জমির ব্যবহার ্ও আমাদের করনীয়
প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ নিয়মিতভাবে জাতীয় দৈনিকগুলির পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে। সেই সংগে ”নিরাপদ সড়ক চাই” – এ বিষয়ে সভা-সমাবেশ-সিম্পোজিয়াম্ও সমান তালে চলছে। আসলে সভা সিম্পোজিয়ামের চেয়ে কাজ যে অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ন সে কথা আমাদের অনেকেই বুঝতে চান না যার ফলে আমরা যা চাই তা খুব কমই পেয়ে থাকি।
আসরা সবাই চাই আমাদের এই ঢাকা নগরটা ”তিলোত্তমা” হোক। একথা শুন্ওে আসছি বোধ হয় এক যুর্গেও বেশী দিন থেকে। কিন্তু তিলোত্তমা দুরে থাক, অনেকেই বলছেন যে ঢাকা শহর অচিরেই বাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। কেন? কারন আর কিছুই নয়। কারন আমাদের কাজের চেয়ে কথা অনেক অ-নে-ক বেশী।
আমরা জানি যে আমদের এই ছোট্ট দেশটায় জমির পরিমানের চেয়ে লোকসংখ্যা বহুগুনে বেশী। কিন্তু আমরা কি সে বিষয়ে কখন্ও চিন্তা ভাবনা করে দেখেছি? অথচ জমির ব্যবহার ্ও অপব্যবহারে আমাদের তুল্য কেউ বোধহয নেই। যে সব দেশ অনেক জমির মালিক, তার্ওা উপরের জমির ব্যবহার সীমিত করে মাটির নীচের জমি কাজে লাগাচ্ছে। কারন তারা জানে যে মাটির নীচে ঘরবাড়ী দোকানপাট নির্মান করা গেল্ওে কোন খাদ্য-শষ্য আবাদ করা যাবেনা। আর আমরা উদারভাবে উপরের জমির চরম অপব্যবহার করেই চলেছি। নীচে কয়েকটি উদাহরন দ্ওেয়া যেতে পারে।
১. আমরা আমাদের লোকসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমান শোচনীয়ভাবে কম এ কথা জানা সত্ব্ওে হাজার হাজার একর জমি প্লট করে বিক্রী করার অবাধ সুযোগ দিচ্ছি। জমি ব্যবহারে আজ পর্যন্ত কোন নীতি আমরা তৈরী করতে পারলাম না। যে হারে চাষযোগ্য জমি অপব্যবহার হচ্ছে তাতে হয়ত অচিরেই আমরা তীব্র খাদ্যসংকটের মধ্যে পড়ব।
২. আমরা রাস্তার উভয় পাশে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দোকানপাট, টংঘর ইত্যাদি গড়ে উঠতে দিচ্ছি। এমনকি হাই্ওয়ে পর্যন্ত এরকম নিরবিচ্ছিন্ন দোকানপাট, টংঘর বানিয়ে দোকান বসানো অবাধে চলছে। অথচ বিশ্বে কোথ্ওা হাই্ওয়ের পাশে দোকান বসানোর কোন উদাহরন একমাত্র কোন অসভ্য দেশ ছাড়া প্ওায়া যাবেনা।
৩. এই রকম নিরবিচ্ছিন্ন দোকানপাট, টিনের ছাপড়া, টংঘর প্রভৃতি বসানোর ফলে রাস্তায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। অসংখ্য আদম সন্তান অকালে ভবলীলা সাংগ করছে আর আমরা সভা-সেমিনার করেই আমাদের দায়িত্ব পালন করে আত্মতুষ্টি লাভ করছি॥
৪. যেখানে যত পুকুর, নালা, ডোবা ছিল সেগুলো ভরাট করে দোকানপাট, বাড়ীঘর তৈরী করছি আর একদিকে জলাবদ্ধ হয়ে অপর দিকে বাড়ী হেলে পড়ে বা ধ্বসে গিয়ে নিজের এবং অপরের জীবন ধ্বংস করছি।
এসব অব্যবস্থা ্ও অদুরদর্শী কর্মকান্ড ত্যাগ করে আমরা সুচিন্তিত সুপরিকল্পনার মাধ্যমে এই শহরটিই নয়, পুরো দেশটিকে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারি। সে জন্য নীচে কয়েকটি সুপারিশ ভেবে দেখার জন্য সকলকে সবিনয়ে অনুরোধ করছি।
ক. প্লট করে জমি বিক্রীর চিন্তা মাথা থেকে সম্পুর্ন ঝেড়ে ফেলতে হবে। বরং ৬৫০ থেকে ১৭৫০ ব.ফু.-এর ফ্ল্যাট বিশিষ্ট পনের/ষোল তলা এ্যাপার্টমেন্ট ভবন তৈরী করে বিত্তভেদে (উচ্চ, নিম্ন, মধ্য ্ও নিম্নবিত্ত) দরকার হলে হায়ার পারচেজ ভিত্তিতে বিক্রী/বরাদ্দ করা যেতে পারে।
খ. রাস্তার পাশে দোকানপাট বানাতে দিয়ে মুফতে পয়সা কামানোর লোভ ত্যাগ করতে হবে। রাস্তার পাশে অন্তত: পনের ফুট জায়গা খালি রেখে সমান্তরালভাবে কমপক্ষে পনের ফুট প্রশস্ত ঘাসের জমি রাখতে হবে যার মধ্যখান দিয়ে চার ফুট সিমেন্টে বাধানো ফুটপাথ থাকবে। ঐ চার ফুট সিমেন্ট বাঁধানো ্ফুটপাথের নীচ দিয়ে ড্রেন নির্মান করতে হবে। রাস্তার সাইডে রেইন-্ওয়াটার চ্যানেল থাকবে যাতে বৃষ্টির পানি সহজে রাস্তা থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
গ. এই রকম দুরত্বে রাস্তার উভয় পাশে পাচ/ছয় তলা শপিং মল বা শপিং সেন্টার বানানো যেতে পারে যাতে নীচের তলায় রড, সিমেন্ট, হার্ড্ওয়ার প্রভৃতি ভারী মালপত্রের দোকান থাকবে এবং উপরে অন্যান্য পন্যের দোকান থাকবে। এরকম প্রত্যেক শপিং সেন্টারের নীচে অন্তত: দুই তলা পার্কিং প্লেস থাকবে। এই সব শপিং সেন্টার একটার থেকে আর একটার দুরত্ব এক কিলোমিটার বা এর কাছাকাছি হতে পারে। রাস্তার উভয় পাশের শপিং সেন্টারগুলি দু’তলা বা তিনতলা লেভেলে উপর দিয়ে সংযুক্ত করলে রাস্তা পারাপারের বিপদের ঝুক্ওি অনেকাংশে কমে যাবে। টংগী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মেইন রোডের পাশেই লাগাতার দোকানপাট থাকার কারনেই রোড ডিভাইডার অহেতুক হয়ে পড়েছ্;ে কারন এক মাইলের মধ্যেই বোধহয় ১২/১৪টা জায়গায় কাটতে হয়েছে। এখান দিয়ে হরদম লোক যাতায়াতের কারনে যানবাহন চলাচলে যেমন গুরুতর বিঘœ ঘটছে তেমনি মানুষের জানমার্লেও বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। এরকম শপিং সেন্টার হলে লোকের রাস্তা পারাপারের পয়েন্ট অনেক কমে আসবে। তাতে যানবাহন চলাচলে গতি আসার সংগে সংগে জানমালের ক্ষতির আশংক্ওা কমে যাবে।
ঘ. এক তলা দু’তলা কোন বাড়ী না রেখে মেইন রোড থেকে অন্তত: ১৫/২০ ফুট দুরে পুর্বোক্তভাবে কমপক্ষে ১০/১২ তলা এ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং তৈরী করা উচিত যাতে প্রত্যেক ফ্লোরে কমপক্ষে ১০টি ফ্ল্যাট থাকে। এইসব বিল্ডিং-এর নীচে প্রয়োজন অনুসারে দুই থেকে তিন তলা বেসমেন্ট থাকবে পাকিং-এর জন্য। এভাবে বসবাসের জন্য জমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করলে গাছপালা লাগানোর জন্য যথেষ্ঠ জায়গা খালি প্ওায়া যায়।
ঙ. ্ওইসব খালি জায়গায় ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ব.ফু. এরিয়া বিশিষ্ট পুকুর তৈরী করা যেতে পারে যেগুলি মাছ চাষের সুযোগ সৃষ্টি করা ছাড়্ওা বর্ষাকালে পানি সংরক্ষনাগার হিসাব্ওে কাজ করবে। ্ওইসব পুকুরের মাটি দিয়ে ছোট ছোট টিলা তৈরী করা যাবে যাতে বিভিন্ন ফুলজ, ফলজ ্ও বনজ গাছপালা লাগানো যাবে যা আমাদের বিষময় পরিবেশকে অনেকটা দূষণমুক্ত করব্।ে কেবল তাই নয়; ঢাকা শহর অচিরেই যে গুরুতর পানীয়জল সংকটে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন যে ভূ-উপরিস্থ পানি আমাদেরকে পেতেই হবে যদি আমরা তীব্র পানীয়জল সংকট এড়াতে চাই।
