে দেশে সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে এটা কি আশা করা যায়? বিচার বিভাগের পুর্ন স্বাধীনতা এবং আদালতের রায় বা আদেশের কার্যকারিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যাবশ্যক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত হচ্ছেনা যদি তা ক্ষমতার গায়ে আঘাত করে। নিম্ন আদালতের উপরে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের পরিবর্ত নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রন আরো জোরালো। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে মুল ফর্মুলা সেখানেই গন্ডগোল। তাই বর্তমান যে অস্বাভাবিকতা সমাজে বিরাজমান তার মুলোৎপাটন তখনি সম্ভব যখন সরকার প্রকৃতই আন্তরিকভাবে সেটা চাইবে। নইলে ----।
Subscribe to:
Posts (Atom)