প্রকৃতপক্ষে কেবল আব্দুল্লাপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যšত, এমনকি শহরের অন্যান্য এলাকায়্ও, একটানা রাস্তার ধারে যে কাচা-পাকা-টিনের দোকান ্ও টংঘর বসানোর সুযোগ দ্ওেয়া হয়েছে তাতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। উপরে বর্নিত শপিং সেন্টার বানাতে পারলে আমরা যে রকম ঢাকা শহর চাই তার অনেকখানিই পুরন হবে বলে দৃঢ় আশা করা যায়। হ্যাঁ, একটি বিষয় সমস্যা বোধ হতে পারে। লোকজন তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরতে চাইবে কি না। এবিষয়ে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা ্এবং স্থানীয় নেতারা গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারেন। আমরা তো দেখলাম বিশ্বকাপ ক্রিকেট দেখতে আসা মানুষের মধ্যে ”নতুন ঢাকাইয়া সিংগাপুর” দের্খাও ইচ্ছ্ওা কম প্রবল ছিলনা। সুন্দর জিনিষ আমরা সবাই চাই। তাই সাধারন মানুষকে রেড্ওি, টিভি এবং অন্যান্য মাধ্যমে মোটিভেশন করতে হবে; তাদেরকে এই ব্যবস্থার উপকারিতা বোঝাতে পারলে তাদের আপত্তি থাকবেনা বলেই আশা করা যায়। আর এই বিরাট কাজে সরকারী বেসরকারী অংশগ্রহনের ভিত্তিতে সহজে করা সম্ভব বলেই আমার ধারনা। এতে সংশ্লিষ্ট সবার লাভ। এতে যারা রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ে আছেন তারা, বানিজ্যিক ব্যাংকগুলি বিপুল ব্যবসা করতে পারে। পাশাপাশি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সাথে সাথে ব্যয়িত অর্থ সমবন্টনের সুযোগ্ও করে দিতে পারে॥ সেই সাথে আমরা যে পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে অবস্থান করছি র্তাও অনেকখানি ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে। বস্তুতঃই এই চিন্তাকে বাস্ত-বায়ন করতে পারলে যে কতদিকে আমরা লাভবান হবো তা যারা একটু দুরদৃষ্টিসম্পন্ন তারা সহজেই বুঝতে পারবেন।
The prevailing situation all around and also all over the world seems so wierd when I look back a few decades ago to make a comparison. That pains me much. The incongruity and contrast is sometimes so incomprehensible and tragically unacceptable that my whole mind burns in rebellion. But as I can't do anything, so can't I share my feelings with anyone; that's why this monologue.
Tuesday, December 20, 2016
Monday, August 29, 2016
মনোলগ ১ - আমাদের প্রতিরক্ষা
অতীত ইতিহাস নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবি। মনে পড়ে ইতিহাসে বহু রাজ্য-সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতনের ইতিহাস। যে কোন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ও প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর সদস্যদের অদম্য সাহস, আত্মোৎসর্গের মানসিকতা, সুদৃঢ় নৈতিক মান, কঠোর, নিরলস, কঠিন ও কষ্টসাধ্য এক্সারসাইজ, কঠিন ও কঠোর পরিস্থিতিতে তাঁবুতে বাস, অস্ত্র চালনায় নিরন্তর দক্ষতা অর্জনের একান্ত চেষ্টা ইত্যাদি। এসব কারনেই সেই সময়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের তুলনায় বিশালাকারের সেনাবাহিনীকেও তারা পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। দিগ¦জিয়ী স¤্রাট আলেকজান্ডারের জীবনী পড়ে জেনেছি কিভাবে তিনি মাত্র ৩৫,০০০ সৈন্য নিয়ে পারস্য সম্রাট দারায়ূসের ১,৫০,০০০ সেনার বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। জেনেছি কিভাবে লিওনিডাস মাত্র ৩০০ সৈন্য নিয়ে থার্মোপাইলিতে পারস্য সম্রাট জারক্সেসের ১,৫০,০০০ সৈন্যকে রুখে দিয়েছিলেন। জেনেছি মাত্র ৩৫,০০০ সৈন্য নিয়ে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ ইয়ারমুক যুদ্ধে প্রায় দুই লক্ষ রোমান সৈন্যকে পরাজিত করেছেন। জেনেছি মাত্র ১৫,০০০ সৈন্য নিয়ে কিভাবে ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ বাবুর ইব্রাহিম লোদীর ১,৫০,০০০ সৈন্যকে পানিপথের ১ম যুদ্ধে পরাজিত করেছেন। আবার সেই মুসলমানদেরকে দেখা গেছে ৫০,০০০ সৈন্য নিয়ে ক্লাইভের মাত্র ৩০০ সৈন্যের কাছে কিভাবে তারা পরাজিত হয়ে বাংলার স্বাধীনতাকে ইংরেজ বেনিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে।
এসবের মুল কারন খুজতে গিয়ে একটা বিষয় বোঝা গেছে। সৈন্যদের জীবন আর সিভিল নাগরিকদের জীবন একরকম নয়। বিশাল সাম্রাজ্য পতনের আগে দেখা গেছে তার সৈন্যবাহিনী নাগরিক সুবিধা আরাম আয়েশ ভোগ করতে করতে একসময় শান্তিপুর্ন আরামদায়ক আয়েসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকের হয়ত মধ্যপ্রদেশের পরিধিও যথেষ্ঠ বেড়ে গেছে। ফলে যখন ক্ষিপ্রতা ও কৌশলের অত্যন্ত প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তখন তাদের ভুঁড়ি সামলাতেই হয়রান হতে হয়েছে; যুদ্ধ করবে কিভাবে? এর প্রকৃষ্ট উদাহরন দেখা যায় বাংলায় সম্রাট শাহজাহানের ২য় পুত্র সুজা এবং ৩য় পুত্র আওরঙ্গজেবের যুদ্ধকৌশল ও সামরিক তৎপরতার পার্থক্য দৃষ্টে। মোগল সেনাপতির আগমনের খবর পেয়েই বিলাসব্যসনে নিমজ্জিত সুজা তাড়াড়াড়ি রাজধানী ত্যাগ করে ভাগতে থাকেন এবং শেষাবধি আরাকানের পথে এক নদীতে নৌকাডুবি হয়ে প্রাণ হারান। ভোগলিপ্সা অনেক রাজা-মহারাজার মত তাকেও যুদ্ধের জন্য সম্পুর্ন অযোগ্য ও অক্ষম করে তুলেছিল। অপরদিকে পঞ্চাশ বছরের রাজত্বকালে সম্রাট আওরঙ্গজেব প্রায় পুরো সময়টাই যুদ্ধক্ষেত্রে কাটান এবং সাফল্যের সাথে সকল বিদ্রোহ দমন করেন। সম্রাট আকবরও অমরকোটের যুদ্ধময়দানে তাঁবুর মধ্যে জন্মগ্রহন করেন এবং কঠোর সামরিক শৃংখলার মধ্যে বেড়ে ওঠেন বলেই অত অল্প বয়সে অত বিশাল মোগল সাম্রাজ্যকে সামলাতে সক্ষম হন। তার আসুরিক দৈহিক শক্তিরও পরিচয় পাওয়া যায় তার পুত্র মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের রচিত ’জাহাঙ্গীরনামা’ পুস্তকটিতে। আরো জানা যায় কেবল শৃগালসুলভ চাতুর্যই নয়, সামরিক শৃংখলার মধ্যে বেড়ে ওঠা ছত্রপতি শিবাজীর দৈহিক সক্ষমতা তাকে আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের নায়কে পরিণত করে এবং তিনি প্রবলপ্রতাপান্বিত মোগলদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সফলতার সাথে তার ক্ষুদ্র বাহিনীকে অত্যন্ত কার্যকর এক প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলেন। তাঁর সৈন্যদের নৈতিকতার মানও খুই উচ্চ ছিল বলেই ইতিহাসে জানা যায়। পক্ষান্তরে নৈতিকতার অধঃপতনের পরিনাম কি হয় তা তো আমরা ’ভেতো বাঙালীদের’ হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত, সুপ্রশিক্ষিত ৯৩,০০০ পাকিস্তানী সৈন্যের লজ্জাজনক পরাজয় ও আত্মসমর্পনের মাধ্যমে দেখলাম।
উপরের কথাগুলির তাৎপর্য বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ববহ কি না জানি না। আমাদেরও একটি দক্ষ, কুশলী ও সাহসী সেনাবাহিনী আছে। তবে আগের মত কঠোর জীবনের মধ্যে তারা আছেন কি না সেটা আম জনতা জানে না। ৫৭ জন চৌকস ও নিবেদিতপ্রান অফিসারের মর্মান্তিকভাবে নিহত হবার পর সেনাবাহিনীকে যেভাবে ’সন্তুষ্টিকরন’ করা হয়েছে তাতে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও আশংকিত বটে। কারন পৃথিবীর যে কোন সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যখন জীবনের প্রতি মায়া ও আয়েসী জীবনের প্রতি আকর্ষণ তথা ভোগলিপ্সা বেড়ে যায় তখন তাদের পক্ষে কঠিন কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে তা তাদেরকে যত অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রেই সজ্জিত করে তোলা হোক না কেন। আমাদের প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীকে আমাদের দেশের জনগন অন্য যে কোন দেশের সেনাবাহিনীর তুলনায় শৌর্যবীর্যে, দক্ষতা, কুশলতায় কখনো খাটো দেখতে চায় না। বর্তমানে সরকার যেভাবে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা প্রায়শঃই বলছে এবং অনুমিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়াতে যে ভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র যোগান দিচ্ছে তাতে সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর সাথে সাথে আমাদের প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসাবেই আমরা দেখতে চাই। জানি না আমাদের সে প্রত্যাশা কতটা বাস্তবতাসম্পন্ন।
অতীত ইতিহাস নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবি। মনে পড়ে ইতিহাসে বহু রাজ্য-সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতনের ইতিহাস। যে কোন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ও প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর সদস্যদের অদম্য সাহস, আত্মোৎসর্গের মানসিকতা, সুদৃঢ় নৈতিক মান, কঠোর, নিরলস, কঠিন ও কষ্টসাধ্য এক্সারসাইজ, কঠিন ও কঠোর পরিস্থিতিতে তাঁবুতে বাস, অস্ত্র চালনায় নিরন্তর দক্ষতা অর্জনের একান্ত চেষ্টা ইত্যাদি। এসব কারনেই সেই সময়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের তুলনায় বিশালাকারের সেনাবাহিনীকেও তারা পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। দিগ¦জিয়ী স¤্রাট আলেকজান্ডারের জীবনী পড়ে জেনেছি কিভাবে তিনি মাত্র ৩৫,০০০ সৈন্য নিয়ে পারস্য সম্রাট দারায়ূসের ১,৫০,০০০ সেনার বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। জেনেছি কিভাবে লিওনিডাস মাত্র ৩০০ সৈন্য নিয়ে থার্মোপাইলিতে পারস্য সম্রাট জারক্সেসের ১,৫০,০০০ সৈন্যকে রুখে দিয়েছিলেন। জেনেছি মাত্র ৩৫,০০০ সৈন্য নিয়ে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ ইয়ারমুক যুদ্ধে প্রায় দুই লক্ষ রোমান সৈন্যকে পরাজিত করেছেন। জেনেছি মাত্র ১৫,০০০ সৈন্য নিয়ে কিভাবে ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ বাবুর ইব্রাহিম লোদীর ১,৫০,০০০ সৈন্যকে পানিপথের ১ম যুদ্ধে পরাজিত করেছেন। আবার সেই মুসলমানদেরকে দেখা গেছে ৫০,০০০ সৈন্য নিয়ে ক্লাইভের মাত্র ৩০০ সৈন্যের কাছে কিভাবে তারা পরাজিত হয়ে বাংলার স্বাধীনতাকে ইংরেজ বেনিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে।
এসবের মুল কারন খুজতে গিয়ে একটা বিষয় বোঝা গেছে। সৈন্যদের জীবন আর সিভিল নাগরিকদের জীবন একরকম নয়। বিশাল সাম্রাজ্য পতনের আগে দেখা গেছে তার সৈন্যবাহিনী নাগরিক সুবিধা আরাম আয়েশ ভোগ করতে করতে একসময় শান্তিপুর্ন আরামদায়ক আয়েসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকের হয়ত মধ্যপ্রদেশের পরিধিও যথেষ্ঠ বেড়ে গেছে। ফলে যখন ক্ষিপ্রতা ও কৌশলের অত্যন্ত প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তখন তাদের ভুঁড়ি সামলাতেই হয়রান হতে হয়েছে; যুদ্ধ করবে কিভাবে? এর প্রকৃষ্ট উদাহরন দেখা যায় বাংলায় সম্রাট শাহজাহানের ২য় পুত্র সুজা এবং ৩য় পুত্র আওরঙ্গজেবের যুদ্ধকৌশল ও সামরিক তৎপরতার পার্থক্য দৃষ্টে। মোগল সেনাপতির আগমনের খবর পেয়েই বিলাসব্যসনে নিমজ্জিত সুজা তাড়াড়াড়ি রাজধানী ত্যাগ করে ভাগতে থাকেন এবং শেষাবধি আরাকানের পথে এক নদীতে নৌকাডুবি হয়ে প্রাণ হারান। ভোগলিপ্সা অনেক রাজা-মহারাজার মত তাকেও যুদ্ধের জন্য সম্পুর্ন অযোগ্য ও অক্ষম করে তুলেছিল। অপরদিকে পঞ্চাশ বছরের রাজত্বকালে সম্রাট আওরঙ্গজেব প্রায় পুরো সময়টাই যুদ্ধক্ষেত্রে কাটান এবং সাফল্যের সাথে সকল বিদ্রোহ দমন করেন। সম্রাট আকবরও অমরকোটের যুদ্ধময়দানে তাঁবুর মধ্যে জন্মগ্রহন করেন এবং কঠোর সামরিক শৃংখলার মধ্যে বেড়ে ওঠেন বলেই অত অল্প বয়সে অত বিশাল মোগল সাম্রাজ্যকে সামলাতে সক্ষম হন। তার আসুরিক দৈহিক শক্তিরও পরিচয় পাওয়া যায় তার পুত্র মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের রচিত ’জাহাঙ্গীরনামা’ পুস্তকটিতে। আরো জানা যায় কেবল শৃগালসুলভ চাতুর্যই নয়, সামরিক শৃংখলার মধ্যে বেড়ে ওঠা ছত্রপতি শিবাজীর দৈহিক সক্ষমতা তাকে আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের নায়কে পরিণত করে এবং তিনি প্রবলপ্রতাপান্বিত মোগলদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সফলতার সাথে তার ক্ষুদ্র বাহিনীকে অত্যন্ত কার্যকর এক প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলেন। তাঁর সৈন্যদের নৈতিকতার মানও খুই উচ্চ ছিল বলেই ইতিহাসে জানা যায়। পক্ষান্তরে নৈতিকতার অধঃপতনের পরিনাম কি হয় তা তো আমরা ’ভেতো বাঙালীদের’ হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত, সুপ্রশিক্ষিত ৯৩,০০০ পাকিস্তানী সৈন্যের লজ্জাজনক পরাজয় ও আত্মসমর্পনের মাধ্যমে দেখলাম।
উপরের কথাগুলির তাৎপর্য বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ববহ কি না জানি না। আমাদেরও একটি দক্ষ, কুশলী ও সাহসী সেনাবাহিনী আছে। তবে আগের মত কঠোর জীবনের মধ্যে তারা আছেন কি না সেটা আম জনতা জানে না। ৫৭ জন চৌকস ও নিবেদিতপ্রান অফিসারের মর্মান্তিকভাবে নিহত হবার পর সেনাবাহিনীকে যেভাবে ’সন্তুষ্টিকরন’ করা হয়েছে তাতে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও আশংকিত বটে। কারন পৃথিবীর যে কোন সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যখন জীবনের প্রতি মায়া ও আয়েসী জীবনের প্রতি আকর্ষণ তথা ভোগলিপ্সা বেড়ে যায় তখন তাদের পক্ষে কঠিন কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে তা তাদেরকে যত অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রেই সজ্জিত করে তোলা হোক না কেন। আমাদের প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীকে আমাদের দেশের জনগন অন্য যে কোন দেশের সেনাবাহিনীর তুলনায় শৌর্যবীর্যে, দক্ষতা, কুশলতায় কখনো খাটো দেখতে চায় না। বর্তমানে সরকার যেভাবে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা প্রায়শঃই বলছে এবং অনুমিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা ও সামর্থ্য বাড়াতে যে ভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র যোগান দিচ্ছে তাতে সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর সাথে সাথে আমাদের প্রানপ্রিয় সেনাবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসাবেই আমরা দেখতে চাই। জানি না আমাদের সে প্রত্যাশা কতটা বাস্তবতাসম্পন্ন।
Thursday, August 18, 2016
ইসলামের ইতিহাস ও আমাদের তরুন প্রজন্ম
ইসলামের ইতিহাস ও আমাদের তরুন প্রজন্ম
গতকাল
প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় দৈনিকে
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি
জনাব গোলাম মওলা রনি
’জঙ্গী’ শব্দ ও এর
ধারনাটি সম্পর্কে বেশ সুন্দর একটি
তথ্যবহুল লেখা লিখেছেন।
এই ’জঙ্গী’ শব্দটির অপব্যবহার
ও অপব্যাখ্যা কিভাবে আমাদের তরুনদেরকে
সম্পুর্ন ভুল ও মারাত্মক
পথে টেনে নিচ্ছে তারও
সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এজন্য
তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বস্তুতঃ
ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা ও নাদানি
কি হাস্যকর ও করুন পরিস্থিতি
তৈরী করে সেটা একটি
ছোট্ট গল্পে বলা যায়
এভাবে। ইংরেজ
শাসনামলে ইংরেজ সাহেবদের সংগে
এদেশের মানুষকে নানা কাজে ব্যবহৃত
হতে হ’ত।
একবার এক বঙ্গসন্তান একটি
কাজ সন্তোষজনকভাবে করতে না পারায়
সাহেব তাকে ’ব্লাডি ফুল’
বলে গালি দিল।
বঙ্গসন্তানটি ’ফুল’ কি সেটা
তো জানত; কিন্তু ’ব্লাডি’
কথাটির অর্থ জানত না। তবে
সে মনে ভাবল যেহেতু
’ফুল’ কথাটি আছে, অতএব
’ব্লাডি’ শব্দটি নিশ্চয়ই ভাল
কিছুই হবে। তাই
সে গর্বের সাথে বলে
উঠল, ’সাহেব, আমি তো
কি ফুল; আমার বাবা
হচ্ছে গোলাপ ফুল।’
আমাদের
নতুন প্রজন্মও ইসলামের ইতিহাস ও ধর্ম
সম্পর্কে বহু কিছু না
জানার কারনেই এক শ্রেনীর
মোল্লা-মৌলবী এবং ইসলাম
সম্পর্কে পল্লবগ্রাহী জ্ঞানসম্পন্ন কিছু সেকুলার পন্ডিতদের
(?) খপ্পরে পড়ে বিপথগামী হচ্ছে। ইসলামের
ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান যাদের
আছে তারা নিজেদের মুসলিম
পরিচয় নিয়ে অবশ্যই গর্ববোধ
করতে পারেন। কিন্তু
অতীব দুঃখের বিষয় আমাদের
তথাকথিত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত
সমাজ মানসিকভাবে এতটাই পরনির্ভরশীল ও
বিদেশ-প্রভাবিত যে স্বধর্মের ও
স্বজাতির ইতিহাস জানার চেয়ে
পরের ইতিহাস জানতেই অনেক
বেশী আগ্রহী। এটা
অনেকটা এরকমঃ সভায় গেলুম। অনেকেই
ধরল কিছু বলার জন্য। মঞ্চে
ওঠার পর অনেকে বাপের
নাম জিজ্ঞাসা করল। তো
বাপের নাম তো মনে
আসল না; তাই বওনাই-এর (বোন-জামাই-এর) নাম বলে
দিলাম। সভায়
ধন্য ধন্য পড়ে গেল। আমাদের
আধুনিক শিক্ষিত (?) প্রজন্ম নিউটন, আইনস্টাইন, এডিসন,
ভোল্টা, গ্যালভানি, গ্রাহাম বেল প্রমুখ বা
হালের বিল গেটস্, স্টিভ
জবস্, মার্ক জাকারবার্গ, চার্লস
ব্যাবেজ, লিনাস বেনেডিক্ট প্রমুখের
নাম জানলেও মুসলিম মনীষীদের
কারো নাম জানে কি
না তাতে গভীর সন্দেহ
আছে। তারা
হয়ত আবু আলী ইবনে
সিনা (পাশ্চাত্য যাকে আভিসেন্না নামে
চিনে) আল-বিরুনী, আল
রাজী, আবুল কাসেম আলকেমী,
আল হাওয়াজেন, আল হাসান, আল
খারিজমী, জাবির ইবনে হাইয়ান
প্রমুখের নামই শোনেনি।
অথচ ইবনে সিনার ’কানুন
আল তিব্ব’ নামীয় পুস্তকটি
ফিজিওলোজী ও মেডিসিনের ওপর
লেখা এমন একখানি পুস্তক
যা প্রায় চারশ’ বছর
প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল
সাইন্সের ওপর প্রামান্য পাঠ্যপুস্তক
ছিল। রক্তসঞ্চালনতত্ব
আবিষ্কার তার এক মহান
কীর্তি এবং উইলিয়াম হার্ভেও
রক্তসঞ্চালনতত্ব আবিষ্কারের কয়েক শতাব্দী পুর্বেই
তা ঘটে। কেমিস্ট্রি
(আরবীতে আলকেমী) ও এ্যালজেব্রা যে
মুসলমান রসায়নবিদ ও গনিতবিদদের অবদান
সেটা পাশ্চাত্য স্বীকার করলেও মুসলমানদের তথাকথিত
পন্ডিতগন খুব কমই স্বীকার
করেন। অনেকে
হয়ত ওমর খৈয়ামকে কেবল
কবি হিসেবেই চেনেন বা জানেন। কিন্তু
তিনি যে তার সময়ের
অত্যন্ত খ্যাতিসম্পন্ন গনিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন
সেকথা কয়জন জানেন? ইংরেজ
মনীষী ফিটজিরাল্ড মত প্রকাশ করেছেন
যে কবিতা না লিখে
ওমর খৈয়াম যদি কেবল
গনিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে
থাকতেন তবুও তার নাম
ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকত।
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের কতিপয় ত্রুটিকে তিনিই
সংশোধন করেন। গ্রীক
হেরোডোটাসের পর ইতিহাসের জনক
বলতে যে ইবনে খালদুনকে
এমনকি পাশ্চাত্যও স্বীকার করে সেটাই বা
আধুনিক মুসলিম পন্ডিতদের কয়জন
জানে? দুঃখের কথা হচ্ছে
এদেশের একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞান
লেখক তার একটি জীবনী
পুস্তকে ৩৪/৩৫ জন
আবিষ্কারকের জীবনী লিখেছেন যাদের
সকলেই ইউরোপ-আমেরিকার; কিন্তু
দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে সেই পুস্তকটিতে
একজন মুসলিম বিজ্ঞানী বা
মনীষীর নামও নেই।
আমাদের পন্ডিতদের হীনমন্যতার ব্যাপ্তি এতটাই বিস্তৃত।
গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টোটল, জেনোফেন বা ইউরোপীয় দোকার্তে,
হবস্-লক-রুশো বা
এই উপমহাদেশের সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ঞননের নাম জানলেও আমাদের
দর্শনশাস্ত্রের অনেক শিক্ষার্থী দুরে
থাক, অনেক পন্ডিতও হয়ত
আবু রুশদ বা ইমাম
গাজ্জালীর নাম জানে না। এসব
নিয়েই প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি বলেছিলেন, ‘Muslim Cordova, Granada, Seville of Andalusia
(Spain) lighted the world of knowledge when the whole of Europe was plunged in
deep darkness of ignorance and superstition.’[ যে মুসলিম
বৈজ্ঞানিক, গনিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, রসায়নবিদরাই বিশ্বে জ্ঞানের আলো
জ্বালিয়ে রেখেছিলেন যখন পুরো ইউরোপ
অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে
হাবুডুবু খাচ্ছিল। মুসলিম
শাসিত কর্ডোবা, গ্রানাডা, সেভিল প্রভৃতিই ছিল
সেই জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার
পাদপীঠ।]
আমাদের তরুন প্রজন্ম এদের
নাম পরিচয় জানতে পারলে
নিজেদেরকে তাদের আদর্শে গড়ে
তোলার চেষ্টা করতে না
পারলেও অন্ততঃ তাদেরকে নিয়ে
চিন্তা-ভাবনা তো করতে
পারত। তাদেরকে
পরের ধনে পোদ্দারী করতে
হতো না। পরের
মুখে ঝালও খেতে হতো
না। গভীর
সন্দেহের বিষয় এটাই যে
মুসলমানদের নিজস্বতাকে ভুলিয়ে দিয়ে তাদেরকে
পরাশ্রয়ী ও পরনির্ভরশীল করার
সুদুরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ইসলামের
ইতিহাসকে মুসলিম তরুনদের কাছে
অপরিচিত করে তোলা হয়েছে। ’ইউরোপীয়
সভ্যতায় ইসলামের দান’ নামীয় অত্যন্ত
গুরুত্বপুর্ন ও তথ্যবহুল পুস্তকটির
আজ আর কোন সন্ধানই
পাওয়া যায় না।
পবিত্র কোরআনে বর্নিত বিজ্ঞান
বিষয়ক বহু আয়াত সংশ্লিষ্ট
বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও সূত্রের পথপ্রদর্শক
হিসেবে জনাব আকবর আলী
রচিত ’সাইন্স এ্যান্ড দি
কোরআন’ নামীয় পুস্তকটিতে অত্যন্ত
সুন্দরভাবে বিধৃত হয়েছে।
এই বইটিও বর্তমানে আউট
অব প্রিন্ট। এছাড়া
মরিস বুকাইলী রচিত ’বাইবেল, কোরআন
ও বিজ্ঞান’ নামীয় বিখ্যাত পুস্তকটি
সম্মন্ধেই বা কয়জন জানে?
অথচ আত্মপরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত
ও গর্বিত হওয়ার জন্য
এসব পুস্তকাদি সকল মুসলিম তরুন-তরুনীদের পড়া একান্তভাবে দরকার
ছিল।
অনেকে
বলছেন মোল্লা-মৌলবীরা কোরআনের
বানীর অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু
কোন আয়াত বা বানীর
অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, আর তার প্রকৃত
ব্যাখ্যা কি হবে সেটা
বলতে পারছেনা বা বলতে চাচ্ছে
না। কিছু
আয়াতকে সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করে
’আউট অফ কন্টেক্স্ট’ তুলে
ধরে তার মারাত্মক ভুল
ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
যেমন, একবার ’তাদেরকে যেখানে
পাও হত্যা করো এবং
তাদের নারী ও শিশুদেরকে
দাসদাসী বানাও’ - এ রকম একটি
আয়াতকে উদ্ধৃত করে খোদ
কোরআন নিষিদ্ধ করার দাবীতে কলিকাতা
হাইকোর্টে মোকদ্দমা রুজু করা হয়। কিন্তু
এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিল
একটি যুদ্ধাবস্থায়। এর
প্রেক্ষাপট ছিল এরকম।
মদিনার বনু নাজির ও
বনু কাইনুকা গোত্রের সাথে নবী করিম
(সাঃ) মুসলমানদের পক্ষে এক চুক্তি
করেন এই মর্মে যে
তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্য কাউকে সাহায্য
করবে না। মুসলমানদের
ওপর কোন আক্রমন হলে
তারা মুসলমানদের পক্ষে থাকবে অথবা
নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু
খন্দকের যুদ্ধে দেখা গেল
যে তারা ওহুদ যুদ্ধে
বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ ও
ক্লান্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের সাথে গোপনে ষড়যন্ত্র
করে তাদেরকে এই মর্মে আমন্ত্রন
জানায় যে তারা যেন
এখন রণক্লান্ত ও অপ্রস্তুত মুসলমানদেরকে
আক্রমন করে; মুসলমানদেরকে পরাজিত
করার এটাই মোক্ষম সময়। এই
খবরে কুরাইশগন বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়ে মদিনা আক্রমন
করে কিন্তু নবী করিম
(সাঃ) আল্লাহ-র অনুগ্রহে
সে খবর জানতে পেরে
মদিনার প্রতিরক্ষায় শহরের চারদিকে পরিখা
খনন করেন। এটা
কুরাইশরা আশা করেনি।
কিন্তু মদিনার ঐ দুই
গোত্রের উৎসাহে তারা শহরটি
অবরোধ করে রাখে যাতে
মুসলমানরা খাদ্যসামগ্রী বা অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ
না পেয়ে পরাজিত হয়
বা আত্মসমর্পন করে। কিন্তু
দীর্ঘ প্রায় মাসব্যপী অবরোধেও
তারা কোন ফল পায়
না। এরই
মধ্যে এক রাত্রে প্রচন্ড
ঝড়বৃষ্টিতে তাদের তাঁবুগুলো উড়ে
যায় এবং তাদের ঘোড়া
ও উটগুলোও পালিয়ে যায়।
ফলে তারা অবরোধ উঠিয়ে
ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই
ঘটনায় মুসলমানগন বনু নাজির ও
বনু কাইনুকা গোত্রকে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত করে
এবং সন্ধি ভঙ্গ করে
মুসলমানদেরকে চরমভাবে বিপদগ্রস্থ করার কারনে তাদের
কে বিচারের সম্মুখীন করে। এই
পরিস্থিতিতে নবী করিম (সাঃ)
মহান আল্লাহতা’য়ালার প্রত্যাদেশের অপেক্ষায়
থাকেন এবং এই প্রেক্ষিতেই
উপরোক্ত আয়াত নাজিল হয়। [Ref: Sura Bakarah; Verses 190-193. Read
with the Shan-e-najul] কিন্তু দয়ার মুর্তপ্রতীক
মহানবী (সাঃ) এমন বিশ্বাসঘাতকদের
বিচারও নিজে করেন নি। বিচারক
হিসেবে তাদেরই পছন্দমত কাউকে
মনোনীত করার অধিকার দেওয়া
হয় তাদেরকে। এটা
ছিল নবী করিম (সাঃ)
এর এক অভুতপুর্ব উদারতা
যা ইতিহাসে কোন বিজয়ীই দেখাতে
পারে নি। তাদেরই
মনোনীত সেই বিচারক সম্প্রতি
ইসলামে দীক্ষিত হযরত মা’জ
(রাঃ) উপস্থিত বনু সাজির ও
বনু কাইনুকার নেতৃস্থানীয়দেরকে তাদেরই ধর্মগ্রন্থ তৌরাত
থেকে এতদ্সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা পড়ে শোনান, যেখানে
বিশ্বাসঘাতকদের শাস্তি হিসেবে মুত্যুদন্ডের
বিধান আছে। অতঃপর
অভিযুক্তদের বলবার মত কোন
যুক্তি থাকল না।
এরপরও কেবল তাদের পুরুষদেরকে
প্রানদন্ড দেওয়া হয় এবং
নারী ও শিশুদেরকে রেয়াত
করা হয়। অনেকে
বলবেন তাদেরকে তো দাস-দাসী
হিসেবে মুসলমানদের অধীনে আসতে হয়। কিন্তু
তখনকার প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিলে যে কেউ
অনুধাবন করতে পারবেন কুরাইশরা
বিজয়ী হলে মুসলমানদের কি
পরিণতি হ’তো; যেখানে
ওহুদ যুদ্ধের ময়দানে হিন্দা নামে
এক কুরাইশ রমণী নবী
করিম (সাঃ)-এর চাচা
শহীদ হযরত হামজার (রাঃ)
বুক চিরে তার কলিজা
চিবিয়ে খেতে থাকে, তা
থেকেই কি বোঝা যায়
না যে পরাজিত হলে
মুসলমানদের অবস্থা কি হ’তো? মুলতঃ পবিত্র
কোরআনের বহু আয়াত সমসাময়িক
ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছে তাৎক্ষনিকভাবে
সিদ্ধান্ত নিতে নবী করিম
(সাঃ)-কে দিকনির্দেশনা দিতে;
যা স্বাভাবিক সময়ে বা অবস্থায়
প্রযোজ্য ছিলনা। এছাড়া
’দাস’ কথাটি পশ্চিমা বিশ্বে
যেমন নির্যাতন, ক্ষুধায় কাতর করে তাদেরকে
কঠিন কাজে বাধ্য করা,
সামান্য ক্রুটিতেই অত্যন্ত কঠোর শাস্তি দেওয়া
এমন কি অঙ্গহানি করা
(যারা আলেক্স হ্যালি-র
’রুটস্’ ছবিটি দেখেছে তারা
ভালভাবেই জানে) প্রভৃতি ইসলামে
কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ
সম্মন্ধে পবিত্র কোরআনে নির্দেশনা
দেওয়া হয়েছে যে তোমরা
যা খাবে তাদেরকেও তাই-ই খাওয়াবে, যা
পরিধান করবে তাই-ই
পরিধান করাবে, কোন কঠিন
কাজে তাদেরকে বাধ্য করা যাবে
না; এমনকি প্রয়োজনে তা
করতে হলে মালিককেও তাকে
সাহায্য করতে হবে।
তাদের সাথে বিয়ে-শাদীও
শরিয়তসম্মত বলে ঘোষনা করা
হয়েছে।
বর্তমানে
সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য একতরফাভাবে মুসলমানদেরকেই
দায়ী করা হচ্ছে।
এখানেও কোরআনের কিছু আয়াতের ভুল
ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
যে ’জিহাদ’ শব্দটি নিয়ে
এই সব অপপ্রচার তার
অর্থ তো ’হত্যা’ নয়। হত্যার
আরবী প্রতিশব্দ ’কিতাল’। ব্যাপকার্থে
জিহাদ অর্থ সংগ্রাম; ইংরেজীতে
যা ংঃৎরাব/ংঃৎঁমমষব/সধশব
ংবৎরড়ঁং বভভড়ৎঃ ইত্যাদি।
খুবই সীমিত অর্থে যেখানে
জিহাদ শব্দটি এসেছে সেখানে
বলা হয়েছে, ’যারা তোমাদেরকে তোমাদের
গৃহ থেকে উৎখাত করেছে,
তোমাদেরকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে
কেবল এজন্য যে তোমরা
আল্লাহ্র একত্ব প্রচার করছ
এবং মানুষকে আল্লাহ্র পথে আহ্বান করছ,
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর যতক্ষন
না তারা পরাজিত ও
নিরস্ত হয়। তবে
যারা শান্তি চায় তাদের
ব্যতীত।’
ঐ ধরনের লোকদেরকে ফেতনা
সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে বলা
হয়েছে, ’আল আশাদ্দু ফিতনাতু
মিনাল কাতল।’ অর্থাৎ
ফেতনা হত্যার চেয়েও বেশী
(খারাপ)।’ একথা
অনেকেরই জানা নেই যে
’ম্যাসাকার’ অর্থাৎ গনহত্যা সর্বপ্রথম
শুরু করে ক্রুসেডাগন ১০৯৯ইং
সালে জেরুজালেম নগরী দখল করার
পর। সেই
সময় নগরীর সকল নিরস্ত্র
মুসলমান নারী-পুরুষ-বৃদ্ধ-শিশু নির্বিশেষে প্রায়
ত্রিশ হাজার মানুষকে হত্যা
করা হয়; আর এর
নেতৃত্ব দেয় বলডুইন নামীয়
এক ক্রুসেডার নেতা। পুর্বোল্লিখিত
মিজ কারেন আর্মস্ট্রং-এর
’ইসলাম’ নামীয় পুস্তকটিতেও এর
উল্লেখ আছে। তবে
এই জেরুজালেম নগরী একাধিকবার মুসলমান
ও ক্রুসেডারদের হাতবদল হলেও কখনো
মুসলমানেরা এরকম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে,
ইসলামের শত্রুরাও এরকমটা বলতে পারে
নি। এর
পরে আসে মঙ্গোল বীর
হালাকু খানের নাম, যিনি
১২৩১ খৃস্টাব্দে বাগদাদ দখল করার
পর ৩০/৩৫ হাজার
নিরস্ত্র মুসলমানকে অবলীলায় হত্যাই করেন নি,
তদানীন্তন সভ্য দুনিয়ার অন্যতম
কেন্দ্র বাগদাদ এবং তদানীন্তন
বিশ্বের জ্ঞানভান্ডার নামে পরিচিত বিশ্ববিখ্যাত
নিজামীয়া লাইব্রেরীটিও ধ্বংস করেন।
যদিও পরে এই হালাকু
খান ইসলাম ধর্ম গ্রহন
করেন কিন্তু তার ধ্বংসযজ্ঞ
মুসলিম দুনিয়ার অপূরনীয় ক্ষতি করে এবং
মুসলিম শক্তিকে কয়েক শতাব্দী প্রায়
স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে ফেলে। কিন্তু
ইতিহাসে এমন একটি ঘটনাও
নেই যেখানে মুসলমানগন কোন
জনপদে এরকম পাইকারী হত্যাযজ্ঞ
চালিয়েছে। তবে
হ্যাঁ, মুসলিম নামধারী পাকিস্তানী
জালিমগন তদানীন্তন পুর্ব পাকিস্তানে যে
নৃশংস হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ
চালিয়েছিল সেটা একটা কলংকময়
ঘটনা বটে। আর
এর পরিণতিতে তাদেরকে যে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে
পরাজিত ও অপদস্ত হতে
হয় সেটাও ইতিহাস হয়ে
আছে।
অনেকেই
নারীদের সম্মন্ধে ইসলামের অনেক বিধিকে মধ্যযুগীয়
বা ’অবসোলিট’ বলে থাকেন।
তারা এই বিষয়ে কোরআনের
- ’আর রেজালু কাউয়ামুনা আলান্নেসায়ে
----’ অর্থাৎ ’পুরুষগন নারীদের ওপরে নিয়ন্ত্রক’ এই
আয়াতটিকে উদাহরন হিসেবে টানেন। কিন্তু
ইসলাম পুরুষ ও নারীর
অবস্থা ও অবস্থানভেদে যে
নির্দেশনা দিয়েছে সেটা বলেন
না। নারীকে
¯্রষ্টা এক বিশেষ গুনাবলী
দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।
পুরুষকে দিয়েছেন অন্য অনেক বৈশিষ্ট। তাই
নারী সন্তানধারনে সক্ষম হলেও পুরুষের
পক্ষে তা সম্ভব নয়। আবার
পুরুষ যে ধরনের দৈহিক
শক্তি-সামর্থ্যরে অধিকারী, নারীদের তা নেই।
নারীর মন কোমল, মায়ামমতা,
¯েœহ-ভালবাসা তার
প্রকৃতিদত্ত। তেমনি
পুরুষ কঠোর প্রকৃতির।
কঠিন ও শ্রমসাধ্য কর্মসম্পাদনের
উপযোগী। সৃষ্টিকর্তার
সৃষ্টিরহস্য এটাই। মানুষের
দশটি আঙ্গুলই সমান হলে কি
কাজকর্মের সুবিধা হতো? কিন্তু
ওগুলো অসমান বলে কি
কাজের কোন অসুবিধা হচ্ছে?
নিশ্চয়ই না। বা
ব্যাথা লাগলে ছোট আঙ্গুলটিতে
কম আর বড় আঙ্গুলটিতে
বেশী বোধ হয় কি?
তা ছাড়া মনে রাখা
দরকার যে মহান আল্লাহতায়ালা
হযরত আদম (আঃ)-কে
আগে এবং হযরত হাওয়া
(আঃ) বা ’ইভ’-কে
পরে সৃষ্টি করেছেন।
তো সমাজে অগ্রজদের তো
একটা আলাদা মর্যাদা মানুষই
দিয়ে থাকে না কি?
এ ছাড়া ইসলামের আবির্ভাবের
পুর্বে নারীদেরকে যে কোন অস্থাবর
সম্পত্তির মতই বিবেচনা করা
হ’তো এবং অন্যান্য
সম্পত্তির মত তাদেরকে ক্রয়-বিক্রয়েও কোন বাধা ছিলনা। অনেক
ঐতিহাসিকের মতে নারীদের অবস্থা
এতই করুন ছিল যে
বিয়ের জন্য তাদেরকে তাদের
বাড়ীতে একটি পতাকা উঠিয়ে
রাখতে হ’তো যাতে
যে কোন ইচ্ছুক পুরুষ
তাকে বিয়ে করে বা
না করেই উঠিয়ে নিয়ে
যেতে পারে। কোন
নারীর স্বামী মারা গেলে
বা নিহত হলে তাকে
তার পুত্রদের - যারা হয়ত তার
নিজের গর্ভজাত সন্তান নয় - অধীনে
অস্থাবর সম্পত্তির মতই হস্তান্তরিত হতে
হ’তো। সাধারনতঃ
স্বামীর সম্পত্তিতে তাদের কোন অধিকার
স্বীকারই করা হ’তো
না। এরকম
অবস্থায় ইসলামের আবির্ভাব হয় এবং প্রখ্যাত
ইতিহাস লেখিকা ও ইতিহাস
গবেষক মিজ কারেন আর্মস্ট্রং-
এর ভাষায়ঃ The Qur’an gave
rights of inheritance and divorce centuries before the Western women were
accorded such status. হিন্দু
ধর্মের গুরু খাষি মনু
নারীকে নরকের দ্বার বলেছেন। পিতা
বা স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের কোন
অধিকারই এই ধর্ম স্বীকার
করেনি। যারা
হিন্দু আইন জানেন তারা
নিশ্চয়ই ’দায়ভাগ’ ও ’মিতাক্ষরা’ আইন
সম্পর্কে জানেন। খৃষ্টান
ধর্মে হযরত আদম (আঃ)-এর স্বর্গ থেকে
বিতাড়িত হবার জন্য বিবি
হওয়া অর্থাৎ ’ইভ’-কে দায়ী
করে নারীকে পাপের উৎস
বলা হয়েছে। পাশ্চাত্যে
নারীর ভোটাধিকারই স্বীকৃতি পেয়েছে এই সেদিন। বিংশ
শতাব্দীর মধ্যভাগ অবধি পাশ্চাত্যের কোন
গনতান্ত্রিক দেশে নারী সরকার
প্রধান হয়েছে এমন উদাহরন
নেই। বিশ্বের
প্রধান এই ধর্ম দুটিতে
নারীকে যে মর্যাদা দেওয়া
হয়েছে তা কি নারীবাদীরা
জানেন? তাই কোন কোন
নারীবাদীর ইসলামের নিন্দা করে তথাকথিত
নারী অধিকারের নামে হৈ চৈ
করাটা ইসলামের শত্রুদের কারসাজি ছাড়া আর কিছু
নয়। তারা
বরং ইসলাম নারীকে যে
যে অধিকার দিয়েছে সেগুলো
কার্যকর করার জন্য সরকারকে
বাধ্য করতে পারলে তবেই
যথার্থ কাজ হ’তো। যেমন
নারীকে অনেক সময় তাদের
প্রাপ্য দেনমোহরের অর্থ দেওয়া হয়
না, নানা অজুহাতে।
পিতার সম্পত্তি, স্বামীর সম্পত্তি, সন্তানের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে
তাদের কোরআন নির্ধারিত অধিকারকেই
তো কার্যকর করা যায় না। পিতার
সম্পত্তিতে বোনদেরকে বঞ্চিত করে ভাইদের
জবরদখলদারি কি থামাতে পারা
যাচ্ছে? সরকার কি এ
ব্যাপারে কোন কঠোর আইন
করেছে? না করে থাকলে
কেন করেনি? কেন এই
সম্পত্তি পেতে নারীকে আদালতের
দ্বারে দ্বারে বছরের পর
বছর চক্কর কাটতে হয়?
ইসলামে
নারী-পুরুষের মর্যাদার বিষয়ে পবিত্র কোরআন
কোন পার্থক্য করেনি। মিজ
আর্মস্ট্রং-এর ভাষায়ঃ The Quran makes men and women
(equal) partners before God, with identical duties and responsibilities. তবে নারী ও
পুরুষের প্রকৃতিপ্রদত্ত দৈহিক ও মানসিক
গঠনের কারনে তাদের কাজের
মধ্যে কিছু পার্থক্য তো
অবশ্যই আছে। সন্তান
উৎপাদনে তারা উভয়ে মিলিত
শক্তি হলেও সেই সন্তানের
লালন-পালনে পিতা ও
মাতার ভুমিকা তো কিছু
কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই আলাদা।
মাতা সন্তানকে ¯েœহ-মায়া-মমতা-ভালবাসা দিয়ে
বড় করে তোলেন কিন্তু
পিতাকে তো সেই সন্তানের
মাতা ও তার মুখে
খাবার তুলে দেবার, তাদেরকে
শীত-আতপ, রোগ-শোক-বিপদাপদ থেকে রক্ষা করার,
তার শিক্ষা-দীক্ষার ভার
বহন করার দায়িত্ব ইসলামই
দিয়েছে। এ
থেকে তো তার অব্যাহতি
পাবার কোন সুযোগ বা
অধিকার নেই। আর
একটি বিষয় সবারই বোঝা
উচিত। যেমন
আমাদের সংবিধান ধনী-নির্ধন, সাদা-কালো, উঁচু-নীচু
দেশের সকল নাগরিককে সমান
অধিকার দিয়েছে। এতদসত্বেও
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা মাননীয় প্রধান
বিচারপতি কি আপনার আমার
মত একই মর্যাদার অধিকারী?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো নির্বাচিত অন্যান্য
এমপি-ও মতই আরেকজন
এমপি। কিন্তু
সরকারপ্রধান হিসেবে অন্যান্য এমপি-দের সাথে তার
কি মর্যাদাগত পার্থক্য নেই? আর এ
পার্থক্য তো মানুষই করেছে। অথচ
স্বয়ং ¯্রষ্টা নারী-পুরুষের
সমতার কথা পবিত্র কোরআনে
স্পষ্টভাবে বলার পরও পুরুষকে
তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কারনেই
একটু যে বেশী মর্যাদা
দিয়েছেন তাতে নারীদের ইর্ষান্বিত
হবার কি আছে? ইসলামে
মোহরানা স্বামীকে দিতে হয়, স্ত্রীকে
নয়। স্বামীর
সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার থাকলেও স্ত্রীর
সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকার নেই।
এমনকি কোন সময় তাদের
তালাক হয়ে গেলেও স্বামী
তার প্রাক্তন স্ত্রীর কাছ থেকে তার
দেওয়া কোন দ্রব্যও ফেরত
নিতে পারে না।
তাদের সন্তান যদি স্বামীর
কাছে থাকে তবে তার
ভরনপেষনের জন্য স্ত্রীর কাছ
থেকে খোরপোষ আদায় করতে
পারে না যেটা এরকম
অবস্থায় স্ত্রী পারে।
মুশকিল হচ্ছে যে মানুষ
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রাণী, গাছপালার, ফুল-ফলের জন্ম
ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা
ও যতেœর অপরিহার্য্যতার
কথা বলেন, সেই মানুষই
প্রকৃতিদত্ত পৃথক গুনাবলী ও
বৈশিষ্টধারী নারী ও পুরুষকে
একই কাতারে ফেলে তাদের
প্রতি কার্যতঃ অবিচার করে থাকে। তারা
ভুলে যান যে আমাদের
দেশে সবুজ শাক-সব্জি
এমনিতেই প্রায় অযতেœই
জন্মালে ও বেড়ে উঠলেও
শীতপ্রধান দেশে ’গ্রীন-হাউজ’
ছাড়া সেসব উৎপাদন করা
সম্ভব নয়। যে
ফার কোট বা উগ্রবীর্য
পানীয় ’ভোদ্কা’ মাইনাস ৪০ ডিগ্রী
তাপমাত্রার দেশ রাশিয়া বা
সাইবেরিয়াবাসীদের জন্য অত্যাবশ্যক, তা
উষ্ঞমন্ডলীয় আবহাওয়ার উপযোগী নয়।
ইসলামে
পুরুষের একাধিক বিয়ে করা
নিয়ে অনেক নারী-নেত্রীর
ক্ষোভের শেষ নেই।
তবে মুশকিল হচ্ছে তারা
এ বিষয়ে ইসলামের বিধিবিধান
হয় জানেন না নয়ত
আংশিক জানেন। এ
বিষয়ে মিজ কারেন আর্মস্ট্রং-এর ভাষায়ঃ The Qur’an also came to permit
polygamy, at a time when Muslims were getting killed in
the wars against Mecca, and women were left without protectors, men were
permitted to have up to four wives provided they treat them all with absolute
equality and show no signs of favoring one rather than the others. এ সম্পর্কে সৈয়দ
মুজতবা আলীর ’চাচা কাহিনী’
নামীয় পুস্তকটির ’পুনশ্চ’ শীর্ষক গল্পটিতে রাতের
প্যারিস নগরীর অবস্থা সম্পর্কে
বেশ জানা যায়।
নগরীর রাস্তায় লেখক ’বঁ সোয়ারের’
পাল্লায় পড়ে কি করুন
ও অপ্রস্তুত অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন সেটা বর্ননা করেছেন। রাজপথের
ধারে এক সুšদরীর
’বঁ সোয়ার’ সম্বোধনের জবাব
দিয়ে তাকে ঐ সুšদরীর সঙ্গে কাফেতে
যেতে হয়। কফি
পানের পর সুন্দরী যুবতীটি
তাকে তার (লেখকের) এ্যাপার্টমেন্টে
নিয়ে যেতে বলে তার
কফি-র মুল্য ’পরিশোধ’
করতে। কিন্তু
লেখক সব বুঝতে পেরে
তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নিরস্ত
করেন ও তাকে তার
বাসায় ফেরত পাঠান।
কিন্তু যুবতীটির শোচনীয় আর্থিক অবস্থা
বুঝে তাকে সাহায্য করার
জন্য পরদিন সকালে আবার
তার বাসায় যান।
কিন্তু যুবতীটিকে তিনি পান নি। বাড়ীর
পরিচারিকা তাকে একটি চিরকুট
দেয় যাতে লেখা ছিলঃ
বন্ধু, তোমার কথাই নিলুম। গ্রামে
চললুম। সেখানেও
আমার কেউ নেই; তবু
উপবাসে মরা প্যারিসের চেয়ে
সেখানেই সহজ হবে।
বিনা টিকিটেই যাচ্ছি। তোমাকে
দেবার মত আমার কিছুই
নেই, এই স্যুয়েটারটি ছাড়া। ভগবানের
দয়া, এটি তোমার গায়ে
হবে।
এরকম অবস্থা প্রথম বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী
জার্মানীতে প্রকট হয়েছিল।
যুদ্ধে প্রায় এক কোটি
জার্মান তরুন, এমনকি ১৪/১৬ বছরের ছেলেদেরকেও
যুদ্ধে প্রান হারাতে হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই
ঐ সংখ্যক তরুনীদের বিপরীতে
জন্য কোন তরুন বা
যুবক ছিল না।
এ অবস্থা যে কি
রকম করুন ও ভয়াবহ
ছিল তা সৈয়দ মুজতবা
আলীর ’চাচা কাহিনী’ বইটিতে
পাওয়া যায়। তিনি
লিখেছেন - জার্মানীর তখন বড় দুর্দিন। এক
’বার’ চকোলেট দিয়ে এক
সার ’ব্লন্ড’ (ব্লন্ডচুলের অধিকারিনী যুবতী) পাওয়া যেত।
এই রকম অবস্থার প্রেক্ষিতেই
এ্যানি বেসান্ত নামে একজন বিখ্যাত
নারী লিখেছিলেনঃ প্যারিসের রাস্তায় যুবতী মেয়েদেরকে যখন
খদ্দেরের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ঘুরতে
দেখি তখন ইসলামের বহুবিবাহ
মেয়েদের জন্য আশীর্বাদের মত
মনে হয়। যারা
পুরুষের একাধিক বিয়েকে কঠোর
ভাষায় নিন্দা করেন তাদের
কাছে এর চেয়ে ’বেটার’
কোন সমাধান আছে কি?
থাকলে তারা সেটা বাতলান
না কেন? আজকেও সমাজে
যারা অকালে মারা যাচ্ছে
তারা যে সব বিধবা
রেখে যাচ্ছে তাদের অবস্থা
সচ্ছ্বল না হলে তাদের
ভবিষ্যত কি? অনেকেই জানেন
যে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়াসহ
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে
যুদ্ধবিগ্রহের ফলে বহুসংখ্যক যুবতী
নারীর বিবাহের জন্য বিবাহযোগ্য যুবক
পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। এইসব
যুবতীদেরকে নারীবাদীরা কি পন্থা অবলম্বন
করতে বলেন? তাদের অধিকাংশই
নিজেরাতো জীবনের মধুর সময়গুলো
পার করে এসেছেন।
অনেকেই
ইসলামী আইন ও শাসনের
বিষয়ে অত্যন্ত এ্যালার্জিক। হয়ত
সকল বিষয়ে না-ও
হতে পারে; কিন্তু মিথ্যা
বলা, পরাস্বপহরন করা, ওয়াদা খেলাপ
করা, মাদকাসক্তি, ঘুষ গ্রহন করা,
চিটিংবাজী করা, খুন-ধর্ষণ-রাহাজানি করা, বেছে বেছে
আইনের প্রয়োগ করা, ধনীকে
আরো ধনী হবার সুযোগ
দিয়ে গরীবকে আরো গরীব
করার সিস্টেম চালু করা প্রভৃতিকে
কি সেকুলারপন্থীরা প্রগতিশীলতা বলে মনে করেন?
অথচ ইসলামে এসব কর্মকে
কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
পরিশেষে
বলতেই হয় যে ইসলাম
ধর্ম সম্পর্কে অত্যল্প, পল্লবগ্রাহী জ্ঞানসম্পন্ন সেকুলার শিক্ষায় শিক্ষিত একশ্রেনীর লোক, যারা আবার
নিজেদেরকে ’সুশীল’ বলে দাবী
করতে ভালবাসেন তারা যেমন ধর্মনিরপেক্ষতার
নামে নাস্তিক্যবাদের দিকে নিজেরা চালিত
হচ্ছেন, সেই সাথে অন্যদেরকেও
সেদিকে টানছেন, তেমনি বিশ্ব-মুসলিম
ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ আরেক শ্রেনীর
মোল্লা-মৌলবী ইসলামের আলটপকা
ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আরেক শ্রেনীর
তরুনদেরকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী বানাতে
মসলা জোগাচ্ছেন। এই
অবস্থায় যারা ইসলামের প্রকৃত
স্বরূপ জানেন তাদের জন্য
শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত
মর্মবানী সমাজে তুলে ধরাটা
’ফরজ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের উচিত যা যা
করলে একজন সত্যিকারের মুসলমান
হিসেবে সহজ সরল জীবন
যাপন করতে পারে, পবিত্র
কোরআন ও হাদিসের সেই
সব নির্দেশনা তুলে ধরা।
উদাহরনস্বরূপ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভকে (কলেমা,
নামাজ, রোজা, হজ্ব ও
যাকাত) বজায় রেখে সত্য
বলা, সৎভাবে জীবন যাপন
করা, ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত থাকা,
ব্যবসা-বানিজ্যে সততা বজায় রাখা,
পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা
বজায় রাখা, ওয়াদা করলে
প্রানপনে তা রক্ষা করা,
আমানতে খেয়ানত না করা,
এতিমের সম্পত্তি গ্রাস না করা,
প্রতিবেশীর প্রতি সহমর্মিতা ও
সহযোগীতার হাত প্রসারিত করা,
গরীব-দুঃখীদের প্রতি সদয় হওয়া
ইত্যাদির প্রতি অটল থাকা। পবিত্র
কোরআন ও হাদিসে এ
সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলোকে জোরের সাথে তুলে
ধরা, যা মসজিদের ইমাম
ও খতিবগনও সহজেই করতে পারেন। মনে
রাখা দরকার যে উপরোল্লিখিত
চারিত্রিক বৈশিষ্ট অর্জন করা ছাড়া
সমাজে নানা অসঙ্গতি সৃষ্টি
হওয়া অবশ্যম্ভাবী এবং এর ফলশ্রুতিতে
নিপীড়ন-নির্যাতন-ধর্ষণ-মাদকাসক্তি-হত্যা-সন্ত্রাস ও ঘুষ-দুর্নীতি
ইত্যাদি অপকর্মের বিস্তৃতি ঠেকানোর কোন উপায় নেই। এ
বিষয়টি আমাদের বিদগ্ধ সমাজ
ও দেশ-পরিচালকেরা যত
শীঘ্র বুঝবেন ততই মঙ্গল।
Subscribe to:
Posts (Atom)